বাংলার মাছরাঙা
চিরসুন্দর এবং নানা বর্ণের বিচিত্রতায় বৈচিত্র্যময় আমাদের এই ধরিত্রী। এই বৈচিত্র্যময়তার একটি বড় অংশজুড়ে আছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। পরিবেশের বিভিন্ন নিয়ামকের সঙ্গে অভিযোজনের কারণে পৃথিবীর নানা প্রতিবেশে আজ পাখিদের বিস্তার। এদের রংবেরঙের মোহনীয় বর্ণে আজ পুরো পৃথিবী আকৃষ্ট। বিভিন্ন গবেষণার ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত পাখির সংখ্যা ৯ হাজার ২৬টি। বাংলাদেশের পাখি পরিযায়ন ও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের তথ্যমতে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছে ৭১০-এর বেশি প্রজাতির পাখি।
বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ পাখি হিসেবে পরিচিত গ্রেট হোয়াইট পেলিকান এবং সবচেয়ে ছোট পাখি হিসেবে রয়েছে স্কারলেট-ব্যাকড ফ্লাওয়ারপেকার।
বাংলাদেশের পাখিদের মধ্যে কোরাসিফর্মিস বর্গের মাছরাঙা, সুইচোরা ও নীলকণ্ঠ পাখিরা তাদের শারীরিক গঠন, বৈচিত্র্য এবং বর্ণিলতায় এক অপূর্ব সৌন্দর্য ধারণ করে আছে। এরা মাটিতে গর্ত করে বাসা তৈরি করে। লম্বা সুচালো ঠোঁট এবং সবুজাভ ও নীলচে পালক এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই বর্গের অ্যালসেডিনিডি পরিবারের অন্তর্গত বর্ণিল পাখিগুলোই হলো আমাদের চিরচেনা মাছরাঙা। আইইউসিএন (IUCN) এবং আন্তর্জাতিক বার্ডলাইফ অনুযায়ী পৃথিবীতে মাছরাঙার প্রজাতির সংখ্যা বর্তমানে ১১৪ থেকে ১১৬টি ধরা হয়। এর মধ্যে ১০ শতাংশের (১২ প্রজাতির) দেখা মেলে আমাদের এই বাংলাদেশে।
বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ পাখি হিসেবে পরিচিত গ্রেট হোয়াইট পেলিকান এবং সবচেয়ে ছোট পাখি হিসেবে রয়েছে স্কারলেট-ব্যাকড ফ্লাওয়ারপেকার।
মাছরাঙাদের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় শারীরিক অঙ্গ হলো এদের চঞ্চু বা ঠোঁট এবং পা। এদের পা সাধারণত ছোট হয় এবং পায়ের পাতা সিনড্যাকটাইল বা আংশিক জোড়া লাগানো থাকে। সারা পৃথিবীতে বিস্তৃত হলেও বরফে আচ্ছাদিত অঞ্চল এবং তীব্র মরুভূমিতে এই পাখিটির দেখা মেলে না।
অ্যালসেডিনিডি পরিবারের মাছরাঙাদের মূলত তিনটি উপপরিবারে ভাগ করা যায়। অ্যালসেডিনিনি, সেরিলিনি ও হ্যালসায়োনিনি। চঞ্চুর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে এদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। রিভার কিংফিশার এবং ওয়াটার কিংফিশার মিলে একটি গ্রুপ তৈরি করে, যাদের চঞ্চু হয় পার্শ্বীয়ভাবে সংকুচিত ও সুচালো। এতে মাছ শিকারে সহায়তা হয়। অপর গ্রুপটি ট্রি কিংফিশার নামে পরিচিত। এদের চঞ্চু অপেক্ষাকৃত চওড়া এবং সামনের অংশ সামান্য হুক আকৃতির হয়, যা শিকার ধরতে ও পিষতে সাহায্য করে।
অ্যালসেডিনিডি পরিবারের মাছরাঙাদের মূলত তিনটি উপপরিবারে ভাগ করা যায়। অ্যালসেডিনিনি, সেরিলিনি ও হ্যালসায়োনিনি।
পাতি-মাছরাঙা
এই মাছরাঙার ইংরেজি নাম Common Kingfisher। বৈজ্ঞানিক নাম Alcedo atthis। আকারে চড়ুইয়ের মতো এই পাখিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬-১৭ সেন্টিমিটার। কমলাটে পেট ও সারা দেহ নীল। কান কমলা রঙের এবং পা লাল। সারা দেশে জলাশয়ের আশপাশে সারা বছরই এদের সহজে দেখা মেলে। এরা খুব দ্রুত উড়তে পারে এবং একা অথবা জোড়াবদ্ধ হয়ে থাকে। মার্চ থেকে আগস্ট মাসে এদের প্রজনন হয়। মাটিতে গর্ত করে এরা বাসা তৈরি করে।
নীলকান-মাছরাঙা
এদের বৈজ্ঞানিক নাম Alcedo meninting। ইংরেজি নাম Blue-eared Kingfisher। আকারে চড়ুইয়ের মতো পাখিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার। কমলাটে লাল পেট ছাড়া এদের সমস্ত শরীর নীল রঙের। গলা সাদা, কান নীল এবং পা লাল।
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, প্যারাবন, দক্ষিণাঞ্চল ও সুন্দরবনে এর দেখা মেলে। দিবাচর এই পাখি খুব দ্রুত উড়তে পারে। একা অথবা জোড়াবদ্ধ হয়ে থাকে। মার্চ থেকে জুন এদের প্রজনন মৌসুম। মাটিতে গর্ত করে এরা বাসা তৈরি করে।
মেঘহও-মাছরাঙা
এরা দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার। ইংরেজি নাম Stork-billed Kingfisher। বৈজ্ঞানিক নাম Pelargopsis capensis। নীল ডানা ও লেজ ছাড়া এদের দেহের বাকি অংশ বাদামি। মাথা ও ঘাড় বাদামি রঙের হয়। এদের বৃহৎ আকৃতির টকটকে লাল চঞ্চু থাকে। গলা ও পেট হলদে-কমলা রঙের। এরা খুব চিৎকার করে 'কে-কে-কে-কে' শব্দে ডাকে। সারা দেশে জলাশয়ের আশপাশে সারা বছরই এদের সহজে দেখা যায়। দিবাচর এই পাখি একা অথবা জোড়াবদ্ধ হয়ে থাকে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এদের প্রজনন মৌসুম। মাটিতে গর্ত করে এরা বাসা তৈরি করে।
নীলকান-মাছরাঙা আকারে চড়ুইয়ের মতো পাখিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার। কমলাটে লাল পেট ছাড়া এদের সমস্ত শরীর নীল রঙের। গলা সাদা, কান নীল এবং পা লাল।
ধলাগলা-মাছরাঙা
এদের সাদাবুক মাছরাঙাও বলা হয়। ইংরেজি নাম White-breasted Kingfisher। আকারে অনেকটা শালিকের মতো, দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৭-২৮ সেন্টিমিটার। দেহ উজ্জ্বল নীল। থুতনি, গলা ও বুকের মাঝখানটা উজ্জ্বল সাদা। মাথা, ঘাড়, বগল ও পেট চকলেট-বাদামি রঙের। পা ও চঞ্চু লাল। এরা খুবই জোরে ডাকে, বিশেষ করে ওড়ার সময়। সারা দেশে জলাশয়ের আশপাশে সারা বছরই এদের সহজে দেখা মেলে। দিবাচর এই পাখি একা অথবা জোড়াবদ্ধ হয়ে থাকে। মার্চ থেকে জুন এদের প্রজনন মৌসুম। এরাও মাটিতে গর্ত করে বাসা তৈরি করে। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Halcyon smyrnensis।
পাকরা-মাছরাঙা
বৈজ্ঞানিক নাম Ceryle rudis। আকারে শালিক পাখির মতো, দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। সাদা দেহে কালো ছোপ ও ডোরাকাটা দাগ থাকে। গলা, পেট ও লেজের তলদেশ সাদা। সাদা বুকে বেল্ট আকৃতির কালো দাগ থাকে। এদের চঞ্চু কালচে। সাদা ভ্রুরেখা ও চোখে প্রশস্ত কালো ডোরা থাকে। মাথার পেছনে ঝুঁটি দেখা যায়। সারা দেশে জলাশয়ের আশপাশে সারা বছরই এদের সহজে দেখা যায়। দিবাচর এই পাখি একা অথবা জোড়াবদ্ধ হয়ে থাকে। সারা বছর যেকোনো সময়ে এরা প্রজনন করতে পারে। মাটিতে গর্ত করে এরা বাসা তৈরি করে।
খয়রাপাখ-মাছরাঙা
বৈজ্ঞানিক নাম Pelargopsis amauroptera। ইংরেজি নাম Brown-winged Kingfisher। আকারে শালিকের চেয়ে একটু বড়, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার। মাথা ও ঘাড় বাদামি-কমলা রঙের। এদের লাল টকটকে দীর্ঘ চঞ্চু থাকে। কাঁধ-ঢাকনি, ডানা ও লেজ খয়েরি।
পা লাল এবং পিঠ ও কোমর নীল রঙের হয়। সুন্দরবন ছাড়া কুয়াকাটা ন্যাশনাল পার্ক, বরিশাল, নিঝুম দ্বীপ, মুন্সিগঞ্জ এবং সাভারে এদের দেখা পাওয়া যায়। দিবাচর এই পাখি একা অথবা জোড়াবদ্ধ হয়ে থাকে। মার্চ থেকে জুন এদের প্রজনন মৌসুম। মাটিতে গর্ত করে এরা বাসা তৈরি করে।
পাকরা-মাছরাঙা আকারে শালিক পাখির মতো, দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। সাদা দেহে কালো ছোপ ও ডোরাকাটা দাগ থাকে। গলা, পেট ও লেজের তলদেশ সাদা।
লাল-মাছরাঙা
বৈজ্ঞানিক নাম Halcyon coromanda। আকারে শালিকের মতো, দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। লালচে-কমলা পিঠ, ফ্যাকাশে লাল পেট এবং উজ্জ্বল লাল মাথা। পা ও চঞ্চু ঘন লাল রঙের। কোমর হালকা নীল। এরা উচ্চ শব্দে ডাকে। এদের ইংরেজি নাম Ruddy Kingfisher। এই পাখিটি শুধু সুন্দরবনেই আছে। এদের দেখা পাওয়া একটু কঠিন। দিবাচর এই পাখি একা অথবা জোড়াবদ্ধ হয়ে থাকে। মার্চ থেকে জুন এদের প্রজনন মৌসুম। এরাও মাটিতে গর্ত করে বাসা তৈরি করে।
কালোটুপি-মাছরাঙা
Black-capped Kingfisher-এর বৈজ্ঞানিক নাম Halcyon pileata। আকারে শালিক থেকে কিছুটা বড়, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। লাল পেট আর লাল চঞ্চু ছাড়া এদের বাকি দেহ নীল রঙের। পুরো মাথা কালো, গলা, বুক ও ঘাড় সাদা। পেট মরচে-লাল রঙের।
এদের ডানা কালো, তবে ওড়ার সময় সাদা ছোপ দেখা যায়। পা লাল রঙের। এটি একটি পরিযায়ী মাছরাঙা। শীতে সুন্দরবনসহ খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলে এদের দেখা মেলে। দিবাচর এই পাখি একা অথবা জোড়াবদ্ধ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এদের প্রজননের কোনো রেকর্ড নেই।
ব্লাইদস কিংফিশার
এদের বৈজ্ঞানিক নাম Alcedo hercules। ইংরেজি নাম Blyth's Kingfisher। দেখতে নীলকান মাছরাঙার মতো হলেও আকারে এটি একটু বড়, অনেকটা শালিকের মতো (২২ সেন্টিমিটার)। কালো চঞ্চুটি আকারে বড় এবং সামনের অংশ লাল। স্ত্রী পাখির নিচের চঞ্চু পুরোটাই লালচে রঙের। এটি নীলকান মাছরাঙার চেয়ে গাঢ় নীল। দিবাচর ও বৃক্ষচারী এই পাখি একা থাকতে পছন্দ করে। এদের প্রধান খাদ্য মাছ এবং পোকামাকড়। এরা আমাদের দেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি। চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনে এবং সিলেটের মিশ্র চিরসবুজ বনে এদের দেখা মেলে। মার্চ থেকে জুন এদের প্রজনন ঋতু।
কালোটুপি-মাছরাঙা আকারে শালিক থেকে কিছুটা বড়, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। লাল পেট আর লাল চঞ্চু ছাড়া এদের বাকি দেহ নীল রঙের। পুরো মাথা কালো, গলা, বুক ও ঘাড় সাদা।
ক্রেস্টেড কিংফিশার
বৈজ্ঞানিক নাম Megaceryle lugubris। ইংরেজি নাম Crested Kingfisher। বাংলাদেশে পাওয়া মাছরাঙাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১ সেন্টিমিটার। সাদা-কালো ডোরা সম্পন্ন পালক এবং মাথায় খাড়া ছড়ানো ঝুঁটি থাকে। চঞ্চু ও পা কালচে রঙের হয়। পিঠ, ডানা ও লেজে কালোর ওপর সাদা ডোরা থাকে। বুকে সূক্ষ্ম কালো দাগ দেখা যায়। এরা দিবাচর পাখি। একাকী অথবা জোড়া হয়ে বাস করে। মার্চ-এপ্রিল মাস এদের প্রজননকাল। এরা আমাদের দেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি; বান্দরবনের থানচিতে এদের পাওয়া যায়।
উদয়ী বামনরাঙা
Oriental Dwarf Kingfisher-এর বৈজ্ঞানিক নাম Ceyx erithaca। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট মাছরাঙা। এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার। এদের নীলচে ডানা ছাড়া সারা দেহই প্রায় কমলা রঙের হয়। মাথা ঘন কমলা এবং চঞ্চু ও পা উজ্জ্বল লাল রঙের। এরা দিবাচর ও বৃক্ষচারী পাখি। সাধারণত একাকী অথবা জোড়ায় বাস করে। এরা খুব দ্রুত উড়তে পারে। ছোট মাছ ও পতঙ্গ খেয়ে বাঁচে। এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে এরা প্রজনন করে। এরা আমাদের দেশের দুর্লভ গ্রীষ্ম-পরিযায়ী পাখি। সাধারণত সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে এদের দেখা মেলে।
ক্রেস্টেড কিংফিশারের
জলজ প্রতিবেশব্যবস্থায় মাছরাঙার ভূমিকা অনন্য। অসুস্থ মাছ খেয়ে এরা সুস্থ মাছদের বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। এ ছাড়া এরা কীটপতঙ্গ খেয়ে পতঙ্গনাশক হিসেবেও কাজ করে। একটি জলাশয়ে মাছরাঙার আধিক্য মানে সেই জলাশয় সুস্থ। এদিক থেকে বিবেচনা করলে মাছরাঙা জলাশয়ের সুস্থতার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় ভুল ধারণাবশত মানুষ চিন্তা করে, মাছরাঙা জলাশয়ের মাছ খেয়ে মাছচাষিদের ক্ষতি করে। কিন্তু এখানে ঘটে ঠিক তার উল্টো ঘটনা। অসুস্থ ও অপুষ্ট মাছ খেয়ে এরা মাছের খামারকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করে।
সুন্দরবনের জলে প্রচুর ছোট-বড় মাছ বাস করে। গাছের ডালে বসে থাকা মাছরাঙা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এদের গতিবিধি খেয়াল রাখে। সুযোগ বুঝে এদের দীর্ঘ ও শক্তিশালী ঠোঁট দিয়ে মাছ শিকার করে, যা এদের প্রধান খাদ্য।
এ ছাড়া ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী, পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গও খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। সাধারণত মাছরাঙারা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকে এবং সেই এলাকা থেকেই শিকার করে খায়।
একটি জলাশয়ে মাছরাঙার আধিক্য মানে সেই জলাশয় সুস্থ। এদিক থেকে বিবেচনা করলে মাছরাঙা জলাশয়ের সুস্থতার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম লোনাপানির বন সুন্দরবন। এখানকার জীববৈচিত্র্য অনেক বেশি। এ ছাড়া সুন্দরবন মানুষের স্পর্শ থেকে দূরে এবং এর যোগাযোগব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় এটি মানুষের হাতে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুন্দরবনের জলে রয়েছে মাছ, কাঁকড়া ও নানা রকম অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এ ছাড়া গাছে রয়েছে প্রচুর পোকামাকড়। সব মিলিয়ে মাছরাঙার জন্য এটি একটি আদর্শ আবাসস্থল। এ কারণেই সুন্দরবনে বেশি মাছরাঙা দেখা যায়।
দিন দিন আমাদের জলাশয়ের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। যেগুলো টিকে আছে, সেগুলোও ক্রমেই দূষিত হচ্ছে। ফলে জলজ জীব কমছে এবং নষ্ট হচ্ছে জলজ পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা। এতে কমছে বাংলার জলাশয়ের বন্ধু মাছরাঙারা। বাংলার সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে রঙে রঙে রঙিন মাছরাঙারা। তাদের বর্ণ ও সুরে মোহনীয় বাংলার পরিবেশ। তাদের উপস্থিতি রক্ষা করবে বাংলার জলজ পরিবেশের ভারসাম্য।