সালটা ২০৫০। স্ত্রীকে বাঁচাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইমজেট নিয়ে অতীতে চলে যায় অ্যাডাম রিডস। কিন্তু আহত থাকায় টাইমজেট নিয়ে ক্রাশ ল্যান্ডিং করতে বাধ্য হয় ২০২২-এ। সেখানেই দেখা হয় কিশোর অ্যাডাম রিডসের সঙ্গে। মাত্র বছরখানেক আগে দুর্ঘটনায় বাবা মারা গেছেন। কিশোর অ্যাডাম তখনো মেনে নিতে পারেনি বাবার অনুপস্থিতি। চটুল স্বভাবের কারণে স্কুলে হেনস্তা হওয়া তার নিত্যদিনের ব্যাপার। এদিকে মায়ের মানসিক অবস্থাও বোঝার কোনো চেষ্টা নেই তার মধ্যে। এমন একটা সময়ে ভবিষ্যৎ থেকে আসা অ্যাডামের সঙ্গী হয় কিশোর অ্যাডাম। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে দুজনে মিলে আবার অতীতে চলে যায়। দেখা হয় বিজ্ঞানী বাবার সঙ্গে। শুরু হয় নতুন অ্যাডভেঞ্চার। প্রয়োজনটা এখন আর ব্যক্তিগত নেই। এখন পৃথিবীকে বাঁচানোর প্রশ্ন। পারবে তারা সফল হতে? অতীতের কোনো ঘটনা পরিবর্তন করলে তার প্রভাব কেমন হবে ভবিষ্যতে? বিপদটাই–বা কী? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে দেখতে হবে চমৎকার এই মুভি।
গতানুগতিক সায়েন্স ফিকশন মুভি থেকে এর গল্পটা খুব একটা ভিন্ন, এমন দাবি করা যায় না। ব্যাক টু দ্য ফিউচার মুভিগুলো যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের কাছে পরিচিত লাগবে গল্পের কাঠামো। তবে ভিন্নতা আছে গল্পের গাঁথুনিতে। আছে পারিবারিক সম্পর্কের গভীরতার প্রতিচ্ছবি। এ ছাড়া গল্পের ভাঁজে ভাঁজে থাকা রসাত্মক সংলাপ বিনোদনপ্রিয় যে কাউকেই আকর্ষণ করবে।
কানাডিয়ান চিত্রপরিচালক শ্যন লেভি বরাবরই তাঁর কাজে মুনশিয়ানা দেখিয়েছিয়েন। তাঁর পরিচালিত দ্য নাইট অ্যাট দ্য মিউজিয়াম, রিয়েল স্টিল বা স্ট্রেঞ্জার থিংস–এর মতো চলচ্চিত্রগুলো দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে চিরস্থায়ীভাবে। নিজে ক্ল্যাসিক ঘরানার চলচ্চিত্র পরিচালনা না করলেও অ্যারাইভাল–এর মতো ক্ল্যাসিক স্যায়েন্স ফিকশনের প্রযোজনা করেছেন গুণী এই চিত্রপরিচালক। ২০১৬ সালে অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের মনোনয়ন পেয়েছিল অ্যারাইভাল।
মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যাডাম রিডসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রায়ান রেনল্ড। অ্যাকশন কমেডি দৃশ্যগুলোতে রেনল্ডের জুড়ি মেলা ভার। এই মুভিতে তিনি আরও একবার সেটা প্রমাণ করে দিয়েছেন। চরিত্রের জন্য একদম মানাসই লেগেছে রেনল্ডকে।
এ ছাড়া অ্যাডামের কিশোর বয়সের চরিত্রে ওয়াকার স্কোবেলও ভালো অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে মার্ক রাফেলো অভিনয় করেছেন অ্যাডামের বাবা বিজ্ঞানী লুইস রিডের চরিত্রে এবং অ্যাডামের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জো সালদানা। পর্দায় যতক্ষণ থেকেছেন, নিজেদের উপস্থিতি জানিয়ে দিয়েছেন সরবে।
মুভির প্রথমার্ধে বেশ আবেগঘন একটা দৃশ্য আছে। যেখানে পূর্ণবয়স্ক অ্যাডামের সঙ্গে তার মায়ের দেখা হয়। ছোটবেলায় মাকে না বুঝে বড় হওয়া অ্যাডাম জানে সে কত বড় ভুল করেছিল জীবনে। নিতান্তই অপরিচিত মানুষ হিসেবে কথা হয় মায়ের সঙ্গে। সহানুভূতি জানায়। যাওয়ার সময় ছোটবেলায় মায়ের বলা কথাটাই নিজের ভাষায় বলে যায়, কিশোর অ্যাডাম মাকে অপছন্দ করে না। মাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। কিন্তু সে এখনো সেটা জানে না।
একজনরে
মুভির নাম: দ্য অ্যাডাম প্রজেক্ট
পরিচালক: শন লেভি
ধরণ: সায়েন্স ফিকশন, কমেডি, অ্যাডভেঞ্চার
প্রকাশকাল: ২০২২
ব্যাপ্তি: ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট
আইএমডিবি রেটিং: ৬.৭
মুভিটি ২০১২ সালে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কারিগরি ও আর্থিক জটিলতায় সব কাজ থেমে থাকে বেশ কয়েক বছর। অবশেষে মুভিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে নেটফ্লিক্স কিনে নিলে ২০২১ সালে আবার মুভিটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার। দেরিতে নির্মাণ হলেও, নির্মাণে অবহেলার শিকার হয়নি অ্যাডাম প্রজেক্ট। এডিটিং, ভিএফএক্স, সাউন্ড—সবকিছুই ছিল অসাধারণ।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মধ্যে বরাবরই টাইম ট্রাভেল বেশ জনপ্রিয় একটা বিষয়। টাইম ট্রাভেল নিয়ে চলচ্চিত্রও কম তৈরি হয়নি। তারপরও ভূত-ভবিষ্যতের এই গল্পগুলোর আবেদন কমে না। বিশেষ করে যাঁরা বিজ্ঞান কল্পগল্প পছন্দ করেন, তাঁদের সব সময়ই আকর্ষণ করে। সহজ–সরল জমজমাট গল্প, সরস সংলাপ, দুর্দান্ত অভিনয়—সব মিলিয়ে দ্য অ্যাডাম প্রজেক্ট পরিবারের সঙ্গে বসে দেখার মতো দারুণ উপভোগ্য এক মুভি।