বিজ্ঞানের এই ৭টি জনপ্রিয় মিথের আপনি কয়টি জানেন
ছোটবেলা থেকে আমরা যে কত অদ্ভুত কথা বিশ্বাস করে বড় হয়েছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বড়দের মুখে শোনা গল্প বা লোকগাঁথা শুনতে শুনতে সেগুলোই আমাদের কাছে ধ্রুব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরিতে যখন এই সত্যগুলো পরীক্ষা করা হয়, তখন দেখা যায় আসল ঘটনা একদম উল্টো! চলুন, আজ বিজ্ঞানের এমন কিছু প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১. বাদুড় চোখে দেখে না
‘বাদুড়ের মতো অন্ধ’ নামে প্রবাদ প্রচিলত আছে। অথচ বাদুড় দিব্যি চোখে দেখতে পায়। বাদুড় রাতে ওড়ে এবং মাঝেমধ্যে এদিক-ওদিক ধাক্কা খাওয়ার মতো করে ওড়ে বলে আমরা ধরে নিই যে ওরা চোখে দেখে না। কিন্তু আসলে বাদুড় মোটেও অন্ধ নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে ওদের দৃষ্টিশক্তি মানুষের চেয়েও ভালো! বিশেষ করে ফলভোজী বড় বাদুড়েরা মানুষের চেয়ে তিন গুণ বেশি পরিষ্কার দেখতে পায়। ওরা মূলত রাতের আঁধারে শিকার ধরার জন্য চোখের চেয়ে শব্দের প্রতিধ্বনির ওপর বেশি নির্ভর করে। এ কারণেই আমরা ওদের অন্ধ ভেবে ভুল করি।
২. লাল কাপড় দেখলে ষাঁড় খেপে যায়
ষাঁড়ের লড়াইয়ে ম্যাটাডোর যখন লাল কাপড় নাড়ান, তখন আমরা ভাবি লাল রঙের ওপর ষাঁড়ের বুঝি জন্মগত রাগ আছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ষাঁড় আসলে লাল রং দেখতেই পায় না!
ওরা আংশিকভাবে বর্ণান্ধ। ওদের কাছে লাল, নীল বা সবুজ সবই একই রকম। ষাঁড় মূলত খেপে যায় কাপড়ের ক্রমাগত নড়াচড়া এবং ম্যাটাডোরের উসকানিমূলক উপস্থিতি দেখে। আপনার হাতে যদি নীল বা হলুদ কাপড়ও থাকে আর সেটাকে আপনি ঠিক একইভাবে ওর সামনে নাড়ান, তবে সে একইভাবে আপনার দিকে তেড়ে আসবে।
আসলে বাদুড় মোটেও অন্ধ নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে ওদের দৃষ্টিশক্তি মানুষের চেয়েও ভালো! বিশেষ করে ফলভোজী বড় বাদুড়েরা মানুষের চেয়ে তিন গুণ বেশি পরিষ্কার দেখতে পায়।
৩. ঘন ঘন চুল কাটলে দ্রুত বড় হয়
অনেক সেলুনেই এই পরামর্শ দেওয়া হয়, চুল ছেঁটে ফেলুন, দ্রুত বড় হবে। এটি চমৎকার একটি বাণিজ্যিক মিথ! আমাদের চুল বড় হয় মাথার ত্বকের নিচে থাকা লোমকূপ থেকে, চুলের আগা থেকে নয়। আগা কাটলে হয়তো চুলের ফাটা অংশ দূর হয়ে একে সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল দেখায়, কিন্তু চুলের দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে এর কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই।
৪. বাঁহাতি মানুষেরা বেশি সৃজনশীল
আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা যে, ডানহাতি মানুষের তুলনায় বাঁহাতি মানুষেরা বেশি সৃজনশীল ও গুণী শিল্পী হন। এর পেছনের যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বাঁহাতিদের মস্তিষ্কের ডান অংশ বেশি সক্রিয়। এই অংশই নাকি সৃজনশীলতা ও শৈল্পিক কাজের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র।
চাঁদে কি সত্যিই স্থায়ী অন্ধকার দিক আছে? একদমই না। বিজ্ঞানে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। চাঁদের যে পিঠ আমরা পৃথিবী থেকে সব সময় দেখতে পাই, তাকে বলে নিকটবর্তী দিক বা নিয়ার সাইড। আর যে দিকটি পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না, তাকে বলা হয় ফার সাইড বা দূরবর্তী দিক। আমরা দেখতে পাই না মানেই যে সেখানে রোদ পৌঁছায় না, তা কিন্তু নয়।
আমাদের চুল বড় হয় মাথার ত্বকের নিচে থাকা লোমকূপ থেকে, চুলের আগা থেকে নয়। আগা কাটলে হয়তো চুলের ফাটা অংশ দূর হয়ে একে সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল দেখায়।
৫. চাঁদের অন্ধকার দিক সবসময় কালো
চাঁদে কি সত্যিই স্থায়ী অন্ধকার দিক আছে? একদমই না। বিজ্ঞানে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। চাঁদের যে পিঠ আমরা পৃথিবী থেকে সব সময় দেখতে পাই, তাকে বলে নিকটবর্তী দিক বা নিয়ার সাইড। আর যে দিকটি পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না, তাকে বলা হয় ফার সাইড বা দূরবর্তী দিক। আমরা দেখতে পাই না মানেই যে সেখানে রোদ পৌঁছায় না, তা কিন্তু নয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফিল প্লেইট বিষয়টাকে খুব চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলছেন, পৃথিবীর মতো চাঁদেও সূর্যোদয় হয়, দিন আসে, আবার সূর্যাস্ত শেষে রাত নামে। অর্থাৎ, চাঁদের যে অংশে যখন রাত চলে, তখন কেবল সেই অংশটাই অন্ধকার থাকে। যখন আমরা পৃথিবী থেকে অমাবস্যা দেখি, তখন চাঁদের ওই উল্টো পিঠেই সূর্য ঝলমল করে! পৃথিবীর মতোই চাঁদের সব অংশে পর্যায়ক্রমে দিন ও রাত আসে। সুতরাং, চাঁদের কোনো স্থায়ী অন্ধকার দিক নেই।
৬. খাবার মাটিতে পড়লে ৫ সেকেন্ডের মধ্যে জীবাণু লাগে না
মাটিতে খাবার পড়ার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে তুলে নিলে তাতে জীবাণু লাগে না, এটি একটি ভয়ংকর ভুল ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আটকে যায়। আপনার মেঝে কতটা পরিষ্কার এবং খাবার শুকনো নাকি ভেজা, তার ওপর নির্ভর করে জীবাণুর পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। কিন্তু ৫ সেকেন্ডের ম্যাজিক নিয়মটি একদম ভুল!
চাঁদের যে পিঠ আমরা পৃথিবী থেকে সব সময় দেখতে পাই, তাকে বলে নিকটবর্তী দিক বা নিয়ার সাইড। আর যে দিকটি পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না, তাকে বলা হয় ফার সাইড বা দূরবর্তী দিক।
৭. বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য সূর্য দায়ী
অনেকেই মনে করেন, সূর্যের তাপ বেড়ে যাওয়ার কারণেই বুঝি পৃথিবী গরম হচ্ছে। নাসা বলছে, সূর্যের কক্ষপথ ও শক্তির পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীতে বরফ যুগ আসা-যাওয়া করে ঠিকই; কিন্তু গত কয়েক দশকে পৃথিবীর তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, তার পেছনে সূর্যের কোনো হাত নেই।
এই চরম অবস্থার আসল অপরাধী আমাদের কলকারখানা ও গাড়ি থেকে বের হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং গ্রিনহাউস গ্যাস। সূর্যকে দোষ দিয়ে আমরা আসলে নিজেদের দায় এড়ানোরই চেষ্টা করছি মাত্র।