৫৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বেঁচে ফেরা এক শিশুর গল্প

জনপ্রিয় বিজ্ঞান ম্যাগাজিন পপুলার সায়েন্স-এ নিয়মিত পডকাস্ট আয়োজিত হয়। ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন চিফ অ্যানি কোলবার্ট ‘আস্ক আস এনিথিং’ নামে এই পডকাস্ট পরিচালনা করেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আলোচনা করা হয়েছে, মানুষের শরীর চরম ঠান্ডায় কতক্ষণ টিকতে পারে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন ম্যাগাজিনটির ফিচার সম্পাদক সারা ডার্ন। বিজ্ঞানচিন্তার পাঠকদের জন্য তার চুম্বকাংশ অনুবাদ করেছেন শিউলী সুলতানা

ছবি: ভিসিজি / কন্ট্রিবিউটর / গেটি ইমেজ

অ্যানি: সারা, তুমি তো সম্প্রতি শরীরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বেঁচে থাকা নিয়ে একটা স্টোরি সম্পাদনা করেছ। বলো তো, মানুষ আসলে কতটা ঠান্ডা সহ্য করতে পারে?

সারা: শুনলে অবাক হবে, কিছু অদ্ভুত ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার পরও মানুষ বেঁচে ফিরেছে।

অ্যানি: ইশ! ভাবা যায়?

সারা: আমি জানি! আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যেখানে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে এটা তার চেয়ে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম!

অ্যানি: উফ! ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। যা-ই হোক, তুমি যে বললে শরীরের তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ার পরও বেঁচে ফেরার কথা, এগুলো তো খুব বিরল ঘটনা, তাই না?

সারা: ওহ হ্যাঁ, অবশ্যই। শরীরের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রির একটু নিচে নামলেই হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকে মারা যায়। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ১১ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শরীর জমে যাওয়ার পরও যে মানুষটি বেঁচে ফিরেছিল, সে ছিল একটা ছোট্ট শিশু।

অ্যানি: ওহ মাই গড! একজন ছোট বাচ্চার মা হিসেবে ওই বাচ্চার মা-বাবার কথা ভেবেই আমার খারাপ লাগছে। ওই বাচ্চাটা কীভাবে বেঁচে ফিরল? আচ্ছা, সেই প্রশ্নে যাওয়ার আগে আমি একটু পেছনের ইতিহাসে যেতে চাই। হাইপোথার্মিয়া শব্দটা আধুনিক মনে হতে পারে, কিন্তু মানুষ আসলে অনন্তকাল ধরেই চরম ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করছে।

আরও পড়ুন
আমি জানি! আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যেখানে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে এটা তার চেয়ে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম!

সারা: হ্যাঁ, এটা কোনো নতুন সমস্যা নয়।

অ্যানি: একদমই না। প্রাচীন লেখকদের বর্ণনায় দেখা যায়, ঠান্ডার কারণে সৈনিকরা জমে যাচ্ছে, নাবিকরা মারা যাচ্ছে। শীতকালীন অভিযানে পুরো সেনাবাহিনী ধসে পড়ছে। কিন্তু তখন কোনো রোগনির্ণয় বা ডায়াগনসিস ছিল না। ১৮০০ সালের শেষের দিক পর্যন্ত হাইপোথার্মিয়া শব্দটাই চালু ছিল না।

সারা: হ্যাঁ। এমনকি শব্দটা চালু হওয়ার পরও ডাক্তাররা সব সময় এটা ধরতে পারতেন না, তাই না?

অ্যানি: ঠিক। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে অ্যান্টার্কটিক অভিযানের কথা ভাবো। স্যার আর্নেস্ট শ্যাকলটনের সেই সময় হাইপোথার্মিয়ার কথা উল্লেখই করা হতো না। কিন্তু বর্ণনায় হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণগুলো ছিল স্পষ্ট: বিভ্রান্তি, বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়া, ঝড়ের মধ্যে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো।

সারা: বাহ! তো এই অবস্থাটা সংজ্ঞায়িত করতে এত সময় লাগল কেন?

অ্যানি: একটা বড় কারণ হলো থার্মোমিটার।

সারা: আচ্ছা, বুঝিয়ে বলো।

অ্যানি: ১৮০০ সালের শেষের দিকেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে থার্মোমিটারের ব্যবহার খুব একটা ছিল না। আর থাকলেও ডাক্তাররা জ্বরের দিকেই বেশি নজর দিতেন, শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার দিকে নয়। ১৯০০ সালের দিকে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে।

সারা: তার মানে, যখন থেকে আমরা শরীরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে মাপতে শিখলাম, তখনই বুঝলাম মানুষের শরীর কতটা ঠান্ডা হতে পারে।

আরও পড়ুন
১৮০০ সালের শেষের দিকেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে থার্মোমিটারের ব্যবহার খুব একটা ছিল না। আর থাকলেও ডাক্তাররা জ্বরের দিকেই বেশি নজর দিতেন, শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার দিকে নয়।

অ্যানি: একদম ঠিক। তো সারা, তুমি কি আমাদের বলবে হাইপোথার্মিয়া আসলে কী?

সারা: অবশ্যই। হাইপোথার্মিয়া হলো এমন একটা অবস্থা যখন শরীর তাপ তৈরি করার চেয়ে তাপ হারায় বেশি দ্রুত। ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বা কোর টেম্পারেচার ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়।

অ্যানি: মানে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রির চেয়ে সামান্য কম।

সারা: ঠিক। মানুষকে বলা হয় উষ্ণ রক্তের প্রাণী। মানে আমাদের শরীর এমনভাবে তৈরি যাতে ভেতরের তাপমাত্রা সবসময় ৩৭ ডিগ্রির আশপাশে থাকে।

অ্যানি: তো হাইপোথার্মিয়া শরীরে ঠিক কীভাবে প্রভাব ফেলে?

সারা: মৃদু হাইপোথার্মিয়া মানুষকে বিভ্রান্ত ও অগোছালো করে তোলে। আর একটা অদ্ভুত লক্ষণ হলো ক্ষুধা। এটা আমাকেও অবাক করেছে। আসলে শরীর তখন নিজেকে গরম রাখতে প্রচুর ক্যালরি খরচ করে, তাই খিদে পায়।

অ্যানি: হুম।

সারা: ওই অবস্থায় তুমি যদি দ্রুত ঘরে ঢুকে গা গরম করে নাও, তবে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা যদি আরও কমতে থাকে, তবে হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে যায়। অবস্থা মারাত্মক হলে তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির নিচে নামলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

অ্যানি: এ কারণেই বিশ্বাস করা কঠিন যে এর নিচে গিয়েও কেউ বেঁচে ফিরতে পারে।

সারা: ঠিক। তবুও কিছু অসাধারণ ঘটনা আছে যেখানে মানুষ বেঁচে ফিরেছে।

অ্যানি: হুম। চলো প্রথমে সেই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কথা শুনি যিনি সবচেয়ে কম তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার রেকর্ড গড়েছেন।

আরও পড়ুন
শরীরের তাপমাত্রা যদি আরও কমতে থাকে, তবে হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে যায়। অবস্থা মারাত্মক হলে তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির নিচে নামলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

সারা: হ্যাঁ, তাঁর নাম আনা বাগেনহোম। ১৯৯৯ সালে তিনি নরওয়েতে স্কি করছিলেন। হঠাৎ বরফ ভেঙে পানিতে পড়ে যান এবং জমে যাওয়া পানির নিচে প্রায় ৯০ মিনিট আটকে ছিলেন।

অ্যানি: কী বলো!

সারা: হ্যাঁ, উদ্ধারকর্মীরা যখন তাঁর কাছে পৌঁছান, ততক্ষণে তিনি ক্লিনিক্যালি মৃত। হৃৎস্পন্দন নেই, শ্বাসপ্রশ্বাস নেই।

অ্যানি: ওহ, ভয়ংকর ব্যাপার!

সারা: তাঁর শরীরের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। হাসপাতালের বাইরে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের এত কম তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার ঘটনা এটাই প্রথম।

অ্যানি: তাহলে তিনি বাঁচলেন কীভাবে?

সারা: আসলে কয়েকটা ব্যাপার কাকতালীয়ভাবে মিলে গিয়েছিল। তিনি বরফের নিচে একটা বাতাসের পকেটে আটকে ছিলেন, তাই শরীর ঠান্ডা হতে থাকলেও তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন। বাতাসের পকেট বলতে বোঝানো হয়েছে বরফের নিচে তৈরি হওয়া একটি ছোট ফাঁকা জায়গা, যার ভেতরে কিছুটা বাতাস আটকে ছিল। আনা বাগেনহোম যখন বরফ ভেঙে পানিতে পড়েন, তখন পুরো জায়গাটা সম্পূর্ণ বরফে চেপে যায়নি। বরফ ও পানির মাঝখানে একটা ছোট গহ্বরের মতো জায়গা ছিল। সেই গহ্বরের ভেতরেই কিছু বাতাস জমে ছিল। তিনি সেই জায়গায় নিজের মুখ রেখে প্রায় ৪০ মিনিট শ্বাস নিতে পেরেছিলেন। শরীর ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মস্তিষ্কের অক্সিজেনের চাহিদাও কমে গিয়েছিল। ডাক্তাররা তাঁকে হার্ট-লাং মেশিনের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে খুব ধীরে ধীরে তাঁর শরীর গরম করেন। তাঁকে কয়েক সপ্তাহ ইনটেনসিভ কেয়ারে থাকতে হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন
বরফ ও পানির মাঝখানে একটা ছোট গহ্বরের মতো জায়গা ছিল। সেই গহ্বরের ভেতরেই কিছু বাতাস জমে ছিল। আনা বাগেনহোম সেই জায়গায় নিজের মুখ রেখে প্রায় ৪০ মিনিট শ্বাস নিতে পেরেছিলেন।

অ্যানি: বিশ্বাসই হচ্ছে না এমনটা সত্যিই ঘটেছে।

সারা: আমারও না।

অ্যানি: কিন্তু এরপর এমন একটা কেস আছে যা এই রেকর্ডকেও হার মানায়।

সারা: হ্যাঁ, সেই বাচ্চাটি।

অ্যানি: না।

সারা: ২০১৪ সালে পোল্যান্ডে দুই বছরের এক বাচ্চা শুধু পাজামা ও মোজা পরে বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল। ১৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় সে বেশ কয়েক ঘণ্টা নিখোঁজ ছিল। উদ্ধারকারীরা যখন তাকে পায়, তার শরীরের তাপমাত্রা ছিল মাত্র ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অ্যানি: সংখ্যাটা এখনো আমাকে চমকে দিচ্ছে।

সারা: আমারও একই অবস্থা। তার শরীর এত শক্ত হয়ে গিয়েছিল যে প্রথমে ডাক্তাররা তার শ্বাসনালিতে নল ঢুকাতে পারছিলেন না। আনার মতো তাকেও লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় এবং খুব ধীরে ধীরে শরীর গরম করা হয়। হাসপাতালে দুই মাস থাকার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। ভাগ্য ভালো, তার শরীরে কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয়নি।

অ্যানি: অবিশ্বাস্য! কিন্তু এত কম তাপমাত্রায় শরীরের ভেতরে আসলে কী ঘটে? সবকিছু চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় না কেন?

সারা: আসল ব্যাপার হলো, ঠান্ডা শরীরের সব প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এর মধ্যে ক্ষতিকর প্রক্রিয়াগুলো হলো কোষের মৃত্যু। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় মস্তিষ্কের অনবরত অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কিন্তু শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলে অক্সিজেনের চাহিদাও নাটকীয়ভাবে কমে যায়। তাই খুব বিশেষ পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ঠান্ডা পানিতে বা দ্রুত শরীর ঠান্ডা হলে মস্তিষ্ক অক্সিজেন ছাড়াও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন
২০১৪ সালে পোল্যান্ডে দুই বছরের এক বাচ্চা শুধু পাজামা ও মোজা পরে বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল। ১৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় সে বেশ কয়েক ঘণ্টা নিখোঁজ ছিল।

অ্যানি: হুম, চমৎকার বিষয়। তাহলে ডাক্তাররা কি কখনো ইচ্ছে করে হাইপোথার্মিয়া ব্যবহার করেন?

সারা: হ্যাঁ, করেন। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সার্জনরা বুঝতে পারেন যে হার্ট বা ব্রেন সার্জারির সময় রোগীর শরীর ঠান্ডা করলে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সুরক্ষিত থাকে। বর্তমানে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানোর জন্য মাঝেমধ্যে কৃত্রিমভাবে শরীর ঠান্ডা করা হয়।

অ্যানি: মানে ঠান্ডা একসময়ের শত্রু থেকে এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের বন্ধু হয়ে উঠল।

সারা: হ্যাঁ। তবে খুব সাবধানে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে।

অ্যানি: অবশ্যই।

সারা: হাইপোথার্মিয়া এখনো খুবই খারাপ এবং বিপজ্জনক।

অ্যানি: হ্যাঁ।

সারা: হাসপাতালের বাইরে এসব পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই বাঁচে না। এর মানে এই নয় যে মানুষ গোপনে ফ্রিজ-প্রুফ হয়ে গেছে।

অ্যানি: হ্যাঁ। ব্যাপারটা হলো, অত্যন্ত বিরল পরিস্থিতিতে ঠান্ডায় শরীর লড়াই করার জন্য একটু বাড়তি সময় পায়।

সারা: একদম তাই।

অ্যানি: এসব শুনে আমার আরও বেশি ঠান্ডা লাগছে। আর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় হাতমোজার কথা মনে থাকবে কি না, তা নিয়ে ভয়ও লাগছে।

সারা: আমারও। আর এসব ভাবতে ভাবতে আমার মাথায় এল, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা জায়গা কোনগুলো যেখানে মানুষ বসবাস করে?’

অ্যানি: ঠিক আছে, আগে সেটাই শুনি।

সারা: পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা জনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ধরা হয় পূর্ব সাইবেরিয়ার ওইমিয়াকন গ্রামকে। এখানে মানুষ সারা বছর বসবাস করে এবং শীতে তাপমাত্রা নিয়মিত মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়।

অ্যানি: না বাবা! মাফ করো। এটা আমার জন্য নয়। আমি শীতকাল পছন্দ করি ঠিকই, কিন্তু এটা একদমই না।

আরও পড়ুন
পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা জনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ধরা হয় পূর্ব সাইবেরিয়ার ওইমিয়াকন গ্রামকে। এখানে শীতে তাপমাত্রা নিয়মিত মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়।

সারা: আমারও না। যখন এত ঠান্ডা পড়ে, তখন গাড়ি বন্ধ করা যায় না। কারণ একবার বন্ধ হলে আর স্টার্ট নেবে না। তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে না নামলে বাচ্চাদের স্কুলও বন্ধ হয় না। আর শীতকালে সেখানে কিছুই জন্মায় না বলে মানুষ পুরোপুরি মাংস ও মাছের ওপর নির্ভর করে।

অ্যানি: উফ! আমি তো ভাবতাম নিউইয়র্কে সিঙ্গেল ডিজিট তাপমাত্রায় আমার বাচ্চাকে বাসে করে স্কুলে নেওয়াটাই কঠিন। কিন্তু এদের কথা শুনে মনে হচ্ছে এরা তো অন্য গ্রহের মানুষ!

সারা: জানি, এরা দারুণ সাহসী। আর যদি জনবসতিহীন জায়গার কথা বলি, তবে অ্যান্টার্কটিকা অবশ্যই সেরার মুকুট পরবে।

অ্যানি: হুম।

সারা: পৃথিবীতে রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলো মাইনাস ১২৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

অ্যানি: আরেহ বাহ!

সারা: হ্যাঁ। ১৯৮৩ সালে রাশিয়ার ভস্তক গবেষণা স্টেশনে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

অ্যানি: সংখ্যাটা শুনেই কেমন অবাস্তব মনে হচ্ছে।

সারা: আমারও। ওই তাপমাত্রায় শরীরের কোনো অংশ খোলা থাকলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জমে যাবে। আর বিশেষ সুরক্ষা ছাড়া মানুষের পক্ষে সেখানে বেঁচে থাকা অসম্ভব।

অ্যানি: এগুলো শোনার পর আজ আমরা যে বেঁচে ফেরার গল্পগুলো শুনলাম, সেগুলোকে আরও অলৌকিক মনে হচ্ছে।

সারা: একদমই তাই। আমাদের পৃথিবীটা যেমন সুন্দর, তেমনি ভয়ংকরও হতে পারে। তবে গ্রহের এই চরম পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ আশ্চর্যজনকভাবে সহনশীল এবং উদ্ভাবনী।

অ্যানি: আজকের মতো শেষ করার জন্য এটাই সেরা কথা। সবাই ভালো থাকুন।

আরও পড়ুন