ভিপিএন কী কাজে লাগে, কেন ব্যবহার করবেন
পাবলিক ওয়াইফাই কানেক্ট করে নিশ্চিন্তে পাসওয়ার্ড টাইপ করছেন? আপনি হয়তো জানেন না, পাশের টেবিলে বসা হ্যাকারটি মুহূর্তেই হাতিয়ে নিতে পারে আপনার সব তথ্য! ইন্টারনেটের এই অদৃশ্য চোরদের হাত থেকে বাঁচার উপায় কী?
ইন্টারনেটের এই যুগে ভিপিএন ব্যবহার করা জরুরি। অনেকেই ভিপিএন ব্যবহার করেন। কিন্তু অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, আমার কি আসলেই ভিপিএন দরকার, নাকি এটা শুধুই কোনো বিলাসিতা?
ভিপিএন কী
ভিপিএনের পুরো নাম ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। খটমট সংজ্ঞা বাদ দিলে সোজা কথায় ভিপিএন হলো, ইন্টারনেটে আপনার জন্য তৈরি করা এক গোপন সুড়ঙ্গ। এটি আপনার ফোন বা ল্যাপটপের জন্য একটি আলাদা আইপি অ্যাড্রেস তৈরি করে। ধরুন, আপনি ইন্টারনেটের মহাসড়ক দিয়ে হাঁটছেন। ভিপিএন ছাড়া হাঁটলে সবাই দেখবে আপনি কে, কোথা থেকে আসছেন। আর ভিপিএন ব্যবহার করা মানে, আপনি একটা কালো কাঁচের গাড়িতে চড়ে টানেলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। কেউ জানবেও না আপনি কে বা কোথায় যাচ্ছেন।
ভিপিএন কেন দরকার
ভিপিএন ব্যবহারের প্রধানত দুটো কারণ আছে—বিনোদন ও নিরাপত্তা। ধরুন, আপনি বিদেশে ঘুরতে গেছেন। অলস দুপুরে হোটেলের বিছানায় শুয়ে দেশের কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নাটক বা ক্রিকেট খেলা দেখতে চাইলেন। কিন্তু স্ক্রিনে ভেসে উঠল, ‘এই কন্টেন্ট আপনার এলাকার জন্য নয়।’ একে বলে জিও-লকিং। ভিপিএন দিয়ে আপনি এক ক্লিকেই আপনার লোকেশন বা অবস্থান পরিবর্তন করে নিজ দেশে ফিরে আসতে পারেন। মানে বিদেশে থেকেই আপনি দেশে থাকার মতো সেই কন্টেন্ট উপভোগ করতে পারবেন।
অন্যদিকে এটি নিরাপত্তার ডিজিটাল বডিগার্ড হিসেবে কাজ করে। আপনি যখন এয়ারপোর্ট, ক্যাফে বা হোটেলের ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তখন হ্যাকাররা চাইলেই আপনার ডিভাইস হ্যাক করতে পারে। ভিপিএন আপনার ইন্টারনেট সংযোগকে দুর্বোধ্য করে ফেলে। ফলে হ্যাকাররা চাইলেও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে না।
ভিপিএন হলো, ইন্টারনেটে আপনার জন্য তৈরি করা এক গোপন সুড়ঙ্গ। এটি আপনার ফোন বা ল্যাপটপের জন্য একটি আলাদা আইপি অ্যাড্রেস তৈরি করে।
ভিপিএন কীভাবে কাজ করে
অনেকে ভাবেন ভিপিএন বুঝি স্যাটেলাইট দিয়ে কাজ করে। আসলে তা নয়। এটি আপনার ইন্টারনেটের ডেটাকে একটা সুরক্ষিত সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে অন্য কোনো দেশের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। ফলে মনে হয় আপনি সেই দেশ থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। এতে আপনার আসল পরিচয় গোপন থাকে এবং ট্র্যাকিং করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভালো মানের ভিপিএনগুলো এখন শুধু পরিচয় গোপন রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, আপনি সাবস্ক্রিপশন কিনলে এর সঙ্গে বাড়তি কিছু সুবিধাও পাবেন। যেমন, বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন ও অ্যাড ব্লকার থাকে, ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ভাইরাস থেকে ডিভাইসকে রক্ষা করে এবং আপনার তথ্য কোথাও ফাঁস হয়েছে কি না, তা জানিয়ে দেয়।
ভিপিএনের দাম কেমন
বর্তমানে অনেক ভিপিএন বাজারে আছে। একদম ফ্রি থেকে শুরু করে মাসে কয়েকশ ডলারের ভিপিএনও আছে। তবে মনে রাখবেন, ফ্রি ভিপিএন অনেক সময় আপনার তথ্য বিক্রি করে দিতে পারে। ভালো এবং নির্ভরযোগ্য ভিপিএন সার্ভিসের জন্য মাসে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে। সাধারণত এক বা দুই বছরের জন্য কিনলে বেশ সস্তায় পাওয়া যায়।
ভিপিএন আপনার ইন্টারনেটের ডেটাকে একটা সুরক্ষিত সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে অন্য কোনো দেশের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। এতে আপনার আসল পরিচয় গোপন থাকে এবং ট্র্যাকিং করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আপনি যদি অনলাইনে নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখতে চান, পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করেন কিংবা ভ্রমণের সময় সব ধরনের স্ট্রিমিং সাইট দেখতে চান, তবে ভিপিএন আপনার জন্য অবশ্যই দরকারি। এটি হয়তো আপনাকে শতভাগ নিরাপত্তা দেবে না, তবে ভালোই নিরাপত্তা পাবেন। খোলা মাঠে বর্ম ছাড়া যুদ্ধ করার চেয়ে বর্ম পরে থাকা কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?
প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, হ্যাকাররাও তত চালাক হচ্ছে। তাই নিজের সুরক্ষায় ভিপিএন হতে পারে আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী।
তবে এখানে একটা কথা জানিয়ে রাখা জরুরি। ভিপিএন ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি সামান্য কমে যেতে পারে। কারণ ডেটা এনক্রিপ্ট হয়ে অন্য সার্ভার ঘুরে আসে। তবে ভালো মানের পেইড ভিপিএন ব্যবহার করলে গতির পার্থক্য খুব একটা বোঝা যায় না।