কেন বই পড়বেন
বই পড়ে কোনো লাভ হয়?—প্রশ্নটি শুনে হয়তো অনেকেই ভ্রু কুঁচকে ফেলবেন। না কুঁচকালেই বরং অস্বাভাবিক মনে হতো! কারণ, বই পড়া ব্যতীত স্কুল পাস করে কলেজ, আর কলেজ পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের দরজা খোলে না। আরও সহজ করে বললে, সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য বই পড়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘বই পড়ে কোনো লাভ হয়’—প্রশ্নের উত্তরে বলা যাবে অনেক কিছু। কেউ বলবেন, বই পড়লে চাকরি হবে, পদবি হবে, টাকা হবে, বাড়ি হবে, গাড়ি হবে; আবার কেউ বলবেন বই পড়লে নামের আগে অলংকারও যুক্ত হবে। যেমন পিএইচডি করলে হবে ডক্টরেট।
তবে শিরোনামের প্রশ্নটি ঠিক সার্টিফিকেট অর্জনের বই পড়াকে কেন্দ্র করে নয়; বরং সার্টিফিকেট অর্জনের বাইরের পড়াকে কেন্দ্র করে। কারও কারও ভাষায় আউট বই বা অকাজের বই পড়াকে ঘিরে। আর প্রশ্নটির সূত্রপাতও ঠিক এখানেই, অকাজের বই পড়ে লাভ কী?
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ গ্রন্থে লিখেছেন, শুধু টাকাপয়সার অভাবই দারিদ্র্য নয়। একজন মানুষের সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে না পারার মতো বড় দারিদ্র্য আর নেই। আর এই সম্ভাবনার পরিমাপ করতে দরকার শিক্ষা। হয়তো সেই কারণেই শিক্ষাকে জন্মগ্রহণের পর মানুষের পাওয়া সবচেয়ে বড় সুযোগ বলা হয়। কারণ শিক্ষা হচ্ছে সেই হাতিয়ার, যা দিয়ে জীবন যেমন গড়া যায়, আবার সমাজ ও সভ্যতা বিনির্মাণও করা যায়। এই শিক্ষার মধ্যে সার্টিফিকেট অর্জনের বই পড়ার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত থাকে অকাজের বই পড়াও। দুটোর যথার্থ সম্মিলনই একজন সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিতে পরিণত করে। তাই বিল গেটস বা মার্ক জাকারবার্গের মতো মানুষের বই পড়ার গল্প বারবার সংবাদের শিরোনাম হয়।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ গ্রন্থে লিখেছেন, শুধু টাকাপয়সার অভাবই দারিদ্র্য নয়। একজন মানুষের সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে না পারার মতো বড় দারিদ্র্য আর নেই।
কেউ কেউ যদিও এগুলোকে অকাজের বই বা আউট বই বলেন। বিষয়টি খোলাসা করার নিরিখে এই লেখায় আমি সেই অকাজের বই বা আউট বই শব্দগুলো ব্যবহার করছি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এগুলোকে অকাজের বই বলতে নারাজ ছিলেন। তিনি বরং অকাজের বই পড়াকেই কাজের পড়া বলে মনে করতেন।
কিন্তু সমাজে-সংসারে ফলাফলের নিরিখেই সবকিছুর বিচার হয়। তাই যেকোনো কাজের শুরুতেই প্রশ্ন আসে—লাভ কী? আর যেহেতু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য বই পড়লে রেজাল্ট আসে, সেই রেজাল্ট আবার কাগজে প্রিন্ট হয়, কাগজটা দেখা যায়, ছোঁয়া যায়; তাই একে কাজের পড়া হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যায়। অন্যদিকে অকাজের বা আউট বই পড়ার ফলাফল সরাসরি দেখা যায় না। পড়ে কোনো পরীক্ষা দিতে হয় না, সংগত কারণে রেজাল্টও আসে না। তাহলে এই বই পড়া কীভাবে কাজে লাগে? পড়লেই-বা কী, আর না পড়লেই-বা ক্ষতি কী?
নলেজ ইজ পাওয়ার। কথাটা নিশ্চয়ই আপনাদের পরিচিত? দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকনের উক্তি এটি। বেকন বলেছেন, জ্ঞানই শক্তি। এই জ্ঞানের পরিধিই মানুষে মানুষে পার্থক্য তৈরি করে; একজনকে আরেকজন থেকে আলাদা করে তোলে। তা ছাড়া বই পড়লে যে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, এটি নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। আপনি ইতিহাস, বিজ্ঞান, রাজনীতি বা সাহিত্য—যা-ই পড়ুন না কেন, প্রতিটি বই-ই নতুন কিছুর সন্ধান দেবে। এমন অনেক বিষয় আছে, যে বিষয়ের মধ্য দিয়ে আমি-আপনি হয়তো কখনো যাইনি, কিন্তু বইয়ের মাধ্যমে সেই বিষয় বা ঘটনা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা মেলে।
একটা ঘটনা বলি। আমার এক আত্মীয়ের মুখে শুনেছিলাম, একটি উপন্যাসে বাড়ি তৈরির সময়ের জটিলতা সম্পর্কে পড়ে, পরবর্তী সময়ে নিজে বাড়ি বানানোর সময় তিনি সেই সব জটিলতা এড়াতে পেরেছিলেন!
বেকন বলেছেন, জ্ঞানই শক্তি। এই জ্ঞানের পরিধিই মানুষে মানুষে পার্থক্য তৈরি করে; একজনকে আরেকজন থেকে আলাদা করে তোলে।
ভাষাগত উৎকর্ষ সাধন
প্রতিদিন বলা ও লেখার প্রয়োজনে আমাদের অনেক কথা বলতে হয়। আরও ভালোভাবে বললে, শব্দের ব্যবহার করতে হয়। বই পড়া আমাদের শব্দভান্ডার বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি বলা ও লেখাতেও উৎকর্ষ আনে। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, যাঁদের পড়ার অভ্যাস আছে, যাঁরা নিয়মিত বই পড়েন, তাঁদের কথা বলার ও লেখার হাত অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে যোগাযোগের দক্ষতার উন্নতিতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
স্মৃতিশক্তির সমৃদ্ধি
বই পড়লে মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো উদ্দীপিত হয়। কীভাবে? ধরা যাক, আপনি একটা গল্প পড়ে শেষ করলেন। এরপরপরই আপনি গল্পটির চরিত্র, ঘটনাসহ অনেক কিছুই বলে দিতে পারেন। কেন পারেন? কারণ, আমরা যখন কোনো গল্প পড়ি, মস্তিষ্ক তখন গল্পের চরিত্র, পটভূমি এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা মনে রাখার চেষ্টা করে। তাই অনেকেই বই পড়াকে মস্তিষ্কের ব্যায়াম হিসেবেও ভাবেন। তাঁদের ভাষায়, বই পড়া এমন এক ব্যায়াম, যা দীর্ঘ মেয়াদে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনি ডিমেনশিয়ার মতো রোগেরও ঝুঁকি কমায়।
মনোযোগ, ধৈর্য ও একাগ্রতা বৃদ্ধি
কাউকে জিজ্ঞেস করলেই হয়তো এই উত্তর পাওয়া যাবে যে, সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হচ্ছে বই পড়া। এই কঠিন কাজটি করার জন্য মনোযোগ ও একাগ্রতার প্রয়োজন। তবে অবাক করার ব্যাপার কী জানেন? নিয়মিত অল্প অল্প করে পড়ার অভ্যাস করতে পারলে মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়তে থাকে। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা তথা ফোকাস রাখার ক্ষমতা বেড়ে যায়, যা যেকোনো জটিল কাজ করার ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এ কথাও সত্য, বই পড়ুয়া মানুষদের ধৈর্য অনেকের তুলনায় বেশি হয়।
অনেকেই বই পড়াকে মস্তিষ্কের ব্যায়াম হিসেবেও ভাবেন। তাঁদের ভাষায়, বই পড়া এমন এক ব্যায়াম, যা দীর্ঘ মেয়াদে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনি ডিমেনশিয়ার মতো রোগেরও ঝুঁকি কমায়।
মানসিক চাপ কমায়
দৈনন্দিন জীবনে আমাদের নানা দুশ্চিন্তা ও চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই চাপ থেকে উত্তরণের ভালো উপায় হচ্ছে বই পড়া। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বই যেমন উত্তেজনা প্রশমিত করতে ভূমিকা রাখে, তেমনি স্ট্রেস কমাতেও সহায়ক। তা ছাড়া গল্প বা উপন্যাস যেহেতু অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধ দিয়ে নির্মিত হয়, তাই তা সহজেই মস্তিষ্ককে বর্তমান সমস্যা থেকে প্রশান্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সৃজনশীলতার বিকাশ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লিখেছিলেন তাঁর প্রথম গল্প অতসী মামী। গল্পটি সে কালে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পত্রিকা বিচিত্রায় ছাপা হয়েছিল। শুধু কি ছাপা হয়েছিল? সম্পাদক স্বয়ং বাড়ি পর্যন্ত এসেছিলেন, হাতে তুলে দিয়েছিলেন সম্মানী! দাবি জানিয়ে বলেছিলেন, আরও একটি গল্প চাই। বাজি ধরে মানিক কীভাবে প্রথম গল্প লিখেছিলেন? পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে।
ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়তেন তিনি। নিজেই একটি লেখায় জানিয়েছেন, ‘বারো-তেরো বছর বয়সের মধ্যে বিষবৃক্ষ, গোরা, চরিত্রহীন পড়া হয়ে গিয়েছে। আর সে কী পড়া!... বড় ঈর্ষা হতো বই যাঁরা লেখেন তাঁদের ওপর। হয়তো সেই ঈর্ষার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক দিন লেখক হওয়ার চেষ্টা করার সাধ।’
আপনি যদি ভবিষ্যতে ভালো লেখক হতে চান, তবে প্রথম কাজই হবে প্রচুর বই পড়া। বিখ্যাত লেখকদের লিখনশৈলী, উপমার ব্যবহার, কাহিনির বুনন পর্যবেক্ষণ করলে সৃজনশীল ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তা ছাড়া পড়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কে নতুন আইডিয়া বা ভাবনাও আসে। কেবল লেখক হওয়ার জন্যই নয়; উপস্থাপনা, ছবি আঁকা—সৃষ্টিশীল যেকোনো কাজকেই বই পড়ার অভিজ্ঞতা এগিয়ে দেয়।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লিখেছিলেন তাঁর প্রথম গল্প অতসী মামী। গল্পটি সে কালে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পত্রিকা বিচিত্রায় ছাপা হয়েছিল।
সহমর্মিতা ও সহানুভূতি
গল্প বা উপন্যাসে বর্ণিত চরিত্রগুলো ঘটনাপরম্পরায় পাঠকের অনুভূতিকে জাগিয়ে দেয়। তাই কোনো কোনো ঘটনা পড়ার পর হাসি, কান্না বা রাগের মতো অনুভূতি জাগে। অনেক সময় এমনও মনে হয়, আহা! চরিত্রটি এমন কাজ না করলেও পারত! কেন এমনটা হয়? চরিত্রগুলোর দুঃখ-কষ্ট বা জীবনযুদ্ধ বইয়ে পড়ার সময় তার বা তাদের সঙ্গে একাত্মতা বোধ করার কারণে। এটি বাস্তব জীবনেও অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে সাহায্য করে।
মনে রাখতে হবে, বই কেবল তথ্য দেয় না, অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ভেতরকার আমিকেও বদলে দেয়। জীবনের কঠিন সময়ে কীভাবে ধৈর্য ধরতে হয়, সংকট কাটিয়ে উঠতে হয়; বই নানাভাবে তার প্রেরণা জোগায়। তা ছাড়া বই মানুষকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে এনে উদার হতেও ভূমিকা রাখে।
একাকিত্বে বন্ধু
বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ আত্মীয়, যার সঙ্গে কোনো দিন ঝগড়া হয় না, কোনো দিন মনোমালিন্য হয় না। কথাটা ধ্রুব সত্য। বইয়ের সঙ্গে কখনো মনোমালিন্য হয় না, বই কখনো ছেড়ে যায় না।
আমরা প্রত্যেকেই ভীষণ একা। হুমায়ূন আহমেদ যদিও বলেছেন, জনতার মধ্যেই আছে নির্জনতা। কিন্তু বাস্তবে জনতাহীন সময়েই মানুষ বেশি একা অনুভব করে। কিংবা পরিস্থিতির কারণেও মাঝেমধ্যে নিজেকে খুব একা মনে হতে পারে। এই সময়ে প্রিয়তম সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে বই। কারণ, বই এই দুর্বিষহ সময়ে মনের গহিনে প্রশান্তি জুগিয়ে পরম বন্ধু হয়ে ওঠে।
বই কেবল তথ্য দেয় না, অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ভেতরকার আমিকেও বদলে দেয়। জীবনের কঠিন সময়ে কীভাবে ধৈর্য ধরতে হয়, সংকট কাটিয়ে উঠতে হয়; বই নানাভাবে তার প্রেরণা জোগায়।
ডিজিটাল ডিটক্স
ফেসবুক থেকে অনেকেই মুক্তি পেতে চায়। খেদ প্রকাশ করে কেউ কেউ বলেন, ‘কত সময় নিয়ে নিচ্ছে ফেসবুক, কীভাবে যে এই আসক্তি কাটাব!’ ফেসবুক আসক্তির এই পর্যায় থেকে মুক্তি পাওয়াকেই বলা হচ্ছে ডিজিটাল ডিটক্স। যার উদ্দেশ্য, ফেসবুক থেকে নিজেকে দূরে রাখা, ফেসবুক ছেড়ে দেওয়া। এই কাজে সর্বোত্তম সহায়ক হয়ে উঠতে পারে বই। যাঁরা নিয়মিত বই পড়েন, তাঁদের মত হলো, হার্ড কপি বা ছাপানো বই পড়ার অভ্যাস স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন ও স্ক্রিনের নীল আলো থেকে মুক্তি পাওয়ার পথটাকে অনেক সহজ করে দেয়।
খেদ প্রকাশ করে কেউ কেউ বলেন, ‘কত সময় নিয়ে নিচ্ছে ফেসবুক, কীভাবে যে এই আসক্তি কাটাব!’ ফেসবুক আসক্তির এই পর্যায় থেকে মুক্তি পাওয়াকেই বলা হচ্ছে ডিজিটাল ডিটক্স।
বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না
সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছিলেন, বই কিনে কেউ কখনো দেউলিয়া হয় না। বই কিনে সত্যিই কি কেউ দেউলিয়া হন না? বইপ্রেমীদের মধ্যে এই প্রশ্নটি নিয়ে চলে মধুর তর্ক, যা সহজে শেষ হয় না। তবে তর্কবিতর্ক যা-ই থাকুক না কেন, আজ ২৩ এপ্রিল, সব পেছনে ফেলে বই নিয়ে উদ্যাপনের দিন। বিস্তারিত বললে বই কেনার দিন, পড়ার দিন, বই উপহার দেওয়ার দিন।
আজ বিশ্ব বই দিবস। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ১৯৯৫ সালের ইউনেসকোর সাধারণ অধিবেশনে ২৩ এপ্রিলকে বই দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। দিনটি বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস হিসেবেও অনেকের কাছে পরিচিত। বই পড়া, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোই বই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যমতে, স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে বই দিবসের মূল ধারণাটি আসে। আন্দ্রেস ছিলেন ডোন কিহোতের স্রষ্টা মিগেদ দ্য সারভান্তেসের ভাবশিষ্য। মূলত মিগেলের স্মৃতিতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে আন্দ্রেস স্পেনে বই দিবস পালন শুরু করেন। পরে দিবসটিকে ইউনেসকো স্বীকৃতি দেয়। মিগেল দে সারভান্তেস, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ও ইনকা গার্সিলাসো দে ভেগার প্রয়াণ দিবস ২৩ এপ্রিল হওয়ায়, এই দিনটিকে বই দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। উল্লেখ্য, বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা ও লেখক সত্যজিৎ রায়েরও মৃত্যুদিবসও আজ।
চলুন, আজ বই দিবস থেকেই পৃথিবীটাকে বইয়ের করে তোলার কাজ শুরু করি। হ্যাঁ, অনেকের মুখের সেই অকাজের বই বা আউট বই পড়া শুরু করি।