খুনের রহস্য সমাধানে সাহায্য করবে ব্যাকটেরিয়া
২০১৫ সালের গ্রীষ্মকাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার হলিউড শহরে জোসে লোপেজ নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকে পড়ল দুজন চোর। চুরি গেল একটি টেলিভিশন। তবে ঘটনাটি আর দশটা সাধারণ চুরির মতো ছিল না। ওই দুই চোর ছিলেন আসলে স্থানীয় শেরিফ অফিসের দুই পুলিশ কর্মকর্তা! বাড়ির মালিক লোপেজ পেশায় যুক্তরাষ্ট্রের নোভা সাউথইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একজন জীববিজ্ঞানী। তিনিও ছিলেন এই পুরো পরিকল্পনার অংশ। অর্থাৎ, ঘটনাটা সাজানো।
এই সাজানো চুরির পেছনে একটি দারুণ বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছিলেন, চোরেরা অপরাধের জায়গায় যে অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব ফেলে যায়, তা বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব কি না।
বাড়ির মালিক লোপেজ পেশায় যুক্তরাষ্ট্রের নোভা সাউথইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একজন জীববিজ্ঞানী। তিনিও ছিলেন এই পুরো পরিকল্পনার অংশ। অর্থাৎ, ঘটনাটা সাজানো।
গবেষকেরা চুরি হওয়া ঘর থেকে অণুজীবের নমুনা সংগ্রহ করলেন এবং ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ আলাদা করে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেন। কিন্তু ১০ হাজার মানুষের একটি ডেটাবেস থেকে ওই দুই ‘অনুপ্রবেশকারীকে’ আলাদা করতে গিয়ে দেখা দিল সমস্যা। ব্যাকটেরিয়ার ছাপগুলো কোনো নির্দিষ্ট মানুষকে আলাদাভাবে চেনার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে তারা হতাশাজনক উপসংহার টানলেন এভাবে, ‘ফৌজদারি তদন্তে অপরাধী শনাক্ত করার জন্য এই পদ্ধতিটি এখনো নির্ভরযোগ্য নয়।’
তবে এই একটি ব্যর্থতাতেই সব শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের শরীর, ত্বক এবং চারপাশে থাকা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস আর ছত্রাক যে অপরাধ বিজ্ঞানে প্রমাণের এক বিশাল খনি হতে পারে, তা নিয়ে ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা বহুকাল ধরেই আশাবাদী। সাম্প্রতিক সময়ে গবেষকেরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এই ‘মাইক্রোবায়োম ফরেনসিক’ পদ্ধতিকে আরও নিখুঁত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমাদের শরীর, ত্বক এবং চারপাশে থাকা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস আর ছত্রাক যে অপরাধ বিজ্ঞানে প্রমাণের এক বিশাল খনি হতে পারে, তা নিয়ে ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা বহুকাল ধরেই আশাবাদী।
অদৃশ্য আঙুলের ছাপের খোঁজে
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের চ্যামিনেড ইউনিভার্সিটির গবেষক ডেভিড কার্টার বিষয়টি খুব চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এমন অনেক খুনের ঘটনা থাকে যেখানে অপরাধীর কোনো আঙুলের ছাপ বা ডিএনএ পাওয়া যায় না। কিন্তু মৃতদেহের আশপাশে এমন এক ধরনের প্রমাণ সব সময়ই থাকে, যা কেউ মুছে ফেলতে পারে না। তা হলো ব্যাকটেরিয়া। আমরা যেখানেই যাই, যার সঙ্গেই হাত মেলাই বা যা কিছুই ছুঁই না কেন, সেখানে আমাদের শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অণুজীব রেখে আসি। মানুষের আঙুলের ছাপের মতোই একেকজনের শরীরের এই অণুজীবের ইকোসিস্টেম একেক রকম হয়।
১৯৯০-এর দশক থেকে ফরেনসিক মাইক্রোবায়োলজির যাত্রা শুরু হলেও মূলত ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি সস্তা ও দ্রুত হওয়ার পর থেকে এটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বাড়ে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক রব নাইট এবং তাঁর দল প্রমাণ করেন, একটি ব্যক্তিগত কিবোর্ড বা মাউসে লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ককটেল বিশ্লেষণ করে ২৭০ জনের একটি ডেটাবেস থেকে আসল মালিককে ঠিকই খুঁজে বের করা সম্ভব।
তবে ল্যাবের বাইরের বাস্তব পরিস্থিতি বড্ড জটিল। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োম সেন্টারের তৎকালীন পরিচালক জ্যাক গিলবার্ট এই ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে সতর্ক করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, অপরাধের জায়গায় পাওয়া একটি ব্যাকটেরিয়া যে সন্দেহভাজন ব্যক্তির শরীর থেকেই এসেছে এবং অন্য কোনো মানুষের নয়, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা এই মুহূর্তে অসম্ভব।
১৯৯০-এর দশক থেকে ফরেনসিক মাইক্রোবায়োলজির যাত্রা শুরু হলেও মূলত ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি সস্তা ও দ্রুত হওয়ার পর থেকে এটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বাড়ে।
ফরেনসিকের নতুন দিগন্ত
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রবীণ ক্রাইম-সিন বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি নিক্সন তার কর্মজীবনে এমন অনেক খুনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে তিনি এক অদ্ভুত ফরেনসিকের কথা বলেন। বিশেষ করে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনাগুলোতে এই সমস্যা বেশি হয়। গলা টিপে হত্যার ক্ষেত্রে ঘাড়ের অংশটি এতটাই নরম ও স্থিতিস্থাপক থাকে যে সেখানে আঙুলের ছাপ বসে না। এমনকি চরম বলপ্রয়োগ করা হলেও অনেক সময় খুনির কোনো ডিএনএ পাওয়া যায় না।
এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারের ফরেনসিক বিজ্ঞানী নোয়েমি প্রোকোপিও। ২০২৫ সালে তিনি এবং নিক্সন ১০০ জন নতুন পুলিশ কর্মকর্তার ওপর একটি অভিনব পরীক্ষা চালান। এই পুলিশদের একটি নির্দিষ্ট প্লাস্টিকের শিটে আঙুলের ছাপ দিতে বলা হয়। এরপর শিটগুলো এমন একটি ঘরে ফেলে রাখা হয়, যেখানে মানুষের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। গবেষকেরা দেখতে চাইলেন, কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর ওই প্লাস্টিক শিটে লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়া বিশ্লেষণ করে আসল পুলিশদের খুঁজে পাওয়া যায় কি না।
গলা টিপে হত্যার ক্ষেত্রে ঘাড়ের অংশটি এতটাই নরম ও স্থিতিস্থাপক থাকে যে সেখানে আঙুলের ছাপ বসে না। এমনকি চরম বলপ্রয়োগ করা হলেও অনেক সময় খুনির কোনো ডিএনএ পাওয়া যায় না।
প্রথমদিকে বিজ্ঞানীরা বিরল প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবেশের অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার ভিড়ে সেগুলো হারিয়ে যায়। এরপর তারা কৌশল বদলালেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া খোঁজার বদলে তারা ব্যাকটেরিয়াগুলোর সামগ্রিক কাঠামো অ্যানালাইসিস করতে শুরু করলেন। সহজ কথায়, দুজন মানুষের শরীরে হয়তো একই ব্যাকটেরিয়া আছে, কিন্তু একজনের শরীরে তার মাত্রা বেশি, অন্যজনের কম। এই মাত্রার তারতম্যই একটা দারুণ সূত্র তৈরি করে, যা এক মাস পরও শনাক্ত করা সম্ভব!
প্রোকোপিও অবশ্য দাবি করছেন না যে এই ব্যাকটেরিয়ার ছাপ এখনই ডিএনএর জায়গা দখল করে নেবে। তবে যেখানে পুলিশ কোনো কূলকিনারা পায় না, সেখানে এটি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অণুজীব আমাদের জীবনযাপন সম্পর্কেও অনেক কথা বলে। আমরা কী খাই, কোথায় থাকি, কাদের সঙ্গে মিশি—সবকিছুর প্রভাব পড়ে আমাদের মাইক্রোবায়োমের ওপর। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় প্রোকোপিও দেখিয়েছিলেন, কেবল মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া বিশ্লেষণ করে ইতালির দুটি আলাদা অঞ্চলের মানুষদের সহজেই আলাদা করা যায়। ভবিষ্যতে হয়তো অপরাধীর ফেলে যাওয়া ব্যাকটেরিয়া দেখেই পুলিশ বলে দিতে পারবে; খুনি কি অফিসে কাজ করে নাকি খামারে, তার কোনো নির্দিষ্ট অসুখ আছে কি না, এমনকি তার বাড়িতে কোনো পোষা প্রাণী আছে কি না!
প্রোকোপিও অবশ্য দাবি করছেন না যে এই ব্যাকটেরিয়ার ছাপ এখনই ডিএনএর জায়গা দখল করে নেবে। তবে যেখানে পুলিশ কোনো কূলকিনারা পায় না, সেখানে এটি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
মৃত্যুর নিখুঁত ঘড়ি
ব্যাকটেরিয়া দিয়ে অপরাধী ধরার চেয়েও বর্তমানে ফরেনসিক বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে আরেকটি বিষয়—ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে মৃত্যুর সঠিক সময় বের করা। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারে ইতালির লিলিয়ানা রেসিনোভিচ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাস। ৬৩ বছর বয়সী লিলিয়ানা নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ইতালির ত্রিয়েস্তে শহরের একটি পরিত্যক্ত সাইক্রিয়াট্রিক হাসপাতালের মাঠে তার লাশ পাওয়া যায়। মাথা ও শরীর পলিথিন দিয়ে মোড়ানো থাকলেও লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ফরেনসিক প্যাথলজিস্টরা প্রথম রিপোর্টে জানালেন, লিলিয়ানা হয়তো মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আত্মহত্যা করেছেন।
কিন্তু পরিবারের তীব্র প্রতিবাদের পর লাশটি দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হয়। এবারের রিপোর্টে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর তথ্য। লিলিয়ানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি নিখোঁজ হওয়ার দিন সকালেই তাকে খুন করা হয়েছিল। প্রমাণ হিসেবে তার পেটে সেদিনের সকালের নাস্তার হজম না হওয়া অংশ পাওয়া যায়।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাস। ৬৩ বছর বয়সী লিলিয়ানা নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ইতালির ত্রিয়েস্তে শহরের একটি পরিত্যক্ত সাইক্রিয়াট্রিক হাসপাতালের মাঠে তার লাশ পাওয়া যায়।
এখানেই তৈরি হয় বিশাল এক রহস্য। প্রথম বিশেষজ্ঞ বলছেন মৃত্যু হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা আগে, দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞ বলছেন ২৩ দিন আগে! এত বড় গ্যাপ কেন? লিলিয়ানাকে কি নিখোঁজ হওয়ার পরপরই খুন করে কোথাও ডিপ ফ্রিজে বা তীব্র ঠান্ডায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? কারণ তিন সপ্তাহ পর একটি লাশ বাইরে পড়ে থাকার পরও কীভাবে এত ভালো অবস্থায় থাকতে পারে?
সাধারণত মৃত্যুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা রেক্টাল থার্মোমিটার দিয়ে এবং প্রথম কয়েক দিন লাশের রং, আড়ষ্টতা বা পোকামাকড়ের ডিম পাড়ার ধরন দেখে মৃত্যুর সময় বলা যায়। কিন্তু লাশ পচতে শুরু করলে, বিশেষ করে খোলা জায়গায় থাকলে এই হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখানেই কাজে আসে মাইক্রোবিয়াল ক্লক বা ব্যাকটেরিয়ার ঘড়ি।
মৃত্যুর পর মানবদেহ পচার একটি নির্দিষ্ট ছক আছে। নির্দিষ্ট সময়ে কিছু ব্যাকটেরিয়া আসে, বংশবৃদ্ধি করে এবং আবার মরে যায়। লিলিয়ানার লাশ পাওয়ার পর তার মুখ থেকে যে সোয়াব নেওয়া হয়েছিল, সেখানে তার মুখের ব্যাকটেরিয়ার একটি স্পষ্ট ছবি সংরক্ষিত ছিল। লাশটি যদি আগে ফ্রিজে রাখা হয়ে থাকে, তবে বরফ জমা এবং গলার এই চক্রের একটি স্পষ্ট ছাপ সেই ব্যাকটেরিয়ার কলোনিতে থেকে যাওয়ার কথা। প্রোকোপিও এবং তার দল এখন আমেরিকার মিশিগানের একটি ‘বডি ফার্মে’ (যেখানে গবেষণার জন্য মৃতদেহ পচতে দেওয়া হয়) ইতালির সেই আবহাওয়া তৈরি করে লিলিয়ানার ঘটনার দুটি আলাদা তত্ত্বই পরীক্ষা করে দেখছেন।
সাধারণত মৃত্যুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা রেক্টাল থার্মোমিটার দিয়ে এবং প্রথম কয়েক দিন লাশের রং, আড়ষ্টতা বা পোকামাকড়ের ডিম পাড়ার ধরন দেখে মৃত্যুর সময় বলা যায়।
আদালতের কাঠগড়ায় ব্যাকটেরিয়া
সবকিছু তো হলো, কিন্তু এসব প্রমাণ কি আদৌ আদালতের বিচারে টিকবে? বিচারকেরা যেকোনো নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ গ্রহণের আগে দেখেন সেটি স্বাধীনভাবে পরীক্ষিত কি না, এর ভুলের মাত্রা কতটুকু।
হাওয়াইয়ের ডেভিড কার্টারের মতে, মৃত্যুর সময় নির্ধারণের জন্য ব্যাকটেরিয়ার ঘড়ি ইতিমধ্যেই আদালতে ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে। কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির জেসিকা মেটকাফের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ মারা যাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে লাশ পাওয়া গেলে ব্যাকটেরিয়া বিশ্লেষণ করে মাত্র ৩ দিনের এদিক-সেদিক হিসেবে মৃত্যুর নিখুঁত সময় বলে দেওয়া সম্ভব।
তবে অপরাধী শনাক্ত করার কাজে ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার আদালতে টিকতে এখনো বেশ সময় লাগবে। কারণ আমাদের ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ইকোসিস্টেম প্রতিনিয়ত বদলায়। জ্যাক গিলবার্টের মতে, মানুষের ত্বকে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা সারাক্ষণই বদলাচ্ছে এবং এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়াচ্ছে। জীববিজ্ঞানের এই জটিলতা আদালতে প্রমাণ করা বেশ কঠিন।
তবে রব নাইট আশাবাদী। প্রযুক্তি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো অপরাধীরা কোনো আঙুলের ছাপ বা ডিএনএ না ফেলেও পার পাবে না। তাদের শরীরের একটি অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়াই হয়তো ধরিয়ে দেবে সব অপরাধের রহস্য!