গুগল স্টোরেজ ফুল হলে টাকা খরচ না করে যেভাবে জায়গা খালি করবেন
হুট করেই একদিন দেখলেন গুগল থেকে একটা নোটিফিকেশন এসেছে। আপনার স্টোরেজ প্রায় শেষ! নতুন ইমেইল রিসিভ করতে সমস্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই পড়েন। তখন কী করবেন?
গুগল অ্যাকাউন্ট খুললেই আমরা বিনা মূল্যে ১৫ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ পাই। শুনতে ১৫ জিবি অনেক মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে কি তা-ই? একদমই না। কারণ এই একই স্টোরেজ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে আপনার জিমেইল, গুগল ফটোজ এবং গুগল ড্রাইভ। সবগুলো অ্যাপ মিলে খুব দ্রুতই এই ১৫ জিবি জায়গা দখল করে ফেলে।
তাহলে উপায় কী? গুগলকে কি প্রতি মাসে টাকা দিয়ে বাড়তি স্টোরেজ কিনবেন? না কিনেও কিন্তু সমাধান আছে! আজ এমন কিছু জাদুকরী কৌশল দেখাব, যা দিয়ে খুব সহজেই গুগলের এই তিনটি অ্যাপ থেকে অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল সাফ করে ফেলা যাবে। আর বেঁচে যাবে আপনার পকেটের টাকা। এই কাজগুলো আপনি কম্পিউটার বা মোবাইল দিয়েই করতে পারবেন। হয়তো মেনু বা বাটনের জায়গাগুলো একটু আলাদা হতে পারে, তবে পদ্ধতি একদম একই।
গুগল অ্যাকাউন্ট খুললেই আমরা বিনা মূল্যে ১৫ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ পাই। এই স্টোরেজ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে আপনার জিমেইল, গুগল ফটোজ এবং গুগল ড্রাইভ।
জিমেইল
প্রথমে জিমেইলে আসা যাক। আপনার ইনবক্সের একদম নিচে স্ক্রল করে যান। সেখানে দেখতে পাবেন, জিমেইল ঠিক কতটা জায়গা দখল করে আছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা কি বুঝতে পারলেন? এবার কাজে নামার পালা।
জিমেইলের একদম ওপরে থাকা সার্চ বক্সটিই আপনার প্রধান হাতিয়ার। এর ডান পাশে থাকা ছোট্ট স্লাইডার আইকনে ক্লিক করুন। এখানে আপনি দারুণ কিছু অপশন পাবেন। ধরুন, নির্দিষ্ট কোনো প্রেরকের কাছ থেকে আসা সব ইমেইল বা অপ্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ের ইমেইল আপনি একসঙ্গে খুঁজতে চান। সেটা এখান থেকেই সম্ভব।
বড় আকারের ইমেইল খুঁজতে Size অপশনটি ব্যবহার করতে পারেন। আর যেসব ইমেইলের সঙ্গে ভারী ভারী ফাইল যুক্ত আছে, সেগুলো খুঁজতে Has attachment নামের বক্সে টিক দিন।
একবার সার্চ রেজাল্ট চলে এলে কী করবেন? ধরুন, কোনো একটা ওয়েবসাইট থেকে আসা সব অপ্রয়োজনীয় নিউজলেটার একসঙ্গে ডিলিট করতে চান। তখন বাঁ দিকের ওপরের কোনায় থাকা বক্সে ক্লিক করুন। এরপর ওপর থেকে Select all নির্বাচন করুন। এরপর ট্র্যাশ ক্যান বা ডাস্টবিন আইকনে ক্লিক করে সব জঞ্জাল এক ক্লিকেই বিদায় করুন!
আপনি চাইলে পুরোনো ইমেইলগুলোও খুঁজে বের করতে পারেন। বাঁ দিক থেকে All Mail অপশনে গিয়ে পুরোনো ইমেইলের দিকে এগোতে থাকুন। সবচেয়ে পুরোনো ইমেইলগুলো হয়তো আপনার আর কোনো কাজেই লাগবে না। সেগুলো ধরে ধরে মুছে ফেলুন।
বড় আকারের ইমেইল খুঁজতে Size অপশনটি ব্যবহার করতে পারেন। আর যেসব ইমেইলের সঙ্গে ভারী ভারী ফাইল যুক্ত আছে, সেগুলো খুঁজতে Has attachment নামের বক্সে টিক দিন।
গুগল ফটোজ
গুগল ফটোজ কিন্তু জায়গা খালি করার ক্ষেত্রে খুব বন্ধুসুলভ একটা অ্যাপ। অ্যাপের বাঁ দিকের নেভিগেশন প্যানেলের নিচে স্টোরেজ বার থাকে। সেখানে তাকালেই বুঝবেন, এটি কতটা জায়গা দখল করে আছে।
মজার ব্যাপার হলো, এই অ্যাপটি নিজেই আপনাকে জায়গা খালি করার কিছু দারুণ বুদ্ধি দেবে। আপনি হয়তো Large photos and videos, Screenshots, Blurry photos বা Unsupported videos নামে কিছু অপশন দেখতে পাবেন। এগুলোতে ক্লিক করলেই অপ্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিওগুলো আপনার সামনে হাজির হবে। তারপর সেগুলো অনায়াসেই ডিলিট করে দিতে পারেন।
এখানে আরেকটা দারুণ অপশন আছে। এর নাম Convert existing photos and videos to Storage saver। এটাতে ক্লিক করলে আপনার আগের সব ছবি ও ভিডিওর রেজল্যুশন একটু কমিয়ে দেওয়া হবে। ফলে অনেক জায়গা বেঁচে যাবে। তবে মনে রাখবেন, এই কাজটা কিন্তু একবার করলে আর আগের অবস্থায় ফেরানো যাবে না। তাই করার আগে ভালোভাবে ভেবে নেবেন।
গুগল ফটোজ কিন্তু একই ছবি দুবার আপলোড হতে দেয় না। তাই ডুপ্লিকেট ছবির চিন্তা নেই। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট সাল বা মাস লিখে সার্চ করে পুরোনো অপ্রয়োজনীয় ছবিগুলোও ডিলিট করে দিতে পারেন। ডিলিট করার আগে সবচেয়ে প্রিয় ছবিগুলো প্রিন্ট করে রাখার কথাও ভাবতে পারেন!
গুগল ফটোজ একই ছবি দুবার আপলোড হতে দেয় না। তাই ডুপ্লিকেট ছবির চিন্তা নেই। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট সাল বা মাস লিখে সার্চ করে পুরোনো অপ্রয়োজনীয় ছবিগুলোও ডিলিট করে দিতে পারেন।
গুগল ড্রাইভ
এবার চলুন গুগল ড্রাইভে। গুগল ফটোজের মতোই এর বাঁ দিকেও একটা স্টোরেজ বার থাকে। সেখানে ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন, আপনার ড্রাইভ ঠিক কতটা জায়গা খাচ্ছে।
স্টোরেজ বারের ঠিক নিচেই আপনার ড্রাইভের সবচেয়ে ভারী ফাইলগুলো দেখতে পাবেন। সবচেয়ে বড় ফাইলটি থাকবে একদম ওপরে। যদি দেখেন সেখানে এমন কোনো ফাইল আছে যা আর দরকার নেই, তবে সেটার ওপর ক্লিক করুন। তারপর ডাস্টবিন আইকনে ক্লিক করে ডিলিট করে দিন। নিমিষেই অনেকটা জায়গা খালি হয়ে যাবে।
আপনি চাইলে নিজের মতো করেও ফাইল খুঁজতে পারেন। ওপরের সার্চ বারে গিয়ে ডান দিকের স্লাইডার আইকনে ক্লিক করুন। নির্দিষ্ট কোনো ধরনের ফাইল বা নির্দিষ্ট কোনো তারিখের আগের পুরোনো ফাইলগুলো খুব সহজেই খুঁজে বের করা যায় এখান থেকে। চাইলে ফাইলগুলোকে সাইজ বা তারিখ অনুযায়ী সাজিয়েও নিতে পারেন। পুরো ফোল্ডার ধরে ডিলিট করার অপশন তো থাকছেই।
যদি দেখেন ড্রাইভে এমন কোনো ফাইল আছে যা আর দরকার নেই, তবে সেটার ওপর ক্লিক করুন। তারপর ডাস্টবিন আইকনে ক্লিক করে ডিলিট করে দিন। নিমিষেই অনেকটা জায়গা খালি হয়ে যাবে।
গুগল টেকআউট এবং অন্যান্য বিকল্প
আপনি চাইলে একদম ভিন্ন কোনো পদ্ধতিও ব্যবহার করতে পারেন। আপনার দরকারি ফাইলগুলো শুধু গুগলের ভরসায় না রেখে নিজের ল্যাপটপে বা এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভে সরিয়ে নিতে পারেন।
গুগল ড্রাইভ বা ফটোজ থেকে যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করা খুব সহজ। কিন্তু জিমেইল থেকে ইমেইল বের করা একটু ঝামেলার। তবে চিন্তার কিছু নেই, গুগলের একটা দারুণ সেবা আছে। এর নাম গুগল টেকআউট। এই ওয়েব পোর্টালে গিয়ে আপনি ড্রাইভ, জিমেইল ও ফটোজের সবকিছু একসঙ্গে ডাউনলোড করে নিজের কম্পিউটারে সেভ করে রাখতে পারবেন।
সব ফাইল নিরাপদে নিজের কম্পিউটারে ব্যাকআপ নেওয়া হয়ে গেলে, এবার ক্লাউড বা গুগল থেকে সেগুলো নির্দ্বিধায় ডিলিট করে দিন। ব্যাস! আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট আবার নতুনের মতো ফাঁকা হয়ে যাবে।
এই পদ্ধতিগুলো একটু সময় নিয়ে প্রয়োগ করলে গুগলের ওই ১৫ জিবি স্টোরেজের নিচেই আপনি সুন্দরভাবে চলতে পারবেন। আর আপনাকেও প্রতি মাসে গুগলকে বাড়তি টাকা দিতে হবে না!