কারা পেলেন ২০২৬ সালের ইগ নোবেল
কখনো চুমুর সংজ্ঞা ঠিক করতে গবেষণা হয়, কখনো মশার মুখের সূচালো অংশ দিয়ে বানানো হয় অতিসূক্ষ্ম নোজল। কোথাও গবেষকেরা পরীক্ষা করেন, কোন কোণে প্রস্রাব করলে ইউরিনালে প্রস্রাব ছিটকে গায়ে লাগবে না। আবার কোথাও হাজার জোড়া অন্তর্বাস মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়, শুধু মাটির স্বাস্থ্য বোঝার জন্য!
এসব গবেষণার বিষয় শুনতে অদ্ভুত ও হাস্যকর মনে হলেও এর পেছনে নিখাদ বিজ্ঞান রয়েছে। আর এই অদ্ভুতুড়ে গবেষণাগুলোকে সামনে আনতেই প্রতিবছর দেওয়া হয় ইগ নোবেল পুরস্কার। এই পুরস্কারটি এমন কাজকেই সম্মান জানায়, যা প্রথমে মানুষকে হাসায়, তারপর ভাবায়।
২০২৬ সালের ইগ নোবেল পুরস্কার সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৬তম ইগ নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। ১৯৯১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আয়োজনের প্রচলন ছিল। তবে আন্তর্জাতিক অতিথিদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠানটি ইউরোপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এবারের পুরস্কারের তালিকায় চুমু খাওয়া থেকে শুরু করে সাপের কামড়, মশার শুঁড়, তেলাপোকার দুধ, নাক ঝাড়া, বন্ধুত্ব, এমনকি অন্তর্বাস থেকে ইউরিনাল পর্যন্ত নানা বিষয় রয়েছে। চলুন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক ইগ নোবেলজয়ীদের অদ্ভুত সব গবেষণার সারসংক্ষেপ।
৩ সেপ্টেম্বর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৬তম ইগ নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। ১৯৯১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আয়োজনের প্রচলন ছিল।
বায়োমেকানিকস: চুমুর নির্ভুল সংজ্ঞা!
এবার বায়োমেকানিকসে ইগ নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাটিল্ডা ব্রিন্ডল, ক্যাথরিন ট্যালবট ও স্টুয়ার্ট ওয়েস্ট। তাঁরা চুমুর একটি নির্ভুল সংজ্ঞা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের প্রস্তাবিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, চুমু হলো একই প্রজাতির দুটি প্রাণীর মধ্যে এমন একধরনের অ-আক্রমণাত্মক মুখে-মুখে যোগাযোগ, যাতে ঠোঁট বা মুখের অংশ কিছুটা নড়ে এবং খাবার আদান-প্রদান হয় না।
সাধারণত মানুষের ক্ষেত্রে চুমুর সংজ্ঞা দেওয়া হয় ঠোঁট সামনে বাড়িয়ে মুখের মধ্যে একধরনের শোষণমূলক নড়াচড়ার মাধ্যমে। কিন্তু গবেষকদের কাছে এই সংজ্ঞাটি যথেষ্ট মনে হয়নি। কারণ, শুধু মানুষের আচরণ দিয়ে চুমুর সংজ্ঞা দিলে প্রাণীজগতের অন্য সদস্যরা বাদ পড়ে যায়। গবেষকেরা পিঁপড়া, পাখি, মেরুভল্লুক ও মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীর মুখে-মুখে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বড় আকারের অধিকাংশ বানরজাতীয় প্রাণী কোনো না কোনো ধরনের চুমুর মতো আচরণ করে থাকে।
বায়োমেকানিকসে ইগ নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাটিল্ডা ব্রিন্ডল, ক্যাথরিন ট্যালবট ও স্টুয়ার্ট ওয়েস্ট। তাঁরা চুমুর একটি নির্ভুল সংজ্ঞা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।
অর্থনীতি: ধনীদের অনৈতিক আচরণ!
অর্থনীতির ইগ নোবেল পেয়েছেন পল পিফ, ড্যানিয়েল স্ট্যানকাটো, স্টেফান কোটে, রোডলফো মেন্ডোজা-ডেন্টন ও ড্যাচার কেল্টনার। তাঁরা গবেষণায় এমন সব প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, যেখানে দেখা যায় যে সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষ শিশুদের জন্য রাখা ক্যান্ডি বা চকলেট নিজেরা নিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী! অন্যান্য অনৈতিক আচরণের প্রবণতাও তাঁদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।
এই গবেষকেরা এ-সংক্রান্ত সাতটি গবেষণা করেছেন। কোথাও দেখা হয়েছে, দামি গাড়ি চালানো উচ্চ শ্রেণির মানুষ রাস্তার ব্যস্ত চারমুখী মোড়ে অন্য গাড়িকে বেশি ওভারটেক করেন কি না। কোথাও দেখা হয়েছে, তাঁরা পথচারীদের সামনে গাড়ি থামানোর নিয়ম বেশি ভাঙেন কি না।
ল্যাবরেটরির এক পরীক্ষায় শিশুদের জন্য রাখা মোড়ানো ক্যান্ডি থেকে গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের জন্য ক্যান্ডি নিয়ে নেন কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। অন্য একটি পরীক্ষায় লুডুর গুটি ফেলার ফলাফল নিয়ে মিথ্যা বলার প্রবণতাও যাচাই করা হয়।
গবেষণাগুলোতে দেখা যায়, সমাজের উঁচু শ্রেণির অংশগ্রহণকারীদের অনৈতিক আচরণে তুলনামূলক বেশি আগ্রহ রয়েছে। তবে ব্যতিক্রমও আছে। ধনী ও নৈতিক মানুষ যেমন আছেন, তেমনি দারিদ্র্যের সঙ্গেও সহিংস অপরাধের সম্পর্ক পাওয়া গেছে বলে গবেষকেরা স্বীকার করেছেন।
ল্যাবরেটরির এক পরীক্ষায় শিশুদের জন্য রাখা মোড়ানো ক্যান্ডি থেকে গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের জন্য ক্যান্ডি নিয়ে নেন কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়।
রসায়ন: তেলাপোকার দুধ!
এবার রসায়ন ইগ নোবেল পেয়েছেন ভারত, ফ্রান্স, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ১১ জন গবেষক। তাঁরা আবিষ্কার করেছেন, ভিভিপ্যারাস তেলাপোকার দুধের প্রোটিনে গরুর দুধের প্রোটিনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি শক্তি থাকে! (হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন! বিশেষ জাতের এই তেলাপোকা ডিম না পেড়ে সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে এবং ছানাদের খাওয়ানোর জন্য নিজের পেটে পুষ্টিকর তরল তৈরি করে।)
গবেষণাটি করা হয়েছে Diploptera punctata নামে একধরনের তেলাপোকা নিয়ে। এই তেলাপোকাদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এরা ডিম পাড়ার বদলে মায়ের শরীরের ভেতর ভ্রূণকে বড় করে এবং এদের সরাসরি দুধের মতো তরল দিয়ে পুষ্টি জোগায়।
এই তেলাপোকার ভ্রূণ অবস্থার শুরুতে কিছু কুসুম থাকে। পরে এদের গলা ও পরিপাকতন্ত্র তৈরি হলে এরা প্রোটিনসমৃদ্ধ দুধের মতো তরল খেতে শুরু করে। এই তরল এদের শরীরের ভেতরে গিয়ে ক্রিস্টাল বা স্ফটিকে পরিণত হয়।
গবেষকেরা তেলাপোকার ভ্রূণের শরীর থেকে এসব দুধের ক্রিস্টাল সংগ্রহ করে এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন এবং ফ্রি-ইলেকট্রন লেজার ব্যবহার করে এর গঠন পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, একটি তেলাপোকার ভ্রূণের ক্রিস্টালে সমপরিমাণ গরুর দুধের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি শক্তি থাকতে পারে। কারণ, ক্রিস্টালের গঠনে খাবার খুব ঘনভাবে সঞ্চিত থাকে।
ভারত, ফ্রান্স, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ১১ জন গবেষক আবিষ্কার করেছেন, ভিভিপ্যারাস তেলাপোকার দুধের প্রোটিনে গরুর দুধের প্রোটিনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি শক্তি থাকে!
চিকিৎসা: নাক কীভাবে ঝাড়তে হয়
জাপানের প্রয়াত টোকুজি উননো পেয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইগ নোবেল। তাঁর গবেষণা ‘নাক কীভাবে ঝাড়তে হয়, নাক ঝাড়ার বায়ুগতিবিদ্যার একটি গবেষণা’। নাক ঝাড়ার সময় বাতাসের গতি, পরিমাণ এবং সময়ের পরিবর্তন বোঝার জন্য তিনি গবেষণাটি করেন। এ জন্য মোট ৬০টি পরীক্ষা করা হয়।
এসব পরীক্ষায় নাকের দুই পাশ দিয়ে বাতাস বের হওয়ার বিষয়টি পরিমাপ করা হয়। পাশাপাশি কানের ভেতরের চাপের পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণায় তিনি দেখেছেন, নাক দিয়ে যত দ্রুত বাতাস বের হয়, শ্লেষ্মা তত কার্যকরভাবে বের করা যায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এতে কানের ভেতরের চাপও তেমন বাড়েনি। এমনকি কানে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি দেখা যায়নি।
এই গবেষণার ভিত্তিতে টোকুজি জোরে ও দীর্ঘ সময় ধরে নাক ঝাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। টোকুজি মারা গেছেন, তাই তাঁকে মরণোত্তর এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর সহকর্মী ডা. মিকি তাকাহারা।
গবেষণায় টোকুজি উননো দেখেছেন, নাক দিয়ে যত দ্রুত বাতাস বের হয়, শ্লেষ্মা তত কার্যকরভাবে বের করা যায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এতে কানের ভেতরের চাপও তেমন বাড়েনি।
জীববিজ্ঞান: সাপের কামড় খাওয়ার উপায়!
জীববিজ্ঞানের ইগ নোবেল পেয়েছেন ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন গবেষক। তাঁরা মূলত জানতে চেয়েছিলেন, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে বিষধর সাপের মানুষকে কামড়ানোর আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। এ জন্য গবেষকেরা পরীক্ষামূলকভাবে ৭৫টি বিষধর পিট ভাইপার সাপের মুখোমুখি হন!
গবেষণায় তাঁরা নিরাপদ জুতা পরে সাপের মাথা, শরীরের মাঝামাঝি অংশ ও লেজে পা দেন। কখনো আবার সাপের কাছাকাছি শুধু পা রেখে দেখেন। গবেষকেরা সাপের আকার, লিঙ্গ, শরীরের তাপমাত্রা, পরিবেশের তাপমাত্রা, সময় এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেন।
তাঁদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দিনের বেলা এবং উষ্ণ তাপমাত্রায় সাপের কামড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকে। মানুষের পা যদি সরাসরি সাপের মাথায় পড়ে, তখনো কামড়ানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়। অল্পবয়সী সাপ, বিশেষ করে স্ত্রী সাপ তুলনামূলক বেশি কামড়াতে পারে। পুরুষ সাপের ক্ষেত্রে শরীরের আকারও বেশ গুরুত্বপূর্ণ; ছোট পুরুষ সাপগুলো বেশি কামড়ানোর প্রবণতা দেখিয়েছে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দিনের বেলা এবং উষ্ণ তাপমাত্রায় সাপের কামড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকে। মানুষের পা যদি সরাসরি সাপের মাথায় পড়ে, তখনো কামড়ানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়।
পদার্থবিজ্ঞান: প্রস্রাব ছিটকে গায়ে না লাগার উপায়!
এবার পদার্থবিজ্ঞানের ইগ নোবেল পেয়েছেন র্যান্ডি হার্ড, ঝাও প্যান, ট্যাড ট্রাসকট ও কাভিশান থুরাইরাজাহ। তাঁদের গবেষণার বিষয় হলো, কীভাবে এমন ইউরিনাল বানানো যায়, যেখানে প্রস্রাব করার সময় তরল ছিটকে গায়ে বা বাইরে আসবে না।
গবেষকেরা দেখেছেন, ইউরিনালের পৃষ্ঠে প্রস্রাবের ধারা ঠিক কোন কোণে আঘাত করছে, সেটিই এখানে আসল বিষয়। কোণ যথেষ্ট ছোট হলে তরল ছিটকে না গিয়ে মসৃণভাবে পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। গবেষণায় মানুষের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কোণ হিসেবে ৩০ ডিগ্রি কোণ পাওয়া গেছে। এরপর এই কোণ ধরে এমন একটি ইউরিনালের নকশা তৈরি করা হয়েছে, যা বিভিন্ন উচ্চতার মানুষের জন্যও কাজ করবে।
সাধারণ আয়তাকার ইউরিনালের বদলে তাঁরা শামুকের খোলসের মতো বাঁকানো কাঠামো বেছে নেন। এর নাম দেওয়া হয় নটিলাস বা নটি-লু। কম্পিউটার মডেল ও প্রোটোটাইপে প্রস্রাবের ধারা পরীক্ষা করে তাঁরা দেখেন, এখানে কোনো তরল ছিটকে পড়ছে না! অন্য নকশাগুলোর তুলনায় এসব নকশায় প্রস্রাব ছিটকে পড়ার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ গুণ পর্যন্ত কম ছিল।
গবেষণায় মানুষের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কোণ হিসেবে ৩০ ডিগ্রি কোণ পাওয়া গেছে। এরপর এই কোণ ধরে এমন একটি ইউরিনালের নকশা তৈরি করা হয়েছে, যা বিভিন্ন উচ্চতার মানুষের জন্যও কাজ করবে।
প্রযুক্তি: মশার শুঁড় দিয়ে নজল!
প্রযুক্তির ইগ নোবেল পেয়েছেন চীন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের ১২ জন গবেষক। তাঁরা মশার মুখের সূচালো অংশ বা প্রোবোসিস ব্যবহার করে অতিসূক্ষ্ম নজল তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে নেক্রোপ্রিন্টিং।
গবেষকেরা প্রথমে মৌমাছি, বোলতা ও বিচ্ছুর হুল, বিষধর সাপের দাঁত এবং শতপদীর নখসহ বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গ পরীক্ষা করেন। এসব অঙ্গের অনেকগুলোই কোনো তরল নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজে বিবর্তিত হয়েছে।
কিন্তু উচ্চমাত্রার নির্ভুল থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের জন্য সেগুলো পুরোপুরি উপযোগী ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাঁরা বেছে নেন স্ত্রী মশার প্রোবোসিস। এটি খুব সরু, শক্ত এবং সোজা। ফলে এটি অতিসূক্ষ্মভাবে তরল প্রবাহের কাজ করতে পারে।
থ্রিডি নেক্রোপ্রিন্টার নামে পরিচিত এই নজল ১৮ থেকে ২২ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত সূক্ষ্ম রেজল্যুশনে প্রিন্ট করতে পারে। সবচেয়ে ছোট বাণিজ্যিক ধাতব নজলের তুলনায় এটি প্রায় দুই গুণ বেশি সূক্ষ্ম!
চীন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের ১২ জন গবেষক মশার মুখের সূচালো অংশ বা প্রোবোসিস ব্যবহার করে অতিসূক্ষ্ম নজল তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে নেক্রোপ্রিন্টিং।
ঘ্রাণ: কিশোর সন্তানের গায়ের গন্ধ
ঘ্রাণবিষয়ক ইগ নোবেল পেয়েছেন পোল্যান্ড, জার্মানি ও সুইডেনের ৪ জন গবেষক। তাঁদের গবেষণার বিষয়টি বেশ মজার। বাবা-মায়ের কাছে ছোট শিশুদের শরীরের গন্ধ ভালো লাগে। কিন্তু সেই সন্তান বড় হয়ে কিশোর বয়সে পৌঁছালে তাদের শরীরের সেই গন্ধ বাবা-মায়ের আর ততটা ভালো লাগে না!
গবেষকেরা ২৩৫ জন অভিভাবককে প্রশ্ন করেন। তাঁদের উত্তরে দেখা যায়, শিশু বা ছোট সন্তানদের শরীরের নিজস্ব গন্ধ অভিভাবকেরা বেশ উপভোগ করেন। সন্তান যত বড় হয়, সেই গন্ধ উপভোগ করার মাত্রা তত কমতে থাকে। তবে পরিবারের কিশোর-কিশোরীদের গন্ধকে তাঁরা অপরিচিত শিশুদের গন্ধের চেয়ে বেশি পছন্দ করেন।
বাবা-মায়ের কাছে ছোট শিশুদের শরীরের গন্ধ ভালো লাগে। কিন্তু সেই সন্তান বড় হয়ে কিশোর বয়সে পৌঁছালে তাদের শরীরের সেই গন্ধ বাবা-মায়ের আর ততটা ভালো লাগে না!
শান্তি: শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু!
শান্তির ইগ নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার ৫ জন গবেষক। তাঁরা দেখিয়েছেন, যেসব মানুষকে আমরা অপছন্দ করি, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা বন্ধুকে আমরা কখনো কখনো বেশি মূল্য দিই।
সাধারণভাবে মানুষ বন্ধুর মধ্যে দয়া, বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভালো আচরণ পছন্দ করে। কিন্তু গবেষকেরা দেখতে চেয়েছিলেন, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে অন্য মানুষদের ভূমিকা কীভাবে এই পছন্দকে বদলে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ১ হাজারের বেশি মানুষকে নিয়ে এ সংক্রান্ত ছয়টি গবেষণা করা হয়। এতে দেখা যায়, মানুষ সাধারণত নিজের প্রতি বন্ধুর ভালো আচরণ পছন্দ করে। অপরিচিত বা নিরপেক্ষ মানুষের ক্ষেত্রেও বন্ধুর ভালো আচরণই বেশি পছন্দ করা হয়। কিন্তু যখন বিষয়টি হয়ে ওঠে নিজের শত্রু বা অপছন্দের মানুষের সঙ্গে বন্ধুর আচরণ, তখন চিত্র বদলে যায়! কিছু মানুষ এমন বন্ধুকেই বেশি পছন্দ করে, যে তাঁদের অপছন্দের মানুষের প্রতি বেশি কঠোর বা নিষ্ঠুর আচরণ করে। তবে তাঁরা চান না যে বন্ধু সবার প্রতিই এমন আচরণ করুক।
সাধারণভাবে মানুষ বন্ধুর মধ্যে দয়া, বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভালো আচরণ পছন্দ করে। কিন্তু গবেষকেরা দেখতে চেয়েছিলেন, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে অন্য মানুষদের ভূমিকা কীভাবে এই পছন্দকে বদলে দেয়।
মৃত্তিকাবিজ্ঞান: মাটির নিচে অন্তর্বাস!
মৃত্তিকাবিজ্ঞানের ইগ নোবেল পেয়েছেন সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির ৪ জন গবেষক। তাঁদের গবেষণায় ২৫টির বেশি দেশে ১ হাজার জোড়া একই ধরনের অন্তর্বাস মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। দুই মাস পর সেগুলো আবার মাটি খুঁড়ে বের করা হয়। অবশ্য এর উদ্দেশ্য কোনো গুপ্তধন হিসেবে অন্তর্বাস লুকিয়ে রাখা নয়। আসল উদ্দেশ্য ছিল মাটির স্বাস্থ্য বোঝা।
মাটির স্বাস্থ্য বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো জটিল জৈব পদার্থ কত দ্রুত পচে যায়। সাধারণত এ জন্য টি-ব্যাগ বা চায়ের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। গবেষকেরা দেখতে চেয়েছিলেন, সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় কি না। অংশগ্রহণকারীদের দুই জোড়া জৈব সুতির অন্তর্বাস, ১২টি টি-ব্যাগ এবং মাটি সংগ্রহের ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা নির্দিষ্ট জায়গায় অন্তর্বাস ও টি-ব্যাগ মাটিতে পুঁতে রাখেন। এক জোড়া ৩০ দিন পর এবং অন্য জোড়া ৬০ দিন পর তুলে এনে গবেষকদের কাছে পাঠানো হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, মাটির ধরন এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তিগত বাগানে অন্তর্বাস সবচেয়ে দ্রুত পচেছে এবং সেখানকার মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি ছিল। অন্যদিকে বাসার লনে মাটির জীবের কার্যকলাপ ছিল সবচেয়ে কম। আর কৃষিজমি ও তৃণভূমি ছিল মাঝামাঝি পর্যায়ে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মাটির পুষ্টির মাত্রাও মাটির জীবের কার্যকলাপে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। দেখা গেছে, গবেষকদের তৈরি আন্ডারপ্যান্ট ইনডেক্স মাটির অবস্থা বোঝাতে টি-ব্যাগ ইনডেক্সের মতোই কার্যকর তথ্য দিতে পারে।