চেরনোবিল শুধু পারমাণবিক দুর্ঘটনা নয়—সেরহিই কুরিকিন, সহপ্রতিষ্ঠাতা, উইপ্ল্যানেট ইউক্রেন

সেরহিই কুরিকিনছবি: উইপ্ল্যানেট ডটঅর্গ

চেরনোবিল দুর্ঘটনার কথা আমরা অনেকেই জানি। তবে খুব কম মানুষই আছেন, যাঁরা এই ঘটনা কাছ থেকে দেখেছেন বা এর গভীরতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখেন। ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার বার্ষিকী উপলক্ষে সেরহিই কুরিকিনের সঙ্গে কথা বলে আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী জোট ‘উইপ্ল্যানেট’। একসময় কুরিকিন ছিলেন পারমাণবিক শক্তির কট্টর বিরোধী এবং এ সংক্রান্ত আন্দোলনের প্রথম সারির সক্রিয় কর্মী। তবে সময় ও অভিজ্ঞতার পরিক্রমায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি পারমাণবিক শক্তির পক্ষে কাজ করছেন এবং উইপ্ল্যানেট ইউক্রেন-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

১৯৮৬ সালে এপ্রিলে ঘটা বিস্ফোরণের পর ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছবি
ছবি: উইপ্ল্যানেট ডটঅর্গ

সেরহিই কুরিকিন ইউক্রেনের পরিবেশবাদী নেতা এবং সাবেক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী। তিনি গ্রিন ওয়ার্ল্ড সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ইউক্রেনের গ্রিন পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী জীবনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, কাউন্সিল অব ইউরোপের পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন এবং পরে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন
সেরহিই কুরিকিন ইউক্রেনের একজন পরিবেশবাদী নেতা এবং সাবেক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী। তিনি গ্রিন ওয়ার্ল্ড সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ইউক্রেনের গ্রিন পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

উইপ্ল্যানেট: সেরহিই, ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে ঘটা চেরনোবিল দুর্ঘটনা আপনি কিয়েভ থেকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই।

সেরহিই কুরিকিন: ঘটনাটি আজও ভোলার নয়। শুরুতে চারদিকে অদ্ভুত এক নীরবতা বিরাজ করছিল। কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্যই প্রকাশ করেনি। দুর্ঘটনার দুদিন পর সরকার শুধু সংক্ষেপে জানায়, একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে আর কিছুই জানানো হয়নি, এমনকি কোনো সতর্কতাও জারি করা হয়নি।

সঠিক তথ্যের অভাবে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। বিকিরণের মাত্রা বাড়তে থাকায় অনেকে কিয়েভ ছাড়তে শুরু করেন। পরে জানা যায়, বাতাসের দিক পরিবর্তন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। সে সময় জননিরাপত্তার চেয়ে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি রক্ষাই সরকারের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল বলে আমার মনে হয়েছে। ১ মে সরকার বিশাল এক সমাবেশের আয়োজন করে। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আমি দেখেছি, হাজার হাজার মানুষ নিজেদের অজান্তেই তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে মিছিল করছিলেন।

১৯৮৬ সালের এপ্রিলে ঘটা চেরনোবিল দুর্ঘটনার ছবি
ছবি: রয়টার্স

উইপ্ল্যানেট: আপনি চেরনোবিলকে শুধু প্রযুক্তিগত নয়, একটি রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবেও দেখেন। কেন?

সেরহিই কুরিকিন: অবশ্যই। চেরনোবিল শুধু একটি পারমাণবিক দুর্ঘটনাই ছিল না, এটি তৎকালীন সোভিয়েত ব্যবস্থার চরম সীমাবদ্ধতাকেও উন্মোচন করেছিল। মিখাইল গর্বাচেভের পেরেস্ত্রইকা (পুনর্গঠন) নীতি সংস্কারের যে আশা তৈরি করেছিল, এই ঘটনা তাকে অনেকটাই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মুখে সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতরে চরম গোপনীয়তা, পরিস্থিতি অস্বীকার করা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রবণতাই প্রাধান্য পাচ্ছিল। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কতটা উপেক্ষিত হতে পারে, সেটিও নির্মমভাবে সবার সামনে চলে আসে। চেরনোবিলের বিস্ফোরণ শুধু তেজস্ক্রিয়তাই ছড়ায়নি, এটি তৎকালীন সরকারের প্রতি মানুষের মনে গভীর অবিশ্বাসও তৈরি করেছিল। আর সেই অবিশ্বাসই পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের স্বাধীনতা আন্দোলনকে আরও জোরালো করে তোলে।

আরও পড়ুন
১ মে সরকার বিশাল এক সমাবেশের আয়োজন করে। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আমি দেখেছি, হাজার হাজার মানুষ নিজেদের অজান্তেই তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে মিছিল করছিলেন।

উইপ্ল্যানেট: এই ঘটনা আপনার পরিবেশ আন্দোলনে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল?

সেরহিই কুরিকিন: চেরনোবিলই ছিল আমাদের আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। ১৯৮৭ সালে আমরা জেলেনিই স্বিত (গ্রিন ওয়ার্ল্ড) প্রতিষ্ঠা করি, যা ছিল ইউক্রেনের প্রথম নিবন্ধিত জাতীয় পরিবেশবাদী সংগঠন। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করা বিভিন্ন ছোট সংগঠন একত্রিত হয়।

পরে ১৯৯০ সালে আমরা ইউক্রেনের গ্রিন পার্টি গঠন করি। তবে এটি কেবল কোনো পরিবেশ আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল সত্য ও গণতন্ত্রের পক্ষে এক বৃহত্তর আন্দোলন। চেরনোবিল আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।

উইপ্ল্যানেট: এত বড় একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পরও পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলাল?

সেরহিই কুরিকিন: জীবন কখনোই সরল পথে চলে না, অনেক সময় অপ্রত্যাশিতভাবেই তা নতুন মোড় নেয়। চেরনোবিল দুর্ঘটনার প্রায় দুই দশক পর আমাকে স্টেট নিউক্লিয়ার রেগুলেশন কমিটির পাবলিক কাউন্সিলের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এটি ছিল মূলত এনজিও প্রতিনিধি ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি পরামর্শমূলক প্ল্যাটফর্ম।

শুরুর দিকে আমি আমার সেই পুরোনো বিশ্বাস নিয়েই সেখানে গিয়েছিলাম। তখন পারমাণবিক-বিরোধী বা অ্যান্টি-নিউক্লিয়ার অবস্থান ধরে রাখাটা আমার কাছে একধরনের নীতিগত দৃঢ়তা বলে মনে হতো। ভেবেছিলাম, সেখানে মতবিরোধ ও সংঘাতই হয়তো বেশি দেখব। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্রের মুখোমুখি হই, যা ধীরে ধীরে আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

আরও পড়ুন
১৯৯০ সালে আমরা ইউক্রেনের গ্রিন পার্টি গঠন করি। তবে এটি কেবল কোনো পরিবেশ আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল সত্য ও গণতন্ত্রের পক্ষে এক বৃহত্তর আন্দোলন।

উইপ্ল্যানেট: সেখানে গিয়ে আপনি কী উপলব্ধি করেছিলেন?

সেরহিই কুরিকিন: প্রথমেই যেটা বুঝতে পারি, মানুষ বা কর্মীবাহিনী পারমাণবিক খাতে কেউই হালকাভাবে বা হেলাফেলা করে কাজ করেন না। এখানে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ, দায়িত্বশীল এবং নিজের কাজ সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন।

দ্বিতীয়ত, পুরো ব্যবস্থাকে আমি নতুনভাবে দেখতে শুরু করি। আমি বুঝতে পারি, সঠিকভাবে নকশা করা ও পরিচালিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আসলে খুবই নিরাপদ। সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই ঠেকানোর জন্য এর প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়। চেরনোবিলের RBMK-1000 রিঅ্যাক্টরটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী ও ত্রুটিপূর্ণ নকশা, যা সামরিক ও বেসামরিক উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আধুনিক রিঅ্যাক্টরগুলো অনেক বেশি উন্নত ও নিরাপদ; এগুলো বছরের পর বছর অর্জিত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষারই চূড়ান্ত ফলাফল।

উইপ্ল্যানেট: এই অভিজ্ঞতার পর আপনার সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলেছে?

সেরহিই কুরিকিন: সেখানে কাজের পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা আমাকে অনেকভাবেই বদলে দিয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছি, পারমাণবিক শক্তিকে পুরোপুরি বাতিল করে দিলে, তা পরিবেশকে সুরক্ষিত তো করেই না, বরং অনেক ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকির তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে ইউক্রেনের সমাজ ও নীতিগত অবস্থানও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ১৯৯৩ সালে আমরা নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিই। এরপর ধাপে ধাপে এগিয়ে ২০০০ সালের মধ্যে চেরনোবিলের সবগুলো রিঅ্যাক্টর চিরতরে বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা নিরাপত্তা মানের উন্নয়ন এবং আস্থার পরিবেশ পুনর্গঠনে কাজ করেছি।

আরও পড়ুন
চেরনোবিলের RBMK-1000 রিঅ্যাক্টরটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী ও ত্রুটিপূর্ণ নকশা, যা সামরিক ও বেসামরিক উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

উইপ্ল্যানেট: বর্তমানে ইউক্রেনে পারমাণবিক শক্তির অবস্থান আসলে কী?

সেরহিই কুরিকিন: আজ পারমাণবিক শক্তি ইউক্রেনের জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ২০৩৫ সালের জাতীয় জ্বালানিনীতিতে পারমাণবিক ও নবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে প্রায় ৫০/৫০ ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুদ্ধ, বিদ্যুৎ-সংকট এবং অবকাঠামোর ওপর হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ইউক্রেনের মানুষকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে, নিরাপদ এবং স্বল্প-কার্বনযুক্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ কতটা জরুরি। বর্তমান এই বাস্তবতায় পারমাণবিক শক্তি এখন আর শুধু একটি বিকল্প নয়; বরং এটি দেশের টিকে থাকার জন্য একটি অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।

চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছবি
ছবি: রয়টার্স

উইপ্ল্যানেট: সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

সেরহিই কুরিকিন: চ্যালেঞ্জ অনেক। এখন আর প্রশ্নটা পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করব, কি করব না সেটি নয়; বরং প্রশ্ন হলো কীভাবে আমরা আরও ভালোভাবে এগোব।

ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি কীভাবে আরও নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, পানির ব্যবহার কীভাবে কমানো সম্ভব এবং ছোট মডুলার রিয়্যাক্টর কীভাবে আমাদের জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়, এসবই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একই সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিকে কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিপূরক হিসেবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তি আমাদের জন্য এ ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ ও বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার পথ খুলে দেবে।

আরও পড়ুন
যুদ্ধ, বিদ্যুৎ-সংকট এবং অবকাঠামোর ওপর হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ইউক্রেনের মানুষকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে, নিরাপদ এবং স্বল্প-কার্বনযুক্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ কতটা জরুরি।

উইপ্ল্যানেট: আপনাদের এখনকার ভয়ের কারণ কি প্রযুক্তি নয়, যুদ্ধ?

সেরহিই কুরিকিন: ঠিক তাই। এখন আমাদের ভয়ের কেন্দ্রবিন্দু আর কোনো পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর নয়, বরং রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা নিঃসন্দেহে চরম ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

তবে এটিকে পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে দেখা মোটেও ঠিক হবে না; বরং এটি খোদ যুদ্ধের বিরুদ্ধেই একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। আমাদের মনে রাখতে হবে, আসল সমস্যা কখনো প্রযুক্তি নয়, সমস্যা হলো সহিংসতা, গোপনীয়তা এবং স্বৈরশাসন।

উইপ্ল্যানেট: তরুণ পরিবেশবাদীদের প্রতি আপনার বার্তা কী?

সেরহিই কুরিকিন: পরিবর্তনকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সস্তা স্লোগানের চেয়ে সত্যের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা বেশি জরুরি। বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রাখা এবং বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঝুঁকি, সুযোগ এবং সম্ভাবনা—সবকিছুকেই বাস্তব দৃষ্টিতে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। একটি নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়তে হলে পারমাণবিক শক্তিসহ সব সম্ভাব্য ও কার্যকর বৈজ্ঞানিক সমাধানকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মো. আরিফ হোসেন, রিজওনাল হেড অব এশিয়া, উইপ্ল্যানেট ইন্টারন্যাশনাল

আরও পড়ুন