অনলাইনে নিরাপদ থাকার সাত উপায়

বর্তমানে ইন্টারনেট ছাড়া জীবনযাপনের কথা ভাবাই যায় না। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ, পছন্দের মুভি দেখা, কেনাকাটা কিংবা অফিসের কাজে এখন অনলাইনই ভরসা। তবে এত সুবিধার পাশাপাশি আছে ঝুঁকিও। হ্যাকার, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ থেকে নিজেকে বাঁচানো খুব জরুরি। কিন্তু এই অদৃশ্য বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবেন কীভাবে? কিছু সহজ উপায় জানা থাকলে অনলাইনে নিরাপদ থাকার যায়। চলুন, সেরকম সাত উপায় জেনে নেওয়া যাক।

 ১. ব্রাউজার ও এক্সটেনশন নিয়মিত আপডেট

অনেক সাইবার হামলাকারী পুরাতন ব্রাউজারের দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। তাই নতুন কোনো সাইবার হামলা থেকে নিরাপদ থাকতে ব্রাউজারটি নিয়মিত আপডেট রাখা জরুরি। পাশাপাশি অটো আপডেটও চালু রাখতে পারেন। এছাড়াও, খেয়াল রাখবেন কোন ব্রাউজার এক্সটেনশনগুলো আর ব্যবহার করছেন না। অপ্রয়োজনীয় এক্সটেনশনগুলো ব্রাউজার থেকে সরিয়ে ফেলা ভালো। সেগুলোর কারণেও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 ২. কেবল HTTPS ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন

অনলাইনে ব্রাউজিং করার সময় যেকোনো ওয়েবসাইটের URL খেয়াল রাখবেন। এখন শুধু HTTP যথেষ্ট নয়। তাই HTTPS দিয়ে শুরু হয় এমন সাইট ব্যবহার করবেন। URL-এর শেষে থাকা এই অতিরিক্ত ‘S’ দিয়ে বোঝানো হয় ওয়েবসাইটটি সুরক্ষিত। যখন ওয়েবসাইট থেকে কোনো তথ্য পাঠাচ্ছেন বা নিচ্ছেন, তখন তা এনক্রিপ্ট করা থাকে। সহজ ভাষায় বললে, তথ্য একটি গোপন কোডের মাধ্যমে পাঠানো হয়, যা অন্য কেউ সহজে পড়তে পারে না। এতে পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বরের মতো ব্যক্তিগত ডেটা নিরাপদ থাকে। এ জন্য HTTPS ওয়েবসাইট ব্যবহার করা জরুরি।

আরও পড়ুন
অনলাইনে ব্রাউজিং করার সময় যেকোনো ওয়েবসাইটের URL খেয়াল রাখবেন। এখন শুধু HTTP যথেষ্ট নয়। তাই HTTPS দিয়ে শুরু হয় এমন সাইট ব্যবহার করবেন। URL-এর শেষে থাকা এই অতিরিক্ত ‘S’ দিয়ে বোঝানো হয় ওয়েবসাইটটি সুরক্ষিত।
ক্রোম ব্রাউজার
রয়টার্স

৩. অবিশ্বস্ত সাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড না করা

অনেকেই ভাবেন, শুধু .exe ফাইলেই ভাইরাস থাকে। কিন্তু তা একেবারেই ভুল। এখন PDF ও Word ফাইলেও ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ম্যালওয়্যারের সংক্রমণ ৬.৫ বিলিয়নে গিয়ে পৌঁছাবে। তাই নিরাপদ থাকতে সবসময় খেয়াল রাখবেন, যেখান থেকে ফাইল ডাউনলোড করছেন, সেটি যেন কোনো বিশ্বস্ত সাইট হয়। যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করার পর একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করে সেটি স্ক্যান করে নিন। চাইলে VirusTotal এর মতো অনলাইন টুলও ব্যবহার করতে পারেন।

 ৪. ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সেভ না করা

পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই ব্রাউজারে সেভ পাসওয়ার্ড ফিচারটি ব্যবহার করেন। এটি সহজ ও সুবিধাজনক মনে হলেও সাধারণত নিরাপদ পদ্ধতি নয়। কারণ, ব্রাউজারগুলো বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার ও সাইবার হামলায় বেশি ব্যবহৃত হয়। হ্যাকাররা এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আপনার সেভ করা সব তথ্য সহজেই চুরি করে নিতে পারে। এর বদলে একটি নিরাপদ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো পাসওয়ার্ডকে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করে। আধুনিক পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডির মতো বায়োমেট্রিক লগইন ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন
অনেকেই ভাবেন, শুধু .exe ফাইলেই ভাইরাস থাকে। কিন্তু তা একেবারেই ভুল। এখন PDF ও Word ফাইলেও ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ম্যালওয়্যারের সংক্রমণ ৬.৫ বিলিয়নে গিয়ে পৌঁছাবে
বারবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করলে ক্ষতির আশঙ্কাই থাকে বেশি
ফাইল ছবি

৫. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও 2FA ব্যবহার

অনলাইনে নিরাপত্তার জন্য পাসওয়ার্ড অবশ্যই বড়, এলোমেলো ও বিশেষ হওয়া উচিত। এমন পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন। তাই এর আগে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহারের কথা বলেছি। তবে শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ডও যথেষ্ট নয়। এ জন্য অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর-অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখা জরুরি। এটি পাসওয়ার্ডের ওপরে একটি দ্বিতীয় সুরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে। এই 2FA ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো গুগল কিংবা মাইক্রোসফটের অ্যাপভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করা। কেন এটা করবেন? কারণ, সিম সোয়াপিং বা ফিশিংয়ের মতো আক্রমণের মাধ্যমে হ্যাকাররা এসএমএস কোড চুরি করে নিতে পারে। কিন্তু অথেন্টিকেশন অ্যাপগুলো ফোনেই সময়ভিত্তিক কোড তৈরি করে, যা চুরি করা অনেক কঠিন।

৬. অ্যাড ব্লকার ব্যবহার

অনলাইনে ব্রাউজিং করার সময় স্ক্রিনে আসা বিজ্ঞাপনগুলো অনেকের কাছে বিরক্ত লাগে। এই বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে হ্যাকাররা ডিভাইসে স্পাইওয়্যারের মতো ভাইরাস পাঠায়। অ্যাড ব্লকার ব্যবহারে এ ধরনের বিপদ থেকে বাঁচা যায়। এটা ক্ষতিকর বিজ্ঞাপনগুলো ডিভাইসে লোড হওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখে।

আরও পড়ুন
শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ডও যথেষ্ট নয়। এ জন্য অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর-অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখা জরুরি। এটি পাসওয়ার্ডের ওপরে একটি দ্বিতীয় সুরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে।
পিক্সাবে

৭. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্ক থাকা এবং ভিপিএন ব্যবহার

বিমানবন্দর, হোটেল বা রেস্তোরাঁর মতো জায়গায় পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু এটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এই নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত সুরক্ষিত থাকে না। ফলে হ্যাকাররা সহজেই আপনার ডেটা চুরি করতে পারে। আপনার পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত তথ্য এবং ব্রাউজিংয়ের ডেটা সহজেই তাদের হাতে চলে যেতে পারে। যদি পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে অবশ্যই ভিপিএন অর্থাৎ ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। এতে ইন্টারনেট ট্র্যাফিককে এনক্রিপ্ট করে ও আসল IP অ্যাড্রেস লুকিয়ে রাখে। ফলে একই নেটওয়ার্কে থাকা কোনো হ্যাকারের পক্ষে আপনার কার্যকলাপ নজরদারি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

সূত্র: সুইস সাইবার ইনস্টিটিউট, এইচএসবিসি

আরও পড়ুন