নতুন ইউএফও ফাইলসে কী জানা গেল
চন্দ্রজয়ী অ্যাপোলো ১১ মিশনে এ কী দেখলেন বাজ অলড্রিন? জেমিনাই ৭ মিশনে কী দেখলেন নভোচারী ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান ও জিম লভেল? উত্তর: ইট’স আ ‘ইউএফও’!
এই মুহূর্তে ইউএফও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। কারণ, পেন্টাগন সম্প্রতি ‘ইউএফও’ নিয়ে ‘একগাদা’ ফাইল উন্মুক্ত করে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ৯ মে নতুন এই ফাইলগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কী একটা অবস্থা!
দাঁড়ান, সামনে এগোনোর আগে তিনটা কথা বলি। মন দিয়ে পড়ুন।
এক, একদম আগের প্যারায় ‘ইউএফও’ কথাটা উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছে কেন? কারণ আছে। ‘ইউএফও’ শব্দটা আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণত ব্যবহার করা হয় না, বলা হয় ‘ইউএপি’। শব্দ দুটি কাছাকাছি। ইউএফও মানে ‘আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্টস’; বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘শনাক্ত করা যায় না, এমন উড়ন্ত বস্তু’। তবে এই বাংলা ব্যবহৃত হয় না। বিভিন্ন গুজব ও কল্পনায় ভর করে ইউএফওর বহুল ব্যবহৃত বাংলা দাঁড়িয়েছে ‘উড়ন্ত চাকতি’। কারণ, বেশির ভাগ বর্ণনায় চাকতি আকৃতির উড়ন্ত বস্তু দেখার কথা শোনা যায়।
দুই, আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চাকতি’ দেখার বর্ণনা খুব বেশি নেই, বরং উদ্ভট বিভিন্ন জিনিস দেখার কথা জানা যায়। প্রথম লাইনের ঘটনাটি যেমন, বাজ অলড্রিন একধরনের ‘অদ্ভুত আলো’ দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ফলে ‘উড়ন্ত চাকতি’ না বলে এ ধরনের অদ্ভুত সব ঘটনাকে বলা হচ্ছে ‘আনআইডেন্টিফায়েড অ্যানোমোলাস ফেনোমেনা’ বা ‘অব্যাখ্যাত ঘটনা’; যদিও আগে বলা হতো ‘আনআইডেন্টিয়াফায়েড এরিয়াল ফেনোমেনা’; বাংলা করলে দাঁড়াত ‘আকাশে অব্যাখ্যাত ঘটনা’।
ইউএফও মানে আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্টস; বাংলা করলে দাঁড়ায়, শনাক্ত করা যায় না, এমন উড়ন্ত বস্তু। বিভিন্ন গুজব ও কল্পনায় ভর করে ইউএফওর বহুল ব্যবহৃত বাংলা দাঁড়িয়েছে উড়ন্ত চাকতি।
তিন, সরল করে যদি বলি (ক্ষমা করবেন), এই মুহূর্তে পৃথিবীতে মানুষ দুই ধরনের। একদল শুধু শিরোনাম পড়েন, আরেকদল সত্যি সত্যি খবরটা পড়েন, ক্লিকবেটে বিভ্রান্ত হন না। প্রথম প্যারায় যে দুটি লাইন লিখেছি, সেরকম ক্লিকবেট শিরোনাম বহু দেখবেন আপনি এখন। কিন্তু আসল ঘটনা কী?
সত্যি বলতে, ঘটনা খুব সরল। নামেই বুঝতে পারছেন, বেশ কিছু অব্যাখ্যাত ঘটনার দেখা পেয়েছেন অনেক মানুষ, এর মধ্যে বিভিন্ন নভোচারীরাও আছেন। এসব অব্যাখ্যাত ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষদের অনেক আগ্রহ। দ্য সানডে গার্ডিয়ান নামে এক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এলিয়েন বা বহির্জাগতিক প্রাণের অস্তিত্ব আছে। অনেকে তো মনে করেন, পৃথিবীতে সত্যিই এলিয়েন এসেছে! সব মিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল-এ ফেব্রুয়ারি মাসে এক পোস্টে বলেছিলেন, ‘মানুষের এত আগ্রহ দেখে আমি যুদ্ধসচিব (সেক্রেটারি অব ওয়ার) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও এজেন্সিকে নির্দেশ দিচ্ছি, আনআইডেন্টিফায়েড এরিয়াল ফেনোমেনা এবং আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্টস সংশ্লিষ্ট নথিপত্রগুলো উন্মুক্ত করে দাও।’
দ্য সানডে গার্ডিয়ান নামে এক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এলিয়েন বা বহির্জাগতিক প্রাণের অস্তিত্ব আছে।
ফলে—আমরা জানি না কাকতাল কি না, কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বে না গিয়েই বলব—ইরান যুদ্ধ এবং নানা ঘটনায় জেরবার এই সময়ে এসেই পেন্টাগন ১৬০টি ফাইল উন্মুক্ত করে দিয়েছে। সরকার বলছে, ‘স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু অনেকেই তা মনে করেন না। পেন্টাগনের ‘অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোল্যুশন অফিস’-এর প্রাক্তন পরিচালক শন কার্কপ্যাট্রিক সায়েন্টিফিক আমেরিকানকে জানিয়েছেন, ‘এই ফাইলগুলো রহস্য কমানোর বদলে জল্পনা-কল্পনা আরও বাড়িয়ে দেবে।’ তাঁর মতে, ‘এই ফাইলগুলোতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। কোনো সঠিক বিশ্লেষণ বা প্রেক্ষাপট ছাড়া এগুলো কেবল ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আর অপবিজ্ঞানকেই উসকে দেবে, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলে।’
শনের মতোই সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর সেই প্রতিবেদনে এসব ফাইল সম্পর্কে একাধিক বিজ্ঞানী ও গবেষক জানিয়েছেন, এগুলোতে আসলে নতুন বা কৌতূহলোদ্দীপক কিছু নেই। ২০২১ সালেও এরকম একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বেশ কিছু নথি উন্মুক্ত করা হয়েছিল, তাতেও ‘এলিয়েন আছে’—এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনা বহুভাবে যাচাই করেছেন নাসাসহ পৃথিবীখ্যাত অনেক পদার্থবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং আরও বহু শাখার বিজ্ঞানীরা। তাতেও এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।
সংক্ষেপে এই হলো মূল ঘটনা। এবারে বিস্তারিত।
জেমিনাই ৭ মিশনে নভোচারী ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান ও জিম লভেল বগি দেখার কথা জানান। বগি একটি সামরিক পরিভাষা, শব্দটি দিয়ে শনাক্ত করা যায়নি, এমন যেকোনো বস্তুকেই বোঝানো হয়।
২
১৬০টা ফাইলের সব কটা নিয়ে তো আর আলাপ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আপনারা ফাইলগুলোর অফিসিয়াল সংস্করণ নিজেরাই পড়তে পারবেন এই লিংকে ক্লিক করে। এসব ফাইলের মধ্যে রয়েছে নভোচারীদের আলাপচারিতা বা রিপোর্টের লিখিত রূপ (ট্রান্সক্রিপ্ট), বিভিন্ন ছবি এবং ইউএপি নিয়ে বিভিন্ন সামরিক রিপোর্ট। কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা নয়; পেন্টাগন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ, নাসা, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরের দপ্তর, হোয়াইট হাউস, এফবিআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব নথির ডিজিটাল সংগ্রহশালা তৈরি করা হয়েছে (যে লিংকটা ওপরে দিলাম)।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর কথা বলি। পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে, কক্ষপথে ঘুরে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘জেমিনাই’ (প্রচলিত উচ্চারণ, জেমিনি) প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। জেমিনাই ৭ মিশনে নভোচারী ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান ও জিম লভেল ‘বগি’ দেখার কথা জানান। ‘বগি’ একটি সামরিক পরিভাষা, শব্দটি দিয়ে শনাক্ত করা যায়নি, এমন যেকোনো বস্তুকেই বোঝানো হয়। নাসা পরে জানিয়েছিল, এটি জমে যাওয়া জ্বালানির কণা বা এরকম কিছু হতে পারে। অস্বাভাবিক কিছু বলে তারা এটিকে শনাক্ত করেনি। তাতে অবশ্য ‘ইউএফও গবেষক’দের বয়েই গেছে!
ইউএফও ফাইলের মধ্যে রয়েছে নভোচারীদের আলাপচারিতা বা রিপোর্টের লিখিত রূপ বা ট্রান্সক্রিপ্ট, বিভিন্ন ছবি এবং ইউএপি নিয়ে বিভিন্ন সামরিক রিপোর্ট।
বিখ্যাত অ্যাপোলো ১১ মিশনের একটি ঘটনার কথাও জানা গেছে এসব নথি থেকে। ১৯৬৯ সালে চাঁদে পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন। বাজ সে সময় ‘কী যেন’ দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। কী দেখেছেন তা নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি, কিন্তু বাতি জ্বলছে-নিভছে (ফ্ল্যাশিং) বলে মনে হয়ে তাঁর কাছে। অন্য নভোচারী এবং গবেষকদের ধারণা, এগুলো রকেটের অবশিষ্টাংশ হতে পারে। কাছাকাছি ধরনের মিট মিটে আলোর কথা জানিয়েছেন অ্যাপোলোর ১২ মিশনের দুই নভোচারী অ্যালান বিন ও কমান্ডার পিট কনরাড। নভোযানের কাছাকাছি তাঁরা ‘জ্বলজ্বলে কণা’ দেখার দাবি করেছেন, যেগুলো ‘মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল’। এসব মিশনের নভোচারীদের কথোপকথনের পাশাপাশি চাঁদের কক্ষপথের ‘ঘটনা চিহ্নিত’ ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। পরে, অ্যাপোলো ১৭ মিশনেও এরকম জ্বলজ্বলে কণা; মিট মিট করে জ্বলছে-নিভছে, এমন আলো; নভোযানের কাছাকাছি ‘বিন্দু বিন্দু’ গোছের ‘কী যেন’ দেখার কথা জানা গেছে। এর কোনোটিকে বিজ্ঞানীরা বলেছেন বরফে আলো প্রতিফলিত হওয়ার ফল, তবে কোনো কোনোটির ব্যাখ্যা তাঁরা দিতে পারেননি।
এরকম আরও বহু ঘটনা আছে, তবে এগুলো নিয়েই আলোচনা হচ্ছে বেশি। বিষয়গুলো কি অদ্ভুত না? অবশ্যই। এর অনেকগুলোর ব্যাখ্যা যে বিজ্ঞানীরা জানেন না, তা তো ইতিমধ্যেই বলেছি। তাহলে এগুলো কি এলিয়েন হতে পারে না? এরকম প্রশ্ন আপনার মাথায় আসতেই পারে।
পৃথিবী থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ যে গতিতে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানো সম্ভব হয়েছে, সেটি হলো পার্কার সোলার প্রোব। সূর্যের উদ্দেশে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে পাঠানো হয়েছে এই স্যাটেলাইট।
এর উত্তরে প্রদীপ দেবের ‘ইউএফও এবং পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম’ লেখার একটি অংশ তুলে দিই—
‘মানুষ মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো শুরু করেছে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি। গত ৬০ বছরে সৌরজগতের সব কটি গ্রহ-উপগ্রহের প্রায় সব জায়গা জরিপ করা হয়ে গেছে। আমাদের সৌরজগতের বাইরেও হাজার হাজার গ্রহ আবিষ্কার করে ফেলেছে। মহাকাশের আরও দূরতম স্থানে দূরবীক্ষণ যন্ত্র স্থাপন করে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করার জন্য অতিসম্প্রতি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। মহাবিশ্বে পৃথিবী ছাড়া অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, তার অনুসন্ধান চলছে গত কয়েক দশক। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো কোথাও ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধান পাননি। তবু যদি কেউ বলেন যে মহাবিশ্বের অজানা কোনো গ্রহ থেকে ইউএফওর মাধ্যমে ভিনগ্রহের প্রাণীরা আমাদের গ্রহে নিয়মিত আসা-যাওয়া করছে, তাহলে আমাদের পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে আমরা হিসাব করে দেখতে পারি, সেটি সম্ভব কি না।
পৃথিবী থেকে মহাশূন্যে মহাকাশযান পাঠাতে হলে পদার্থবিজ্ঞানের যেসব নিয়মকানুন মেনে প্রস্তুতি নিতে হয় এবং মহাকাশযান পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হয়, তা আমরা এখন জানি। পৃথিবী থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ যে গতিতে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানো সম্ভব হয়েছে, সেটি হলো পার্কার সোলার প্রোব। সূর্যের উদ্দেশে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে পাঠানো হয়েছে এই স্যাটেলাইট। ঘণ্টায় প্রায় সাত লাখ কিলোমিটার বেগে ছুটছে ওই স্যাটেলাইট। ২০২৪ সালে এটি সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছায়। এটি হলো বাস্তবতা, শুধু আমাদের পৃথিবী থেকে সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছাতেই ছোট্ট একটি স্যাটেলাইটের সময় লাগছে ছয় বছরের বেশি। সেখানে কথিত ইউএফও আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে আসছে, আবার চলেও যাচ্ছে, এটি অবিশ্বাস্য।
সৌরজগতের সব কটি গ্রহ-উপগ্রহের পূর্ণাঙ্গ জরিপ আমাদের হাতে আছে। সেখানে কোনো প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। আমাদের সৌরজগতের বাইরে সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র আলফা সেনটাউরির দূরত্ব প্রায় ৪ দশমিক ২৫ আলোকবর্ষ; অর্থাৎ সেখান থেকেও কোনো কিছু আলোর বেগেও যদি আসে, সময় লাগবে সোয়া চার বছর। কিন্তু আলোর বেগে যদি আসে, সেটা আলোই হবে, পদার্থ নয়।’
আগ্রহীরা পুরো লেখাটি পড়তে পারেন চাইলে।
পৃথিবী থেকে সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছাতেই ছোট্ট একটি স্যাটেলাইটের সময় লাগছে ছয় বছরের বেশি। সেখানে কথিত ইউএফও আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে আসছে, আবার চলেও যাচ্ছে, এটি অবিশ্বাস্য।
৩
তাহলে, ঘুরে-ফিরে সেই প্রশ্নটিই—ঘটনা কী? উত্তর হলো, আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না, কারণ আমাদের হাতে যথেষ্ট তথ্য নেই। আপনাদের মনে আছে হয়তো, ২০১৯ সালে ৩টা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, ভিডিওর বস্তুগুলো ‘ইউএফও’। মার্কিন নেভির বৈমানিকেরা এগুলো দেখেছেন বলে দাবি করা হয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্বীকার করে নেয়, ভিডিওগুলো মিথ্যা নয়। তারা নিজেরাই ভিডিও তিনটি উন্মুক্ত করে দেয় সবার জন্য। পাশাপাশি তারা ইউএফও নিয়ে একটি প্রতিবেদন কিছুদিন পর উন্মুক্ত করে দেবে বলে জানায়। ৯ পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদন উন্মুক্ত করা হয় ২০২১ সালের ২৫ জুন। প্রতিবেদনের নাম ‘প্রিলিমিনারি অ্যাসেসমেন্ট: আনআইডেন্টিফায়েড অ্যারিয়াল ফেনোমেনা’।
এই প্রতিবেদন এবং ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করেছেন পদার্থবিজ্ঞানী, ভিডিওগ্রাফি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। সবকিছু দেখে তাঁরা মত দিয়েছেন, এখানে উদ্ভট কিছু নেই। ‘পৃথিবীতে কি কখনো ইউএফও এসেছিল’ নামে এই লেখায় আপনারা বিস্তারিত জানতে পারবেন এ নিয়ে।
আসলে যেটা হয়, যথেষ্ট তথ্য-উপাত্তের অভাবে আমরা অনেক ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না। দৃষ্টিবিভ্রম বা মানবিক তাড়না ও অজানার ভয় আমাদের মনে বিচিত্র কল্পনার সৃষ্টি করে। একটি ঘটনাকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা করা না গেলেও অবাস্তব বা অসম্ভব কিছু ভেবে নেওয়ার আগে তা নিয়ে আমাদের বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সব ব্যাখ্যাকে বাতিল করে দিতে হবে। তারপর জিনিসটাকে নতুন কিছু বলে ধরে নেওয়া যাবে, তার আগে নয়।
আসলে যেটা হয়, যথেষ্ট তথ্য-উপাত্তের অভাবে আমরা অনেক ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না। দৃষ্টিবিভ্রম বা মানবিক তাড়না ও অজানার ভয় আমাদের মনে বিচিত্র কল্পনার সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ইউএফও নিয়ে এমন কোনো ঘটনা পাননি, যা নতুন কিছুর ইঙ্গিত দেয়। তবে অনেক ঘটনা এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়নি তথ্য ও উপাত্তের অভাবে। সেই ঘটনাগুলোকেই বলা হয় ইউএপি। অর্থাৎ ঘটনাগুলো রহস্যময় কিছু নয়, বরং এগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য নেই আমাদের কাছে। কিন্তু ‘ইউএপি’ বা ‘ইউএফও’ শব্দগুলো আমাদের মস্তিষ্কে যে বহির্জাগতিক প্রাণের চিত্র তুলে ধরে, তার সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। অন্তত আমাদের জানা বিজ্ঞান তা-ই বলে।
আমাদের জানা বিজ্ঞানের বাইরে কি কিছু হচ্ছে? হলে বিজ্ঞানীরা সেটা অস্বীকার করবেন না। এই যে ফাইলগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো, সেগুলোর অরিজিনাল কপিগুলো ঘাঁটলেই আপনি দেখবেন, যেখানে যা জানেন না, ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না বা তথ্য নেই পর্যাপ্ত; সেগুলো বিজ্ঞানীরা স্বীকার করছেন। আর বিজ্ঞান জিনিসটা এভাবেই কাজ করে। তা ছাড়া গোটা পৃথিবীর সবার জন্য এসব ফাইল উন্মুক্ত, কেউ না কেউ তো এর ভেতরে এলিয়েনের সন্ধান পেলে জানাবেনই!
আমাদের জানা বিজ্ঞান যতই বলুক এসবে এলিয়েন কিছু নেই, সেটা অনেকেই কানে তুলবেন না। কারণ, এই কথাটা নীরস। এলিয়েনের সম্ভাবনার মতো রোমাঞ্চকর বা কল্পনা (এবং মন্তব্য) উসকে দেওয়ার মতো কিছু না। কাজেই সচেতন পাঠকের প্রতি অনুরোধ, সত্যি সত্যি এলিয়েনের সন্ধান পেলে সে নিয়ে নাহয় আলাপ করা যাবে; তার আগে শুধু শিরোনাম নয়, ভেতরের সংবাদও পড়ুন। রাত-দুপুরে অযথা এলিয়েনের কথা ভেবে ‘হাই-প্রেশার’ ও ‘হাই-টেনশন’-এ ভোগা কোনো কাজের কথা না, তাই না?