শহরে পাখির মন ভালো নেই

‘হে পাখি, শহুরে পাখি, তুমিও করেছো বড় ভুল-

এর কোনো ছিল না দরকার, সাদামাটা শত কাজে

ছিলাম জড়িয়ে নিত্য, তুমিও পল্লবে, দূর নীলে

অত্যন্ত প্রচ্ছন্ন ছিলে। তোমার এ সুর কি ব্যাকুল

করেছে আমাকে আজ। যদি সুর থেমে যাবে সাঁঝে

তবে কেন হৃদয়ে আমার তুমি ডেকে উঠেছিলে?’

—হে পাখি, শহুরে পাখি/শামসুর রাহমান

শহরের পাখিরা ভালো নেই। কবি শামসুর রাহমান এই কবিতায় শহরের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া পাখি-প্রকৃতি ও তার সরল সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষার ব্যাকুলতা তুলে ধরেছেন।

ঢাকা শহর মানেই যানজট, কংক্রিটের দেয়াল, উঁচু দালান ও অবিরাম মানুষের ভিড়। দ্রুত নগরায়ণের চাপে শহরের খোলা জায়গা, জলাশয় ও সবুজ অঞ্চল ক্রমেই কমে আসছে। এই পরিবর্তনের নীরব কিন্তু গভীর প্রভাব পড়ছে ঢাকা শহরের পাখিদের ওপর। একসময় যে শহরে ভোর হতো পাখির কলরবে, আজ সেখানে সেই শব্দ অনেক জায়গাতেই ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

ঢাকা শহরে চড়ুই পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে
ছবি: জয়ন্তী দেওয়ান

ঢাকা শহরে এখনো টিকে আছে দোয়েল, শালিক, কাক, চড়ুই, ফিঙে, কবুতর, ঘুঘু ও টুনটুনির মতো কয়েকটি পরিচিত প্রজাতি। তবে আগের মতো সর্বত্র তাদের দেখা যায় না। বিশেষ করে চড়ুই পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। নগরবিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ভবন নির্মাণশৈলী, জানালায় কাচের ব্যবহার, গাছপালা কমে যাওয়া এবং খাদ্যসংকট চড়ুইসহ অনেক ছোট পাখির আবাস ধ্বংস করছে।

আরও পড়ুন
ঢাকা শহরে এখনো টিকে আছে দোয়েল, শালিক, কাক, চড়ুই, ফিঙে, কবুতর, ঘুঘু ও টুনটুনির মতো কয়েকটি পরিচিত প্রজাতি। তবে আগের মতো সর্বত্র তাদের দেখা যায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রমনা পার্ক, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, হাতিরঝিল ও কিছু পুরোনো আবাসিক এলাকা এখনো শহরের পাখিদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয়। এসব স্থানে বড় গাছ, জলাশয় ও খোলা জায়গা থাকায় পাখিরা খাবার ও বাসা বাঁধার সুযোগ পায়। তবে এসব এলাকাও ক্রমেই উন্নয়ন প্রকল্প ও অতিরিক্ত মানুষের চাপের মুখে পড়ছে।

শব্দদূষণ, আলোক দূষণ ও বায়ুদূষণ শহরের পাখিদের আচরণে বড় পরিবর্তন আনছে। যানবাহনের উচ্চ শব্দে অনেক পাখি স্বাভাবিক ডাক দিতে পারে না, ফলে যোগাযোগ ও প্রজনন ব্যাহত হয়। রাতভর কৃত্রিম আলো পাখিদের বিশ্রামচক্র নষ্ট করে দেয়। একই সঙ্গে কীটনাশক ও বায়ুদূষণের কারণে খাদ্যশৃঙ্খলেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

রমনা পার্ক এখনো শহরের পাখিদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয়
ছবি: আবদুস সালাম

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের পাখিদের টিকিয়ে রাখতে হলে নগর–পরিকল্পনায় প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ছাদবাগান, রাস্তার পাশে গাছ লাগানো, জলাশয় সংরক্ষণ এবং পার্ক ও খোলা জায়গা রক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন—পাখির জন্য পানির পাত্র রাখা, গাছে বাসা বাঁধতে দেওয়া এবং অকারণে গাছ না কাটার মতো ছোট উদ্যোগও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন
শব্দদূষণ, আলোক দূষণ ও বায়ুদূষণ শহরের পাখিদের আচরণে বড় পরিবর্তন আনছে। যানবাহনের উচ্চ শব্দে অনেক পাখি স্বাভাবিক ডাক দিতে পারে না, ফলে যোগাযোগ ও প্রজনন ব্যাহত হয়।

শহুরে পাখি নিয়ে গবেষণায় যা এল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের চাপে দেশের বড় শহরগুলো ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। উঁচু দালান, ব্যস্ত সড়ক, শিল্পকারখানা ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার ভিড়ে শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে নীরব অথচ গভীর প্রভাব পড়ছে শহরের পাখিদের ওপর।

সাম্প্রতিক এই দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বাংলাদেশের পাঁচটি বড় শহর—ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের উদাহরণ টেনে দেখিয়েছে, নগরায়ণ কীভাবে ধাপে ধাপে শহরের পাখির প্রজাতির বৈচিত্র্যকে বদলে দিচ্ছে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান। সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াংকা বড়ুয়া, আশিকুর রহমান, মো. মোখলেসুর রহমান, অর্ণব সাহা, মো. ফজলে রাব্বী, মাহবুব আলম, উম্মে হাবিবা, মিশন চন্দ্র দেব ও জয় রায়। গবেষণাটি নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার জার্নাল গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন ২০২৫–এ প্রকাশিত হয়েছে।

শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে নীরব অথচ গভীর প্রভাব পড়ছে শহরের পাখিদের ওপর
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

গবেষণায় মোট ৩১ হাজার ৬০১টি পাখি নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা ১৯টি বর্গ, ৬০টি পরিবার এবং ২৩৮টি প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এ সংখ্যা বাংলাদেশের মোট পাখি প্রজাতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে প্রতিনিধিত্ব করে। উচ্চমাত্রার নগরায়িত এলাকায় প্রজাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম (১৩৬টি প্রজাতি), যেখানে মাঝারি (১৮৫টি) ও নিম্ন নগরায়িত এলাকায় (১৮৩টি) তুলনামূলকভাবে বেশি প্রজাতি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ শহর এখনো বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এই বৈচিত্র্য সমানভাবে ছড়িয়ে নেই।

আরও পড়ুন
আশ্চর্যের বিষয় হলো, পাখিদের কাজের দিক থেকে বৈচিত্র্যে খুব বড় পরিবর্তন ধরা পড়েনি। এর মানে দাঁড়ায়, শহরে যেসব পাখি টিকে আছে, তারা অনেকটাই একই ধরনের কাজ করছে।

নগরায়ণের সঙ্গে প্রজাতি হ্রাস

গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, নগরায়ণের মাত্রা যত বাড়ে, পাখির প্রজাতি বৈচিত্র্য তত কমে। অত্যন্ত নগরায়িত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তুলনামূলকভাবে কম প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে, যেখানে মাঝারি ও কম নগরায়িত এলাকায় পাখির উপস্থিতি অনেক বেশি। এর পেছনের কারণ খুব জটিল নয়। ঘন নগরায়ণের ফলে বড় গাছ কেটে ফেলা হয়, জলাশয় ভরাট হয়, খোলা জায়গা কমে যায়। প্রাণ–প্রকৃতি কম থাকে, ফলে পাখিদের খাবার, বাসা বাঁধার জায়গা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল একসঙ্গে হারিয়ে যায়। বিশেষ করে যেসব পাখি নির্দিষ্ট গাছ, জলাভূমি বা প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল, তারা শহরের কেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যায়।

শহরের ভেতরে এখন এমন পাখিই বেশি টিকে আছে, যারা একে অপরের সঙ্গে আত্মীয়তার দিক থেকে কাছাকাছি
ছবি: দীপু মালাকার

বিবর্তনগত বৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র

গবেষণাটি শুধু পাখির সংখ্যা গোনাতেই থেমে থাকেনি। এতে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে পাখিদের বৈচিত্র্যের ধরন। দেখা গেছে, শুধু প্রজাতির সংখ্যা কমছে না; বরং পাখিদের বিবর্তনগত বৈচিত্র্যও কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ শহরের ভেতরে এখন এমন পাখিই বেশি টিকে আছে, যারা একে অপরের সঙ্গে আত্মীয়তার দিক থেকে কাছাকাছি।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, পাখিদের কাজের দিক থেকে বৈচিত্র্যে খুব বড় পরিবর্তন ধরা পড়েনি। এর মানে দাঁড়ায়, শহরে যেসব পাখি টিকে আছে, তারা অনেকটাই একই ধরনের কাজ করছে। কেউ পোকা খাুচ্ছে, কেউ বীজ ছড়াচ্ছে, কেউ ময়লা পরিষ্কার করছে। কিন্তু এই স্থিতিশীলতার পেছনে লুকিয়ে আছে একটি ঝুঁকি। যখন একই কাজ করা কয়েকটি সাধারণ প্রজাতিই শুধু টিকে থাকে, তখন পরিবেশ কোনো বড় পরিবর্তনের মুখে পড়লে পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে, এ তথ্যগুলোই অধ্যাপক জামান তাঁর গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন
ঘন নগরায়ণের ফলে বড় গাছ কেটে ফেলা হয়, জলাশয় ভরাট হয়, খোলা জায়গা কমে যায়। প্রাণ–প্রকৃতি কম থাকে, ফলে পাখিদের খাবার, বাসা বাঁধার জায়গা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হারিয়ে যায়।

দূষণ ও শহরের কেন্দ্র থেকে দূরত্ব

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বায়ুদূষণ পাখিদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি। বিশেষ করে বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা পাখিদের শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা সৃষ্টি করে, তাদের প্রজনন ব্যাহত করে এবং খাবার খোঁজার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শুধু তা–ই নয়, দূষিত এলাকায় পোকামাকড়ও কমে যায়, যা অনেক পাখির প্রধান খাদ্য। ফলে দূষণের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পাখির সংখ্যা কমিয়ে দেয়। শহরের কেন্দ্র থেকে দূরত্বও পাখির বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের একেবারে ভেতরের অংশে পাখির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য সবচেয়ে কম। শহরের প্রান্তের দিকে গেলে, যেখানে এখনো কিছুটা সবুজ জায়গা, খোলা মাঠ বা জলাশয় আছে, সেখানে পাখির উপস্থিতি বাড়ে। এই জায়গাগুলো অনেক সময় শহর ও গ্রাম বা প্রাকৃতিক এলাকার মধ্যে একটি সেতুর মতো কাজ করে।

জলাশয় কিছু প্রজাতির পাখিদের জন্য শুধু পানির উৎস নয়; বরং খাবার, আশ্রয় ও প্রজননের জায়গা হিসেবেও কাজ করে
ছবি: মোছাব্বের হোসেন

জলাশয়ের গুরুত্ব

জলাশয়ের গুরুত্ব এ গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। যেসব এলাকায় পুকুর, লেক, খাল বা জলাভূমি আছে, সেখানে পাখিদের কার্যকরী বৈচিত্র্য বেশি। জলাশয় কিছু প্রজাতির পাখিদের জন্য শুধু পানির উৎস নয়; বরং খাবার, আশ্রয় ও প্রজননের জায়গা হিসেবেও কাজ করে। অন্যদিকে কৃষিজমি থাকা সত্ত্বেও সেখানে পাখির বৈচিত্র্য তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে, সম্ভবত একঘেয়ে ফসল চাষ ও রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে।

আরও পড়ুন
শহরের কেন্দ্র থেকে দূরত্বও পাখির বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের একেবারে ভেতরের অংশে পাখির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য সবচেয়ে কম।

শহরের সূচক হিসেবে পাখি

গবেষণায় কিছু নির্দিষ্ট পাখির কথাও বলা হয়েছে, যারা নির্দিষ্ট ধরনের নগর পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। কেউ কেবল ঘন শহরে টিকে থাকতে পারে, কেউ মাঝারি নগরায়িত এলাকায়, আবার কেউ শুধু কম নগরায়িত জায়গায় দেখা যায়। এই পাখিগুলো আসলে নগর পরিবেশের জীবন্ত সূচক। তাদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দেখে বোঝা যায়, একটি শহরের পরিবেশ-প্রকৃতি কতটা সুস্থ।

পাখি হারিয়ে গেলে শুধু প্রকৃতিই নয়, মানুষও স্বল্প মেয়াদে ও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে
ছবি: ইমরুল কায়েস

সব মিলিয়ে এ গবেষণা একটি শহরকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যের পরিষ্কার বার্তা দেয়। নগরায়ণ অনিবার্য, কিন্তু সেটি যদি পরিকল্পনাহীনভাবে হয়, তাহলে শহরগুলো ধীরে ধীরে জীববৈচিত্র্যহীন কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হবে। পাখি হারিয়ে গেলে শুধু প্রকৃতিই নয়, মানুষও স্বল্প মেয়াদে ও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, পাখি পোকা নিয়ন্ত্রণ করে, বীজ ছড়িয়ে প্রাকৃতিক বনায়ন করে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন
গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ কেবল ঘন শহরে টিকে থাকতে পারে, কেউ মাঝারি নগরায়িত এলাকায়, আবার কেউ শুধু কম নগরায়িত জায়গায় দেখা যায়। এই পাখিগুলো নগর পরিবেশের জীবন্ত সূচক।

সমাধান ও সুপারিশ

গবেষণা দেখিয়েছে যে শহরের ভেতরে জলাশয় সংরক্ষণ, গাছপালা বাড়ানো, সবুজ করিডর তৈরি, বায়ুদূষণ কমানো এবং মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখা সম্ভব হলে শহর উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ একসঙ্গে এগোতে পারে। আজ আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি, সেগুলোর ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের শহরগুলো পাখির কিচিরমিচিরে ভরা হবে, নাকি নিঃশব্দ কংক্রিটের নগরে পরিণত হবে। আমাদের উচিত শহরের পরিবেশকে মানুষের পাশাপাশি পাখিদের জন্যও বাসযোগ্য করে তোলা।

শহরের সবুজ এলাকা ও জলাশয়কে সংযুক্ত রেখে পাখির নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা উচিত
ছবি: প্রথম আলো

এ জন্য জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবন করা, পার্ক, গাছঘেরা করিডর ও ছাদবাগান তৈরি করে সবুজ এলাকা বৃদ্ধি করা, শহরের বায়ুদূষণ কমানো এবং নির্মাণ ও শিল্পকারখানা পরিচালনায় পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শহরের সবুজ এলাকা ও জলাশয়কে সংযুক্ত রেখে পাখির নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, নাগরিকদের সচেতন করা এবং নিয়মিত পাখি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ একসঙ্গে গ্রহণ করলে নগরায়ণের চাপ সত্ত্বেও শহরে পাখির বৈচিত্র্য রক্ষা করা ও স্থিতি রাখা সম্ভব হবে এবং মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে।

লেখক: সাংবাদিক

*লেখাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত

আরও পড়ুন