সূর্যঘড়িগুলো ঢেকে আছে সাদা রঙের নুড়িপাথরে। সেখানকার অসমান ও অমসৃণ পাথরের চাঁইগুলোতে একদিন বয়ে যেত বাতাস। সেই পাথরগুলো যেন এখন মুখ গুঁজে পড়ে আছে বালুর বুকে। এই বালুর ওপর দিয়ে একদিন সাগর বয়ে যেত। সেই সাগর আজ শুকনা ও খটখটে। সেখানকার প্রাচীন শহরগুলো এখন চাপা পড়ে আছে বালু আর পাথরের নিচে।
মঙ্গল গ্রহ এখন মৃত।
চারদিকের নিস্তব্ধতা ভেঙে একটা ক্ষীণ যান্ত্রিক শব্দ এগিয়ে আসে। পুরোনো আমলের একটা স্থলযান। তার মধ্যে বসে আছে আলবার্ট বেক ও লিওনার্ড ক্রেগ।
‘হ্যালো!’
আলবার্ট ফিসফিস করে বলে, ‘ঈশ্বরের দোহাই, এভাবে চিৎকার করো না! শহরটার যেটুকু এখনো দাঁড়িয়ে আছে, তোমার চিৎকারে সেটুকুর মাটিতে মিশে যেতে বেশি সময় লাগবে না। তখন আমাদের এত দূর আসাটাই অর্থহীন হয়ে যাবে না, বলো?’
আবার খানিকটা নিস্তব্ধতা নেমে এল চারপাশে। শেষ পর্যন্ত আলবার্টই মুখ খুলল।
‘চলো, এবারে ধীরে ধীরে বাড়িগুলোর ভেতরে ঢোকা যাক।’
‘তুমি তাহলে সত্যিই ওই প্রাচীন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঢুকতে চাইছ?’ বিরক্তিতে লিওনার্ড মুখ কুঁচকে ফেলে। ‘আর তা–ও কিনা সামান্য একটা বোতলের জন্য? আচ্ছা, কী এমন আছে ওটার ভেতর; কেনই-বা ওই হতচ্ছাড়া বোতল পাওয়ার জন্য সবাই এমন পাগল হয়ে উঠেছে?’
আলবার্ট ফিসফিস করে বলে, ‘ঈশ্বরের দোহাই, এভাবে চিৎকার করো না! শহরটার যেটুকু এখনো দাঁড়িয়ে আছে, তোমার চিৎকারে সেটুকুর মাটিতে মিশে যেতে বেশি সময় লাগবে না।'
আলবার্ট সন্তর্পণে গাড়ি থেকে নেমে আসে। তারপর প্রায় ফিসফিস করে বলে, ‘কে জানে, কোন প্রাচীনকালে মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দারা ওই নীল বোতলটা তৈরি করেছিল! তারপর আজ পর্যন্ত কত মানুষের হাতে ওটা এসেছে, আবার হাতছাড়াও হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, যারা বোতলটা পেয়েছিল, তারা কিন্তু কেউ বলে যেতে পারেনি কী ছিল সেটার ভেতরে!’
‘তবু তো তুমি পাগলের মতো খুঁজছ। মঙ্গল গ্রহের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে, কোথায় খোঁজা বাকি রেখেছ, বলো?’ লিওনার্ডের কথাগুলো ঝাঁজালো শোনাল।
কথা শুনে আলবার্ট হেসে ফেলে। ‘আরে, ওই বোতলের মধ্যে সত্যিই কী আছে, তা কেউ জানে না বলেই তো বোতলটা খুঁজে পাওয়ার জন্য সবাই এত মরিয়া।’
‘কিন্তু সত্যি বলছি, তোমার এই পাগলামি আমার আর একদম ভালো লাগছে না।’ বিরক্ত শোনায় লিওনার্ডের গলা।
‘বেশ, তাহলে নাহয় গাড়িতেই বসে থাকো।’ আলবার্ট যেন লিওনার্ডকে একটু এড়িয়ে যেতে চায়। ‘প্রয়োজনে এই বাড়িগুলো আমি একাই ঘুরে দেখছি…’
১৫ মিনিট পর অবশ্য দুজনকেই দেখা গেল সামনের বড় বাড়িটির ভেতরে।
কথা শুনে আলবার্ট হেসে ফেলে। ‘আরে, ওই বোতলের মধ্যে সত্যিই কী আছে, তা কেউ জানে না বলেই তো বোতলটা খুঁজে পাওয়ার জন্য সবাই এত মরিয়া।’
আলবার্ট বলল, ‘একটা সুন্দর গন্ধ পাচ্ছ, লিওনার্ড? গন্ধটা খুব ভালো মানের হুইস্কি বা ব্র্যান্ডির হতে পারে!’
লিওনার্ড মুচকি হেসে বলে, ‘ঘরে ঢোকার সময় দেয়ালের কাছে একটা বোতলের মধ্যে ছিল পানীয়টা! এক ঢোকে পুরোটা সাবাড় করে ফেলেছি।’
আলবার্ট চমকে ওঠে, ‘বোতলের রংটা খেয়াল করেছিলে?’
‘আধো অন্ধকারে কি আর রং চেনা যায়?’ লিওনার্ড বলে। ‘দরজার পাশেই তো খালি বোতলটা পড়ে আছে। নিজে গিয়েই না হয় দেখো।’
নীল রঙের একটা কাচের বোতল। ঘরের বাইরে, দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বোতলটা খুব সাবধানে হাতে নেয় আলবার্ট।
‘আরে, বোতলটা তো দেখি বেশ ভারী।’ আলবার্ট বলে।
‘ধ্যাত, তা কী করে হবে? আমি তো পুরো বোতলটাই খালি করে দিয়েছিলাম! আমার হাতে বোতলটা দাও তো, দেখি!’
বোতলটা হাতে নিয়ে আবার গলায় উপুড় করে দেয় লিওনার্ড। গলা দিয়ে পানীয় নেমে যাওয়ার ঢক ঢক শব্দ, চারপাশে মৃদু সুগন্ধ। আশ্চর্য! খালি বোতলটা আবার আপনা–আপনি নিজে থেকে ভরে গেল কীভাবে?
লিওনার্ড মুচকি হেসে বলে, ‘ঘরে ঢোকার সময় দেয়ালের কাছে একটা বোতলের মধ্যে ছিল পানীয়টা! এক ঢোকে পুরোটা সাবাড় করে ফেলেছি।’
আলবার্টের দিকে বোতলটা এগিয়ে দেয় সে।
‘তুমি এখনো বুঝতে পারোনি, এই বোতলই আমরা এত দিন ধরে খুঁজে বেড়িয়েছি?’
পরম যত্নে বোতলটার গায়ে হাত বোলাতে থাকে আলবার্ট। আর ঠিক তখনই যেন কার পায়ের শব্দ কানে আসে।
‘এই যে ভাই, এদিকে একটু দেখবেন?’
চমকে উঠে দুজনেই পেছনে ফিরে তাকায়। ষন্ডামার্কা চেহারার একটা লোক দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে, কুতকুতে চোখে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। লোকটার হাতে ধরা অস্ত্রটা দুজনেরই চেনা।
‘আমাকে ক্ষমা করবেন,’ মানুষটির মুখে মৃদু হাসি।
‘আসলে এসব বন্দুকটন্দুক ধরতে আমার একটুও ভালো লাগে না। নেহাত আপনাদের হাতের ওই বোতল আমার খুব প্রয়োজন। ওটা অনেক দিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছি কিনা!’
আলবার্টের মন খারাপ লাগছে। বোতলটা হাতে এল, অথচ তার সেই রহস্য জানার আগেই খোয়াতে হচ্ছে! কিন্তু এ ছাড়া আর কোনো উপায় কি আছে? সে আস্তে করে হাত বাড়িয়ে বোতলটা এগিয়ে দিল আগন্তুকের দিকে।
‘সত্যি, এত সহজে যে কাজটা সম্ভব হবে, আমি ভাবতেই পারিনি।’
আলবার্টের হাত থেকে বোতলটা নেওয়ার সময় বিড়বিড় করে বলে লোকটা। তারপর নিমেষে দরজার বাইরে হারিয়ে যায় সে।
চমকে উঠে দুজনেই পেছনে ফিরে তাকায়। ষন্ডামার্কা চেহারার একটা লোক দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে, কুতকুতে চোখে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। লোকটার হাতে ধরা অস্ত্রটা দুজনেরই চেনা।
এই মাঝরাতে জোড়া চাঁদের আবছা আলোয় ধুলাবালুর ঢিপির মতো দেখাচ্ছে পুরোনো জীর্ণ শহরটাকে। ক্ষতবিক্ষত রাস্তা ধরে গাড়ি সন্তর্পণে চালানোর সময় লিওনার্ড ক্রেগ বলে ওঠে, ‘লোকটা যখন সাইকেলে চেপে পালাল তখনই বুঝতে পেরেছি, আমরা আর ওকে সহজে খুঁজে পাব না।’
‘এই, গাড়িটা একটু থামাও তো! রাস্তার ধারে কী যেন একটা দেখলাম মনে হলো।’
আলবার্ট বন্ধুর পিঠে চাপড় মারে।
লিওনার্ড গাড়ি পিছিয়ে আনে। আলবার্টের টর্চের তীক্ষ্ণ আলো এসে পড়ে রাস্তার ধারে ঝোপঝাড়ের গায়ে।
অল্প দূরে ছোট একটা খাদের মধ্যে সেই সাইকেল আরোহীর সন্ধান মিলল। সাইকেলটা পড়ে আছে মাটিতে, পাশেই শুয়ে আছে লোকটা; চোখ দুটি খোলা। টর্চের আলো পড়ার পরও সে চোখের মণি দুটি স্থির হয়ে আছে, নিশ্চল।
লিওনার্ডই প্রথম এগিয়ে যায় লোকটার দিকে। ‘দেখে বোঝা যাচ্ছে, ব্যাটা অনেকক্ষণ আগেই মারা গেছে। তাহলে বোতলটা কোথায় গেল বন্ধু, বলো তো দেখি?’
আলবার্টকে বেশ চিন্তিত দেখাল। চারপাশের জমির ওপর টর্চের আলো ফেলতে ফেলতে বলল, ‘আশ্চর্য, বোতলটা উধাও হয়ে গেল নাকি! লোকটা মারা গেছে, অথচ দেখো, গায়ে এক ফোঁটা আঘাতের চিহ্ন পর্যন্ত নেই!’
‘বুঝতে পারছি না, এই জনমানবহীন এলাকায় লোকটাকে মারল কে?’
লিওনার্ডের প্রশ্নের জবাবে আলবার্ট বলে, ‘আমিও তো ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না। দেখো, দেখো, দূরে ওই মাঠের ভেতর কারা যেন ছুটে চলেছে বলে মনে হচ্ছে না?’
ক্ষতবিক্ষত রাস্তা ধরে গাড়ি সন্তর্পণে চালানোর সময় লিওনার্ড ক্রেগ বলে ওঠে, ‘লোকটা যখন সাইকেলে চেপে পালাল তখনই বুঝতে পেরেছি, আমরা আর ওকে সহজে খুঁজে পাব না।’
লিওনার্ড আঙুল তুলে দেখায়।
‘সত্যিই তো!’ আলবার্টও দেখতে পায় তাদের।
ঠিক সেই মুহূর্তে ওদের পেছন থেকে একটা অদ্ভুত শব্দ কানে এল। অবাক চোখে ওরা দেখতে পেল, মৃত লোকটার শরীর থেকে কেমন উজ্জ্বল আলোর আভা বেরোচ্ছে! তার মাথার চুলগুলো খাড়া হয়ে গেছে; সম্ভবত অদ্ভুত শব্দটা আসছে ওখান থেকেই। পটকা ফাটলে শুনতে যেমন লাগে, সে রকম।
...কয়েক মুহূর্তের মধ্যে গোটা মরদেহ ফেটে চৌচির হয়ে গেল! শরীরটা যেন গুঁড়া গুঁড়া হয়ে হালকা ধুলার মতো মিলিয়ে গেল বাতাসে!
‘এটা নিশ্চয়ই ওই শয়তান লোকগুলোর কাজ। কোনো জায়গা থেকে নতুন ধরনের কোনো অস্ত্রটস্ত্র বোধ হয় হাতিয়েছে ওরা!’ উত্তেজিত গলায় বলে লিওনার্ড।
আলবার্ট উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বলল, ‘বোতলটা সম্পর্কে শুনেছিলাম, ওটা নাকি এর আগে যাদেরই হাতে গিয়েছে, তারা অল্প দিনের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেছে!’
গাড়ির দিকে এগোতে থাকে আলবার্ট। চোখেমুখে ফুটে উঠেছে দৃঢ় প্রত্যয়।
‘তুমি আসলে কী করতে চাইছ, বলো তো বন্ধু?’
‘গাড়িতে লোকগুলোকে ধাওয়া করে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা ছাড়া সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।’ শান্ত গলায় জবাব দেয় আলবার্ট।
‘তাই বলে এই এবড়োখেবড়ো মাঠের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাবে?’ লিওনার্ডের চোখ কপালে উঠেছে।
‘যাক গে, তুমি তোমার বোতলের পেছনে ছোটো, আমি বাবা আর এক পা-ও নড়ছি না এখান থেকে।’
‘বেশ, আমি একাই ওদিকে যাচ্ছি।’
দ্রুত গাড়িতে উঠে স্টার্ট দেয় আলবার্ট।
‘তুমি এখানেই দাঁড়াও। কিছুক্ষণের মধ্যে আমি বোতলটা নিয়ে ফিরে আসছি।’
আলবার্ট উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বলল, ‘বোতলটা সম্পর্কে শুনেছিলাম, ওটা নাকি এর আগে যাদেরই হাতে গিয়েছে, তারা অল্প দিনের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেছে!’
চারদিকটা যেন বড় বেশি ঠান্ডা। আলবার্টের হঠাৎ যেন মনে হয়, সবকিছু যেন একেবারে স্থির হয়ে আছে। ইঞ্জিনটা বন্ধ করতে গিয়ে বালিয়াড়িতে তিনটি ছায়ামূর্তির দেখা পেল সে। আলবার্ট চুপিসারে এগিয়ে চলল ছায়াগুলোর দিকে।
এ লোকগুলোও যেন বালুতে পাশাপাশি শুয়ে আছে। একটু দূরেই পড়ে আছে সেই বোতলটা। পা টিপে টিপে এগিয়ে গিয়ে বোতলটা হাতে নিল আলবার্ট। সেই মুহূর্তেই এক বিকট শব্দে মরদেহ তিনটি ছিটকে গিয়ে ভেসে রইল বাতাসে। তারপর সেই শরীরগুলো ধুলার মতো গুঁড়া গুঁড়া হয়ে বাতাসে মিশে যেতে থাকে, ঠিক যেমনটা আলবার্ট দেখে এসেছে একটু আগেই।
‘কোনো নতুন ধরনের অস্ত্র,’ লিওনার্ডের সেই কথাগুলো ওর কানে বাজতে থাকে যেন। কিন্তু নতুন কোনো অস্ত্র নয়, আসলে লোকগুলোর অকালমৃত্যুর জন্য যে ওই বোতলই দায়ী, তা বুঝতে আর কষ্ট হয় না আলবার্টের। ওর মনে কতগুলো প্রশ্ন এসে ভিড় করতে থাকে। তাহলে ওসব অসুখী, অতৃপ্ত মানুষ কি এমন একটা মৃত্যুর প্রতীক্ষাতেই দিন গুনছিল? হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ কি শুধু মৃত্যুর কামনায় এই বোতলের পেছনে ছুটে বেড়িয়েছে? সব মানুষের মনেই কি তাহলে মৃত্যুর জন্য একটা সুপ্ত প্রতীক্ষা কাজ করে?
না, সবার নয়। আলবার্ট ব্যাপারটা বুঝতে পারে। আসলে এই পৃথিবীতে লিওনার্ড ক্রেগের মতো লোকও আছে, যারা কোনো কিছুতেই তেমন বিস্মিত হয় না, বিচলিত হয় না। কোনো কিছুতেই তাদের কিছু আসে যায় না।
একটু দূরেই পড়ে আছে সেই বোতলটা। পা টিপে টিপে এগিয়ে গিয়ে বোতলটা হাতে নিল আলবার্ট। সেই মুহূর্তেই এক বিকট শব্দে মরদেহ তিনটি ছিটকে গিয়ে ভেসে রইল বাতাসে।
আলবার্ট বোতলটা ঝাঁকায়। পরম পরিতৃপ্তিতে চেপে ধরে বুকের মধ্যে। ওর মনে হয়, এত দিনের সব ক্লান্তি যেন চোখের নিমেষে দূর হয়ে গেছে।
জীবনে এই প্রথম সত্যিকারের সুখের সান্নিধ্য পায় সে।
ঠিক তখনই ওর হাত থেকে বোতলটা গড়িয়ে
পড়ে মাটিতে।
আকাশে ভোরের আলোর দেখা মিলতেই রাস্তা থেকে মাঠে নেমে আসে লিওনার্ড। আশ্চর্য, সারা রাতেও ফিরল না আলবার্ট! বোতলটার জন্য লোকটা সত্যি সত্যি পাগল হয়ে গেল নাকি? খানিকটা এগিয়ে যেতেই বোতলটাকে রোদের আলোয় চকচক করতে দেখা গেল মাঠে। এগিয়ে গিয়ে সেটা হাতে তুলে নিল লিওনার্ড। সুগন্ধি পানীয়তে আবার যেন ভরে গেছে সেটা।
‘আলবার্ট, তুমি কোথায়? তাড়াতাড়ি এসো।’
তারস্বরে চিৎকার করতে থাকে লিওনার্ড।
‘এই দেখো, তোমার প্রিয় বোতল।’
না, চারদিক নিস্তব্ধ। যত দূর চোখ যায়, কোথাও আলবার্টের কোনো চিহ্ন নেই।
‘কোথায় যে গেল আলবার্ট?’
পাথরের ওপর দুই পাশে পা ছড়িয়ে বসল লিওনার্ড। ‘কতক্ষণ যে এখানে অপেক্ষা করতে হবে, কে জানে?’ বলেই গলায় সেই নীল রঙের বোতলটা আবার আগের মতো উপুড় করে ধরল সে।