এআই কেন এআইয়ের লেখা ধরতে পারে না
প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, সত্য আর মিথ্যার সীমারেখা ততই ঝাপসা হচ্ছে। বর্তমানে এমন কিছু এআই টুল আছে, যেগুলো মানুষের চেয়েও সুন্দরভাবে কবিতা লিখতে পারে। কিন্তু এই জাদুর পেছনে লুকিয়ে আছে এক বড় সংকট। আমরা কি ভবিষ্যতে আর কখনোই নিশ্চিত হতে পারব না যে আমাদের প্রিয় বই বা ফিচারটি আসলে কে লিখেছে? প্রযুক্তির এই রোমাঞ্চকর লুকোচুরির শেষ কোথায়?
যে লেখাটা এখন আপনি পড়ছেন, এটা কি আসলেই কোনো রক্ত-মাংসের মানুষই লেখা, নাকি পর্দার আড়ালে কলকাঠি নাড়ছে কোনো এআই? এখনকার দিনে এই প্রশ্নটা যেন এক ভুতুড়ে ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক চিন্তিত শিক্ষার্থীর জমা দেওয়া অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে। শিক্ষার্থীরা কি নিজেরাই চেষ্টা করে অ্যাসাইনমেন্ট করেছে, নাকি সবটা চ্যাটবটের কারসাজি? আবার সাধারণ ক্রেতারা বুঝতে পারছেন না, তারা যে বিজ্ঞাপনটা দেখে পণ্য কিনছেন সেটা কোনো মানুষের লেখা নাকি মেশিনের।
এআই দিয়ে লেখা কনটেন্ট কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে নিয়মকানুন বানানো খুব সহজ। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা ধরবে কে? আসলে তা ধরাও বড্ড কঠিন!
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ মাঝেমধ্যে এআইয়ের লেখা ধরতে পারে। বিশেষ করে যারা নিজেরাও প্রচুর এআই টুল ব্যবহার করেন, তাঁদের চোখে এআইয়ের লেখার ধরনটা ধরা পড়ে যায়। এমনকি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কিছু মানুষ মেশিনের চেয়েও ভালো গোয়েন্দার কাজ করেন।
কিন্তু সমস্যা হলো, এমন বিশেষজ্ঞের সংখ্যা হাতেগোনা। আর সবার বিচার করার ক্ষমতাও এক নয়। তাই বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষমেশ দ্বারস্থ হতে হয় সেই স্বয়ংক্রিয় এআই টেক্সট ডিটেক্টরের কাছেই।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ মাঝেমধ্যে এআইয়ের লেখা ধরতে পারে। বিশেষ করে যারা নিজেরাও প্রচুর এআই টুল ব্যবহার করেন, তাঁদের চোখে এআইয়ের লেখার ধরনটা ধরা পড়ে যায়।
ডিটেকশন প্রক্রিয়াটা শুনতে খুব সহজ মনে হয়। সন্দেহজনক লেখাটা টুলে দেবেন, টুলটি লেখা বিশ্লেষণ করে একটা স্কোর জানিয়ে দেবে, বা বলে দেবে লেখার কত ভাগ এআই দিয়ে লেখা হয়েছে। আপনি তখন মনে সুখে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু এই সহজ সমীকরণের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিশাল জটিলতা। এখানে অনেকগুলো ‘কিন্তু’ আছে।
আপনি কি জানেন, ঠিক কোন এআই টুল দিয়ে লেখাটা তৈরি হয়েছে? সেই টুলের অ্যাকসেস কি আপনার আছে? লেখাটা কি এক প্যারাগ্রাফের নাকি বিশাল কোনো প্রবন্ধ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের ওপর নির্ভর করে, ডিটেক্টর টুল আপনাকে সঠিক তথ্য দেবে কি না।
ডিটেকশনের কাজটা মূলত তিনভাবে করা হয়। প্রথমে একটি মডেলকে মানুষ ও মেশিনের লেখার পার্থক্য বুঝতে শেখানো হয়। তারপর যাচাই করে দেখা হয়, শব্দচয়ন কতটা মেশিনসুলভ। এআই সাধারণত লেখার সময় সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো শব্দটা বেছে নেয়।
আর সবশেষে দেখা হয় ওয়াটারমার্ক। অনেক সময় এআই কোম্পানিগুলো টেক্সটের ভেতরে খুব কৌশলে কিছু অদৃশ্য সংকেত লুকিয়ে রাখে, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না। কিন্তু যাদের কাছে চাবি আছে, তারা সহজেই ওই সংকেত পড়ে বলে দিতে পারে এটা এআই দিয়ে লেখা কি না।
ডিটেকশনের কাজটা মূলত তিনভাবে করা হয়। প্রথমে একটি মডেলকে মানুষ ও মেশিনের লেখার পার্থক্য বুঝতে শেখানো হয়। তারপর যাচাই করে দেখা হয়, শব্দচয়ন কতটা মেশিনসুলভ।
তবে কঠিন বাস্তবতা হলো, কোনো টুলই আসলে নিখুঁত নয়। নিত্যনতুন এআই মডেল আসছে, আর ডিটেক্টরগুলো এখনো বসে আছে পুরোনো ডেটা নিয়ে। ফলে নতুন মডেলের লেখা টুল ধরতে পারে না। তাছাড়া চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো মডেলের ভেতরের খবর সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। তাই পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি সব সময় খাটে না। বিষয়টি আসলে ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতো। চতুর ব্যবহারকারীরা টুলগুলো বিশ্লেষণ করে এমনভাবে লেখা তৈরি করে, যা ডিটেক্টরকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে।
দিন শেষে সত্যটা হলো, এআই দিয়ে লেখা টেক্সট শনাক্ত করা মোটেও সহজ নয়। শুধু ডিটেকশন টুলের ওপর ভরসা করে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব নয়। কারণ, ওগুলো শতভাগ নিশ্চিত করে তথ্য দিতে পারে না।