মিরা

ছবি: এআই আর্ট

মিরা দেখতে সুন্দর কি না, আমি জানি না। জানার উপায় নেই। তার সঙ্গে আমার দেখা একটা কম্পিউটার গেমের ভেতরে। সেখানে সে একটা ‘অ্যাভাটার’ বা অবতার বা ছদ্ম অবয়ব নিয়ে ছিল, মিরা হিসেবে নয়। আমিও ‘আমি’ হিসেবে হাজির ছিলাম না সেখানে, ছিলাম ভিন্ন এক পরিচয়ে।

গেমটা এক অনলাইন গেম, অনেকে মিলে খেলে। অনেকে মানে অনেকে। কখনো কখনো চার-পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যায় খেলোয়াড়ের সংখ্যা।

গেমাররা এই অনলাইন গেমগুলোকে একটা কঠিন নামে ডাকে—ম্যাসিভলি মাল্টিপ্লেয়ার অনলাইন রোল-প্লেইং গেম বা সংক্ষেপে এমএমওআরপিজি।

যে গেমের ভেতরে আমাদের দেখা, সেটার নাম ‘সাইরাক্স’ এবং সেটা এক এপিক ফ্যান্টাসি কমব্যাট গেম। গেমের লোর বা কাহিনি অনেক জটিল, প্যাঁচানো। তিনটি রাজ্যের পাঁচটি ভিন্ন পক্ষের মধ্যে চলছে আধিপত্যের লড়াই। অনেক জাদুকরি উপকরণ। অনেক রাজজ্যোতিষী, গণৎকার, ড্রাগন আর জাদুর তরবারির কাজকারবার। বিপুল রক্তপাত, অস্ত্রবাজি। খুব অরাজক এক প্যারালাল ডিস্টোপিয়ান জগৎ, মাথা গুলিয়ে যায়।

পুরো গেমে বিচিত্র, বৈরী, ভীতিকর ল্যান্ডস্কেপ। আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন, চরাচরের বেশির ভাগ জায়গা বসবাসযোগ্য নয়। গেমজুড়ে সময় স্থির হয়ে থাকে এক অনন্ত সন্ধ্যায়। আর আকাশে, অনেক কাছ ঘেঁষে ঝুলে থাকে ঢাউস আকারের ছয়টা উপগ্রহ। এত কাছে যেন একটি ঢিল মারলে সেখানে গিয়ে পড়বে। অথচ উপগ্রহগুলো সব ঝাপসা, ম্যাড়মেড়ে আর খানাখন্দময়। সেগুলোর পেছনে আকাশে জ্বলজ্বল করছে কিছু নক্ষত্র, অনেক অচেনা নক্ষত্রপুঞ্জ। চরাচরজুড়ে একটা সার্বক্ষণিক কমলারঙা আলো, সেটা যে কোথা থেকে আসে, কেউ জানে না। হয়তো একটা সূর্য ছিল, ডুবে গেছে। অথবা এই গ্রহের কোনো সূর্যই নেই।

আরও পড়ুন
তিনটি রাজ্যের পাঁচটি ভিন্ন পক্ষের মধ্যে চলছে আধিপত্যের লড়াই। অনেক জাদুকরি উপকরণ। অনেক রাজজ্যোতিষী, গণৎকার, ড্রাগন আর জাদুর তরবারির কাজকারবার। বিপুল রক্তপাত, অস্ত্রবাজি।

গেমটা বেশি দিন জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি। সাতটি ভার্সন বের হওয়ার পর গেমিং কোম্পানি এটি বন্ধ করে দেয়। এর ষষ্ঠ ভার্সনে মিরার সঙ্গে আমার দেখা হয়।

গেমের ভেতরে আমার অবতার ছিল নাজিবা নামে এক নারী ঘোড়সহিসের ভূমিকায়। ঘোড়সহিস বললাম, তবে আস্তাবলে যে প্রাণীগুলোর আমি দেখাশোনা করি, সেগুলো মোটেও ঘোড়া নয়। বিরাসা নামের এই প্রাণীগুলোর সঙ্গে ঘোড়ার কোনো মিল নেই। সেগুলোর ছয় পা। জিরাফের মতো উঁচু হয়ে থাকা গ্রিবা। ঘোড়ার সঙ্গে এগুলোর একটাই মিল, তা হলো এগুলোর পিঠে চেপে দীর্ঘ ঊষর মরু বা কোনো পাথুরে মালভূমি পাড়ি দেওয়া যায়। যুদ্ধে এগুলো কোনো কাজে লাগে না।

মিরার অবতার শত্রুপক্ষের একটি কমব্যাট ব্যাটালিয়নের পুরুষ কমান্ডার হিসেবে। তার নাম ‘রক সি-১৩’। রক সি খুবই লড়াকু চেহারার এক পেশিবহুল যোদ্ধা। পাথরে খোদাই করা শরীর যেন। শক্ত চোয়াল লোহায় ঢালাই করা। আর তার কণ্ঠস্বর গাঢ়, গম্ভীর ও আবেদনময়।

গেমে আমার চেহারা কোমল। কণ্ঠস্বর মৃদু, সংগীতময়। আমার আজানুলম্বিত সিল্কি চুল আমি অধিকাংশ সময় পনিটেইল করে পেছনে বেঁধে রাখি।

আরও পড়ুন
গেমের ভেতরে আমার অবতার ছিল নাজিবা নামে এক নারী ঘোড়সহিসের ভূমিকায়। ঘোড়সহিস বললাম, তবে আস্তাবলে যে প্রাণীগুলোর আমি দেখাশোনা করি, সেগুলো মোটেও ঘোড়া নয়।

একটি গিরিখাতের ওপর দিয়ে, ধনুকের মতো বাঁকা এক সেতুর ওপর দিয়ে আমি আর রক সি ছুটছি। আমরা যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ শিবিরের সদস্য। সোজা ভাষায়, আমরা পরস্পরের শত্রু। আমাকে হত্যা করাই রক সির লক্ষ্য। আমারও তা–ই। কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে আমরা সেটা করছি না। আমরা পাশাপাশি ছুটছি গ্রানাইট পাথরে তৈরি এক সুউচ্চ সেতুর ওপর দিয়ে।

আমাদের উভয়কে আক্রমণ করেছে রেড সোলজার্স নামের তৃতীয় একটি পক্ষ। তাদের হাত থেকে বাঁচতে আমরা সেতুর ওপর দিয়ে যেদিকে ছুটছি, সেদিকে সেলজুক ভ্যালি। আর সেটা এমন এক অজ্ঞাত এলাকা, যেখানে এর আগে কারও পা পড়েনি।

ছবি: এআই আর্ট

পা পড়েনি, কারণ সেলজুক ভ্যালি নিয়ে অনেক দুর্নাম চালু আছে। অনেক কিংবদন্তি। তার কোনো কোনোটা এমন রক্ত হিম করা যে সজ্ঞানে সব পক্ষ এই এলাকা এড়িয়ে চলে। সেতুর ওপারটা এক নিষিদ্ধ জগৎ। কিন্তু এখন নিরুপায় আমি ও রক সি সেদিকেই ছুটে চলেছি।

দীর্ঘ এই সেতু আমরা সফলভাবে পার হতে পারব, তেমন আশা ক্ষীণ। রেড সোলজাররা ছাড়াও আমাদের ওপর নানা পক্ষের আক্রমণ আসছে একের পর এক। সেতুর পাথুরে স্তম্ভ বেয়ে উঠে আসছে ছায়ার মতো কতগুলো অদ্ভুত স্থিতিস্থাপক অবয়ব। এদের ফ্যাকালা বলে। এরা রক্তচোষা।

আরও পড়ুন
আমাকে হত্যা করাই রক সির লক্ষ্য। আমারও তা–ই। কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে আমরা সেটা করছি না। আমরা পাশাপাশি ছুটছি গ্রানাইট পাথরে তৈরি এক সুউচ্চ সেতুর ওপর দিয়ে।

ছুরি দিয়ে এদের কোনো অঙ্গ কেটে ফেললে সেই কাটা অংশ নতুন একটি ফ্যাকালায় পরিণত হয়। সে হিসেবে ফ্যাকালারা অমর। এদিকে মাঝেমধ্যেই আকাশ থেকে এসে ছোঁ মেরে আমাদের তুলে নিয়ে যেতে চাইছে সিনগুন নামের একধরনের ড্রাগন। সিনগুন পুরোপুরি ড্রাগন নয়। চায়নিজ ড্রাগন আর বাইসনের মিশ্রণ, যার মধ্যে বাইসনের উপাদানই বেশি।

আমরা দুই শত্রু এ সেতুতে কীভাবে এসে পড়লাম, সেটা একটু ব্যাখ্যা করি। আমার আস্তাবলটা ফ্যালকন দুর্গের বাইরে। এটা বিরাসা প্রাণিকুলের একটা বাণিজ্যিক খামার বা র‍্যাঞ্চ। আস্তাবলটা ঢালের শেষ মাথায়। তার সামনে থেকে উন্মুক্ত তৃণভূমির শুরু। সেখানে এসে আছড়ে পড়েছে সুইফটার নামের একটি ডানাওয়ালা যন্ত্রযান, যার চালক ছিল রক সি-১৩, শামান বাহিনীর সুইফটার ডিভিশনের কমান্ডার।

ওই যন্ত্রযানের ধ্বংসস্তূপে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল রক সি। রক্তাক্ত। আমি তখন আমার বিরাসাগুলোকে বালতি ভরে দানা খাওয়াচ্ছিলাম। আমি ছুটে গিয়ে ধাতব যন্ত্রের দুমড়ানো ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করে আনি রক সিকে। আস্তাবলের ভেতরে তাকে এনে খড়ের গাদায় শুইয়ে দিই। তার শুশ্রূষা করি। জ্ঞান ফিরলে প্রথমটায় রক সি টেরই পায়নি সে শত্রুশিবিরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে। আর আমি তাকে জানতেও দিইনি যে তার খোঁজে ফ্যালকন বাহিনীর লোকেরা দুই দফা ঘুরে গেছে আমার আস্তাবল। ফলে চোখ মেলে সে তার সামনে অপরূপ সুন্দরী এক নারীকেই দেখতে পায়। আমি তার দিকে এক মগ গরম সিলির রস বাড়িয়ে ধরি। কিন্তু সেটায় দ্বিতীয় চুমুক দেওয়ার আগেই তল্লাটে রেড সোলজার্সদের আক্রমণ শুরু হয়ে যায়।

আরও পড়ুন
জ্ঞান ফিরলে প্রথমটায় রক সি টেরই পায়নি সে শত্রুশিবিরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে। আর আমি তাকে জানতেও দিইনি যে তার খোঁজে ফ্যালকন বাহিনীর লোকেরা দুই দফা ঘুরে গেছে আমার আস্তাবল।

আর আমাদের পালাতে হয়।

রক সি শুরুতে আমার কাঁধে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে ছুটছিল। সেতুতে ওঠার পর কিছুক্ষণ দম নিই। আমরা কিছুক্ষণ তর্ক করি, প্রাণ বাঁচাতে সেতু পেরিয়ে সেলজুক ভ্যালিতে ঢুকে পড়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে কি না। আমি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলাম না। রেড সোলজার্সদের একটা গোলা এসে প্রবল শব্দে পাশে পড়ামাত্র রক সি আমার হাত টান দিয়ে ছুটতে শুরু করে সেলজুক ভ্যালির দিকে। এই প্রথম আমি রক সির শরীরের স্পর্শ পাই। পাথরের মতো শক্ত আর শীতল একটা হাত।

ড্রাগন, ফ্যাকালা আর রেড সোলজার্সদের ত্রিমুখী আক্রমণের মধ্য দিয়ে সেতু ধরে এক ভয়ংকর উপত্যকার দিকে ছুটতে ছুটতে আমি টের পাই, শত্রুশিবিরের এই যোদ্ধার আমি প্রেমে পড়েছি। আর আমি টের পেলাম, এই প্রেম গেমের অন্তস্তলে লুকিয়ে থাকা অ্যালগরিদমের বাইরের কিছু। আমাদের মধ্যে যেসব কথোপকথন চলছে, সেগুলো গেমের অ্যালগরিদমের নিয়ম মেনেই ঘটছে বটে, কিন্তু হৃদয়ের অনুভূতিগুলো তো একান্তই রক্তমাংসের আমাদের।

যে মুহূর্তে আমি রক সির প্রেমে পড়লাম, সেই মুহূর্তে ছুটন্ত অবস্থায় প্রাণ সংশয়ের ভেতরেও আমি আমার চারপাশের ভূদৃশ্যাবলির দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকালাম। প্রথমবারের মতো টের পেলাম, আকাশ থেকে ধেয়ে আসা ডানা ঝাপটানো সিনগুন, সেতুর রেলিং বেয়ে ছায়ার মতো গড়িয়ে আসা ফ্যাকালা—এগুলো সবই এক জটিল গণিতের কারসাজি হলেও তাদের দিকে আমার এই তাকানোটা গণিতের বাইরের ঘটনা।

আরও পড়ুন
ড্রাগন, ফ্যাকালা আর রেড সোলজার্সদের ত্রিমুখী আক্রমণের মধ্য দিয়ে সেতু ধরে এক ভয়ংকর উপত্যকার দিকে ছুটতে ছুটতে আমি টের পাই, শত্রুশিবিরের এই যোদ্ধার আমি প্রেমে পড়েছি।

এই সেতু, যার ওপর দিয়ে আমরা হাত ধরে ছুটে যাচ্ছি, এর জ্যামিতিক সত্তা এ গেমের অতলে ঘুমিয়ে থাকা গাণিতিক কোডের মধ্যে লুকানো থাকলেও আমাদের এই ছুটে চলা ঘটছে ওই গণিতের প্রান্ত ঘেঁষে। এই প্রেম গেমের নিয়মের ভেতরে নিয়মের এক ব্যত্যয়। গেমের বাইরে আমাদের অনুভূতিগুলোর আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই। কেননা এই গেমের বাইরে রক সির অস্তিত্ব নেই।

তবে এখানে এসে আমাকে আরেক দফা নিজের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হতে হলো।

চল্লিশোর্ধ যুবক আমি গেমের ভেতরে নাজিবা নামের এক অপরূপা তরুণীর অবয়ব নিয়েছি। আমার সেই গেমের বাইরের সত্তার কোনো ছাপ কি গেমের ভেতরের অবতার নাজিবার মধ্যে পড়েনি?

ছবি: এআই আর্ট

আমি জানি, অনুমান করি, রক সির অবতার নেওয়া সত্তাটি গেমের বাইরে হয়তো কোনো অল্পবয়সী তরুণী। আমার এ অনুমান সত্যি কি না, তা জানার কোনো উপায় নেই। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও তো ঠিক যে আমার অনুমান মিথ্যা কি না, তা যাচাই করারও কোনো পথ নেই। সেই অনুমিত তরুণীর নাম আমি দিয়েছি মিরা। তার সত্যিকার নাম অন্য যেকোনো কিছু হতে পারে। তবে আমার মনে হয়েছে, এই পাথুরে চাহনির পেশিবহুল পৌরুষময় অবতারের পেছনের সত্তাটির নাম মিরা হলে সেটা সবচেয়ে মানানসই হতো। সে কোন শহরে থাকে বা সে বিবাহিত কি না, জানার কোনো উপায় নেই।

সমস্যা হলো, গেমের ভেতরে আমি নাজিবা হিসেবেই রক সির প্রেমে পড়েছি। এই প্রেম এক পুরুষের প্রতি এক তরুণীর।

আরও পড়ুন
আমি জানি, অনুমান করি, রক সির অবতার নেওয়া সত্তাটি গেমের বাইরে হয়তো কোনো অল্পবয়সী তরুণী। আমার এ অনুমান সত্যি কি না, তা জানার কোনো উপায় নেই।

আমি জানি, এই গেম থেকে বেরিয়ে গেলে আমাদের এই প্রেমের পৃথক কোনো নিরপেক্ষ অস্তিত্ব থাকবে না। যে শহরে আমি থাকি, সেই শহরে সড়কের সবুজ সংকেতবাতি জ্বললে জেব্রাক্রসিং বেয়ে রাস্তা পেরোতে গিয়ে উল্টো দিক থেকে আসা যে মেয়েটার সঙ্গে আমার ধাক্কা লাগবে অথবা মেট্রোর ভেতরে ভিড়ের মধ্যে ব্যাগ কাঁধে যে মেয়েটি আমার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকবে, সেই মেয়ে যদি মিরা হয়, তাকে আমি কখনো চিনতে পারব না।

গেমের ভেতরে সেতু পেরোনোর সময় ছুটতে থাকা আমাদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই সঙ্গতৃষ্ণা, পরস্পরের শরীরের স্পর্শের ভেতর দিয়ে ছুটে চলা ব্যাখ্যাহীন বিদ্যুৎ–প্রবাহের কোনো দূরবর্তী প্রতিধ্বনি আমরা শুনতে পাব না মেট্রোর চাকার ঘর্ষণ ছাপিয়ে। এই গেমের বাইরের কোনো কিছুই এই গেমে প্রভাব ফেলতে পারবে না, আমি জানি। একই সঙ্গে এই গেমের

ভেতের কোনো অনুভুতিই এই গেমের বাইরে বেরোতে পারবে না। আর সে কারণেই রক সির প্রতি প্রেমের অনুভূতির পাশাপাশি এক অদ্ভুত বিষাদ অনুভব করি আমি।

আরও পড়ুন
মিরা যদি এই গেমে আরেকবার আসে, ভিন্ন কোনো অবতার নিয়ে, আমি জানি, নিশ্চিত জানি, সে–ও একবার সেতু পেরিয়ে এখানে ঢুকবে, এই সেলজুক ভ্যালিতে।

আমরা যখন সেতুর শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছি, তখন একটা সিনগুনের ডানার আঘাতে রক সি সেতুর রেলিং ভেঙে ছিটকে কয়েক হাজার ফুট নিচে পাথুরে জমিতে আছড়ে পড়ে। আমি সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘক্ষণ চিৎকার করি। তারপর সেতুর ওপর বসে থাকি। একসময় সব শান্ত হয়ে আসে। ফ্যাকালারা নেমে যায় সেতুর পিলার বেয়ে নিচে, তাদের অন্ধকার জগতে।

আমি উঠে দাঁড়াই। একবার তাকাই প্রান্তরের ওপারে বিন্দুর মতো আমার আস্তাবলের দিকে। তারপর সেতু পেরিয়ে যন্ত্রচালিতের মতো ঢুকে পড়ি সেলজুক ভ্যালিতে, যেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে এক অনিশ্চিত মায়াবী জগৎ।

ছবি: এআই আর্ট

সেখানে আমি মিরাকে খুঁজব, রক সিকে নয়। মিরা যদি এই গেমে আরেকবার আসে, ভিন্ন কোনো অবতার নিয়ে, আমি জানি, নিশ্চিত জানি, সে–ও একবার সেতু পেরিয়ে এখানে ঢুকবে, এই সেলজুক ভ্যালিতে।

এই গেমের জটিল কোডের অ্যালগরিদমের প্রান্ত ঘেঁষে সে–ও আমাকে খুঁজবে।

*লেখাটি বিজ্ঞানচিন্তায় ২০২৫ সালে মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত

আরও পড়ুন