থিওরি অব রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতা নিয়ে এখন বাংলায় বইয়ের অভাব নেই। তবে বিশেষ আপেক্ষিকতার বই যত সহজে মেলে, সাধারণ বা সার্বিক আপেক্ষিকতার বইয়ের ততটাই অভাব রয়েছে। খুঁজলে হয়তো জনপ্রিয় ধারার কিছু বই মিলবে, কিন্তু এ দেশের উচ্চতর স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বিক আপেক্ষিকতার ভালো পাঠ্যবই সত্যিই বিরল।
বাংলাদেশে যাঁরা উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, তাঁদের বেশির ভাগেরই বাংলায় লেখালেখিতে কিছুটা অনীহা আছে। তাই পদার্থবিজ্ঞানের ভালো পাঠ্যবই বাজারে বেশ দুর্লভ; আর সার্বিক আপেক্ষিকতার ক্ষেত্রে সেটা অতি দুর্লভ বললেও ভুল হবে না। তবে এ দেশে এ এম হারুন-অর-রশীদ নামের একজন প্রখ্যাত শিক্ষক ও বিজ্ঞানী ছিলেন, যিনি আমৃত্যু পদার্থবিজ্ঞানের জটিল ও কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজে পাঠকদের কাছে তুলে ধরার কাজটি করে গেছেন।
অধ্যাপক এ এম হারুন-অর-রশীদের সবচেয়ে বড় কাজগুলোর একটি হলো সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব নামে বইটি। তবে কাজটি তিনি একা করেননি। এই বইয়ের সহলেখক যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক এ. লতীফ চৌধুরী। দুজন বিশ্বমানের গবেষক যখন কোনো একটি বইয়ের পেছনে শ্রম দেন, তখন সেই বইও হয়ে ওঠে বিশ্বমানের। মূলত এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেই বইটি লেখা হয়েছে।
বাংলাদেশে যাঁরা উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, তাঁদের বেশির ভাগেরই বাংলায় লেখালেখিতে কিছুটা অনীহা আছে। তাই পদার্থবিজ্ঞানের ভালো পাঠ্যবই বাজারে বেশ দুর্লভ।
বইটিতে মোট ১৬টি অধ্যায় রয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ই আবার বেশ কিছু ছোট অনুচ্ছেদে ভাগ করা। বইটির প্রথম অধ্যায়ে সার্বিক আপেক্ষিকতার ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখার ফাঁকে ফাঁকে গাণিতিক সমাধানগুলোও সুচারুভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ে আরও এসেছে সমতুল্যতার নীতি, ক্ষেত্র সমীকরণের সমাধান, ব্ল্যাকহোল, বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব ও আপেক্ষিকতার সীমা ছাড়িয়ে বিজ্ঞানের দূরদৃষ্টির কথা।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিশেষ আপেক্ষিকতার খুঁটিনাটি আলোচনা করা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ে লেখকদ্বয় স্থান-কালের বক্রতার আরও গভীরে প্রবেশ করেছেন। বক্রজ্যামিতি, আধুনিক গণিত, জিওডেসিক জ্যামিতি, রিমানীয় বক্র জ্যামিতির ভেতর-বাহির নিয়ে গাণিতিক সমীকরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
ষষ্ঠ অধ্যায়ে আইনস্টাইনের নতুন মহাকর্ষ তত্ত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সপ্তম অধ্যায়ে রয়েছে কার্ল শোয়ার্জশিল্ডের সেই বিখ্যাত ব্ল্যাকহোল সমীকরণের সমাধান। অষ্টম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে টেন্সর ঘনত্ব। আইনস্টাইন সাধারণ আপেক্ষিকতার সমাধানের জন্য টেন্সর নামে গণিতের একটি শাখার জন্ম দিয়েছিলেন। সেই টেন্সর বিশ্লেষণের চমৎকার নমুনা এই অধ্যায়ে পাওয়া যাবে। নবম অধ্যায়ে লেখকদ্বয় বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বইটিতে মোট ১৬টি অধ্যায় রয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ই আবার বেশ কিছু ছোট অনুচ্ছেদে ভাগ করা। বইটির প্রথম অধ্যায়ে সার্বিক আপেক্ষিকতার ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
একনজরে
সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
লেখক: এ এম হারুন-অর-রশীদ ও এ. লতীফ চৌধুরী
প্রকাশক: তিতাস পাবলিকেশনস
প্রথম প্রকাশ: জুলাই, ২০০৮
পৃষ্ঠা: ১৯৮
দাম: ২২০ টাকা
সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব এ দেশের পদার্থবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বই। আর দশটা পাঠ্যবইয়ের চেয়ে এই বইয়ের শক্তিমত্তার জায়গা হলো এর সহজ বাক্য ও শব্দের ব্যবহার।
বইয়ের পরের অধ্যায়গুলোতে হিলবার্টের নীতি, শক্তি টেন্সর, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ, বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব এবং সাধারণ আপেক্ষিকতার কয়েকটি পরীক্ষামূলক ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব এ দেশের পদার্থবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বই। আর দশটা পাঠ্যবইয়ের চেয়ে এই বইয়ের শক্তিমত্তার জায়গা হলো এর সহজ বাক্য ও শব্দের ব্যবহার। তাই যাঁদের মোটামুটি গাণিতিক দক্ষতা আছে, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নন, তাঁরাও চেষ্টা করলে এই বই থেকে সার্বিক আপেক্ষিকতার পাঠ নিতে পারেন।