বিজ্ঞান ও প্রকৃতির রাজ্যে কত যে অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর জিনিস লুকিয়ে আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না! সেরকম ১০টি তথ্য নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। দেখুন তো, এখান থেকে কতগুলো তথ্য আপনি জানতেন।
১. পৃথিবীর গভীরতম স্থান
মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশ চ্যালেঞ্জার ডিপ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর জায়গা। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ৯৩৫ মিটার নিচে। আপনি যদি মাউন্ট এভারেস্টকে এই খাদের ভেতর উল্টো করে ডুবিয়ে দেন, তার পরও এর চূড়া থেকে পানির ওপরের পৃষ্ঠের দূরত্ব থাকবে ২ কিলোমিটারের বেশি! সেখানকার চাপ স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলের চাপের চেয়ে ১ হাজার গুণেরও বেশি।
২. অক্টোপাসের বিভ্রম
নকল হাতের জাদুতে অক্টোপাসকেও বোকা বানানো যায়! একটি নকল হাতকে চিমটি কাটলে অক্টোপাস তার নিজের হাত গুটিয়ে নেয়! অক্টোপাসের স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত উন্নত এবং এটি তাদের পুরো শরীরে ছড়ানো। তাদের মোট নিউরনের দুই-তৃতীয়াংশই থাকে তাদের আটটি হাতের ভেতর (পা-ও বলতে পারেন), যা অনেকটা আলাদা মস্তিষ্কের মতো কাজ করে।
৩. ডাইনোসর হত্যাকারী গ্রহাণুর গতি
যে গ্রহাণুটি ডাইনোসরদের বিলুপ্ত করেছিল, সেটি পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিল ঘণ্টায় প্রায় ৪৩ হাজার কিলোমিটার বেগে! চিকসুলুব নামে এই গ্রহাণুটি চওড়ায় ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। এর আঘাতের ফলে শত শত কোটি পারমাণবিক বোমার সমান শক্তি নির্গত হয়েছিল, যা পুরো পৃথিবীকে কয়েক বছরের জন্য অন্ধকার ও ধুলোয় ঢেকে দিয়েছিল। এতে তৈরি হয়েছিল বৈশ্বিক শীত।
আপনি যদি মাউন্ট এভারেস্টকে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের ভেতর উল্টো করে ডুবিয়ে দেন, তার পরও এর চূড়া থেকে পানির ওপরের পৃষ্ঠের দূরত্ব থাকবে ২ কিলোমিটারের বেশি!
৪. পৃথিবীর অর্ধেক প্রাণীই পোকামাকড়
পৃথিবীতে ইউক্যারিওটিক প্রজাতির প্রায় অর্ধেকই হলো পোকামাকড়। ইউক্যারিওটিক মানে যাদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে ১০ লাখেরও বেশি প্রজাতির পোকামাকড় আছে। এর মধ্যে শুধু বিটল বা গুবরে পোকার প্রজাতিই প্রাণিজগতের মোট প্রজাতির ২৫ শতাংশ!
৫. এভারেস্টের চেয়েও উঁচু পর্বত
উচ্চতার দিক থেকে মাউন্ট এভারেস্ট সবচেয়ে উঁচু পর্বত হলেও, হাওয়াই দ্বীপের মৃত আগ্নেয়গিরি মাউনা কেয়া কিন্তু এভারেস্টের চেয়েও লম্বা! এভারেস্টের উচ্চতা মাপা হয় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে। কিন্তু মাউনা কেয়ার গোড়া প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। গোড়া থেকে চূড়া পর্যন্ত মাপলে এর উচ্চতা ১০ হাজার ২১১ মিটার, যা এভারেস্টের (৮ হাজার ৮৪৮ মিটার) চেয়ে অনেক বেশি!
৬. ভোঁতা ছুরিতে পেঁয়াজ কাটলে কান্না বেশি পায়
পেঁয়াজ কাটার সময় ভোঁতা ছুরি ব্যবহার করলে চোখ বেশি জ্বলে। ধারালো ছুরি পেঁয়াজের কোষগুলোকে নিখুঁতভাবে কাটে। কিন্তু ভোঁতা ছুরি কোষগুলোকে থেঁতলে দেয়। ফলে পেঁয়াজের ভেতর থেকে বেশি পরিমাণে সিন-প্রোপেনথিয়াল-এস-অক্সাইড গ্যাস বের হয় এবং চোখের সংস্পর্শে এসে সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরি করে চোখ জ্বালা করায়।
এভারেস্টের উচ্চতা মাপা হয় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে। মাউনা কেয়ার গোড়া প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। গোড়া থেকে চূড়া পর্যন্ত মাপলে এর উচ্চতা ১০ হাজার ২১১ মিটার, যা এভারেস্টের চেয়ে অনেক বেশি!
৭. অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা পড়া
আজ থেকে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ বছর আগে অ্যান্টার্কটিকা অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি বরফ আচ্ছাদিত মহাদেশে পরিণত হয়। মহাদেশগুলো আলাদা হয়ে যাওয়ার পর সেখানে ড্রেক প্যাসেজ তৈরি হয় এবং অ্যান্টার্কটিকার চারপাশ ঘিরে একটি ঠান্ডা পানির স্রোত ঘুরতে থাকে। এই স্রোত অ্যান্টার্কটিকাকে গরম বাতাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে চিরস্থায়ী বরফের রাজ্যে পরিণত করে।
৮. মস্তিষ্ক ছাড়াই জেলিফিশের বেঁচে থাকে
জেলিফিশ, সি-অ্যানিমন বা হাইড্রার কোনো মস্তিষ্ক নেই, তবু তারা দারুণভাবে শিকার করতে পারে। এদের শরীরে কোনো কেন্দ্রীয় মস্তিষ্ক না থাকলেও পুরো শরীরজুড়ে একটি নার্ভ নেট ছড়িয়ে থাকে। এর মাধ্যমেই তারা চারপাশের পরিবেশ বুঝতে পারে, বিপদে সাড়া দেয় এবং খাবার শিকার করে।
অনেক সময় কিলার হোয়েল বা অর্কারা শিকার করার সময় গ্রেট হোয়াইট শার্ককে ইচ্ছাকৃতভাবে উল্টে দেয়, কারণ হাঙর নড়াচড়া করতে না পারলে শ্বাস নিতে পারে না। তখন দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
৯. হাঙরকে উল্টে দিলে তারা প্যারালাইজড হয়ে যায়
অনেক প্রজাতির হাঙরকে যদি আপনি উল্টো করে ধরেন, তবে তারা সাময়িকভাবে প্যারালাইজড হয়ে যায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় টনিক ইমোবিলিটি। অনেক সময় কিলার হোয়েল বা অর্কারা শিকার করার সময় গ্রেট হোয়াইট শার্ককে ইচ্ছাকৃতভাবে উল্টে দেয়, কারণ হাঙর নড়াচড়া করতে না পারলে শ্বাস নিতে পারে না। তখন দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
১০. ইতিহাসের সবচেয়ে বিকট শব্দ
১৮৮৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চ শব্দ। এই শব্দ এতই তীব্র ছিল যে ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা নাবিকদের কানের পর্দা ফেটে গিয়েছিল! এর শকওয়েভ বা ধাক্কা পুরো পৃথিবীকে পরপর চারবার প্রদক্ষিণ করেছিল।