বন্যজগতে টিকে থাকা বেশ কঠিন। এর জন্য শক্তি ও বুদ্ধি দুটোই লাগে। তবে মাঝেমধ্যে বন্যপ্রাণীরা এমন কিছু কাণ্ড করে বসে, যা দেখলে হাসি চেপে রাখা দায়! যেমন ধরুন, কেউ হয়তো বিখ্যাত রকস্টারের মতো পরচুলা পরে বসে আছে! কোনো ভালুক হয়তো মনে আনন্দে খুনসুটি করছে একটা পাখির সঙ্গে। এমনই সব হাস্যকর ও মজার ছবি নিয়ে হাজির হয়েছে ‘নাইকন কমেডি ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’। এবারের প্রতিযোগিতায় ১০ হাজারেরও বেশি ছবি জমা পড়েছিল, যা রীতিমতো একটা রেকর্ড। সেখান থেকে বাছাই করা সেরা কিছু মজার ছবি নিয়ে আমাদের এই ফটোফিচার।
চমৎকার এই ছবিটির নাম আউট অব ওয়াটার। ছবিটি তুলেছেন থং ডুই ভু। এখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ছোট্ট মৌটুসী পাখি কলার মোচার পাপড়িতে জমে থাকা পানিতে প্রকৃতির নিজস্ব বাথটাবের স্বাদ নিচ্ছে! একবার আরাম করে গোসল করে ওঠার পর সে ভাবল, আরেকবার পানিতে ঝাঁপ দেওয়া যাক। কিন্তু একি! পানি সব শেষ! ফটোগ্রাফারের ভাষায়, পাখিটার আকাশপানে চাওয়া হতাশ চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল সে যেন বলছে, ‘হায় হায়, সব পানি গেল কোথায়? এটা কেমন অর্ধেক গোসল করা বাথটাব! এটাকে গুগল রিভিউতে এক স্টার দেওয়া উচিত!’
কোস্টারিকায় তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি আনহিঙ্গা পাখিকে। পাখিটা তার ধারালো ঠোঁট দিয়ে জ্যান্ত মাছ গেঁথে শিকার করেছে ঠিকই, কিন্তু এখন সেই মাছটাই তার মুখের ওপর ফেসপ্যাকের মতো আটকে গেছে! এখন এই মাছ সে গিলবে কীভাবে? মাছটাকে ঠোঁট থেকে ছাড়াতে গিয়ে পাখিটার যে হাস্যকর ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছিল, ফটোগ্রাফার সেটাই ক্যামেরাবন্দী করেছেন। ছবিটা তুলেছেন ইগেল বি. জেনসেন।
ব্রাজিলে তোলা পাওলো তোরের এই ছবিটি দেখুন! কেইম্যান জাতের কুমির এমনিতে ভয়ংকর শিকারি প্রাণী। কিন্তু মাথায় যদি এমন একটা পরচুলা থাকে, তবে ভয় তো দূরে থাক, উল্টো হাসিই পাবে! আসলে পানির নিচ থেকে ওঠার সময় জলজ কিছু লতাপাতা কুমিরটার মাথায় আটকে যায়। দেখে মনে হচ্ছে সে যেন ১৯৫০-এর দশকের বিখ্যাত রকস্টার এলভিস প্রিসলির মতো হেয়ারস্টাইল করে পোজ দিচ্ছে!
হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে মাঝেমধ্যে মনে পড়ে, ‘হায় হায়! ৫ মিনিট পরই তো অফিসে ঢোকার টাইম!’। এ অবস্থায় মানুষের চেহারা যেমন আতঙ্কে নীল হয়ে যায়, এই প্রাণীটার চেহারাও ঠিক সে রকম দেখাচ্ছে! ফটোগ্রাফার ফাবি ফ্রেগোনেসি জানিয়েছেন, পানির নিচে চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে তিনি এই মজার আতঙ্কের চেহারাটি ক্যামেরায় ধরতে পেরেছেন।
মার্কিন ফটোগ্রাফারের এরিক বোরেনের তোলা ছবিটি। সম্ভবত একটা আইভরি গাল পাখির বাসার খুব কাছে চলে এসেছিল এই ভালুকটি। তাই পাখিটি অনেকক্ষণ ধরে ওকে জ্বালাতন করছিল। একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে ভালুকটি বরফের ওপর শুয়ে পড়ে। পাখিটিও ঠিক ওর সামনে এসে বসে। দেখে মনে হচ্ছে, দুজন যেন একে অপরের দিকে তাকিয়ে জীবনের গভীর কোনো তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করছে!
ডির্ক কোস্টারের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে তিনটে কৌতূহলী জিরাফ ছানা। কিন্তু মাঝখানের জিরাফটাকে একটু ভালো করে দেখুন! ঠিক তার পেছনেই আছে একটা আমব্রেলা একাশিয়া গাছ। জিরাফের মাথা আর গাছটা এমন নিখুঁতভাবে এক লাইনে মিলে গেছে যে, মনে হচ্ছে জিরাফটা যেন মাথায় সবুজ রঙের কোনো বিশাল পরচুলা বা খুব দামি হ্যাট পরে আছে!
আগামী ৮ ডিসেম্বর লন্ডনে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। আপনি চাইলে পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডেও ভোট দিতে পারেন। ২০২৭ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। আর ভাগ্যবান একজন ভোটার জিতে নেবে প্রায় ৮০ হাজার টাকা! আপনার কাছে মজার কোনো ছবি না থাকলেও কিন্তু শুধু ভোট দিয়েই ৫০০ পাউন্ড জিতে নিতে পারেন। ভোট দিতে ক্লিক করুন: নিকন কমেডি ওয়ার্ল্ডলাইফ অ্যাওয়ার্ডস