জেমস ওয়বের জন্য কাছের বস্তু থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করা কিছুটা কঠিন। এর সেন্সরগুলো ডিজাইন করা হয়েছে মূলত দূরের তাঁরা থেকে আসা অতি ক্ষীণ আলোকরশ্মি বিশ্লেষণ করার জন্য। কাছের কোন বস্তুকে পর্যবেক্ষণ করা মানে, এসব সেন্সরে অতি উজ্জ্বল আলো প্রবেশ করা।

উজ্জ্বল আলোর কারণে ফলাফলে ত্রুটি হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিজ্ঞানীরা যান্ত্রিক ত্রুটি আমলে নিয়ে পুরো হিসেবটি করেন।

নিয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা ব্যবহার করে ২.১ মাইক্রন আলোতে তোলা ছবিটি  মঙ্গলপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত সূর্যালোক দ্বারা প্রভাবিত। তাই, এই ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে তা অনেকটা আলোক টেলিস্কোপে তোলা ছবির মতো।

অন্যদিকে ৪.৩ মাইক্রন আলোতে তোলা ছবিতে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে আসা তাপের বিকিরণ দেখা যাচ্ছে। সূর্যের আলোর কারণে গ্রহের এই অংশের বায়ুমণ্ডল ছবি তোলার সময় সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত ছিলো। এজন্য উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।

উজ্জ্বল অঞ্চলের নীচের ডানদিকে কিছুটা একটি গাঢ় এলাকা দেখা যাচ্ছে। হেলাস প্লানেটিয়া নামের বিশাল এক খাদ এটি। আয়তনের দিক থেকে মঙ্গলের সবচেয়ে বড় খাদ বলে মনে করেন অনেকে।

মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে ৯৬ শতাংশ কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ফলে, আলো শোষণ করে। বায়ুমণ্ডলটি হেলাস প্ল্যানিটিয়ার উপর যথেষ্ট পুরু। এই পুরু বায়ুমণ্ডল ইনফ্রারেড আলোর ওপর বেশ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে আসা এই আলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়াও, কার্বন মনোক্সাইড এবং পানির অস্তিত্ব সনাক্ত করেছেন।

জেমস ওয়েবের সংগ্রহ করা নতুন তথ্যগুলো নিয়ে তৈরি গবেষণাপত্রটি বর্তমানে পিয়ার রিভিউ এর জন্য জার্নালে পাঠানো হয়েছে। প্রকাশিত হলে মঙ্গল সম্পর্কে নতুন আরও অনেক তথ্য জানা যাবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

সূত্র: নাসা