অ্যালিয়েন অ্যাটাক - ৪

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের গোপন ইউএফও ফাইলগুলো প্রকাশ করেছে। এরপর থেকেই সারা বিশ্বে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনাকল্পনা। এই বিশাল মহাবিশ্বে আমরা কি আসলেই একা? নাকি ভিনগ্রহে লুকিয়ে আছে বুদ্ধিমান কোনো প্রাণী? যদি সত্যিই তাদের অস্তিত্ব থাকে, তারা যদি হলিউড মুভির মতো হঠাৎ পৃথিবী আক্রমণ করে, তাহলে কী হবে? বিজ্ঞান কী বলে? সত্যিই কি ভিনগ্রহের প্রাণীরা আমাদের জন্য হুমকি হতে পারে?

এসব কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তর দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফিলিপ প্লেইট তাঁর ডেথ ফ্রম দ্য স্কাইজ!: দ্য সায়েন্স বিহাইন্ড দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড বইয়ে। সূক্ষ্ম রসিকতা ও নিখাদ বিজ্ঞানের দারুণ মিশেলে লেখা রোমাঞ্চকর এই বইয়ের কয়েকটি অধ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। ভিনগ্রহীদের আক্রমণ নিয়ে লেখা এই অধ্যায়টি অনুবাদ করছেন কাজী আকাশ। আজ পড়ুন ষষ্ঠ অধ্যায়ের চতুর্থ পর্ব।

জীবনের শুরু মহাকাশ

অনেকেই মনে করেন, আমাদের জীবনের শুরুটা হয়েছিল ওই বিশাল মহাকাশে...। পুরো বিষয়টি কিন্তু একটি মজার সম্ভাবনার কথা বলে। মঙ্গলে যদি সত্যিই প্রাণের শুরু হয়ে থাকে, তবে এএলএইচ৮৪০০১ পাথরটি যেভাবে পৃথিবীতে এসেছে, ঠিক একইভাবে সেই প্রাণও পৃথিবীতে আসতে পারে। এমনটা কি হতে পারে যে, পৃথিবীতে প্রাণের শুরু হয়েছিল মঙ্গল গ্রহ থেকেই?

প্রথম দেখায় এই ধারণাকে বেশ বোকা বোকা মনে হতে পারে। পৃথিবী এখন প্রাণে ভরপুর। এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়াই কঠিন, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে মঙ্গল গ্রহ বলতে গেলে একদম মৃত। কিন্তু পৃথিবীতে প্রাণের বীজ বপনের জন্য যে ধাপগুলো প্রয়োজন, সেগুলো অন্তত মঙ্গলে অসম্ভব নয়। প্রথমত, মঙ্গলে হয়তো প্রাণের শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, সেই প্রাণ পৃথিবীতে আসার একটি যুক্তিসংগত উপায় আছে। আর তৃতীয়ত, পৃথিবীতে সে সময় প্রাণের বিকাশের জন্য বেশ ভালো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে প্রাণের আগমন ঘটার এই ধারণাকে বলা হয় প্যানস্পারমিয়া। এটি একটি চমকপ্রদ বিষয়। তবে এর একটাই সমস্যা, আপনি এটি প্রমাণ করবেন কীভাবে?

সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না এটি প্রমাণ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন
পৃথিবী এখন প্রাণে ভরপুর। এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়াই কঠিন, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে মঙ্গল গ্রহ বলতে গেলে একদম মৃত।

আবার এই ধারণাকে একেবারে বাতিল করে দেওয়াও খুব কঠিন। আপনি কীভাবে পরীক্ষা করে এর সত্যতা যাচাই করবেন? কোটি কোটি বছর আগে যেমন পরিবেশ ছিল, ল্যাবরেটরিতে তা নতুন করে তৈরি করা বেশ কঠিন। আর যদি তৈরি করাও যায়, তবু সেটা প্যানস্পারমিয়ার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। কারণ, এমন পরীক্ষায় অনেক অজানা ব্যাপার থাকে। তবে এ ধরনের পরীক্ষা আমাদের চিন্তাভাবনাকে এমন এক দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা হয়তো ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো আবিষ্কারের পথ খুলে দেবে। বিজ্ঞানে একটি ভালো পরীক্ষা হাজারো অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

তবে একটি মজার পরীক্ষা হতে পারে। সে জন্য মঙ্গলের পাথরে জীবাশ্ম হয়ে গেছে এমন অণুজীব খুঁজে পেতে হবে। তারপর খুঁজে দেখতে হবে, সেই অণুজীবের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর আদিম প্রাণের রাসায়নিক কোনো মিল আছে কিনা। এমন কোনো ফসিল ব্যাকটেরিয়া যদি পাওয়া যায়, যাদের গঠনে আরএনএ বা ডিএনএ আছে, তাহলে সেটি প্যানস্পারমিয়া তত্ত্বের পক্ষে দারুণ একটি প্রমাণ হবে। অর্থাৎ, এর মানে হয়তো দাঁড়াবে, প্রাণ প্রথমে মঙ্গলে শুরু হয়ে পরে পৃথিবীতে এসেছিল। কিংবা কোনো তৃতীয় উৎস থেকে পৃথিবীতে ও মঙ্গলে প্রাণের বীজ ছড়ানো হয়েছিল।

যত দিন না এমন কোনো প্রমাণ মিলছে, তত দিন আমরা কেবল অনুমানই করতে পারি। তবে তত্ত্বগতভাবে প্যানস্পারমিয়া কীভাবে ঘটতে পারে, তা পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব।

মঙ্গল বা অন্য কোনো গ্রহ থেকে প্রাণ নিয়ে পাথরটি ছিটকে আসার পরের ধাপটি হলো পৃথিবীর দিকে এর যাত্রা। এএলএইচ৮৪০০১ পাথরটি অন্তত ১ কোটি ৬০ লাখ বছর মহাকাশে কাটিয়েছে, হয়তো আরও বেশি। এই দীর্ঘ সময় এটি মহাকাশের চরম শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে। এর ওপর উচ্চ শক্তির পারমাণবিক কণার বোমা বর্ষণ হয়েছে এবং সহ্য করতে হয়েছে সূর্যের প্রাণঘাতী অতিবেগুনি রশ্মির স্নান। এমন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে যে কাউকেই বেশ শক্তপোক্ত হতে হবে।

আরও পড়ুন
যদি এমন কোনো ফসিল ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, যাদের গঠনে আরএনএ বা ডিএনএ আছে, তবে সেটি প্যানস্পারমিয়া তত্ত্বের পক্ষে দারুণ একটি প্রমাণ হবে।

অণুজীবরা কিন্তু বেশ শক্তপোক্তই হয়। কিছু ব্যাকটেরিয়া নিজেদের চারপাশে প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করতে পারে। এটি তাদের চরম তাপ, ঠান্ডা, খরা ও বিকিরণের হাত থেকে বাঁচায়। ডিনোকক্কাস রেডিওডুরান্স নামে একধরনের ব্যাকটেরিয়া এত বেশি বিকিরণ সহ্য করতে পারে, যা একজন মানুষকে মারার জন্য প্রয়োজনীয় বিকিরণের তুলনায় শত গুণ বেশি। বিষয়টা অনেকটা কম্পিউটার ফাইলে রাখা ব্যাকআপের মতো। এই ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএর অনেকগুলো কপি থাকে। বিকিরণের কারণে যদি কিছু কপি নষ্টও হয়ে যায়, সে তখন অন্য কপিগুলো ব্যবহার করতে পারে। আর ডিএনএ মেরামত করার জন্য এর কাছে যে টুল আছে, তা চরম বৈরী পরিবেশেও দারুণভাবে কাজ করতে পারে। জানেন তো, প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াসেই মেরামতের টুল থাকে।

অবশ্য উল্কাপিন্ডের গায়ে চেপে বসা ওই আণুবীক্ষণিক যাত্রীদের যদি ভালোভাবে মোড়কে মুড়ে দেওয়া হয়, তবে তাদের জন্য যাত্রাটা আরও সহজ হয়। গ্রহাণুর আঘাতে ছিটকে পড়া কোনো পাথর মহাকাশে গেলে নানা রকম ধ্বংসাত্মক বিকিরণের শিকার হয়। কিন্তু পাথরটি যদি যথেষ্ট বড় হয়, তাহলে এর ভেতরের আণুবীক্ষণিক যাত্রীরা নিরাপদে থাকতে পারে। যেমন, মহাজাগতিক রশ্মি পাথরের খুব বেশি গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, সৌরঝড়ের কণা, সোলার ফ্লেয়ার বা করোনাল মাস ইজেকশনের মতো অন্যান্য ক্ষতিকর জিনিসগুলোও পাথরের অনেক গভীরে পৌঁছাতে বেশ বেগ পায়।

প্রাথমিক কিছু পরীক্ষায় ব্যাকটেরিয়ার নমুনা মহাকাশে পাঠিয়ে দেখা গেছে, কিছু অণুজীব মহাকাশের বৈরী পরিবেশেও বেশ কিছুদিন টিকে থাকতে পারে। মঙ্গলের কোনো আদিম ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া যদি ছিটকে পড়া পাথরের অনেক গভীরে কোনোভাবে ঢুকে যেতে পারে, তাহলে তাদের এই যাত্রায় টিকে থাকার কিছুটা সম্ভাবনা, খুব সামান্য সম্ভাবনা হলেও আছে।

আরও পড়ুন
গ্রহাণুর আঘাতে ছিটকে পড়া কোনো পাথর মহাকাশে গেলে নানা রকম ধ্বংসাত্মক বিকিরণের শিকার হয়। কিন্তু পাথরটি যদি যথেষ্ট বড় হয়, তবে এর ভেতরের আণুবীক্ষণিক যাত্রীরা নিরাপদে থাকতে পারে।

তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে আসার সময়ও তাদের বেঁচে থাকতে হবে। এখানেও ওই একই কথা খাটে; পাথরটি যথেষ্ট বড় হয়, হলে পৃথিবীর বাতাসে প্রচণ্ড বেগে ছুটে আসার সময় শুধু এর বাইরের দিকের স্তরটাই পুড়বে। উল্কাপিন্ডটি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে ছোট ছোট টুকরো হয়ে ভেঙে গেলে সেই টুকরোগুলো আছড়ে পড়ার ধাক্কা ভেতরের যাত্রীদের জন্য খুব একটা ভয়াবহ হবে না।  ছোট একটা পাথর হয়তো টুপ করে নিচে পড়বে। আবার পাথরটি কোনো পানি বা কাদার মধ্যে পড়লে এবং সেই কাদা পাথরের ফাটল দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলে অণুজীবটি হয়তো আক্ষরিক অর্থেই একেবারে হাতের মুঠোয় খাবার পেয়ে যাবে!

এখানে বলে রাখা ভালো, শুধু মঙ্গল গ্রহই যে প্রাণের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে, তা কিন্তু নয়। ধূমকেতুগুলো হলো বরফ ও পাথরের বিশাল গোলা, যেগুলো সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এই ধূমকেতুগুলোতে বেশ কিছু জটিল জৈব যৌগ থাকে। এর মধ্যে কিছু উপাদান হলো প্রাণের পূর্বশর্ত বা অন্তত প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক রাসায়নিক উপাদান। এমনও হতে পারে, তরুণ পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়া ধূমকেতুগুলোই আমাদের গ্রহে প্রচুর পানি এবং এই রাসায়নিক উপাদানগুলো নিয়ে এসেছিল।

১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ায় আছড়ে পড়া একটি উল্কাপিন্ডেও অ্যামিনো অ্যাসিডের সন্ধান মিলেছিল। সেই উল্কাপিন্ডের মধ্যে ছিল গ্লাইসিন এবং অ্যালানিন নামে দুটি উপাদান। এই উপাদান দুটি সাধারণত প্রাণীর প্রোটিনে পাওয়া যায়। মহাকাশে থাকা বিশাল গ্যাস ও ধুলোর মেঘেও প্রচুর পরিমাণে জটিল জৈব যৌগ থাকে। বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ বা আরএনএ যদি ভালোভাবে ঢাকা থাকে, তবে সৌরঝড়ের তোড়ে সেগুলো উড়ে অন্য কোনো নক্ষত্রে যাওয়া পর্যন্তও টিকে থাকতে পারে।১২ এই গবেষণাটি অবশ্য অনুমানের ওপর ভিত্তি করে করা। কিন্তু গবেষণাটি দেখায়, অনেক দীর্ঘ পথঅতিক্রম করাও তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব। যদিও সেই সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ।

আরও পড়ুন
১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ায় আছড়ে পড়া একটি উল্কাপিন্ডেও অ্যামিনো অ্যাসিডের সন্ধান মিলেছিল। সেই উল্কাপিন্ডের মধ্যে গ্লাইসিন এবং অ্যালানিন নামে দুটি উপাদান ছিল।

প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, একটি ধূমকেতু তার ভেতরের উপাদান পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে সরাসরি পৃথিবীতেই আছড়ে পড়তে হবে, তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যখন কোনো ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি আসে, তখন তার ভেতরের বরফ গলে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় এবং ধূমকেতু থেকে বেরিয়ে লম্বা একটি লেজ তৈরি করে। পৃথিবীর কক্ষপথ যদি সেই ধূমকেতুর লেজ ভেদ করে যায়, তবে ধূমকেতুর উপাদানগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াটিও কিছুটা ভয়ংকর। কারণ তখন গতি থাকে অনেক বেশি। কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে, ধূমকেতুর উপাদানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ অক্ষত অবস্থাতেই পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে।

তবে এখানে একটু সাবধান হওয়া প্রয়োজন। আমাদের স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে, এগুলো সবই হলো প্রাণের প্রাথমিক উপাদান। এরা নিজেরাই সরাসরি কোনো প্রাণ নয়। কিন্তু এই উপাদানগুলো মহাকাশে শুধু প্রাণের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখেনি, বরং তুলনামূলক বেশ ভালো পরিমাণেই ছড়িয়ে আছে। এই উৎসগুলো অক্ষত অবস্থায় পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে বলেই বিজ্ঞানীরা এগুলো নিয়ে গবেষণা করতে পারছেন।

এমনটা হতেই পারে যে, মহাকাশ আসলে প্রাণে গমগম করছে। হয়তো পৃথিবীর প্রাণের শুরুটাও ওখানেই হয়েছিল। সেটি সত্যি হলে, তা প্রমাণ করা হবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে যুগান্তকারী ও মৌলিক আবিষ্কারগুলোর একটি।

আরও পড়ুন
যখন কোনো ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি আসে, তখন তার ভেতরের বরফ গলে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় এবং ধূমকেতু থেকে বেরিয়ে লম্বা একটি লেজ তৈরি করে।

কিন্তু এটা আমাদের জন্য বিপদেরও কারণ হতে পারে। মহাকাশে যদি অণুজীব হিসেবে প্রাণ টিকে থাকে এবং তাদের কিছু এখন পৃথিবীতে চলে আসে, তবে কি শেষটা খুব একটা সুখকর হবে? প্যানস্পারমিয়া তত্ত্ব সত্যি হলে আমরা আমাদের এই অস্তিত্বের জন্য মহাকাশের ওই পোকামাকড়গুলোর কাছেই ঋণী। যারা টিকে গিয়েছিল, তাদের জন্য এটা ভালো খবর ছিল। কিন্তু সে তো প্রায় ৩০০ কোটি বছরেরও বেশি সময় আগের কথা!

আজ যদি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে কী হবে? আমরা সবাই হলিউডের দ্য ব্লব কিংবা দ্য অ্যান্ড্রোমিডা স্ট্রেন মুভির মতো মুভিগুলো দেখেছি। মহাকাশের কোনো সংক্রামক রোগ কি আমাদের আক্রমণ করে পুরো মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে? কিংবা আমাদের অদ্ভুত, ভয়ংকর ও আঠালো কোনো প্রাণীতে পরিণত করতে পারে?

সত্যি বলতে, সম্ভবত এমনটা হবে না। পৃথিবীর প্রাণীরা বেশ শক্তপোক্ত। মহাকাশ থেকে আসা যেকোনো কিছুকেই আমাদের দখল নিতে চরম এক যুদ্ধ করতে হবে। আমার মতে, তারা জিততে পারবে না। তবে এই যুদ্ধের ফল নির্ভর করে ঠিক কোন ধরনের আঠালো ও জঘন্য জিনিস আমাদের দিকে তেড়ে আসছে তার ওপর।

চলবে…

ফিলিপ প্লেইট, ডেথ ফ্রম দ্য স্কাইজ!: দ্য সায়েন্স বিহাইন্ড দ্য এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড অবলম্বনে

টীকা

১. তবে বিজ্ঞানীরা হাল ছেড়ে দেননি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নাসা বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার উদ্দেশ্যে ইউরোপা ক্লিপার মিশন পাঠিয়েছে। এই মিশনটি ইউরোপার বরফের নিচে থাকা মহাসাগরে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজবে। যদি সেখানে প্রাণ পাওয়া যায়, তবে তা প্যানস্পারমিয়া তত্ত্ব প্রমাণের পথে একটি বিশাল মাইলফলক হতে পারে।

২. প্যানস্পারমিয়া তত্ত্বের পক্ষে একটি মজার যুক্তি হলো, পৃথিবীতে প্রাণের শুরুটা খুব দ্রুত হয়েছিল। পৃথিবী যখন বাসযোগ্য হতে শুরু করল, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণের বিকাশ ঘটেছিল। অনেক বিজ্ঞানীর মতে, পৃথিবীতে এত দ্রুত প্রাণের উদ্ভব হওয়াটা স্বাভাবিক নয়, যদি না প্রাণের বীজ মহাকাশ থেকে এসে থাকে।

৩. জাপানি মহাকাশ সংস্থা জাক্সা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তানকোপো নামে একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল। তারা ডিনোকক্কাস রেডিওডুরান্স ব্যাকটেরিয়াকে মহাকাশের চরম পরিবেশে তিন বছর রেখে দিয়েছিল। অবাক করার বিষয় হলো, ব্যাকটেরিয়াগুলো এই দীর্ঘ সময় পরও বেঁচে ছিল! এটি প্রমাণ করে, অণুজীবরা মহাকাশের বৈরী পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এবং এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে প্রাণের উপাদান বহন করতে পারে।

আরও পড়ুন