বিজ্ঞান ও প্রকৃতির রাজ্যে কত যে অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর জিনিস লুকিয়ে আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না! সেরকম ১০টি তথ্য নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। দেখুন তো, এখান থেকে কতগুলো তথ্য আপনি জানতেন।
অস্ট্রেলিয়ার ফিংকে নদীটি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছিল। এই নদীটি ডাইনোসরদের চেয়েও পুরোনো! সেখানকার আদিবাসীরা একে ডাকে লারাপিন্টা নামে। মজার ব্যাপার হলো, এটি বেশির ভাগ সময়ই শুকনো থাকে, শুধু অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেই এতে পানি দেখা যায়।
পৃথিবীর খনিগুলোতে হীরার চেয়ে পান্না অনেক কম পাওয়া যায়। হীরা তৈরি হয় শুধু কার্বন থেকে। এগুলো পৃথিবীতে প্রচুর আছে। কিন্তু পান্না তৈরি হতে বেরিলিয়াম নামে একটি অত্যন্ত দুর্লভ উপাদানের সঙ্গে ক্রোমিয়াম বা ভ্যানাডিয়ামের নিখুঁত মিশ্রণ লাগে। এমন ঘটনা প্রকৃতিতে ঘটা বেশ কঠিন।
আপনার চোখ কিন্তু সব সময় আপনার নাককে দেখছে, কিন্তু আপনার মস্তিষ্ক সেটাকে দৃশ্যপট থেকে মুছে দেয়! বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে সেনসরি অ্যাডাপটেশন। মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিয়ে দেয়, যাতে আপনি সামনের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোতে ভালোভাবে ফোকাস করতে পারেন। এ কারণেই সাধারণ অবস্থায় নাক দেখা যায় না। তবে খুব চেষ্টা করলে যে নাক দেখতে পাবেন না, তা কিন্তু নয়।
এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো নৌকাটির বয়স ১০ হাজার বছর। এটি নেদারল্যান্ডসে পাওয়া পেসে ক্যানু। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষ অন্তত ৬০ হাজার বছর আগেই বাঁশ বা কাঠের ভেলার মতো জলযান তৈরি করেছিল। কারণ তা না হলে সে সময় সমুদ্র পেরিয়ে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল না।
আমাদের পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড আছে। এই অ্যাসিড ধাতু গলাতে সক্ষম হলেও আমাদের পেট গলে যায় না! পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে মিউসিন নামে একটি পিচ্ছিল ও আঠালো ক্ষারীয় স্তরের প্রলেপ থাকে, যা অ্যাসিডকে পেটের মাংসপেশির সংস্পর্শে আসতে দেয় না। তাছাড়া পাকস্থলী প্রতি কয়েক দিন পরপর তার ভেতরের কোষগুলোকে একেবারে নতুন করে তৈরি করে!
বিড়ালের পায়ের নরম প্যাড এতই নিখুঁত শক-অ্যাবজরবার যে, প্যারাট্রুপারদের বুট জুতো বানাতে বিজ্ঞানীরা এটি নিয়ে গবেষণা করেছেন। এই প্যাডগুলোতে অসংখ্য স্নায়ু থাকে, যা বিড়ালকে মাটির কম্পন বুঝতে সাহায্য করে। তবে বিড়াল কিন্তু এই পায়ের প্যাডের মাধ্যমেই ঘামে!
পৃথিবীর বয়স হয়তো আর ৪৫০ বা ৫০০ কোটি বছর আছে। কারণ সূর্য তখন নিভে যাবে। কিন্তু মহাবিশ্বের বেশির ভাগ গ্রহ ঘোরে রেড ডোয়ার্ফ বা লাল বামন নক্ষত্রের চারপাশে। এই নক্ষত্রগুলো এত ধীরগতিতে তাদের জ্বালানি পোড়ায় যে, এরা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর বেঁচে থাকতে পারে। অর্থাৎ মহাবিশ্বের শেষ দিন পর্যন্ত ওই গ্রহগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে।
পৃথিবীতে ৯.৫ মাত্রার চেয়ে বড় ভূমিকম্প হওয়া প্রায় অসম্ভব। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ভর করে মাটির নিচের ফল্ট লাইন বা ফাটলের দৈর্ঘ্যের ওপর। ১৯৬০ সালে চিলিতে ৯.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। পৃথিবীতে এমন কোনো লম্বা ফল্ট লাইন নেই যা ১০ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে।
রংধনু কোনো ধনুকের মতো বাঁকা নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি বৃত্ত। সমতল থেকে আমরা এর নিচের অর্ধেক দেখতে পাই না, কারণ মাটি সেটাকে ঢেকে রাখে। তবে আপনি যদি কোনো উঁচু পাহাড় বা বিমানে থাকেন, তবে সূর্যের ঠিক বিপরীত দিকে তাকালে আপনি আস্ত একটি গোলাকার রংধনু দেখতে পাবেন!
মহাসাগরের ঠিক পাশেই মরুভূমি তৈরি হওয়াটা বেশ স্বাভাবিক ঘটনা। এ কারণেই মরুভূমিতে প্রচুর কুয়াশা হয়। আটাকামা বা নামিব মরুভূমি এর বড় উদাহরণ। সমুদ্রের ঠান্ডা স্রোত যখন বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তখন বাতাস এতই ঠান্ডা হয়ে যায় যে তা বৃষ্টি হয়ে ঝরার মতো আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না। ফলে বৃষ্টির বদলে সেখানে শুধু কুয়াশা তৈরি হয়।