ফটোফিচার
ছবিতে ২০২৫ সালের সেরা এবং অদ্ভুতুড়ে সব রোবট
২০২৫ সালটা রোবটদের জন্য ছিল এক এলাহি কাণ্ডকারখানার বছর! কিছু রোবট আমাদের অবাক করে দিয়েছে, আবার কিছু রোবট দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেছে। চলুন, ছবিতে ছবিতে দেখে নেওয়া যাক এ বছরের আলোচিত সব রোবটদের গল্প।
ছবিতে যে হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো দেখতে রোবটটি দেখছেন, ওর নাম আর-১। এটি বানিয়েছে চীনা টেক জায়ান্ট অ্যান্ট গ্রুপের মালিকানাধীন কোম্পানি রবিয়্যান্ট। হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে সবার এত আগ্রহ কেন জানেন? কারণ, এদের হাত-পা আমাদের মতোই। তাই মানুষ যেসব কাজ করতে পারে, এরাও সেসব পারবে বলে আশা করা হয়।
কিন্তু সমস্যা হলো, মানুষের মতো দুই পায়ে ভারসাম্য রাখা চাট্টিখানি কথা নয়! তাই আর-১ একটু বুদ্ধি খাটিয়েছে। এর শরীরের ওপরের অংশ মানুষের মতো হলেও কোমরের নিচটা চাকার ওপর বসানো। বার্লিনের IFA 2025 টেক শোতে এই রোবটটি সবার নজর কেড়েছে। সেখানে ওটা দিব্যি চিংড়ি মাছ রান্না করে দেখিয়েছে! যদিও রান্না করতে একটু বেশি সময় নিয়েছে, তবুও নির্মাতারা বলছেন ভবিষ্যতে নার্স কিংবা ট্যুর গাইড হিসেবে এই রোবট দারুণ কাজ করবে।
আর-১ যেখানে চাকা লাগিয়ে সেইফ গেম খেলেছে, সেখানে তিয়ানগং নামের এই রোবটটি সাহসিকতা দেখিয়েছে। ন্যাশনাল এবং লোকাল কো-বিল্ট এম্বোডিড এআই রোবোটিক্স ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি এই রোবটটি দুই পায়েই চলে।
গত বছর আগস্টে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল ওটা। কিন্তু হায়! দৌড়াতে গিয়ে বেচারা এমন আছাড় খেল যে আর লজ্জার শেষ নেই। শুধু তিয়ানগং নয়, এই গেমসে ফুটবল আর নাচের ইভেন্টও ছিল। সেখানেও রোবটদের দুর্দশা ছিল দেখার মতো। ১৫০০ মিটার দৌড়ানোর সময় তো আরেক রোবটের মাথাই শরীর থেকে খসে পড়ে গিয়েছিল!
কাতারে উটের দৌড় খুব জনপ্রিয়। একসময় সেখানে ছোট শিশুদের জকি হিসেবে উটের পিঠে বসানো হতো। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীদের চাপে ২০০৫ সালে কাতার সরকার এই প্রথা নিষিদ্ধ করে। তখন ভক্তরা ঝুঁকলো রোবটের দিকে।
শুরুতে এই রোবটগুলো ছিল একদম সস্তা জোড়াতালি দেওয়া যন্ত্র। বৈদ্যুতিক ড্রিল মেশিন ও রিমোট গেট ওপেনার দিয়ে বানানো হতো। এখন অবশ্য এগুলো অনেক আধুনিক হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দোহার পশ্চিমে আল-শাহানিয়াতে আয়োজিত এক রেসের দৃশ্য এটি। তবে যতই আধুনিক হোক, দিনশেষে এগুলো রিমোট-কন্ট্রোলড চাবুক ছাড়া আর কিছুই নয়। এই চাবুক মারলে উট জোরে দৌড়াতে বাধ্য হয়।
এপ্রিল মাসে বেইজিংয়ে এক আজব ম্যারাথন হলো। নাম ছিল ‘বেইজিং ই-টাউন হিউম্যানয়েড রোবট হাফ ম্যারাথন’। সম্ভবত এটাই প্রথম কোনো দৌড় প্রতিযোগিতা যেখানে রক্ত-মাংসের মানুষের সঙ্গে প্লাস্টিক-মেটালের রোবটেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দৌড়েছে! মোট ১২ হাজার মানুষ ও ২১টি রোবট এতে অংশ নেয়।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬টি রোবট ফিনিশ লাইনে পৌঁছাতে পেরেছিল। তবে বিজয়ী রোবট তিয়ানগং আলট্রার সময়টা ছিল বেশ ঈর্ষণীয়। মাত্র ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে ওটা এই ম্যারাথন শেষ করেছে! তবে দৌড় শেষ করতে এই রোবটটিকে তিন সেট পুরো ব্যাটারি বদলাতে হয়েছে। মানুষেরা অবশ্য গ্লুকোজ খেয়ে দৌড়ায়, ব্যাটারি বদলানোর সুযোগ তাদের নেই!
ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের আরেক আকর্ষণ ছিল রোবটদের কিকবক্সিং। সেখানে অংশ নিয়েছিল ইউনিটিরি জি-১ রোবটরা। তবে সিনেমার রোবট ফাইটের মতো ভেবে থাকলে ভুল করবেন। এদের নড়াচড়া ছিল বেশ ধীরগতির। এদের ঘুষিগুলো নকআউট পাঞ্চের বদলে মনে হচ্ছিল আলতো ধাক্কা।
মারতে গিয়ে বা মার খেতে গিয়ে এরা বারবার ধপাস করে পড়ে যাচ্ছিল। তবে একটা জিনিস মানতেই হবে, পড়ে যাওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এরা দারুণ ক্ষিপ্রতা আর নাছোড়বান্দা মনোভাব দেখিয়েছে।
এই ছবিটা একটু অদ্ভুত। দেখতে ঠিক স্বাভাবিক রোবটের মতো লাগে না। এটি আসলে একটি সাইবর্গ ব্যাঙাচি! মানে আধা প্রাণী, আধা যন্ত্র। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জিয়া লিউ এবং তাঁর দল একটি নরম ও প্রসারণযোগ্য জালের মতো ইলেকট্রনিক ইমপ্ল্যান্ট তৈরি করেন। আফ্রিকান এক প্রজাতির ব্যাঙের ভ্রূণের মস্তিষ্কের আদি অবস্থার ওপর তাঁরা অতি-সূক্ষ্ম তারসহ এই জালটি বসিয়ে দেন।
ভ্রূণটি যখন বড় হয়ে ব্যাঙাচিতে পরিণত হলো, তখন এর মস্তিষ্ক ভাঁজ হয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই জালের মতো ইলেকট্রনিক মেসটিও মস্তিষ্কের ভেতরে গেঁথে গেল। ফলে গবেষকরা এখন বাইরে থেকেই এই ব্যাঙাচির মস্তিষ্কের সংকেত মাপতে পারছেন। জীববিজ্ঞানের সঙ্গে প্রযুক্তির এক অবিশ্বাস্য মেলবন্ধন!