দ্য ম্যান হু নিউ ইনফিনিটি - ১৭

মাদ্রাজের সামান্য কেরানি থেকে কেমব্রিজের ফেলো—শ্রীনিবাস রামানুজনের জীবন যেন এক রূপকথা। দেবী নামাগিরি নাকি স্বপ্নে এসে তাঁকে জটিল সব সূত্র বলে যেতেন! কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই যিনি অসীমকে জয় করেছিলেন। তাঁর এই নাটকীয় জীবন নিয়েই রবার্ট কানিগেল লিখেছেন দ্য ম্যান হু নিউ ইনফিনিটি। রামানুজনের সেই জীবনী ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করছেন কাজী আকাশ।

তৃতীয় অধ্যায়

পৃষ্ঠপোষকের সন্ধানে

[১৯০৮ থেকে ১৯১৩]

১. জানকী

১৯০৮ সাল। কুম্বকোনম থেকে প্রায় ৬০ মাইল পশ্চিমে রাজেন্দ্রাম গ্রামে বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গেছেন রামানুজনের মা। সেখানে দেখলেন দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের মেয়েকে। ছিপছিপে গড়ন, উজ্জ্বল চোখ। নাম জানকী। 

ভারতে সম্বন্ধ করে বিয়ের প্রথম ধাপ কোষ্ঠী বা রাশিফল মেলানো। রামানুজনের মা তাই মেয়েটির কোষ্ঠী চাইলেন। তারপর বাড়ির দেয়ালে ছেলের কোষ্ঠী আঁকলেন এবং দুটোর মধ্যে মিল খুঁজে পেলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন—হ্যাঁ, এই মেয়েই হবে ছেলের বউ। এরপর শুরু হলো কথাবার্তা। রামানুজন তখন একুশ ছুঁই ছুঁই, আর জানকীর বয়স মাত্র নয়।

শ্রীনিবাস রামানুজনের স্ত্রী জানকী
ছবি: রাগামি'স কালেকশনস, মাদ্রাজ, সাউথ ইন্ডিয়া

অনেক দিক থেকেই এই বিয়েটা ছিল মানানসই। দুই পক্ষই সামাজিক মর্যাদায় সমানভাবে সাধারণ। জানকী ছিলেন একদম সাদাসিধে। দেখতে আহামরি কিছু নয়, শুধু সাধারণ মিষ্টি চেহারার মেয়ে। যে গ্রাম থেকে তিনি এসেছিলেন, সেটা এতই ছোট যে খুব বিস্তারিত ম্যাপ ছাড়া খুঁজে পাওয়াই দায়।

একসময় জানকীর পরিবার সচ্ছল ছিল। তাঁর বাবা গয়না তৈরির সরঞ্জাম বিক্রি করতেন। কিছু জমিজমারও মালিক ছিলেন। কিন্তু এখন দুর্দিন চলছে। তাই যৌতুক হিসেবে শুধু কয়েকটা চকচকে তামার পাত্র ছাড়া তাঁরা বেশি কিছু দিতে পারছিলেন না। স্বামী বাছাই করার মতো বিলাসিতা দেখানোর সামর্থ্যও তাঁদের ছিল না। বিশেষ করে জানকী ছিলেন পাঁচ মেয়ের একজন। জানকীর এক ভাইও ছিল।

ভারতে সম্বন্ধ করে বিয়ের প্রথম ধাপ কোষ্ঠী বা রাশিফল মেলানো। রামানুজনের মা তাই মেয়েটির কোষ্ঠী চাইলেন। তারপর বাড়ির দেয়ালে ছেলের কোষ্ঠী আঁকলেন এবং দুটোর মধ্যে মিল খুঁজে পেলেন।

তাঁদের একমাত্র চাওয়া ছিল এমন একটা পরিবার, যেখানে তাঁদের মেয়ের ওপর অন্তত একটু দয়া দেখানো হবে। বিশেষ করে বিয়ের শুরুর বছরগুলোতে। কারণ এ সময় সন্তানহীন বউকে শাশুড়ির কড়া শাসন ও প্রশ্নহীন কর্তৃত্বের নিচে খাটতে হয়।

অন্যদিকে পাত্র হিসেবে রামানুজনও কোনো লটারি জেতা পাত্র ছিলেন না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ—ডিগ্রি নেই, চাকরি নেই, ভবিষ্যতের কোনো ঠিক নেই। নিজের হবু স্বামী সম্পর্কে কিছুই জানতেন না জানকী। বিয়ের আগে তাঁর মুখটাও দেখেননি। তাঁর কাছে রামানুজন ছিলেন সাধারণ এক পরিবারের সাধারণ যুবক।

জানকী পরে ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁর বাবা-মা শুনেছেন কোমলতাম্মল তাঁর ছেলেকে গণিতের জিনিয়াস বলে প্রচার করছেন। যদি তা-ই হয়, তবে জানকী সেসবের কিছুই জানতেন না।

কোমলতাম্মলের কাছে যেহেতু সব ঠিকঠাক, তার মানে রামানুজনের পরিবারে সেটা চূড়ান্ত। কিন্তু স্বামী শ্রীনিবাস এই আয়োজনের কথা শুনে রেগে আগুন হলেন। প্রতিবাদ করলেন, কারণ ছেলে এর চেয়ে ভালো সম্বন্ধ পেতে পারে।

শ্রীনিবাস রামানুজনের মা কোমলতাম্মল
ছবি: রাগামি'স কালেকশনস, মাদ্রাজ, সাউথ ইন্ডিয়া

কুম্বকোনমের অনেক পরিবার রামানুজনকে জামাই করতে পারলে গর্বিত হতো। এমনকি দুই বছর আগেও যখন রামানুজন পাচাইয়াপ্পা কলেজে ছিলেন, কাঞ্চিপুরম থেকে এক ভালো প্রস্তাব এসেছিল। কনের বাড়িতে একটা মৃত্যুর কারণে তা ভেস্তে যায়। তবে শ্রীনিবাসের রাগের আসল কারণ ছিল, এই পরিকল্পনায় তাঁর কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। কোনো কিছুতেই তাঁকে শান্ত করা গেল না। তাই পরের বছর জুলাই মাসে যখন বিয়ের জন্য রাজেন্দ্রামে যাওয়ার সময় হলো, তিনি বাড়িতেই থেকে গেলেন।

জানকী পরে ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁর বাবা-মা শুনেছেন কোমলতাম্মল তাঁর ছেলেকে গণিতের জিনিয়াস বলে প্রচার করছেন। যদি তা-ই হয়, তবে জানকী সেসবের কিছুই জানতেন না।

শ্রীনিবাসের এই অনুপস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক। কিন্তু বর বা কনের মতামত ছাড়া বিয়ে ঠিক করাটা তখন ছিল সর্বজনীন প্রথা। ঠিক যেমন ছিল বাল্যবিবাহ। বেশির ভাগ মেয়েরই বয়ঃসন্ধির আগে বিয়ে হয়ে যেত। তবে তারা স্বামীর সঙ্গে সংসার শুরু করত আরও পরে।

ইউরোপীয়দের কাছে এই প্রথা ছিল ঘৃণ্য। কিন্তু স্থানীয় প্রথার ব্যাপারে স্পর্শকাতর ব্রিটিশরা নাক গলাত না। ১৮৯৪ সালে মহীশূর রাজ্যে আট বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে নিষিদ্ধ করে আইন পাস হয়। তবে মাদ্রাজে এমন চেষ্টা ছিল ব্যর্থ।

চার-পাঁচ দিন ধরে চলা ভারতীয় বিয়ে ছিল রং, জরি, গান আর অনুষ্ঠানের এক মহোৎসব। পুরো অর্থনীতিই প্রভাবিত হতো এই বিশাল আয়োজনের খরচে। এক বিয়েতেই ছয় মাসের আয় চোখের পলকে উড়িয়ে দেওয়া হতো। এমনকি সবচেয়ে গরিব পরিবারগুলোও মেয়ের যৌতুক, নতুন শাড়ি, খাবারের আয়োজন আর বাদ্যবাজনার খরচ মেটাতে গিয়ে চোখের পলক না ফেলে সর্বস্ব উজাড় করে দিত। প্রতিটি জমানো টাকা খরচ করত, এমনকি মহাজনদের কাছে ঋণীও হতো।

রামানুজনের বিয়েটা ছিল জোড়া বিয়ে। জানকীর বোন বিজয়লক্ষ্মীর বিয়েও ঠিক হয়েছিল একই দিনে। (দুর্ভাগ্যবশত, ডিসেম্বরের মধ্যেই তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মেয়েটি মারা যায়।) অন্য বর ঠিক সময়েই হাজির হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের আগের দিন গড়িয়ে রাত নামল, তবুও রামানুজন বা তাঁর পরিবারের দেখা নেই। জানকীর বাবা রঙ্গস্বামী শুরু থেকেই এই বিয়েতে খুব একটা রাজি ছিলেন না। রাগে জানকীর বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন, রামানুজন যদি শিগগিরই না আসে, তবে এখনই অন্য কারও সঙ্গে, হয়তো তাঁর নিজের ভাগ্নের সঙ্গেই জানকীর বিয়ে দিয়ে দেবেন...।

১৮৯৪ সালে মহীশূর রাজ্যে আট বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে নিষিদ্ধ করে আইন পাস হয়। তবে মাদ্রাজে এমন চেষ্টা ছিল ব্যর্থ।

কুম্বকোনম থেকে আসা ট্রেনটা রাজেন্দ্রামের কাছে কুলিত্থলাই স্টেশনে পৌঁছাল কয়েক ঘণ্টা দেরিতে। স্টেশন থেকে গরুর গাড়িতে করে রামানুজন আর তাঁর মা যখন গ্রামে পৌঁছালেন, তখন মধ্যরাত অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। রঙ্গস্বামীর ধৈর্য তখন বাঁধ ভেঙেছে। তিনি বিয়ে বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন।

কিন্তু কোমলতাম্মল তাঁর স্বভাবসুলভ অসামান্য বাকপটুতা কাজে লাগালেন। তিনি উচ্চস্বরেই প্রশ্ন তুললেন, পাঁচ মেয়ের বাবার কি দোরগোড়ায় আসা সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত হবে?

বরাবরের মতো কোমলতাম্মলই জিতলেন। রাত একটা বাজে। বরের সংবর্ধনা হলো। এরপর হলো কাশি যাত্রা। এই যাত্রায় বর সংসার ত্যাগ করে উত্তরের পবিত্র নগরী বেনারসে সন্ন্যাসী হতে যাওয়ার ভান করে। সে হয়তো ১০০ গজ এগোয়। তারপর কনের পরিবার তার পথ আটকায়। পা ধুয়ে অনুনয় করে ফিরে আসার জন্য। অবশেষে, ১৯০৯ সালের ১৪ জুলাই, জানকী সাত পাকে ঘুরে বিয়েকে অটুট বন্ধনে আবদ্ধ করলেন।

তবে বিয়েতে কিছু অশুভ ঘটনা ঘটেছিল। রামানুজন ও জানকী পরিবারের সাধ্যের সেরা রেশমি শাড়ি পরে দোলনায় বসে গান শুনছিলেন। সে সময় শহর থেকে আসা এক মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ের চিৎকারে সেই মুহূর্তের ছন্দপতন ঘটে। আরেকবার, জানকী রামানুজনের গলায় মালা পরানোর সময় হাত থেকে মালাটা মাটিতে পড়ে যায়। সবশেষে চলছিল ঢোল আর বাদ্যবাজনা। হঠাৎ বিয়ের মণ্ডপের এক কোণে আগুন লাগে। তা দ্রুতই নিভিয়ে ফেলা হলেও সেগুলোকে অশুভ লক্ষণ হিসেবেই দেখা হয়েছিল।

এই সবকিছুর মাঝেও অদম্য কোমলতাম্মল ছিলেন হাসিখুশি। তাঁর এই অবিচল ভাব সবার সহানুভূতি এবং কিছুটা বিস্ময়ও কুড়িয়েছিল।

কোমলতাম্মল তাঁর স্বভাবসুলভ অসামান্য বাকপটুতা কাজে লাগালেন। তিনি উচ্চস্বরেই প্রশ্ন তুললেন, পাঁচ মেয়ের বাবার কি দোরগোড়ায় আসা সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত হবে?

রামানুজনের বিয়ের পরপরই কিছু বদলাল না, অন্তত বাইরে থেকে। জানকী এখনই স্বামীর সঙ্গে থাকতে পারবেন না। বয়ঃসন্ধি না হওয়া পর্যন্ত আরও তিন বছর তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে। কুম্বকোনমে স্বামীর বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর তিনি রাজেন্দ্রামে নিজের বাড়িতে ফিরে যাবেন। সেখানে মায়ের সঙ্গে রান্নাঘরে কাজ করবেন তিনি। শিখবেন রান্নাবান্না ও গৃহস্থালি কাজ। শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধার পাঠও নেবেন।

কিন্তু বাহ্যিক পরিস্থিতি বিশেষ না বদলালেও রামানুজন জীবনের এক নতুন ধাপে পা দিয়েছিল। হিন্দুদর্শন জীবনকে চারটি ধাপে ভাগ করে। ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যান। ছাত্র থাকা অবস্থাকে বলে ব্রহ্মচর্য। এ সময়েই আধ্যাত্মিক ও জাগতিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। গৃহস্থ, পরিবার ও সংসারের দায়িত্ব পালনের সময়টা গার্হস্থ্য। এটিই জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়।

শ্রীনিবাস রামানুজন
ছবি: উইকিপিডিয়া

সংসারের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে নির্জনতা ও আত্মোপলব্ধি খোঁজার সময়কে বলে বানপ্রস্থ বা অরণ্যবাস। আর সবশেষে সন্ন্যাস মানে সব মায়া, সম্পর্ক ও সম্পত্তি ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক মুক্তির পথে হাঁটা। বিয়ের অনুষ্ঠানে বেনারসে যাওয়ার ভান করে রামানুজন প্রতীকীভাবে শেষ ধাপটি বেছে নেন। কিন্তু বাস্তবে এখন গার্হস্থ্য জীবনে প্রবেশ করেছেন তিনি। এখন তাঁর কাঁধে দায়িত্ব আছে, তাঁর স্ত্রী আছে। বাবার বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। তিনি আর সেই মুক্ত বিহঙ্গ নন, যে মনের আনন্দে গণিতের রাজ্যে ভেসে বেড়াবে। এখন তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পালা।

কিন্তু ঠিক তখনই এক শারীরিক সমস্যা বাধা হয়ে দাঁড়াল। পরে অনেকে একে ভদ্রতা করে অস্পষ্টভাবে কিডনির সমস্যা বললেও আসলে রামানুজনের হয়েছিল হাইড্রোসিল। তাঁর অণ্ডকোষে অস্বাভাবিক পানি জমেছিল।

এখন গার্হস্থ্য জীবনে প্রবেশ করেছেন রামানুজন। এখন তাঁর কাঁধে দায়িত্ব আছে, তাঁর স্ত্রী আছে। বাবার বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। তিনি আর সেই মুক্ত বিহঙ্গ নন, যে মনের আনন্দে গণিতের রাজ্যে ভেসে বেড়াবে।

হাইড্রোসিল কোনো বিশেষ রোগ নয়, বরং শারীরিক অবস্থাই বলা যায়। অণ্ডকোষের পানি শোষণের ভারসাম্যহীনতার কারণে এটা হতে পারে, আবার দক্ষিণ ভারতে মশাবাহিত পরজীবীর কারণে লিম্ফ সিস্টেমে ইনফেকশন থেকেও হতে পারে। হতে পারে যক্ষ্মার মতো অন্য সংক্রমণ থেকেও।

সাধারণত এর কোনো লক্ষণ থাকে না। এমনকি যৌনজীবনেও সমস্যা হয় না। পুরুষেরা বছরের পর বছর ছোট হাইড্রোসিল নিয়ে কাটিয়ে দেয়। কিন্তু যখন এটা টেনিস বলের মতো বড় হয়ে যায়, তখন চলাফেরার অসুবিধার কারণেই অস্ত্রোপচার জরুরি হয়ে পড়ে। অপারেশনটা খুব সাধারণ। অণ্ডকোষের থলিতে একটা ছোট ছিদ্র করে জমাট তরল বের করে দেওয়া হয়। যেহেতু অণ্ডকোষে প্রচুর রক্তনালি থাকে, তাই ঘা দ্রুত শুকায় এবং নোংরা পরিবেশেও সংক্রমণের ভয় কম থাকে।

সমস্যা ছিল একটাই, অপারেশনের জন্য পরিবারের কোনো টাকা ছিল না। কোমলতাম্মল বন্ধুদের কাছে সাহায্য চাইলেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে এল না। অবশেষে ১৯১০ সালের জানুয়ারি মাসে, ড. কুপ্পুস্বামী নামে এক ডাক্তার বিনামূল্যে অপারেশন করতে রাজি হন। এক বন্ধু পরে অবাক হয়ে বলেছিলেন, ক্লোরোফর্ম দেওয়ার সময় রামানুজন খেয়াল রাখছিলেন তাঁর কোন কোন ইন্দ্রিয় একে একে অবশ হয়ে যাচ্ছে!

পুরুষেরা বছরের পর বছর ছোট হাইড্রোসিল নিয়ে কাটিয়ে দেয়। কিন্তু যখন এটা টেনিস বলের মতো বড় হয়ে যায়, তখন চলাফেরার অসুবিধার কারণেই অস্ত্রোপচার জরুরি হয়ে পড়ে।

কিছুদিন রামানুজন বিছানায় পড়ে রইলেন। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই একদিন বন্ধু অনন্তরামনের সঙ্গে কয়েক মাইল দূরের এক গ্রামে হেঁটে যেতেই ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত শুরু হয়। কিন্তু শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠলেন। দীর্ঘ বিশ্রামের পর নতুন উদ্যমে রামানুজন বারান্দার গণ্ডি পেরিয়ে বাইরের বৃহত্তর জগতে পা বাড়াতে শুরু করলেন।

জি এস কারের বই পাওয়ার পর থেকে তিনি স্কুল, পরিবার ও বন্ধুদের দিকে পিঠ ফিরিয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন, এসব তাঁকে গণিত থেকে দূরে ঠেলে দেবে। তখন হয়তো তাঁর একা থাকার দরকার ছিল। এতে তিনি নির্ঝঞ্ঝাটভাবে তাঁর গাণিতিক ধ্যানের গভীরে ডুব দিতে পারতেন।

কিন্তু এখন ছয় বছর পর, হয়তো সময় হয়েছে নিজেকে আবার সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার। অবশ্যই এর পেছনে তাঁর মায়ের হাত দেখার প্রভাব ছিল। তিনি হয়তো সচেতন বা অবচেতনভাবে বুঝেছিলেন, ছেলের কিছু করতে হলে তাকে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আর বিয়ে তাকে সেটা করতে বাধ্য করবে।

যাহোক, শেষমেশ তা-ই হলো। রামানুজন এখন গৃহস্থ। মনে মনে যতই আপত্তি থাক না কেন, তিনি সেই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ত্যাগ করলেন। অথচ এত দিন সেটাই ছিল তাঁর আপন ভুবন।

চলবে…