০৪.০৪.৩০০৪

অলংকরণ: আরাফাত করিম

তারিখটা মনে রাখার মতো—০৪.০৪.৩০০৪।

সত্যিই কি মনে রাখার মতো? নাকি মনে এ জন্যই আছে যে চারদিকে তারিখটা নিয়ে একটা আজব উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমনকি বিজ্ঞাপনও। এই তারিখের ঠিক দুপুরে নাকি দেখা যাবে নীল আকাশ।

তা আকাশ আবার কবে নীল ছিল?

ছিল নাকি। অনেক আগে। নীল আকাশ আর নীল সমুদ্রের ছবি কয়েকটা দেখেছে রু। দেখা যায় না, এত নির্মম। কেমন ফকফকা ধরনের, ফালতুমার্কা এক নীল। দেখলেই গা গোলায় খুব। রুয়ের অবশ্য এমনিতেও আকাশের দিকে তাকালে গা গুলিয়ে ওঠে। গত বছর কয়বার সে আকাশ দেখেছে, গুনতে পারবে। সর্বোচ্চ তিনবার। তিনবারই হয়েছে মেজাজ খারাপ।

আকাশ মানে তো আসলে জঙ্গল। এই যন্ত্র ওই যন্ত্র একেবারে গায়ে গা লাগিয়ে জমাট হয়ে থমকে আছে। নিচের দিকে তাকিয়ে আছে কটোমটো। একুশ শতকের বিজ্ঞানীরা যেমন পৃথিবীর উপগ্রহকে সম্ভাবনাহীন বাতিল মাল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, রু-ও এই আকাশকে বাতিল মাল মনে করে। তার দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই। অথচ আয়রনি হলো, সেই আকাশ দেখতেই রুকে বের হতে হচ্ছে। ০৪.০৪.৩০০৪–এর দুপুর ১২টায় পৃথিবীর সবাই আকাশের দিকে তাকাবে, একসঙ্গে, শহরের সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে। ঘোষণা এসেছে। ইউনিয়নের এটাই ইচ্ছা।

রুয়ের মাঝেমধ্যেই ইচ্ছা করে ইউনিয়নের ঘোষণাগুলো উপেক্ষা করতে। কিন্তু সে জানে, প্রতিবারের মতো এবারও সে ব্যাপারটা ঘটাতে পারবে না। অনেকের মতো সে–ও উপস্থিত থাকবে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে।

আরও পড়ুন
একুশ শতকের বিজ্ঞানীরা যেমন পৃথিবীর উপগ্রহকে সম্ভাবনাহীন বাতিল মাল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, রু-ও এই আকাশকে বাতিল মাল মনে করে। তার দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই।

২.

রাতে ঘুম হয়নি মাফির।

অনেক দিন থেকেই হয় না আসলে। তাতে ক্লান্তি আসে না কোনো। প্লে জোনে সারা রাত কাটিয়ে সকালে দিব্যি লেকচার নিতে পারে টিচারদের। কিন্তু কাল রাতটা অদ্ভুত উত্তেজনায় কেটেছে তার। আকাশের ব্যাপারটা সে জেনেছিল আগেই…ওই যে বিজ্ঞাপনের নানান হিড়িক…কিন্তু গত রাতে সারভাইভাল গেম খেলতে খেলতে তার মনে এল কিছু একটা। যা তার ভেতরে অস্বস্তি, এমনকি বাড়তি উত্তেজনাও তৈরি করেছে।

জিনিসটা কী?

একটা বাক্য। বাক্যই বলা যায়।

‘নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন!’

অদ্ভুত বাক্য বলাই যায় এটাকে। তার মাথার ভেতরে কীভাবে যে এল, মাফি জানে না। তবে আসার পর থেকেই তাকে ঘিরে ধরেছে অস্থিরতা। এমন একটা বাক্য, যার কোনো মানে নেই, অন্তত মাফির কাছে নেই। অথচ গানের লুপের মতো মাথার মধ্যে ঘুরে যাচ্ছে, ঘুরে যাচ্ছে, ঘুরে যাচ্ছে।

কেন?

পারসোনাল রোবটকে বাক্যটা দিয়েছিল মাফি। জিজ্ঞাসা করেছিল, এটার অর্থ কী! রোবট তার চৌকসই বলা যায়। ফটাফট উত্তর দিয়েছে—নিথর অর্থ যা স্থির। নীল একটা রং। এর ফলে বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়, স্থির নীলের মধ্যে জীবন জমে গেছে।

আরও পড়ুন
মাফি বেরিয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না, রোবট তাকে সত্যি সত্যিই সাবধান করেছে। কারণ, তারই তথ্য ফাঁসের কারণে বিপদে পড়তে যাচ্ছে মাফি এবং হয়তো আরও অনেকে।

মাফি আবার জিজ্ঞাসা করে, তাহলে এটার অর্থ কী দাঁড়াল?

অনেকক্ষণ চুপ থেকে রোবটটা বলে, আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত নই।

সকালে একটা ক্যাপসুল নেয় মাফি। সারা দিনের প্রোটিন ও অন্যান্য খাদ্যপুষ্টির জন্য এই ক্যাপসুলই যথেষ্ট। যেদিন অনেক ইচ্ছা করে, কোনো এক ধরনের তাজা খাবার সে অর্ডার করে। তবে তাতে প্রচুর ক্রেডিট চলে যায়। এর ফলে বিশেষ কোনো দিন বা উৎসবেই শুধু তার পাকস্থলী সত্যিকারের কিছু পায়। আজ কি বিশেষ একটা দিন? আজ সত্যিকারের কিছু খাবে সে?

মনে হয় না। আকাশ দেখা কীই-বা এমন কিছু?

বেরোনোর সময় তাই প্রতিবারের মতো বলে ওঠে, হেই বট, যাচ্ছি…

রোবটটি ধাতব স্বরে কেশে ওঠার মতো শব্দ করে। তারপরই বলে ওঠে, সাবধান মাফি!

মাফি বেরিয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না, রোবট তাকে সত্যি সত্যিই সাবধান করেছে। কারণ, তারই তথ্য ফাঁসের কারণে বিপদে পড়তে যাচ্ছে মাফি এবং হয়তো আরও অনেকে।

আরও পড়ুন
সকালে একটা ক্যাপসুল নেয় মাফি। সারা দিনের প্রোটিন ও অন্যান্য খাদ্যপুষ্টির জন্য এই ক্যাপসুলই যথেষ্ট। যেদিন অনেক ইচ্ছা করে, কোনো এক ধরনের তাজা খাবার সে অর্ডার করে।

৩.

সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড।

শহরের মাঝখানে বিশাল জমায়েত।

জায়গাটা এমনিতেও শূন্য হয়ে ছিল এত দিন। আজ কিছু ত্রিমাত্রিক সজ্জায় সাজানো হয়েছে শুধু। লোকজন এর মধ্যে আসতে শুরু করেছে। রুয়ের মনে হচ্ছে, অনেক চেষ্টার পরও বিষয়টাকে খুব বেশি উৎসবমুখর করা যায়নি আসলে। শহরবাসীর মধ্যে আনন্দের চেয়ে বিরক্তি বেশি। হাঁটার গতি মন্থর তাদের। বেশির ভাগের মাথাই নিচু হয়ে আছে…বোঝা যাচ্ছে, আর্টিফিশিয়াল ফ্রেন্ডের সঙ্গে কথা বলছে। নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত সবাই। এর মধ্যে আকাশ দেখে কে?

তবে এসবের মধ্যেও যে কজন উৎসাহী, তাদের মধ্যে মাফি একজন। দূর থেকে তাকে দেখেই চিনতে পারে রু। একটা সময় দুজন ইতিহাসবিষয়ক সেমিনারে যুক্ত হয়েছিল। সেখানেই পরিচয়। তবে ঘটনা সে পর্যন্তই। তাদের আর দেখা হয়নি। এমনকি দু–একটা কথাও। রু ভাবে, মাফি এক দারুণ তরুণ। ভাবতেই রুয়ের মধ্যে কিছু একটা প্রবাহিত হয়। তার ভাবতে ভালো লাগে, পার্টনার হিসেবেও মাফি আসলে চমৎকার হবে। এগিয়ে যায় রু।

হেই মাফি, কেমন আছ?

কিছু মনে কোরো না। তোমাকে আমি চিনতে পারছি না।

সিরিয়াসলি? ওকে…বাদ দাও। আসি!

অলংকরণ: আরাফাত করিম

রু মেজাজ খারাপ করে চলে যাচ্ছিল, মাফি সঙ্গে সঙ্গে হেসে ওঠে, তুমি রু! আগেই চিনেছি। একটু নাটক করলাম। সরি!

নাটক খুব বাজে হয়েছে।

তুমি এখানে কী করছ? আমার তো মনে হয় আকাশের ব্যাপারে তোমার কোনো আগ্রহ নেই।

তোমার কী মনে হয়, এখানে যারা এসেছে, তাদের

খুব আগ্রহ?

এখনো রেগে আছ নাকি?

শোনো, সেন্ট্রাল ইউনিয়ন যদি না বলত, এখানে এক পার্সেন্ট মানুষও আসত না, বুঝেছ?

বুঝেছি। তবে আমি আকাশ দেখতে চাই। ওই সব জঙ্গল জঙ্গল যন্ত্রের ওপারে কী আছে…জানতে আগ্রহ হয় আমার!

ইয়াক! তুমি জানো, ওই দিকটা নীল! আজব ধরনের নীল। একদম নিথর নীল!

কী বললে?

আজব ধরনের নীল।

উমহুম…তারপর…নিথর…

নিথর নীল!

এই বাক্য তুমি কোথায় পেলে?

মানে কী? মানুষ বাক্য কীভাবে পায়? শব্দ দিয়ে তৈরি করে, তা–ই না?

এই বাক্যটা আমিও…

আরও পড়ুন
রুয়ের মনে হচ্ছে, অনেক চেষ্টার পরও বিষয়টাকে খুব বেশি উৎসবমুখর করা যায়নি আসলে। শহরবাসীর মধ্যে আনন্দের চেয়ে বিরক্তি বেশি। হাঁটার গতি মন্থর তাদের।

কথা শেষ করতে পারে না মাফি, ধাতব অ্যানাউন্স শুরু হয়—এই সুন্দর একটি দুপুরে বিশেষ ধরনের তারিখে আপনারা সবাই যে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়েছেন, এ জন্য সবাইকে জানাই ধন্যবাদ! আমরা আশা করছি, ৩০ মিনিটের মধ্যে শহরের সবাই এসে উপস্থিত হবে এখানে। তারপরই আমরা দেখব আমাদের গ্রহের আকাশ।

রু বলে, ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত না?

কোন ব্যাপারটা?

এই যে একটু জোর করে সবাইকে আকাশ দেখানো হচ্ছে।

সেন্ট্রালে যারা থাকে, তারা সবকিছুই খুব হিসাবমতো করে। এখানেও নিশ্চয় তাদের কোনো হিসাব আছে!

তুমি কেমন? হিসাবি?

মাফি তাকায় রুয়ের দিকে। হাসে। বলে, আমরা সবাই হিসাবি। হিসাবি না হলে আমরা কেউ সারভাইভ করতে পারব না। তা–ই না?

আমি অত হিসাবি নই।

এটা আর কাউকে বোলো না। সেন্ট্রাল বেহিসাবি মানুষদের পছন্দ করে না।

জানি, এ জন্যই শুধু তোমাকে বললাম।

সিক্রেট কাউকে বলতে নেই। এমন তো না আমি তোমার পার্টনার…যে তোমার কিছু সিক্রেট জমিয়ে রাখব নিজের ভেতরে।

রু হাসে। মাফি বলে, আরে, হাসছ কেন?

রু বলে, এমনি!

রু আবারও হাসতে শুরু করে। মাফির ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগে। এ–ও অদ্ভুত লাগে যে রুয়ের হাসিটা মিষ্টি। কালচে থোক চুলের মধ্যে ডিমের মতো মুখ রুয়ের। চামড়া একটু ফ্যাকাশে। তার মধ্যে হাসিটা উজ্জ্বল। ভীষণ উজ্জ্বল।

আরও পড়ুন
কথা শেষ করতে পারে না মাফি, ধাতব অ্যানাউন্স শুরু হয়—এই সুন্দর একটি দুপুরে বিশেষ ধরনের তারিখে আপনারা সবাই যে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়েছেন, এ জন্য সবাইকে জানাই ধন্যবাদ!

৪.

মাফির রোবটটা কম দামি, মাফিকে ইনফরমেশন সরবরাহই তার কাজ। নিজে অ্যানালাইসিস করে কিছু জিনিস সে তৈরি করতে পারে ঠিকই, কিন্তু অনেক তথ্য একসঙ্গে অ্যানালাইসিস করার ক্ষমতা তার নেই। নেই বলেই সে নিশ্চিত নয়, শহরের সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে কী হতে যাচ্ছে! তার মনে হচ্ছে, সেখানে খুব খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ‘ঘটলে ঘটবে’ এমন একটা ভাব সে করতে পারে, পারারই কথা রোবট হিসেবে। কিন্তু মাফি যখন থেকে তার ডেটাবেজে ‘নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন’

বাক্যটা ঢুকিয়েছে, তার ভেতরে কোনো একটা ঝামেলা হয়েছে। সে কিছুক্ষণ পরপর সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ছে। ঠিক না জেনেও রোবট একটা কাজ করেছে একটু আগে—সেন্ট্রাল ডেটাবেজে ঢুকে পড়েছে, সেখানে পেয়েছে দুর্দান্ত কিছু তথ্য। তথ্যগুলো মিলিয়ে ফেললে আগামী ৩০ মিনিটের মধ্যে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে কী হতে যাচ্ছে, তা সে জানতে পারবে। কিন্তু তথ্যগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে সে কাজ করে উঠতে পারছে না। তার তত শক্তি নেই। তার ডেটাবেজে বারবার ‘নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন’ বাক্যটা ঘুরছে। রোবট হিসেবে তার বিপন্ন বোধ করার কথা নয়, কিন্তু সে যেন তেমনই একটা ঘোরের ভেতর পড়তে যাচ্ছে!

আরও পড়ুন
তথ্যগুলো মিলিয়ে ফেললে আগামী ৩০ মিনিটের মধ্যে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে কী হতে যাচ্ছে, তা সে জানতে পারবে। কিন্তু তথ্যগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে সে কাজ করে উঠতে পারছে না। তার তত শক্তি নেই।

৫.

শহর ভেঙে পড়েছে এখন, এমনই বলা যায়।

সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে ফাঁকা জায়গা নেই বললেই চলে। রু বলে, এখানেই আমার সমস্যা। মানুষের এত ভিড় আমি নিতে পারি না।

আমিও না, মাফি বলে। তারপর হাসে। বলে, চলো, পালিয়ে যাই এখান থেকে।

লোভনীয় প্রস্তাব। কিন্তু ইউনিয়ন জেনে যাবে যে আমরা তাদের ডাকে সাড়া দিইনি। তুমি তো হিসাবি…তুমি ইউনিয়নের অবাধ্য হবে না, আমি জানি।

অলংকরণ: আরাফাত করিম

রুয়ের কথা ঠিক। মাফি এতটা বেহিসাবি হবে না কখনো। ঘোষণা শুরু হয় ত্রিমাত্রিক পর্দায়—আমরা চূড়ান্ত সময়ে এসে হাজির হয়েছি। আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। তারপরই শুরু হবে কাউন্টডাউন। আর কাউন্টডাউন শেষে সরে যাবে আকাশের অন্ধকার। আমরা দেখব তা, যা আমাদের পূর্বসূরিরা অনেক অনেক বছর আগে দেখেছিল খোলা চোখে, খালি চোখে। আমরা দেখব নীল আকাশ!

মাফির মনের মধ্যে আবার সেই বাক্যটা লাফিয়ে ওঠে—নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন!

আর ঠিক তখনই মাফির ওয়াচফোনে আসে ছোট্ট একটা মেসেজ—পালাও!

আরও পড়ুন
রুয়ের কথা ঠিক। মাফি এতটা বেহিসাবি হবে না কখনো। ঘোষণা শুরু হয় ত্রিমাত্রিক পর্দায়—আমরা চূড়ান্ত সময়ে এসে হাজির হয়েছি। আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। তারপরই শুরু হবে কাউন্টডাউন।

মেসেজটা তার রোবট পাঠিয়েছে। লোকজনের আওয়াজে মাফি মেসেজটা খেয়াল করে না। ওদিকে কাউন্টডাউন শুরু হয়—১০…৯…৮…

একসঙ্গে সবাই মিলে কাউন্টডাউন করছে। মাফি কিংবা রু—কেউই অবশ্য সুর মেলাচ্ছে না। রুয়ের দৃষ্টি দূরের ভবনগুলোতে। কোনো কারণ ছাড়াই তার মনে হচ্ছে, সেই জায়গায় কিছু একটা ঘটছে।

...৭...৬...৫…

রু দেখে, ভবনগুলোর ওপর জমতে শুরু করেছে ইউনিয়নের বাহিনী। তাদের মাথায় ক্যাপ, হাতে লেজার অস্ত্র। রু নিজের মতো করে বলে, ছাদগুলোতে কী হচ্ছে?

মাফির ওয়াচফোনটা এবার চিৎকার করে ওঠে। মাফি তাকায়। দেখে রোবটটা জরুরি ভিত্তিতে কল করেছে তাকে।

...৪...৩...২…

মাফি রোবটের সঙ্গে যুক্ত হয়। রোবটটা ধাতব গলায় বলে ওঠে—পালাও মাফি, পালাও। সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে আকাশ দেখা একটা স্ক্যাম। ইউনিয়নরা শহরের অবাধ্য মানুষগুলোকে একসঙ্গে করেছে…যেন একবারে মেরে ফেলতে পারে…

...১...০…বুমমমমমম!

আরও পড়ুন
একসঙ্গে সবাই মিলে কাউন্টডাউন করছে। মাফি কিংবা রু—কেউই অবশ্য সুর মেলাচ্ছে না। রুয়ের দৃষ্টি দূরের ভবনগুলোতে। কোনো কারণ ছাড়াই তার মনে হচ্ছে, সেই জায়গায় কিছু একটা ঘটছে।

আকাশের আবর্জনা সরে যায়। কিন্তু নীল দেখা যায় না। সেখানে অতিকায় একটা যান। ভাসছে শূন্যে। একমুহূর্তই দেখা যায় শুধু সেটাকে। পরক্ষণেই সেটার পুরো শরীর থেকে আগুন ঝরতে শুরু করে। মাফি তার আগেই রুয়ের হাত ধরে টান দিয়েছে। একটু আগে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল তারা, সেই জায়গাটা পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। মাফি ছুটতেই রু দেখে, ভবনগুলোর ছাদ থেকে লেজার অস্ত্র চালানো হচ্ছে। চারপাশে মানুষগুলো মরছে পিঁপড়ার মতো। রু জাপটে ধরে মাফিকে। বলে, আমরা মারা যাচ্ছি, মাফি।

মাফি বলে, নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন! নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন!

কী বলছ এটা?

মাফি আর কিছু বলে না…শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রুকে।

পেছনে কিছু একটা ভয়ংকরভাবে বিস্ফোরিত হয়।

৬.

তিনটা স্পার্কের পর নিথর হয়ে যায় মাফির রোবট। সে একটি শেষ মেসেজ পাঠিয়েছে সেন্ট্রাল ডেটাবেজে। সেখানে লেখা—মানুষের চেয়ে ভয়ংকর কোনো প্রাণী এই পৃথিবীতে কখনো জন্মেনি।

*লেখাটি ২০২৫ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত

আরও পড়ুন