২০২৬ সালে আসছে আন্তর্জাতিক যেসব বিজ্ঞানের বই
বছর সবে শুরু হলো, এর মধ্যেই প্রকাশকদের ক্যাটালগ উপচে পড়ছে নতুন সব বইয়ের খবরে। বিজ্ঞানের রাজ্যে এবার আসছে অনেক নতুন ও ইন্টারেস্টিং বই। ২০২৬ সালের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বিজ্ঞান ও গণিতের বইগুলোর খবর থাকছে এখানে।
মহাকাশ
শুরুটা হোক বিশাল ক্যানভাসে। পরিবেশ ইতিহাসবিদ ডাগোমার ডিগ্রুট নিয়ে আসছেন রিপলস অন দ্য কসমিক ওশেন। সৌরজগৎ কীভাবে মানবসভ্যতাকে গড়ে তুলেছে, তা নিয়েই এই বই। মঙ্গলের ধূলিঝড় কীভাবে এলিয়েনদের গল্পের জন্ম দিল, কিংবা বৃহস্পতিতে ধূমকেতুর আঘাত কীভাবে আমাদের পৃথিবীকে বাঁচানোর পরিকল্পনা করতে শেখাল, সবই আছে এই বইয়ে।
আরও একটু গভীরে যাওয়া যাক। অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট এমা চ্যাপম্যান তাঁর রেডিও ইউনিভার্স বইয়ে দেখিয়েছেন, কীভাবে রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে আমরা মহাকাশের অন্ধকার কোণগুলো খুঁজে বের করছি। ব্ল্যাকহোল থেকে পালসারের ব্যাপারে জানা যাবে এই বইয়ে। আর তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও কলামিস্ট চান্ডা প্রেসকট-ওয়াইনস্টাইন নিয়ে আসছেন দ্য এজ অফ স্পেস-টাইম। লেখক কবিতা ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন স্থান ও সময়ের কোয়ান্টাম রহস্য বোঝাতে।
স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্যবিষয়ক বইগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা যায় এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। সাংবাদিক ডেভিড কক্সের দ্য এজ কোড শেখাবে, কীভাবে সঠিক খাবার খেয়ে বুড়ো হওয়া ঠেকানো যায়। আর বিল গিফোর্ড তাঁর হটওয়্যার্ড বইয়ে তাপ ব্যবহার করে শরীর সুস্থ রাখার উপায় বলেছেন। তাঁর মতে, মানুষ গরমে টিকে থাকার জন্যই বিবর্তিত হয়েছে।
অন্যদিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিভাগে ডাক্তার জান্ড ভ্যান টিউলকেন লিখেছেন মেক মি ওয়েল। সুস্থ থাকার নামে যে বিশাল বাণিজ্য চলছে, তার মুখোশ খুলে দেওয়ার এবং সঠিক পথ দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লেখক। সাংবাদিক আলেভ স্কট তাঁর ক্যাশ কাউ বইয়ে প্রজনন শিল্পের রমরমা ব্যবসার অন্ধকার দিক তুলে ধরেছেন।
বিল গিফোর্ড তাঁর হটওয়্যার্ড বইয়ে তাপ ব্যবহার করে শরীর সুস্থ রাখার উপায় বলেছেন। তাঁর মতে, মানুষ গরমে টিকে থাকার জন্যই বিবর্তিত হয়েছে।
গণিত
গণিত কি বোরিং? রিচার্ড এলওয়েস তাঁর হিউজ নাম্বারস বইয়ে দেখিয়েছেন, বিশাল সব সংখ্যা কীভাবে মানুষের চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে।
আর ইয়ান স্টুয়ার্ট তাঁর রিচিং ফর দ্য এক্সট্রিম বইয়ে গণিতের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ছোট এবং সবচেয়ে জটিল ধাঁধাগুলোর সমাধান খুঁজেছেন।
প্রযুক্তি ও এআই
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন হট টপিক। গৌরব সুরি ও জয় ম্যাকলেল্যান্ড তাঁদের দ্য ইমার্জেন্ট মাইন্ড বইয়ে মানুষের মস্তিষ্ক ও এআইয়ের জটিলতা ব্যাখ্যা করেছেন। সমাজবিজ্ঞানী জেমস মালডুন লাভ মেশিনস বইয়ে দেখিয়েছেন, কীভাবে প্রযুক্তি আমাদের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও আবেগের সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছে।
তবে ক্যাথরিন ডানের লিটল ব্লু ডট বইটা মিস করা যাবে না। জিপিএস বা ম্যাপের সেই নীল বিন্দুর ইতিহাস নিয়ে লেখা এই বই। আর ফ্রেড মিলস তাঁর মেগা বিল্ডস বইয়ে এমন ১০টি বিশাল প্রজেক্টের গল্প বলেছেন, যা আমাদের পৃথিবীকে বদলে দেবে।
পরিবেশ
পরিবেশ নিয়ে বই মানেই কি শুধু দুঃসংবাদ? রেবেকা সলনিট তাঁর দ্য বিগিনিং কামস আফটার দ্য এন্ড বইয়ে আমাদের নতুন করে আশা দেখাচ্ছেন। তিনি বলছেন, গত ৫০ বছরে আমাদের চিন্তাধারায় যে বিপ্লব এসেছে, সেটাই পরিবর্তনের চাবিকাঠি।
আর সাংবাদিক জীবন ভাসাগ্র তাঁর দ্য সার্জ বইয়ে বন্যার ইতিহাস ও ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মানুষ সমুদ্রসীমার নিচে বসবাস করবে। এই ভয়ংকর তথ্যের পাশাপাশি তিনি শুনিয়েছেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জাদুকরি সমাধানের কথাও।
রেবেকা সলনিট তাঁর দ্য বিগিনিং কামস আফটার দ্য এন্ড বইয়ে আমাদের নতুন করে আশা দেখাচ্ছেন। তিনি বলছেন, গত ৫০ বছরে আমাদের চিন্তাধারায় যে বিপ্লব এসেছে, সেটাই পরিবর্তনের চাবিকাঠি।
প্রকৃতি
জলবায়ু পরিবর্তন অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে লুইস কে. ব্লাইট লিখেছেন হয়্যার দ্য আর্থ মিটস দ্য স্কাই।
আর জো উইম্পেনি তাঁর বিউটি অব দ্য বিস্টস বইয়ে সাপ, বোলতা ও কুমিরের মতো অপ্রিয় প্রাণীদের হয়ে সাফাই গেয়েছেন। কেন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এদের দরকার, তা জানলে চমকে যাবেন।
মনস্তত্ত্ব
মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। ডেইজি ফ্যানকোর্ট তাঁর আর্ট কিওর বইয়ে দেখিয়েছেন, গান-বাজনা বা শিল্পচর্চা কীভাবে আমাদের শরীর ও মন ভালো রাখে। লিয়েন টেন ব্রিঙ্ক তাঁর পয়জনাস পিপল বইয়ে শিখিয়েছেন, কীভাবে আপনার আশপাশের সাইকোপ্যাথ, নার্সিসিস্ট বা ধূর্ত লোকদের চিনে নিজেকে বাঁচাবেন।
মেলিসা ম্যাফিও তাঁর সায়েন্স অব দ্য সুপারন্যাচারাল বইয়ে ভিনগ্রহের প্রাণী বা সাইকিক রিডিংয়ের পেছনের বিজ্ঞান খুঁজেছেন।
লিয়েন টেন ব্রিঙ্ক তাঁর পয়জনাস পিপল বইয়ে শিখিয়েছেন, কীভাবে আপনার আশপাশের সাইকোপ্যাথ, নার্সিসিস্ট বা ধূর্ত লোকদের চিনে নিজেকে বাঁচাবেন।
সেরাদের সেরা
এত বইয়ের ভিড়েও কিছু বই থাকে যা আপনাকে পড়তেই হবে। ২০২৬ সালের জন্য সেরাদের সেরা চার বই:
১. আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব দ্য ইউনিভার্স
লেখক: সারাহ আলম মালিক
ব্যাবিলনীয়দের মাটির ফলকে আকাশের হিসাব রাখা থেকে শুরু করে আধুনিক মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দেওয়া আবিষ্কারগুলোর গল্প বলেছেন লেখক।
২. দ্য স্যাভেজ ল্যান্ডস্কেপ
লেখক: ক্যাল ফ্লিন
জনমানবহীন বুনো জায়গায় ঘুরে বেড়ানো এবং বন্য প্রকৃতিকে রক্ষা করার উপায় নিয়ে লেখা এই বই। ক্যাল ফ্লিনের লেখার হাত কতটা জাদুকরি, তা যারা তাঁর আগের বড়েছেন, তাঁরা জানেন।
৩. আই এম নট আ রোবট
লেখক: জোয়ানা স্টার্ন
টানা এক বছর আপনার সব কাজ এআই দিয়ে করালে কী হবে? ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টার জোয়ানা স্টার্ন ঠিক এই কাজটাই করেছেন। এর ফলাফল যেমন মজার, তেমনি ভয়ংকর!
৪. দ্য স্টোরি অব বার্ডস
লেখক: স্টিভ ব্রুসেট
পাখিরা ডাইনোসরের বংশধর, তা নিশ্চয়ই জানেন। কিন্তু গরিলার সমান পেঙ্গুইন কিংবা গরুর চেয়েও ভারী হাঁস? প্যালিওন্টোলজিস্ট স্টিভ ব্রুসেট পাখিদের বিবর্তনের এই অদ্ভুত সব গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন এই বইয়ে।