সময়

দরজায় মৃদু টোকা পড়তেই চকিতে পুরো ঘরটায় একবার নজর বুলিয়ে আনল নাসের পাশা। সে যে পেশায় রয়েছে, সাবধানের মার নেই তাতে। নাহ, সন্দেহ করার মতো কিচ্ছু নেই ঘরে।

‘ভেতরে আসুন।’ বলে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের শকওয়েভ বইটি তুলে নিল সে পাশ থেকে। কেউ বাসায় এলে আজকাল উঠে দাঁড়ানোরও সৌজন্য দেখায় না নাসের। ক্লায়েন্টের কাছে নিজের ওজন বাড়ানোর টেকনিক বলে মনে করে সে এটাকে।

ধীরে ধীরে খুলে গেল দরজাটা। যে মানুষটি প্রবেশ করলেন ভেতরে, তাঁর ব্যক্তিত্বই বই রেখে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য করল নাসেরকে।

‘মি. নাসের পাশা?’ ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন আগন্তুক।

‘জি, আমিই।’ হাত মেলাল নাসের, ‘বলুন, কী করতে পারি আপনার জন্য।’

‘তার আগে একবার যাচাই করে নিন এগুলো।’

সঙ্গের হ্যান্ডব্যাগটি খুলে ১০০০ টাকার মোটা একটি বান্ডিল বের করলেন তিনি, আলগোছে বাড়িয়ে দিলেন নাসেরের দিকে। গুনে দেখল নাসের, পুরো এক লাখ। সবগুলো নোটই নতুন এবং নির্দিষ্ট সিরিয়ালে সাজানো।

নকল না তো? প্রথমেই মাথায় এল কথাটা। তাস শাফল করার ভঙ্গিতে আঙুল চালাল সে বান্ডিলের কিনারা বরাবর।

ওর মনোভাব বুঝতে পেরেই যেন বলে উঠলেন আগন্তুক, ‘ভয় নেই, একদম আসল জিনিস এগুলো। যে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে এসেছি আপনার জন্য, সেটার জন্য অগ্রিম বলতে পারেন এটাকে।’

‘বসুন, প্লিজ।’ সোফার দিকে ইঙ্গিত করল নাসের।

আরও পড়ুন
‘ভেতরে আসুন।’ বলে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের শকওয়েভ বইটি তুলে নিল সে পাশ থেকে। কেউ বাসায় এলে আজকাল উঠে দাঁড়ানোরও সৌজন্য দেখায় না নাসের।

আসন নেওয়ার পর হ্যান্ডব্যাগে হাত ঢোকালেন আবার ভদ্রলোক, ভাঁজ করা কিছু কাগজ বের করে আনলেন এবার। বললেন, ‘এখানে যা যা লেখা আছে, ওই জিনিসগুলো এনে দিতে পারলে যেকোনো অঙ্কের পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেব আপনাকে।’

তালিকাটিতে নজর বুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল নাসের। লোকটি কি পাগল? ‘এগুলো তো সব জাতীয় জাদুঘরের জিনিস!’ না বলে পারল না ও, ‘টাকায় এসবের দাম হয় না। সোজা কথায়, কারও কাছেই বেচতে পারবেন না এগুলো।’

‘বেচতে আমি চাইও না। স্রেফ সংগ্রহে রাখতে চাই এগুলো।’

‘ঠিক আছে। সে ক্ষেত্রে কত খরচ করতে পারবেন এগুলোর জন্য?’

‘কত চান আপনি, বলুন!’

নিরবতা। ভাবছে নাসের, কত বলা যায়। ওর মাথায় ঘুরছে ‘যেকোনো অঙ্ক’ শব্দ দুটি। আবার দেখল সে তালিকাটি। কিছুটা সন্দিহান সুরেই বলে ফেলল শেষমেশ, ‘আরও দশ লাখ!’

আচমকা ওর দিকে কিছু একটা ছুড়ে মারলেন আগন্তুক। খপ করে মুঠোবন্দী করল নাসের ঝিলিক দেওয়া বস্তুটি। শ্বাস বন্ধ হওয়ার জোগাড় হলো তাঁর হাতের জিনিসটি দেখে।

অনেকগুলো পান্নার মাঝখানে বড়সড় এক হিরে বসানো নেকলেস। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, অত্যন্ত দামি জিনিস। এত বড় হিরে আর দেখেনি কখনো নাসের। চোখ দুটো যেন ঝলসে দিচ্ছে রত্নগুলো। অথচ আগন্তুকের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, নিতান্তই মামুলি জিনিস যেন ওগুলো!

আরও পড়ুন
নিরবতা। ভাবছে নাসের, কত বলা যায়। ওর মাথায় ঘুরছে ‘যেকোনো অঙ্ক’ শব্দ দুটি। আবার দেখল সে তালিকাটি। কিছুটা সন্দিহান সুরেই বলে ফেলল শেষমেশ, ‘আরও দশ লাখ!’

‘বুঝলাম, টাকাপয়সা হাতের ময়লা আপনার।’ মুখ খুলল নাসের, ‘কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, জাদুঘর থেকে কোনো একটা জিনিস তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেজে উঠবে সিকিউরিটি অ্যালার্ম।’

‘না, উঠবে না।’ মিটিমিটি হাসছেন রহস্যময় ভদ্রলোক।

‘উঠবে না? কীভাবে বলছেন এ কথা?’

‘আমি এখানে আসার পর থেকে অদ্ভুত কোনো কিছু কি খেয়াল করেছেন আপনি?’

‘কী রকম?’

‘সবকিছু কেমন চুপচাপ মনে হচ্ছে না?’

কান পাতল নাসের। ও আল্লাহ, তা-ই তো! এতটা নিঃশব্দ তো হয় না কখনো, এমনকি রাতের বেলায়ও! জানালা দিয়ে ঝিরঝিরে শব্দ আসছিল বাতাসের, এখন আর আসছে না। পাঁচটা মিনিট আগেও যেখানে গজগজ করছিল এবং যানবাহনের লাগাতার ভেঁপু আর হর্নের আওয়াজে তিতিবিরক্ত, এ মুহূর্তে আর শোনা যাচ্ছে না সেগুলো। পথচারীর গোলমালও নেই। অস্বাভাবিক নীরবতা বিরাজ করছে চারপাশে!

‘জানালায় গিয়ে দেখে আসুন একবার।’

মন্ত্রমুগ্ধের মতো নির্দেশ পালন করল নাসের।

জানালার পর্দা সরাতেই শরীরজুড়ে শুরু হলো কাঁপুনি। অনেক কষ্টে শান্ত করল সে নিজেকে। অবিশ্বাস্য দৃশ্য! রিকশা-গাড়িগুলো ফ্রিজ হয়ে গেছে রাস্তায়; চায়ের দোকানদার চা ঢালছিল কেটলি থেকে, সেভাবেই শূন্যে স্থির হয়ে গেছে চায়ের ধারা। যে যার জায়গায় নিশ্চল সবকিছু! অতিপ্রাকৃত স্তব্ধতা বিরাজ করছে জানালার ওপারে!

আরও পড়ুন
কান পাতল নাসের। ও আল্লাহ, তা-ই তো! এতটা নিঃশব্দ তো হয় না কখনো, এমনকি রাতের বেলায়ও! জানালা দিয়ে ঝিরঝিরে শব্দ আসছিল বাতাসের, এখন আর আসছে না।

‘কী দেখছেন, নাসের সাহেব?’ আগন্তুকের প্রশ্নে চমকে গেল নাসের। তাকিয়ে দেখল, রহস্যময় হাসিটি তখনো অম্লান তাঁর মুখে।

‘আ-আপনি কি জাদুকর?’ বলতে গিয়ে তুতলে গেল সে।

‘উহুঁ…।’

‘ত্-তাহলে? এসব কী দেখছি আমি?’

‘সহজ ব্যাখ্যা আছে এর। বাইরের কোনো কিছুই আসলে পরিবর্তিত হয়নি—পরিবর্তিত হয়েছেন আপনি নিজে।’

‘ম্-মানে?’

‘মানে, বদলে দেওয়া হয়েছে আপনার চতুর্থ মাত্রা। আপনার লেভেলের কাউকে এটা বুঝিয়ে বলা মুশকিল। এটুকু জেনে রাখুন শুধু, বাইরের একটা মিনিট এখন এই ঘরের এক বছরের সমান।’

হ্যান্ডব্যাগ থেকে ডায়াল আর সুইচওয়ালা একখানা ব্রেসলেট বের করলেন তিনি। ব্যাখ্যা করলেন, ‘পারসোনাল জেনারেটর বলতে পারেন এটাকে। হাতে পরলে হয়ে উঠবেন অজেয়। কোনো ধরনের বাধাবিপত্তি ছাড়াই তালিকার সবকিছু তুলে আনতে পারবেন আপনি পাহারাদারের নাকের ডগা দিয়ে। ওরা যখন টের পাবে, ততক্ষণে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন আপনি, ব্রেসলেটের সুইচ অফ করে ফিরে এসেছেন স্বাভাবিক পৃথিবীতে।’

নিশ্চুপ নাসের।

‘মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবার।’ কথার খেই ধরলেন আগন্তুক, ‘যন্ত্রটা চালু করলে আপনার চারপাশের সাত ফুটমতো জায়গাজুড়ে স্থির হয়ে যাবে সময়। অর্থাৎ অতখানি দূরত্বই বজায় রাখতে হবে আপনাকে অন্যদের কাছ থেকে। দ্বিতীয়ত, পারিশ্রমিক বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত অফ করবেন না সুইচটা। খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটা। তো, আসুন, পুরো পরিকল্পনাটা একবার ঝালাই করে নেওয়া যাক উল্টেপাল্টে...।’

আরও পড়ুন
‘মানে, বদলে দেওয়া হয়েছে আপনার চতুর্থ মাত্রা। আপনার লেভেলের কাউকে এটা বুঝিয়ে বলা মুশকিল। এটুকু জেনে রাখুন শুধু, বাইরের একটা মিনিট এখন এই ঘরের এক বছরের সমান।’

দুই

প্রথমেই ন্যাশনাল মিউজিয়ামের রিডিং রুমে হানা দিল নাসের। দুর্লভ সব বইপত্র আর পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে এখানে। ঘণ্টাখানেক লাগল তালিকার প্রাচীন বই আর পুঁথিপত্রগুলো দালানের বাইরে এনে জমা করতে। আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন ওখানে নাসেরের মক্কেল।

বইগুলোর গতি করার পর জাদুঘরের অন্যান্য অংশে মনোযোগ দিল নাসের পাশা। ভদ্রলোকের চাহিদা অনুযায়ী সবগুলো আইটেমই একসময় জোগাড় হয়ে গেল এভাবে।

আরেকটি যন্ত্রের সাহায্যে তুলে আনা জিনিসপত্রগুলো ভ্যানিশ করে দিলেন আগন্তুক।

‘কীভাবে করলেন এটা?’ বিস্ময় ধরে না নাসেরের।

ব্রেসলেট পরা হাতটা উঁচু করে হাসলেন তিনি, ‘এটা ছাড়া নানা রকম কৌশল জানা আছে আমাদের।’

‘সে ক্ষেত্রে আমাকে প্রয়োজন পড়ল কেন?’

‘সেটা আমার একটা সীমাবদ্ধতার কারণে। বিস্তারিত বলতে চাইছি না।’

‘যা-ই হোক, আমার কাজে কি সন্তুষ্ট আপনি?’

‘সে আর বলতে! এই নিন আপনার টাকাটা।’

বান্ডিলটা দেখল, তবে হাত বাড়াল না নাসের। ভাবছে কী যেন। অবশেষে বলল ও, ‘টাকা লাগবে না আমার।’ এক মুহূর্তের বিরতি নিল সে আবার, ‘যদি এটা দিয়ে দেন আমাকে।’ হাত উঁচিয়ে দেখাল সে ব্রেসলেটটা।

আরও পড়ুন
বইগুলোর গতি করার পর জাদুঘরের অন্যান্য অংশে মনোযোগ দিল নাসের পাশা। ভদ্রলোকের চাহিদা অনুযায়ী সবগুলো আইটেমই একসময় জোগাড় হয়ে গেল এভাবে।

হেসে ফেললেন আগন্তুক, ‘টাকায় যে এর দাম হয় না, ভাই!’

‘কিন্তু আমি তো আপনাকে সব জিনিসই এনে দিয়েছি আপনার কথামতো!’

‘আচ্ছা, তা কী করবেন ওটা দিয়ে?’ ভ্রু নাচালেন ভদ্রলোক, ‘সারা দুনিয়ার ওপর ছড়ি ঘোরাবেন নাকি?’

‘তাতে কি কোনো সমস্যা আছে আপনার?’ পাল্টা বলল নাসের, ‘আমাদের গ্রহ থেকে যা যা প্রয়োজন, সবই তো বোধ হয় পেয়ে গেছেন আপনি!’

‘ওয়েল।’ হাসি চাপলেন তিনি, ‘আপনার কি ধারণা মঙ্গল গ্রহ থেকে এসেছি আমি?’

‘পৃথিবীর বাইরে থেকে যে এসেছেন, সে ব্যাপারে অন্তত সন্দেহ নেই কোনো।’ চ্যালেঞ্জের সুর নাসেরের কণ্ঠে।

‘ভুল। আমি এসেছি ভবিষ্যৎ থেকে!’ বোমা ফাটালেন ভদ্রলোক।

‘ভবিষ্যৎ থেকে!’

‘কেন, বিশ্বাস হচ্ছে না?’

‘বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ, ভবিষ্যৎ থেকে কেউ অতীতে এলে অতীত তো বটেই—বর্তমান, এমনকি ভবিষ্যৎও পরিবর্তিত হয়ে যায় বলে শুনেছি।’

‘যুক্তি ঠিক আছে আপনার। তবে সমাধানও আছে এই সমস্যার।’

‘সেটা কী রকম?’

‘সরাসরি যদি কোনো ভূমিকা না রাখি, তাহলেই কোনো অনর্থ ঘটবে না অতীতে আর বর্তমান তথা ভবিষ্যতেও পড়বে না এর কোনো প্রভাব।’

‘ও, আচ্ছা! এ জন্যই তাহলে আমাকে ব্যবহার করেছেন আপনি!’

‘ঠিক তা-ই।’

‘তাহলে কি বলতে চাইছেন এখানকার পরিস্থিতির ওপর সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই আপনার?’

‘এগজাক্টলি।’

‘মানেটা তো দাঁড়াল, যদি আমি ব্রেসলেটটা না দিই, জোর করে নিতে পারবেন না আপনি, ঠিক কি না?’ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নাসের।

আরও পড়ুন
‘তাতে কি কোনো সমস্যা আছে আপনার?’ পাল্টা বলল নাসের, ‘আমাদের গ্রহ থেকে যা যা প্রয়োজন, সবই তো বোধ হয় পেয়ে গেছেন আপনি!’

‘সেটাই আপনার মতলব বুঝি?’ হাসছেন এখনো ভবিষ্যতের মানুষ। কিন্তু সেই হাসিতে এমন কিছু একটা ছিল, ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল নাসেরের শিরদাঁড়া বেয়ে। ভাবল, ঝামেলা না করে দিয়ে দেয় জিনিসটা, কিন্তু ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরে ফের বলে উঠলেন আগন্তুক, ‘বেশ তো, রাখতে পারেন ওটা। তবে কি…।’ কথা শেষ করলেন না তিনি, ‘চলুন, হেঁটে আসি একটু।’

নিথর হয়ে যাওয়া মানুষজনের মাঝ দিয়ে এগিয়ে চলল ওরা।

খানিক পর মোটামুটি নির্জন এক জায়গা দেখে থেমে দাঁড়ালেন মানুষটি। ঘুরে মুখোমুখি হলেন তিনি নাসেরের, ‘দুঃখিত। আন্তরিক দুঃখিত আমি!’

‘ক্-কেন বলছেন এ কথা?’ থতমত খেয়ে গেছে নাসের।

আঙুল দিয়ে অদূরের পত্রিকা স্টলটি দেখালেন ভবিষ্যতের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভদ্রলোক। বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সেখানে বিক্রির জন্য। সবকিছুই থির হয়ে আছে।

লাল কালিতে ছাপা প্রধান শিরোনামগুলো দৃষ্টি আকর্ষণ করল নাসেরের। সবগুলো শিরোনামই করা হয়েছে অভিন্ন খবর থেকে: অতিপারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ আজ।

আরও পড়ুন
আঙুল দিয়ে অদূরের পত্রিকা স্টলটি দেখালেন ভবিষ্যতের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভদ্রলোক। বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সেখানে বিক্রির জন্য। সবকিছুই থির হয়ে আছে।

প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাল নাসের আগন্তুকের দিকে।

‘সত্যি কথাটা হলো, যে পরীক্ষাটি হতে চলেছে আজকে, বিরাট এক দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছে সেখানে।’ আক্ষেপের ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন তিনি, ‘বলতে পারেন, দুনিয়ার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বিস্ফোরণ ওটা। ফলাফল যে কী হতে যাচ্ছে, অনুমান করতে পারছেন নিশ্চয়ই? পৃথিবী একেবারে ধ্বংস না হলেও ক্ষতি যা হচ্ছে এতে, অপূরণীয়। সে জন্যই চেষ্টা করছি আমরা আপনাদের সময়কার মূল্যবান জিনিসগুলো নিরাপদ সময়ে সরিয়ে ফেলতে। বুঝতেই পারছেন, একা নই আমি, আমার মতো আরও অনেকেই এসেছে ভবিষ্যতের পৃথিবী থেকে।’ মেলানোর জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন আগন্তুক, ‘আমার কাজ যেহেতু শেষ, এখন তাই ফিরে যেতে হবে আমাকে, ফিরতে হবে এক লাখ বছর পরের পৃথিবীতে, যেখান থেকে এসেছি আমরা এখানে।’

ভবিষ্যতের মানুষ চলে গেলেন ভবিষ্যতে। নীরব-নিথর-নিশ্চল পৃথিবীতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় দাঁড়িয়ে রইল নাসের—একা!

ব্রেসলেটটা তুলে ধরল সে চোখের সামনে। কী করবে ও এখন? অফ করে দেবে যন্ত্রটা? সে ক্ষেত্রে হয়তো মহাবিস্ফোরণের ধাক্কায় নিঃশেষ হয়ে যাবে নিজেও।

আর যদি বন্ধ না করে ওটা? সেটাও তো মৃত্যুর সমান! নিস্তব্ধ এক পৃথিবী নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে ওকে একাকী—একদম একাকী!

কী করবে এখন নাসের?

হঠাৎ একদম শান্ত হয়ে গেল নাসের পাশা। হঠাৎ করেই খেয়াল হয়েছে তার, ব্রেসলেটের কল্যাণে দুনিয়ার সবটুকু সময় এখন ওর হাতের মুঠোয়! অতএব ফায়দা কী তাড়াহুড়ায়! যখনই খুশি, নেওয়া যাবে সিদ্ধান্তটা।

বিদেশি কাহিনি অবলম্বনে

*লেখাটি ২০২৫ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত

আরও পড়ুন