পুরোনো ফোনের গতি বাড়াতে যে তিনটি সহজ কাজ করতে পারেন
নতুন ফোন হাতে নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস কেমন রকেটের মতো চলে, তাই না? কিন্তু দিন যত যায়, ফোন যেন ততই বুড়িয়ে যেতে থাকে। একটা সময় এতটাই স্লো হয়ে যায় যে মনে হয়, এবার বুঝি ফোনটা পাল্টানোর সময় চলেই এল!
অবশ্যই, একটা সময় ফোন পাল্টাতেই হয়। বিশেষ করে যখন আপনার ফোনে আর নতুন সফটওয়্যার আপডেট আসে না বা সিকিউরিটি নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে আপনি চাইলে বর্তমান ফোনটির আয়ু আরও বেশ কিছুদিন বাড়িয়ে নিতে পারেন।
নতুন ফোন কেনার পেছনে একগাদা টাকা খরচ করার আগে, নিচের এই সহজ উপায়গুলো আপনার পুরোনো ফোনে একবার প্রয়োগ করে দেখুন। হয়তো গতির পার্থক্য দেখে চমকে যাবেন!
আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপ লাইব্রেরিতে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ওপর চেপে ধরলে Delete App অপশন পাবেন, সেটি ক্লিক করে অ্যাপ ডিলিট বা আনইনস্টল করতে পারবেন।
১. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের জঞ্জাল কমান
আপনার ফোনে যখন অনেক বেশি অ্যাপ জমে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়ে ফোনের গতির ওপর। তাই যেসব অ্যাপ আপনি খুব একটা ব্যবহার করেন না, সেগুলো সরিয়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
একবার সময় নিয়ে আপনার ফোনে থাকা অ্যাপগুলো দেখুন। খুঁজে বের করুন, কোন অ্যাপগুলো শুধু শুধু আপনার ফোনে ইনস্টল করা আছে। মনে রাখবেন, দরকার হলে এগুলো আপনি পরে আবার ইনস্টল করে নিতে পারবেন, অথবা ব্রাউজার দিয়ে এগুলোর ওয়েব ভার্সনও ব্যবহার করতে পারবেন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কোনো অ্যাপ আনইনস্টল করতে হলে হোমস্ক্রিন বা অ্যাপ ড্রয়ারে সেই অ্যাপের ওপর কিছুক্ষণ চেপে ধরুন। এরপর পপ-আপ মেনু থেকে ‘Uninstall’ লেখাটিতে ট্যাপ করুন। কিছু ফোনে অ্যাপটি চেপে ধরে ওপরের দিকে আনইনস্টল বাটনে টেনে নিয়ে যেতে হয়। আর আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপ লাইব্রেরিতে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ওপর চেপে ধরলে ‘Delete App’ অপশন পাবেন, সেটি ক্লিক করে অ্যাপ ডিলিট বা আনইনস্টল করতে পারবেন।
এ ছাড়া অনেক অ্যাপ আছে, যেগুলো আমরা ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। এতে ফোনের গতি কমে যায়। আপনি চাইলে এগুলোও বন্ধ করে রাখতে পারেন। এটি বন্ধ করতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের Settings থেকে Apps > See all apps-এ দেখুন। এরপর নির্দিষ্ট একটি অ্যাপ বেছে নিয়ে ‘App battery usage’-এ ট্যাপ করুন। সেখানে ‘Allow background usage’ নামে একটি অপশন পাবেন, সেটি বন্ধ (off) করে দিন।
আর আইফোনে Settings-এ গিয়ে General > Background App Refresh-এ ট্যাপ করুন। এখানে ফোনে থাকা সব অ্যাপের তালিকা দেখতে পাবেন। যেসব অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার দরকার নেই, সেগুলোর পাশের সুইচটি বন্ধ করে দিন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কোনো অ্যাপ আনইনস্টল করতে হলে হোমস্ক্রিন বা অ্যাপ ড্রয়ারে সেই অ্যাপের ওপর কিছুক্ষণ চেপে ধরুন। এরপর পপ-আপ মেনু থেকে Uninstall লেখাটিতে ট্যাপ করুন।
২. স্টোরেজ বা মেমোরি ফাঁকা করুন
ফোনে যত বেশি জায়গা বা ফ্রি স্টোরেজ থাকবে, আপনার ফোনটি তত বেশি স্বস্তিতে থাকবে! স্বস্তি মানেই দ্রুতগতি। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেললে কিছু জায়গা তো ফাঁকা হবেই, তবে চাইলে আপনি আরও গভীরে যেতে পারেন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘Files by Google’ নামের একটি বিল্ট-ইন অ্যাপ থাকে। এটি খুব সহজেই আপনার স্টোরেজ ফাঁকা করতে সাহায্য করবে। অ্যাপটি খুলে ওপরের বাঁ দিকের থ্রি ডটে ক্লিক করুন। এবার ‘Clean’ ট্যাবে ট্যাপ করুন। সেখানে ডুপ্লিকেট ফাইল, স্ক্রিনশট এবং ফোনে থাকা সবচেয়ে বড় সাইজের ফাইলগুলো ডিলিট করার বেশ কিছু চমৎকার পরামর্শ দেখতে পাবেন।
অন্যদিকে, আইফোন ব্যবহারকারীরা Settings থেকে General > iPhone Storage-এ গেলে দেখতে পাবেন ঠিক কোন কোন জায়গায় স্টোরেজ বেশি খরচ হয়েছে। এখানেই স্টোরেজ ফাঁকা করার কিছু দারুণ পরামর্শও দেওয়া থাকে। যেমন, ক্লাউডে অফলোড করে রাখা যায় এমন বড় বড় অ্যাপ ও ফাইলের তালিকা সেখানে পাবেন।
আপনি যদি স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোন ব্যবহার করেন, তবে আপনার জন্য আরও একটি বিশেষ উপায় আছে। Settings থেকে Device care > Memory > RAM Plus-এ যান। এই ফিচারটি মূলত আপনার ফোনের কিছুটা স্টোরেজকে অস্থায়ী র্যাম বা মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করে। আপনি যদি এটি বন্ধ করে দেন, তবে সেই স্টোরেজটুকু আবার ফাঁকা হিসেবে পাবেন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Files by Google নামের একটি বিল্ট-ইন অ্যাপ থাকে। এটি খুব সহজেই আপনার স্টোরেজ ফাঁকা করতে সাহায্য করবে।
৩. ফুল ফ্যাক্টরি রিসেট
ওপরের কোনো কিছুতেই যদি কাজ না হয়, তবে এটি হলো সবচেয়ে চরম পদক্ষেপ। এই কাজটি আপনার ফোনটিকে ঠিক সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যখন আপনি প্রথমবার বাক্স থেকে এটি বের করেছিলেন! ফুল রিসেট করতে খুব বেশি সময় লাগে না। সত্যি বলতে, কয়েক বছর আগের তুলনায় এই প্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে।
রিসেট দিলে আপনার ফোনের সবকিছু মুছে যাবে। ফলে এক নিমেষেই আপনার ফোনে জমে থাকা সমস্ত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ দূর হয়ে যাবে এবং ফোন যতটা সম্ভব লোকাল স্টোরেজ ফিরে পাবে। আপনার ফোনটি একেবারে শূন্য থেকে নতুন করে যাত্রা শুরু করবে। গতির দিক থেকেও আপনি স্পষ্ট পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
তবে সাবধান! এই কাজে নামার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ব্যাকআপ। রিসেট করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, আপনার ফোনের সব দরকারি ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ফাইল গুগল ড্রাইভ, আইক্লাউড বা অন্য কোথাও নিরাপদে ব্যাকআপ হিসেবে সেভ করা আছে কি না। একবার নয়, দরকার হলে দুবার চেক করে তারপর রিসেটের দিকে এগোবেন।
অ্যান্ড্রয়েডে রিসেটের ক্ষেত্রে Settings থেকে System > Reset options > Erase all data (factory reset)-এ যান এবং ‘Erase all data’ ক্লিক করুন। আর আইফোনের ক্ষেত্রে Settings থেকে General > Transfer or Reset iPhone > Erase All Content and Settings-এ গিয়ে ‘Continue’ চাপুন। ব্যস, কাজ হয়ে যাবে!