সনি ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডের সেরা কিছু ছবি, আছেন এক বাংলাদশিও

তরুণদের চোখে পৃথিবীটা সব সময়ই একটু অন্য রকম। আক্ষরিক অর্থে হোক বা রূপক অর্থে, তাদের দেখার ভঙ্গিটা আলাদা। সনি ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর ‘স্টুডেন্ট’ এবং ‘ইয়ুথ’ প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্টদের তোলা ছবিগুলো দেখলে সেটাই মনে হয়। আগামী ১৬ এপ্রিল লন্ডনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। তার আগে চলুন দেখে নিই সেরার তালিকায় থাকা দুর্দান্ত কিছু ছবি ও সেগুলোর পেছনের গল্প। এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের এক তরুণ আলোকচিত্রীও। এই প্রতিযোগিতায় ১৯ বছর বা তারচেয়ে কম বয়সীদের ফটোগ্রাফারদের জন্য। 

দুই জগতের মাঝে

আলোকচিত্রী: দোয়া এরগুন, তুরস্ক (ইউথ ক্যাটাগরি)

তুরস্কের ইজমিরের চেশমে উপকূলে তোলা এই ছবিটি সত্যিই জাদুকরী। ছবিতে একই ফ্রেমে দেখা যাচ্ছে দুটি ভিন্ন জগত। ঘোড়া নিয়ে এক আরোহী সাগরে নামছেন, ঠিক সেই মুহূর্তটিই দারুণভাবে ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্রী। ক্যামেরার লেন্স আধা পানিতে ডুবিয়ে তোলা এই ছবিটি যেন ডাঙা ও পানির এক অদ্ভুত সুন্দর সন্ধিক্ষণ।

কবুতর প্রেম

আলোকচিত্রী: আকাশ গুলজার, ভারত (স্টুডেন্ট ক্যাটাগরি)

ভারতের কাশ্মীরের শ্রীনগরে কবুতর পালন শুধু শখ নয়, এক আবেগের নাম। আকাশ গুলজারের ছবিতে ফুটে উঠেছে সেই গল্প। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ২৩ বছর বয়সী ওয়াইসকে। বাড়ি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে এসে হাজার হাজার কবুতরের যত্ন নিচ্ছেন তিনি। খাওয়ানো, পরিষ্কার করাসহ সবই করছেন একা। শ্রীনগরের ছাদ, মাজার ও বাজারের এক অন্য রকম আত্মা এই ছবিগুলো। এখানে যেন ভক্তি ও ভালোবাসায় কবুতররা মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে।

মাছহীন নদী

আলোকচিত্রী: জুবায়ের আহমেদ অর্ণব, বাংলাদেশ (স্টুডেন্ট ক্যাটাগরি)

নদীতে থাকার কথা মাছ, কিন্তু সেই নদীটাই আজ মৃতপ্রায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক লোক পানিতে দাঁড়িয়ে আছে। তার ওপরে ভাসছে ডলফিন আকৃতির প্লাস্টিকের বেলুন। কী অদ্ভুত বিদ্রুপ! আসল প্রকৃতি হারিয়ে যাচ্ছে প্লাস্টিকের ভিড়ে। নগরায়ন কীভাবে একটি নদীকে স্মৃতিতে পরিণত করছে, তার এক করুণ বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এই ছবিতে।

অসম্ভব ক্রসিং

আলোকচিত্রী: জেন মোজ্জি, আর্জেন্টিনা (ইয়ুথ ক্যাটাগরি)

টাইমিং কাকে বলে! আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সে এক বিএমএক্স ইভেন্টে তোলা হয়েছে এই ছবিটি। সাইকেল আরোহী শূন্যে ব্যাকফ্লিপ দিচ্ছেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর পেছনে একটি বিমান উড়ে যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে, বিমানটিই যেন সাইকেলটিকে ঠেলে সামনে এগিয়ে দিচ্ছে। মুহূর্তের এই জাদুকরী ইলিউশনই ছবিটির প্রাণ।

লাল চোখের প্রহরী

আলোকচিত্রী: কেইরা পেরেইরা, কানাডা (ইয়ুথ ক্যাটাগরি)

কোস্টারিকার গভীর রেইনফরেস্ট। ঘুটঘুটে অন্ধকারে গাছের সরু ডালে বসে আছে এক লাল চোখের গেছো ব্যাঙ। কৃত্রিম আলোর ব্যবহারে ব্যাঙটির সতর্ক ভঙ্গি ও উজ্জ্বল চোখ দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আলোকচিত্রী। বনের নিশাচর জীবনের এক স্থির ও সজাগ মুহূর্ত এটি।

ত্রিভুজের ফ্রেমে পিরামিড

আলোকচিত্রী: আবদুল্লাহ ইসলাম, মিশর (ইয়ুথ ক্যাটাগরি)

মিশরের সেই হাজার বছরের পুরোনো পিরামিড, কিন্তু দেখা হচ্ছে নতুন ফ্রেমে। সামনে একটি আধুনিক ত্রিভুজাকার ভাস্কর্য। তার ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে ফারাওয়ের সমাধি। লাল কাপড় ও আয়নার ব্যবহারে অতীত এবং বর্তমানের দারুণ এক জ্যামিতিক মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন এই তরুণ আলোকচিত্রী।

শরতের মাউন্ট ফুজি

আলোকচিত্রী: রিলে শিকল, যুক্তরাজ্য (ইয়ুথ ক্যাটাগরি)

জাপানের মাউন্ট ফুজির সৌন্দর্য নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু শরতের ঝরা পাতার ফাঁক দিয়ে ফুজি পাহাড়কে দেখার আনন্দই আলাদা। কাওয়াগুচি হ্রদের পাড় থেকে তোলা এই ছবিতে প্রকৃতি নিজেই যেন পাহাড়টিকে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছে। আর এক মুগ্ধ দর্শক তাকিয়ে আছে সেই সৌন্দর্যের দিকে।

পরিচ্ছন্নতার পাঠ

আলোকচিত্রী: জেইরিন অ্যান্টন, শ্রীলঙ্কা (ইয়ুথ ক্যাটাগরি)

সোনালি আভা ছড়ানো ব্যাকগ্রাউন্ডে গাছের ডালে বসে আছে এক রাজকীয় ময়ূর। সে খুব সতর্ক, চারপাশ নজরে রাখছে কোনো বিপদ আছে কি না। আর এরই ফাঁকে ফাঁকে নিজের পালকগুলো ঠোঁট দিয়ে পরিষ্কার করে নিচ্ছে। জেইরিন অ্যান্টনের এই ছবিতে ময়ূরটির রাজকীয় রূপের সঙ্গে তার পরিচ্ছন্ন স্বভাবটিও ফুটে উঠেছে।

সূত্র: পপুলার মেকানিকস ম্যাগাজিন

আরও পড়ুন: