সাইলো সিরিজের তৃতীয় সিজন শেষ হওয়ার পর মাটির নিচের জগৎ নিয়ে তৈরি সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলোর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ নতুন করে জেগে বেড়েছে। অ্যাপেল টিভির এই সিরিজে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বিশ্বব্যাপী ন্যানোটেক যুদ্ধের পর মানবজাতিকে বাঁচাতে জর্জিয়ায় মাটির নিচে ৫০টি বিশাল বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছিল, যার প্রতিটিতে ১০ হাজার মানুষ বাস করত।
হলিউড কয়েক দশক ধরেই মাটির নিচের জগৎ নিয়ে এমন দারুণ সব সায়েন্স ফিকশন সিনেমা তৈরি করে আসছে। ভূতাত্ত্বিক দিক দিয়ে এই মুভিগুলো কতটা বিজ্ঞানসম্মত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে মাটির নিচের অজানা পরিবেশে মানুষের টিকে থাকার লড়াই দর্শকদের সব সময়ই মুগ্ধ করে। সাইলোর অভাব মেটাতে আজ এমন ১০টি আন্ডারগ্রাউন্ড সাই-ফাই মুভির তালিকা নিয়ে এসেছি, যেগুলো আপনার চিন্তার জগতকে আক্ষরিক অর্থেই মাটির নিচে নিয়ে যাবে।
মুক্তি: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৯
পরিচালক: হেনরি লেভিন
জুল ভার্নের ক্লাসিক উপন্যাসের এটি সবচেয়ে চমৎকার অ্যাডাপ্টেশন। একজন বিখ্যাত ভূতাত্ত্বিক একটি আইসল্যান্ডিক আগ্নেয়গিরির ফাটল দিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রে যাওয়ার পথ খুঁজে পান। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন তাঁর সহকারী, এক বিধবা নারী এবং একজন আইসল্যান্ডিক গাইড।
মাটির নিচে তাঁরা আবিষ্কার করেন আটলান্টিসের হারিয়ে যাওয়া শহর, বিশাল মাটির নিচের মহাসাগর এবং চকচকে স্ফটিকের গুহা। কিন্তু তাঁদের পিছু নেওয়া এক প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞানীর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে তাঁরা কি এই জাদুকরী জগত থেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরতে পেরেছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ১৯৫৯ সালের হেনরি লেভিনের মুভিটিতে।
মুক্তি: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
পরিচালক: দ্য ডাফার ব্রাদার্স
নেটফ্লিক্সের বিখ্যাত সিরিজ স্ট্রেঞ্জার থিংস-এর নির্মাতাদের তৈরি এই মুভিটি অত্যন্ত আন্ডাররেটেড একটি রত্ন। একটি ভয়ংকর ভাইরাল সামরিক বোমাবর্ষণের পর একটি পরিবার নিজেদের বাঁচানোর জন্য মাটির নিচের একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়।
মাটির ওপরে এখন এমন কিছু ভয়ংকর হিউম্যানয়েড প্রাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে, যারা এই পরিবারটিকে খুঁজছে। চরম ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা এই পরিবারের আসল রহস্যটা কী? বাইরের ওই প্রাণীগুলোই বা আসলে কারা? কোথা থেকে এল এসব প্রাণী? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে হিডেন মুভিতে।
মুক্তি: ১০ অক্টোবর, ২০০৮
পরিচালক: গিল কেনান
সাইলো সিরিজের সঙ্গে এই মুভিটির দারুণ মিল রয়েছে। পৃথিবী যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, তখন মানবজাতিকে বাঁচানোর জন্য মাটির নিচে এমবার নামে এক বিশাল শহর তৈরি করা হয়েছিল। কথা ছিল ২০০ বছর পর মানুষ আবার মাটির ওপরে ফিরে যাবে। কিন্তু ২০০ বছর পেরিয়ে গেলেও শহরের দুর্নীতিবাজ মেয়র সত্য গোপন করে রাখেন।
শহরের জেনারেটর যখন বিকল হতে শুরু করে এবং খাবার ফুরিয়ে আসে, তখন দুই কিশোর-কিশোরী, লিনা এবং ডুন, মাটির ওপরে যাওয়ার পথ খোঁজার চেষ্টা করে। কিন্তু শহরের এত কড়া পাহারার মধ্যে তারা কি সত্যিই সেই লুকানো পথ খুঁজে মানবজাতিকে আবার আলোর মুখ দেখাতে পারবে?
মুক্তি: ৬ আগস্ট, ১৯৬৪
পরিচালক: নাথান জুরান
এইচ জি ওয়েলসের ১৯০১ সালের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই মুভিটি চাঁদে মানুষের পা রাখার ৫ বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল। ১৯৬৯ সালে একটি আন্তর্জাতিক দল চাঁদে গিয়ে আবিষ্কার করে, প্রায় ৬০ বছর আগে ব্রিটিশরা এখানে একটি গোপন মিশন চালিয়েছিল!
ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে দেখানো হয়, ১৮৯৯ সালে সেই ব্রিটিশ অভিযাত্রীরা চাঁদের পৃষ্ঠের নিচে প্রবেশ করে এক অদ্ভুত পতঙ্গ-মানব সভ্যতার সন্ধান পেয়েছিল। চাঁদের মাটির নিচের সেই সিলিনাইট সভ্যতার পরিণতি শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল? মানুষের সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরই কি তাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছিল?
মুক্তি: ১৫ জুলাই, ১৯৭৬
পরিচালক: কেভিন কনর
বিখ্যাত ফ্যান্টাসি লেখক এডগার রাইস বারোজের গল্প অবলম্বনে তৈরি এই কাল্ট ক্লাসিক মুভিটিতে এক ভিক্টোরিয়ান বিজ্ঞানী একটি বিশাল ড্রিলিং মেশিন তৈরি করেন। তিনি এবং তাঁর এক আমেরিকান সঙ্গী সেই মেশিনে চেপে মাটির ৪ হাজার মাইল গভীরে এক এক্সপ্লোরেটরি মিশনে বেরিয়ে পড়েন।
সেখানে তাঁরা আবিষ্কার করেন পৃথিবীর ভেতর এক ফাঁপা জগত রয়েছে, যেখানে এখনো প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতা টিকে আছে! কিন্তু এই অদ্ভুত জগতের ডানাওয়ালা রাক্ষসগুলোর হাত থেকে কি তাঁরা নিজেদের এবং বলি হতে যাওয়া কুমারী মেয়েদের বাঁচাতে পেরেছিলেন? সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে মুভিতেই।
মুক্তি: ৮ জুলাই, ২০০৫
পরিচালক: নিল মার্শাল
যাঁদের বদ্ধ জায়গায় ভয় আছে, এই মুভিটি তাঁদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হতে পারে! ছয়জন নারী অ্যাডভেঞ্চারার নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার এক অচেনা এবং অজানা গুহায় প্রবেশ করেন। মাটির গভীরে পথ হারিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, সেখানে তাঁরা একা নন! হাজার বছর ধরে মাটির নিচে বাস করা একদল ভয়ংকর, মাংসাশী, নরখাদক প্রাণী তাঁদের শিকার করার জন্য ওত পেতে আছে।
হাড়হিম করা এই হরর মুভিটি আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভয়ে কাঁপিয়ে ছাড়বে। মাটির নিচের ওই রক্তপিপাসু দানবদের হাত থেকে কি এই ছয় নারীর কেউ শেষ পর্যন্ত জীবিত ফিরতে পারবেন?
মুক্তি: ১১ জুলাই, ২০০৮
পরিচালক: এরিক ব্রেভিগ
১৯৫৯ সালের ক্লাসিক মুভির এই থ্রিডি রিমেকটি মূলত এক দারুণ অ্যাডভেঞ্চার স্টোরি। একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী তাঁর ভাইপো এবং একজন গাইড মিলে নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধানে আইসল্যান্ডের এক আগ্নেয়গিরির ভেতর দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। মাটির নিচে তাঁরা এক জাদুকরী দুনিয়ার সন্ধান পান, যেখানে ডাইনোসর ঘুরে বেড়ায়, সমুদ্রের নিচে দানব বাস করে আর উজ্জ্বল লাভা বয়ে চলে!
অত্যাধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং সিজিআই দিয়ে সাজানো এই মুভিটি আপনাকে এক দারুণ কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে। কিন্তু পৃথিবীর কেন্দ্রের এই আদিম ও ভয়ংকর সুন্দর জগত থেকে তাঁরা কি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে পৃথিবীর বুকে ফিরে আসতে পেরেছিলেন?
মুক্তি: ২৮ মার্চ, ২০০৩
পরিচালক: জন অ্যামিয়েল
জুল ভার্নের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত এই মুভিটি আপনাকে বিজ্ঞানের সব যুক্তি ভুলে গিয়ে শুধু বিনোদনের দুনিয়ায় ভাসিয়ে দেবে। পৃথিবীর ভেতরের কোর হঠাৎ করেই ঘোরা বন্ধ হয়ে গেছে! ফলে পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্রে ভয়ংকর সব পরিবর্তন আসছে, যা পুরো মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
সভ্যতাকে বাঁচাতে একদল বিজ্ঞানী একটি বিশেষ ড্রিলিং জাহাজে করে পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে যাত্রা করেন। তাঁদের লক্ষ্য সেখানে কয়েকটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কোরটিকে পুনরায় সচল করা। চরম তাপ ও চাপের মুখে পৃথিবীর কেন্দ্রে পৌঁছানোর এই আত্মঘাতী মিশনে কি তাঁরা সফল হয়েছিলেন? নাকি পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য ছিল?
মুক্তি: ১১ মার্চ, ২০১৬
পরিচালক: ড্যান ট্র্যাকটেনবার্গ
২০০৮ সালের ক্লোভারফিল্ড মুভির এই অসাধারণ সিক্যুয়েলটিতে মিশেল নামে এক মেয়ে গাড়ি দুর্ঘটনার পর জ্ঞান ফিরে দেখে সে মাটির নিচের এক বাঙ্কারে বন্দী! হাওয়ার্ড এবং এমেট নামে দুজন তাকে জানায়, বাইরের পৃথিবীতে এক ভয়ংকর এলিয়েন আক্রমণ হয়েছে। বাতাস বিষাক্ত হয়ে গেছে। তাই তারা তাকে বাঁচানোর জন্য এখানে আটকে রেখেছে।
কিন্তু মিশেল তাদের কথা বিশ্বাস করতে পারে না। বাঙ্কারের ভেতরের এই মানুষগুলো কি সত্যিই তাকে বাঁচাচ্ছে, নাকি তারাই তার আসল শত্রু? বাইরের জগতটা কি সত্যিই এলিয়েনদের দখলে চলে গেছে, নাকি পুরোটাই হাওয়ার্ডের সাজানো কোনো নাটক? এই রুদ্ধশ্বাস প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনাকে বাঙ্কারের দরজা খুলে মিশেলের সঙ্গে বের হতেই হবে!
মুক্তি: ১ ডিসেম্বর, ১৯৫৬
পরিচালক: ভার্জিল ডব্লিউ ভোগেল
১৯৫০-এর দশকের এই ক্লাসিক মুভিটি আমাদের নিয়ে যাবে পৃথিবীর একদম গভীরে, যেখানে এক অদ্ভুত অন্ধকার সাম্রাজ্য বিরাজমান। একদল বিজ্ঞানী এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মাটির হাজার ফুট গভীরে এমন এক সুমেরিয়ান সভ্যতার সন্ধান পান, যারা একদল ভয়ংকর মোল বা ছুঁচো দানবকে দাস হিসেবে ব্যবহার করে তাদের মাশরুমের খামার দেখাশোনা করাচ্ছে।
সাদা চামড়ার এই সুমেরিয়ানরা কীভাবে মাটির এত গভীরে বেঁচে আছে? সেই ভয়ংকর ছুঁচো দানবদের হাত থেকে কি বিজ্ঞানীরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাঁচাতে পেরেছিলেন, নাকি তাঁরাও ওই মাটির নিচেই চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে এই সাদাকালো জাদুকরী মুভিটি আপনাকে দেখতেই হবে!
তাহলে আর দেরি কেন? পপকর্ন নিয়ে বসে পড়ুন আর এই মুভিগুলোর সঙ্গে, ডুব দিন মাটির নিচের এক অন্যরকম দুনিয়ায়!