২০২৫ সাল এখন গত। চলে এসেছে ২০২৬ সাল। সায়েন্স ফিকশন ভক্তদের গত বছরটা কেটেছে দারুণ। বড় বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি, ফিরে আসা জনপ্রিয় সিরিজ আর নতুন কিছু চমক মিলিয়ে বছরটা ছিল জমজমাট। আজ ২ জানুয়ারি, বিশ্ব কল্পবিজ্ঞান দিবসে গত বছরের সেরা সাই-ফাই সিরিজগুলো সম্পর্কে জানা যাক।
আমরা জানি শেষটা কী হবে। তবু এন্ডর-এর মতো টেনশন আর কোনো শো দিতে পারেনি। এটি সায়েন্স ফিকশনের মোড়কে একটি পলিটিক্যাল থ্রিলার। ক্যাসিয়ান এন্ডর ও মন মোথমার মতো চরিত্ররা এক অসম্ভব শক্তিশালী আর দুর্নীতিপরায়ণ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। হতাশার অন্ধকারেও যে আশা বেঁচে থাকে, এন্ডর সেটাই দেখিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি সর্বকালের সেরা স্টার ওয়ার্স কন্টেন্টগুলোর একটি।
ব্রেকিং ব্যাডের স্রষ্টা ভিন্স গিলিগান যখন অ্যাপলের বিশাল বাজেটের সঙ্গে হাত মেলান, তখন ম্যাজিক তো হবেই! প্লুরিবাস এক অদ্ভুত এলিয়েন ইনভেশন ড্রামা। এলিয়েনরা এমন এক ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়, যা মানুষকে দয়ালু বানিয়ে ফেলে! কিন্তু একজন সন্দেহবাতিক লেখিকা এতে আক্রান্ত হন না। তিনি একাই লড়েন এমন এক পৃথিবীর বিরুদ্ধে, যেখানে সবাই শুধু বন্ধু হতে চায়। অদ্ভুত, তাই না?
অ্যাপোলো মিশনের গল্প আমরা জানি। কিন্তু তারপর কী হলো? এই তথ্যচিত্র আমাদের স্পেস শাটল, মির স্টেশন, আইএসএস এবং কমার্শিয়াল স্পেসফ্লাইটের অজানা গল্প শুনিয়েছে। নভোচারী আর কসমোনটদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সাহসিকতা আর ট্র্যাজেডির এক অনবদ্য ইতিহাস।
জেনোমর্ফকে আবার কীভাবে ভয়ংকর বানানো যায়? নোয়াহ হলি উত্তরটা খুঁজে পেয়েছেন। তিনি এলিয়েনকে সাপোর্টিং রোলে রেখে ফোকাস করেছেন করপোরেট রাজনীতি এবং নতুন সব অদ্ভুত এলিয়েনদের ওপর। রিডলি স্কটের অরিজিনাল মুভির প্রতি বিশ্বস্ত থেকেও এই শো ছিল একদম নতুন আর ভীতিজাগানিয়া।
চার্লি ব্রুকার আবারও ফর্মে ফিরেছেন। এবারের ছয়টি এপিসোডে পুরোনো কিছু গল্পের সিক্যুয়েলও ছিল। কমেডি থেকে ট্র্যাজেডি, সবকিছুর স্বাদ পাওয়া গেছে। পল জিয়ামাতি অভিনীত ইউলজি এপিসোডে পুরোনো ছবির ভেতরে ঢোকার প্রযুক্তি আমাদের নস্টালজিক করে দিয়েছে।
মাটির নিচের এই জগৎ এবার আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। জুলিয়েট নিকোলস এবার প্রায় পরিত্যক্ত সাইলো ১৭-তে আটকে ছিলেন। তবে আসল নাটক চলছিল সাইলো ১৮-তে। মেয়র বার্নার্ড হল্যান্ডের শঠতা এবং সলোর করুণ পরিণতি গল্পকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আর শেষ দৃশ্যটা? ওটা তো পুরো গেম চেঞ্জার!
নাম শুনে ভাববেন না এটা টার্মিনেটরের কোনো সস্তা কপি। আলেকজান্ডার স্কার্সগার্ড অভিনীত এই সিকিউরিটি ড্রয়েড নিজের নাম নিজেই রেখেছে। সে হ্যাক করে নিজের ইচ্ছাশক্তি অর্জন করেছে। মানুষকে রক্ষা করতে তাকে প্রোগ্রাম করা হলেও মানুষকে সে খুব একটা পছন্দ করে না। ভায়োলেন্ট হলেও এই শো ছিল প্রচণ্ড মজার। অদ্ভুতভাবে এই কাহিনি আমাদের অনেকের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। কারণ, মার্ডারবটের মতো আমাদেরও মাঝে মাঝে কাজ করতে ইচ্ছা করে না।
আইজ্যাক আসিমভের এই বিশাল উপাখ্যান একমাত্র স্ট্রিমিং যুগেই সম্ভব। প্রথম দুই সিজনের ধীরগতির পর এবার অ্যাকশন জমে উঠেছে। হার্ড সায়েন্স ফিকশন হলেও এবারের সিজনে স্টার ওয়ার্সের মতো স্পেস অপেরার স্বাদ পাওয়া গেছে। টেলিপ্যাথিক ভিলেন দ্য মিউলের উপস্থিতি শোতে এক নতুন বিশৃঙ্খলা আর উত্তেজনা নিয়ে এসেছে।
প্রিক্যুয়েল হয়েও যে এতটা জনপ্রিয় হওয়া যায়, তা এই শো না দেখলে বিশ্বাস হতো না। অরিজিনাল সিরিজের অনেক রেফারেন্স আর পুরোনো চরিত্রদের ফিরে আসা ছিল এবারের চমক। যদিও কিছু গিমিকি এপিসোড ছিল, কিন্তু ক্রুদের রসায়ন আর নতুন ভিলেন ভেজদাদের ভয়ংকর রূপ সব পুষিয়ে দিয়েছে।
দ্বিতীয় সিজনে ভেবেছিলেন এলিয়েনদের বিদায় করা গেছে? ভুল! নাটকের প্রয়োজনে বিপদ তো ফিরবেই। এলিয়েন মাদারশিপ ধ্বংসের দুই বছর পরও দেখা গেল পৃথিবীর শত্রুরা আসলে কোথাও যায়নি। বেশ কিছু পুরোনো চরিত্র ফিরে এসেছে। এবারের সিজনটা অনেকটা সফট রিবুটের মতো। নতুন ধরনের স্কুইডসদৃশ এলিয়েন ও বিশাল বাজেটের ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস মিলিয়ে ইনভেশন তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধরে রেখেছে।
আরও পড়ুন: