মানুষকে উড়তে হলে অন্তত ২০ ফুটের ডানা লাগবে

মানুষের উড়ার জন্য ডানার দৈর্ঘ্য হতে হবে অন্তত ২০ ফুট!ছবি: চেইনটিপি / গেটি ইমেজ

বিজ্ঞান ও প্রকৃতির রাজ্যে কত যে অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর জিনিস লুকিয়ে আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না! সেরকম ১০টি তথ্য নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। দেখুন তো, এখান থেকে কতগুলো তথ্য আপনি জানতেন।

১. মানুষ সাদাকালো স্বপ্ন দেখে

১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত গবেষকেরা ভাবতেন, মানুষ মূলত সাদাকালো স্বপ্ন দেখে। এর পেছনের কারণটা দারুণ মজার! তখন মানুষ সাদাকালো টিভি ও মুভি দেখত। রঙিন টিভির প্রচলন বাড়ার পর মানুষের রঙিন স্বপ্ন দেখার হারও জাদুকরীভাবে বেড়ে গেছে!

২. মিষ্টি কুমড়া একধরনের বেরি

উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় কুমড়া বিশাল আকারের বেরি ফল। বেরির বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা হলো, এমন একটি রসালো ফল, যা একটি মাত্র ফুলের একটি মাত্র ডিম্বাশয় থেকে তৈরি হয়। এই সংজ্ঞায় কুমড়া, তরমুজ, এমনকি কলাও বেরি! অথচ স্ট্রবেরি কিন্তু বেরি নয়!

উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় কুমড়া বিশাল আকারের বেরি ফল
ছবি: ফুলিহেলদি ডটকম

৩. মলত্যাগে মানসিক শান্তি

বাথরুম করার সময় ভেগাস নার্ভ উদ্দীপিত হয়, যা রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে ভাসোভাগাল রেসপন্স বলে। অতিরিক্ত চাপ দিলে রক্তচাপ এত দ্রুত কমে যেতে পারে যে মানুষ বাথরুমে অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে!

আরও পড়ুন
বেরির বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা হলো, এমন একটি রসালো ফল, যা একটি মাত্র ফুলের একটি মাত্র ডিম্বাশয় থেকে তৈরি হয়। এই সংজ্ঞায় কুমড়া, তরমুজ, এমনকি কলাও বেরি! অথচ স্ট্রবেরি কিন্তু বেরি নয়!

৪. মশা-মুক্ত আইসল্যান্ড

আইসল্যান্ড একসময় পৃথিবীর একমাত্র দেশ ছিল যেখানে কোনো মশা ছিল না। কারণ সেখানকার পরিবেশ বারবার জমে যেত। ফলে মশার পিউপা পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হতে পারত না। জলবায়ু পরিবর্তন বা কোনো কারণে হঠাৎ মশা দেখা গেলেও ঐতিহাসিকভাবে আইসল্যান্ড মশাহীন একটি দেশ।

আইসল্যান্ড একসময় পৃথিবীর একমাত্র দেশ ছিল যেখানে কোনো মশা ছিল না
ছবি: বিবিসি

তবে কিছুদিন আগেই কিন্তু আইসল্যান্ডে প্রথম তিনটি মশা খুঁজে পেয়েছেন এক ব্যক্তি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, জাহাজ বা প্লেনে চেপে অন্য দেশ থেকে এই মশা আইসল্যান্ডে এসেছে।

৫. মানুষকে উড়তে হলে অন্তত ২০ ফুটের ডানা লাগবে

মানুষের যদি ডানা থাকত এবং উড়তে চাইত, তবে সেই ডানার দৈর্ঘ্য হতে হতো অন্তত ২০ ফুট! কারণ পাখির হাড়ের ভেতরটা ফাঁপা থাকে, কিন্তু আমাদের হাড় অনেক ভারী এবং পেশি অনেক ঘন। এত ভারী শরীর নিয়ে বাতাসে ভাসতে হলে বিশাল ডানার পাশাপাশি বুকের পেশিও হতে হতো দৈত্যের মতো শক্তিশালী!

৬. অ্যাভোকাডোর বীজ ও পচন

অনেকেই ভাবেন অ্যাভোকাডোর ভেতরে বীজ রেখে দিলে তা কালো হয় না। আসলে বীজটা শুধু তার নিচের অংশটুকুতে অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা দেয়। বাকি অংশে ঠিকই জারণ প্রক্রিয়া চলে এবং কালো হয়ে যায়। লেবুর রস বা প্লাস্টিক র‍্যাপ দিয়ে মুড়িয়ে রাখাটা এর চেয়ে অনেক ভালো বিজ্ঞানসম্মত উপায়।

আরও পড়ুন
মানুষের যদি ডানা থাকত এবং উড়তে চাইত, তবে সেই ডানার দৈর্ঘ্য হতে হতো অন্তত ২০ ফুট! কারণ পাখির হাড়ের ভেতরটা ফাঁপা থাকে, কিন্তু আমাদের হাড় অনেক ভারী এবং পেশি অনেক ঘন।

৭. পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু জায়গা

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট নিচে অবস্থিত মৃত সাগরের তীর পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থলভাগ। মৃত সাগরের পানি সাধারণ সমুদ্রের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি নোনতা। অতিরিক্ত লবণের কারণে এখানকার পানির ঘনত্ব এত বেশি যে, মানুষ লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই এতে অনায়াসে ভেসে থাকতে পারে।

মৃত সাগর পৃথিবীর স্থলভাগের সবচেয়ে নিচু স্থান
ছবি: ইদো মেইরোভিচ / গেটি ইমেজেস

৮. বয়ঃসন্ধিকালের লম্বা হওয়ার দৌড়

টিনএজ বয়সে হঠাৎ করে ছেলেমেয়েরা এক বছরেই ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে যেতে পারে। এই গ্রোথ স্পার্টের পেছনে কাজ করে গ্রোথ হরমোন এবং সেক্স হরমোন। এগুলো হাড়ের প্রান্তভাগের এপিফাইসিয়াল প্লেটগুলোকে দ্রুত বৃদ্ধি করে। সেগুলৈ পরে শক্ত হয়ে গেলে মানুষের উচ্চতা বাড়া চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন
মৃত সাগরের পানি সাধারণ সমুদ্রের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি নোনতা। অতিরিক্ত লবণের কারণে এখানকার পানির ঘনত্ব এত বেশি যে, মানুষ লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই এতে অনায়াসে ভেসে থাকতে পারে।

৯. ব্ল্যাকহোলের ভেতরে আছে প্রচুর আলো

ব্ল্যাকহোল কালো, কারণ এর ঘটনা দিগন্ত পেরিয়ে গেলে আলোও আর ফিরে আসতে পারে না। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আপনি যদি কোনোভাবে ব্ল্যাকহোলের ভেতরে ঢোকেন, তবে আপনার কাছে সেটাকে অসম্ভব উজ্জ্বল মনে হবে! কারণ বাইরের সব আলো ওই গহ্বরের ভেতরে গিয়ে জমা হতে থাকে, আর ব্ল্যাকহোলের চারপাশের অ্যাক্রিশন ডিস্কের ঘর্ষণে যে আলো তৈরি হয়, তা কোটি কোটি সূর্যের চেয়েও বেশি!

আপনি যদি কোনোভাবে ব্ল্যাকহোলের ভেতরে ঢোকেন, তবে আপনার কাছে সেটাকে অসম্ভব উজ্জ্বল মনে হবে!
ছবি: মিডজার্নির সাহায্যে তৈরি

১০. ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্কের অলসতা

ঘুম ভাঙার পর আপনার মস্তিষ্কের পুরোপুরি কাজ শুরু করতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে। একে বলে স্লিপ ইনারশিয়া। গভীর ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক ডেল্টা ওয়েভে থাকে। হঠাৎ জাগলে মস্তিষ্ককে জাগ্রত অবস্থার বিটা ওয়েভে আসতে সময় লাগে। এই সময়ে আমাদের স্মৃতি বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা ধীর থাকে।

লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়, শশিকর, মাদারীপুর

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

আরও পড়ুন