হোভারক্র্যাফটের আওয়াজ শুনে মুখ তুলে তাকালেন থর্নটন গোম্বার। বাড়ির ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে ওটা। গোলাপি রঙের শরীর দেখে আন্দাজ করলেন, নিশ্চয়ই কোনো প্রমোদযান। আরোহীরা উচ্ছৃঙ্খল তরুণ-তরুণী, উদ্দাম আনন্দে গা ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য চলেছে হোমাসোরো নগরীতে, যেখানে তাদের অপেক্ষায় রয়েছে আমোদ-প্রমোদের হাজারো উপকরণ।
আনমনে মাথা নেড়ে এবার নিচে দৃষ্টি ফেরালেন থর্নটন।
বাড়ির সামনের দিকটা বাদামি মাটিতে ভরা। অযত্ন-অবহেলায় আঙিনা ভরে গিয়েছিল নানা ধরনের আগাছায়; দিনভর খাটাখাটনি করে সব পরিষ্কার করেছেন থর্নটন। বাকি রয়েছে মাত্র একটা লতাগাছ। হাঁটু গেড়ে বসলেন তিনি, আঙুলে পেঁচিয়ে ধরলেন লতাটা, টানতে শুরু করলেন। কাণ্ড ছিঁড়ে উঠে এল ওটা।
ছেঁড়া লতাটা একপাশে ছুড়ে ফেললেন থর্নটন। বিষণ্ন চোখে তাকালেন যেখানে ওটা বেড়ে উঠেছিল, সে জায়গার দিকে। শিকড়গুলো রয়ে গেছে মাটির নিচে। যদি এভাবেই ফেলে রাখেন, ওই শিকড় থেকে আবার উঠে আসবে জঘন্য লতাটা, বিস্তার লাভ করবে নতুন করে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আঙুল দিয়ে মাটি খোঁচাতে শুরু করলেন তিনি। যেভাবেই হোক, শিকড়গুলো উঠিয়ে আনবেন।
হঠাৎ একটা ছায়া পড়ল থর্নটনের গায়ে। মুখ তুলে দেখলেন, বাতাসে ভাসছে একটা অ্যান্ড্রয়েড রোবট। আকৃতিটা একটা বিকৃত চেহারার মাকড়সার মতো। দেহটা সাদা ও গোল, মাঝখান থেকে বেরিয়ে এসেছে সাপের মতো চারটা বাহু। কিলবিল করছে।
বাড়ির সামনের দিকটা বাদামি মাটিতে ভরা। অযত্ন-অবহেলায় আঙিনা ভরে গিয়েছিল নানা ধরনের আগাছায়; দিনভর খাটাখাটনি করে সব পরিষ্কার করেছেন থর্নটন। বাকি রয়েছে মাত্র একটা লতাগাছ।
একটা নরম, অনুভূতিহীন কণ্ঠ শোনা গেল যন্ত্রটার স্পিকার থেকে। ‘হ্যালো, মিস্টার গোম্বার!’ অভিবাদন জানানো হলো থর্নটনকে। ‘এই সুন্দর সকালে আপনি কেমন আছেন?’
খুব কষ্ট করে থর্নটন বিরক্তি গোপন করলেন। একটা যন্ত্র তাঁকে নাম ধরে সম্ভাষণ জানাচ্ছে, ব্যাপারটা পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু কিছু করার নেই। হোমাসোরো সিটির সব অ্যান্ড্রয়েড...এমনকি সাধারণ পাবলিক মেইনটেন্যান্স মডেলগুলোও...ফেস-রিকগনিশন প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত। বিষয়টার সঙ্গে আজও অভ্যস্ত হতে পারেননি তিনি।
থর্নটন আবার মাটির দিকে মনোযোগ দিলেন। দায়সারা ভঙ্গিতে বলতে শুরু করলেন, ‘আজ ভালোই আছি...’
কথাটা শেষ করলেন না থর্নটন। আরেকটু হলেই অভ্যাসের বশে বাক্যটার শেষে ‘স্যার’ বলতে যাচ্ছিলেন। শেষ মুহূর্তে টের পেয়েছেন, একটা যন্ত্রকে অমন সম্মান দেখানোর কিছু নেই।
অ্যান্ড্রয়েডটি বোধ হয় থর্নটনের দ্বিধা আঁচ করতে পারল। সে বলল, ‘আপনি আমাকে বি-৭২৬৯ বলে সম্বোধন করতে পারেন।’
‘ধন্যবাদ। আমি আজ ভালোই আছি, বি-৭২৬৯।’
কথাটা বলেই হাতের কাজে আবার ব্যস্ত হলেন থর্নটন। শিকড়ের জালটা খুঁজে পেয়েছেন, আঙুলে পেঁচিয়ে টানাটানি শুরু করলেন।
পরক্ষণেই আবার কথা বলল অ্যান্ড্রয়েড, ‘মি. গোম্বার, আপনি কী করছেন?’
থর্নটনের কণ্ঠ কিছুটা রুক্ষ হয়ে গেল। তিনি টানতে টানতে বললেন, ‘আগাছা তুলছি। দেখতে পাচ্ছ না?’
‘কেন তুলছেন, মি. গোম্বার? আপনার তো কষ্ট হচ্ছে।’
কথাটা শেষ করলেন না থর্নটন। আরেকটু হলেই অভ্যাসের বশে বাক্যটার শেষে স্যার বলতে যাচ্ছিলেন। শেষ মুহূর্তে টের পেয়েছেন, একটা যন্ত্রকে অমন সম্মান দেখানোর কিছু নেই।
হাসবেন না কাঁদবেন, বুঝতে পারলেন না থর্নটন। শুধু বললেন, ‘সেটাও ব্যাখ্যা করতে হবে? আগাছা হলো গাছের যম, সৌন্দর্যের অন্তরায়। আমি এই উঠানে একটা বাগান করতে চাই, ফুলের বাগান। গোলাপ, জবা, গাঁদা...এসব লাগাব। যদি পরিষ্কার না করি, আগাছারা ফুলগাছের সব পানি আর খাদ্য শুষে নেবে। সে জন্যই পরিষ্কার করছি মাটিটা।’
অ্যান্ড্রয়েডের একটা সাপের মতো বাহু নিচে নেমে এল। সে বলল, ‘আমি আপনাকে সাহায্য করছি।’
হাতের ঝাপটায় বাহুটা সরিয়ে দিলেন থর্নটন, ‘কোনো প্রয়োজন নেই।’
আবারও টানাটানি শুরু করলেন থর্নটন, কিছুক্ষণের মধ্যে তার ফলও পেলেন। মাটি আলগা হয়ে শিকড়গুলো বেরিয়ে এল নিচ থেকে। সন্তুষ্টির সুরে বললেন, ‘দেখলে তো? আমি নিজেই পেরেছি।’
‘চমৎকার!’ প্রশংসা করল বি-৭২৬৯।
বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন থর্নটন। খানিক পরে বেরিয়ে এলেন টবে লাগানো একটা গোলাপগাছ নিয়ে। ওতে সুন্দর একটা গোলাপ ফুটেছে। আঙিনার এক কোণে চলে গেলেন। ছোট একটা খুরপি দিয়ে গর্ত খুঁড়তে শুরু করলেন মাটিতে। সেখানে রোপণ করবেন গাছটা।
ভাসতে ভাসতে থর্নটনের কাছে চলে এল বি-৭২৬৯। বলল, ‘মি. গোম্বার, আপনি যদি বাগান চান, তাহলে আপনাকে কেবল পাবলিক মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড স্যাটিসফেকশন ডিপার্টমেন্টে একটি অনুরোধ পাঠাতে হবে। তখন আমার মতো একদল অ্যান্ড্রয়েড এসে আপনার আঙিনায় পরিপূর্ণ একটি বাগান তৈরি করে দিয়ে যাবে। যদি চান, আপনার পক্ষ হয়ে আমিই অনুরোধটি জমা করে দিতে পারি। দুই থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আপনার কাজ হয়ে যাবে।’
আবারও টানাটানি শুরু করলেন থর্নটন, কিছুক্ষণের মধ্যে তার ফলও পেলেন। মাটি আলগা হয়ে শিকড়গুলো বেরিয়ে এল নিচ থেকে। সন্তুষ্টির সুরে বললেন, ‘দেখলে তো? আমি নিজেই পেরেছি।’
পরিশ্রমে ঘামতে শুরু করেছেন থর্নটন। বললেন, ‘ওসব ঝামেলায় যেতে চাইছি না। আমি নিজেই কাজটা করতে পারব।’
হাল ছাড়তে রাজি নয় বি-৭২৬৯। বলল, ‘আমি আপনার স্নায়ুকোষে ওপিওয়েড পেপটাইডের মাত্রা বাড়তে দেখতে পাচ্ছি। নিঃসন্দেহে কাজটি আপনাকে শারীরিক যন্ত্রণা দিচ্ছে। আমি পরামর্শ দেব, আপনি পাবলিক মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড স্যাটিসফেকশন ডিপার্টমেন্টের সেবা নিন।’
‘আমার আর্থ্রাইটিস আছে। আমি এতে অভ্যস্ত।’
‘হোমাসোরো সিটির সব নাগরিককে সুখী ও সন্তুষ্ট রাখা আমার দায়িত্ব। আমার প্রোগ্রামিং বলছে, ব্যথা হলো সুখের বিপরীত। আপনি যদি আপনার জমিতে একটি বাগান চান, তবে আমরা নিশ্চিত করতে পারি, কোনো ধরনের কষ্ট ছাড়াই সেটা আপনি পাবেন।’
থর্নটন মাথা নাড়লেন, ‘বললাম তো, দরকার নেই। আমি আগে বাড়িঘর তৈরির কাজ করতাম। তখন তো কোনো কিছু অটোমেটেড ছিল না, সব কাজ নিজের হাতে করতে হতো আমাদের। তাই কাজ করার অভ্যাসটা আমার রক্তে মিশে গেছে। খাটাখাটনি করতে পছন্দ করি আমি। অন্তত ওই হতচ্ছাড়া ভিআর হেডসেট লাগিয়ে সারা দিন বসে থাকার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ পাই এতে।’
বি-৭২৬৯ যেন চিন্তায় পড়ে গেল। ‘আপনি কি আপনার ভিআর প্রোগ্রামিং নিয়ে সন্তুষ্ট নন? হয়তো পছন্দসই প্রোগ্রাম খুঁজে পাননি এখনো। ভিআর ক্লাউডে অসংখ্য চ্যানেল...সেখান থেকে নিজে নিজে নির্দিষ্ট কোনো প্রোগ্রাম খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। তবে আপনি যদি সামান্য সময় ব্যয় করে ছোট্ট একটা সমীক্ষায় অংশ নেন, আমি নিশ্চিতভাবেই আপনাকে কিছু প্রোগ্রামের সন্ধান দিতে পারব, যেগুলো আপনার মন প্রফুল্ল করবে।’
থর্নটন মাথা নাড়লেন, ‘বললাম তো, দরকার নেই। আমি আগে বাড়িঘর তৈরির কাজ করতাম। তখন তো কোনো কিছু অটোমেটেড ছিল না, সব কাজ নিজের হাতে করতে হতো আমাদের।'
খুরপিটা একপাশে রেখে টবের মাটিতে আঙুল ঢুকিয়ে দিলেন থর্নটন; গোলাপের গাছটা উঠিয়ে আনতে চাইছেন। কাজ করতে করতেই বললেন, ‘তোমার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ। তবে সত্যি বলতে, ভিআর প্রোগ্রাম আমার দুই চোখের বিষ। আনন্দ দেওয়ার বদলে ওগুলো আমার মন খারাপ করে দেয়।’
‘মন খারাপ বা বিষণ্নতার কারণ হলো, মানবদেহে সেরোটোনিনের স্তর কমে যাওয়া,’ বলল বি-৭২৬৯। ‘ভবিষ্যতে আপনি যদি আবার বিষণ্নতা অনুভব করেন, জরুরি ভিত্তিতে স্নায়ুর সিন্থেটিক সেরোটোনিন ইনজেকশনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ইনজেকশন দেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার মনমেজাজের পরিবর্তন হবে। আমাদের ৯৮ শতাংশ ব্যবহারকারী এই সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন।’
গাছটা ততক্ষণে টব থেকে তুলে এনেছেন থর্নটন; শিকড় আর টবের মাটিসমেত সদ্য খোঁড়া গর্তটায় বসিয়ে দিলেন। গর্তটা বুজিয়ে দিলেন চারপাশের মাটি ঢেলে।
‘ওই ইনজেকশন আমার লাগবে না,’ অবশেষে বললেন থর্নটন। ‘তবে পরামর্শটার জন্য ধন্যবাদ।’ কথাটায় আন্তরিকতার ছাপ রইল না কোনো।
উঠে দাঁড়ালেন থর্নটন। কয়েক পা পিছিয়ে দেখলেন নিজের কাজ। উজ্জ্বল রোদে গোলাপের পাপড়িগুলো যেন ঝলমল করছে, বাতাসে নড়ছে গাছটার পাতা। থর্নটন অদ্ভুত এক প্রশান্তি অনুভব করলেন তা দেখে।
এ-ই শুরু, ভাবলেন তিনি। খুব শিগগির পুরো আঙিনাই তিনি ভরিয়ে তুলবেন এমন চমৎকার সব ফুলগাছ দিয়ে।
‘আপনার দেহে সেরোটোনিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে,’ জানাল বি-৭২৬৯। ‘আমাদের কথোপকথনের পুরো সময় আপনার স্তর ছিল প্রতি মিলিলিটারে ৫২ ন্যানোগ্রাম। যদিও সেটা সাধারণ সীমার ভেতরে, তারপরও এটি অস্বাভাবিক কম। তবে এখন তা হঠাৎ প্রতি মিলিমিটারে ১৫৩ ন্যানোগ্রাম হয়ে গেছে।’
শব্দ করে হেসে উঠলেন থর্নটন। বললেন, ‘মানুষ যখন সুন্দর কিছু দেখে, তখন এ-ই হয়।’
উঠে দাঁড়ালেন থর্নটন। কয়েক পা পিছিয়ে দেখলেন নিজের কাজ। উজ্জ্বল রোদে গোলাপের পাপড়িগুলো যেন ঝলমল করছে, বাতাসে নড়ছে গাছটার পাতা। থর্নটন অদ্ভুত এক প্রশান্তি অনুভব করলেন তা দেখে।
পরদিন সকালে বাড়ির দরজা খুলেই হকচকিয়ে গেলেন থর্নটন গোম্বার। প্রাণহীন আঙিনাটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে, এখন সেখানে বসেছে পাথর, ঘাস ও ফুলের মেলা। দরজার সামনে থেকে রাস্তা পর্যন্ত চলে গেছে একটা পাথর বিছানো পথ—বিচিত্র রং ও নকশা পাথরগুলোর; বহমান নদীর স্রোতের মতো দেখাচ্ছে পথটাকে। দুই পাশে শোভা পাচ্ছে ঘন সবুজ ঘাস, ঝকমক করছে বহুমূল্য পান্নার মতো। আঙিনার চারদিক ঘিরে তৈরি করা হয়েছে ফুলগাছের কেয়ারি, সেখানে ফুটে আছে গোলাপ, রক্তজবা ও নানা রঙের গাঁদা। রঙের বাহার দেখে বোঝা গেল, ফুলগুলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফসল—সারা বছরই ফুটে থাকবে, ছড়াবে সৌরভ।
দ্রুত আঙিনার সামনের কোনাটায় চোখ বোলালেন থর্নটন। যেখানে গোলাপগাছটা লাগিয়েছিলেন, সে জায়গা চেনা যাচ্ছে না আর। গাছটা হারিয়ে গেছে অন্যান্য গোলাপগাছের ভিড়ে।
সাজানো-গোছানো এই অপূর্ব আঙিনার ওপর ভাসছে বি-৭২৬৯। বিতৃষ্ণ নয়নে ওটার মাকড়সাতুল্য আকৃতির দিকে তাকালেন থর্নটন। সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা উত্তেজিত ভঙ্গিতে এগিয়ে এল যন্ত্রটা।
'আপনার সেরোটোনিন স্তর বর্তমানে প্রতি মিলিলিটারে ৫৭ ন্যানোগ্রাম। স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যেই রয়েছে বটে! কিন্তু আমি অবাক হচ্ছি, নতুন বাগানটা দেখার পরও স্তরটা বাড়ছে না কেন!'
‘হ্যালো, মি. গোম্বার,’ বলল বি-৭২৬৯। ‘গতকাল আপনার সেরোটোনিন স্তরের আকস্মিক বৃদ্ধিটা এতই উল্লেখযোগ্য ছিল যে আমি আপনার বাগানের জন্য একটি জরুরি অনুরোধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তৎক্ষণাৎ অনুমোদন পেয়ে গেছি। রাতেই অ্যান্ড্রয়েডদের একটা দল নিয়ে এসে তৈরি করেছি বাগানটা। এখন আর আপনাকে গাছ লাগানোর কষ্ট বা পরিশ্রম করতে হবে না। বসে বসে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। কী বলেন?’
আনমনে মাথা ঝাঁকালেন থর্নটন। ‘হ্যাঁ, খুব সুন্দর হয়েছে,’ অস্ফুট গলায় বললেন তিনি। ‘ধন্যবাদ।’
‘অদ্ভুত!’ বিস্ময় প্রকাশ করল বি-৭২৬৯। ‘আপনার সেরোটোনিন স্তর বর্তমানে প্রতি মিলিলিটারে ৫৭ ন্যানোগ্রাম। স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যেই রয়েছে বটে!
কিন্তু আমি অবাক হচ্ছি, নতুন বাগানটা দেখার পরও স্তরটা বাড়ছে না কেন! কোথাও কি কোনো ভুল হয়েছে, মি. গোম্বার? আমি কি ভুল ফুল লাগিয়েছি? নির্দ্বিধায় বলতে পারেন, আমি এক্ষুনি ভুলটা সংশোধন করে নেব।’
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন থর্নটন। অপূর্ব এক বাগান তৈরি করেছে বি-৭২৬৯, কোনো সন্দেহ নেই। হোমাসোরো নগরীর বিবর্ণ পরিবেশে এর চেয়ে সুন্দর বাগান সম্ভবত আর দ্বিতীয়টি পাওয়া যাবে না। সমস্যা হলো, বাগানটা তিনি নিজ হাতে তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তা আর হলো কই!