ধারাবাহিক
দ্য ম্যান হু নিউ ইনফিনিটি – ২০
মাদ্রাজের সামান্য কেরানি থেকে কেমব্রিজের ফেলো—শ্রীনিবাস রামানুজনের জীবন যেন এক রূপকথা। দেবী নামাগিরি নাকি স্বপ্নে এসে তাঁকে জটিল সব সূত্র বলে যেতেন! কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই যিনি অসীমকে জয় করেছিলেন। তাঁর এই নাটকীয় জীবন নিয়েই রবার্ট কানিগেল লিখেছেন দ্য ম্যান হু নিউ ইনফিনিটি। রামানুজনের সেই জীবনী ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করছেন কাজী আকাশ।
৩. মাদ্রাজে অবসর
তিনি চেয়েছিলেন একটু অবসর…
আজকের দিনে অবসর বলতে আমরা যা বুঝি, রামচন্দ্র রাও সে অর্থে অবসর বুঝাননি। এই শব্দের শিকড় লুকিয়ে আছে মধ্যযুগীয় ইংরেজি Leisour শব্দে। এর আসল অর্থ স্বাধীনতা। অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে স্পষ্ট লেখা আছে, এই স্বাধীনতা মানে কাজ থেকে পালানো নয়; বরং মনের মতো কোনো কাজ করার অবারিত সুযোগ।
সপ্তদশ শতকের বিখ্যাত ফরাসি গণিতবিদ পিয়েরে ডি ফার্মা রাজার অধীনে চাকরি করেও প্রচুর অবসর পেতেন। এই অবসরে তিনি গণিতের জটিল সব জট খুলতেন।
ঠিক এটাই চাইতেন রামানুজনও। আয়েশ করে দিন কাটানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি চাইতেন পেটের চিন্তা ভুলে নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগানোর স্বাধীনতা। ব্রিটিশরা মনে করত, অবসর ও উচ্চাদর্শের কারণেই তাদের সংস্কৃতি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। ইউরোপের অভিজাতরা জীবিকার চিন্তায় মাথা ঘামাতেন না বলেই জ্ঞানবিজ্ঞান ও দর্শনের উন্নতি করেছিলেন। রামানুজন জন্মসূত্রে অভিজাত ছিলেন না ঠিকই, কিন্তু মেধার জগতে তিনি ছিলেন সত্যিকারের রাজপুত্র। তিনি শুধু সেটুকুই চেয়েছিলেন, যা পৃথিবীর হাজারো ধনী সন্তান জন্মগত অধিকার হিসেবে পায়।
আশ্চর্যের বিষয়, নিজের জেদ ও মেধার জোরে তিনি শেষপর্যন্ত সেই সুযোগ আদায় করেও নিলেন।
সপ্তদশ শতকের বিখ্যাত ফরাসি গণিতবিদ পিয়েরে ডি ফার্মা রাজার অধীনে চাকরি করেও প্রচুর অবসর পেতেন। এই অবসরে তিনি গণিতের জটিল সব জট খুলতেন।
এ কাজে রামানুজনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল তাঁর পরিচয়—তিনি ব্রাহ্মণ। অভাব ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী, পরিবারে অনেক সময় ঠিকমতো খাবারও জুটত না। কিন্তু ভারতে তখন টাকার চেয়ে জাতের দাম বেশি। ব্রাহ্মণ হওয়ার সুবাদে তাঁর জন্য এমন সব দরজা খুলে গিয়েছিল, যা অন্যদের জন্য চিরকাল বন্ধ ছিল।
এ সময় যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন—রামস্বামী আইয়ার, শেষু আইয়ার কিংবা রামচন্দ্র রাও—সবাই ছিলেন ব্রাহ্মণ। অন্য বর্ণের হলে তিনি হয়তো ধনীদের সাহায্য পেতেন, কিন্তু ব্রাহ্মণদের মতো এমন বিদ্যানুরাগী ও প্রভাবশালীদের পেতেন না। ব্রাহ্মণদের রক্তেই মিশে ছিল মেধার কদর ও একে অপরকে টেনে তোলার সংস্কৃতি।
ব্রাহ্মণ হিসেবে রামানুজন হয়তো ভেবেছিলেন, এই সৃষ্টিশীল অলসতা তাঁর প্রাপ্য। ঐতিহাসিকভাবেই ব্রাহ্মণরা দান-দক্ষিণা বা মন্দিরের প্রসাদেই জীবন ধারণ করতেন। জীবিকার জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি তাঁদের ধাতে ছিল না। কেউ হয়তো নিষ্ঠুরভাবে বলতে পারেন, রামানুজনের মধ্যে একধরনের আত্মহমিকা ছিল। যা ভালো লাগত না, তা তিনি পড়তেন না, করতেন না। গণিত ছাড়া অন্য কোনো কাজে তাঁর মন ছিল না। কিন্তু একটু গভীর মমতায়, একটু ন্যায়বিচার করে দেখলে বোঝা যায়, তিনি ছিলেন একজন জাগতিক সন্ন্যাসী। তাঁর ধ্যানের বিষয় ঈশ্বর নয়, গণিত।
ব্রাহ্মণ হিসেবে রামানুজন হয়তো ভেবেছিলেন, এই সৃষ্টিশীল অলসতা তাঁর প্রাপ্য। ঐতিহাসিকভাবেই ব্রাহ্মণরা দান-দক্ষিণা বা মন্দিরের প্রসাদেই জীবন ধারণ করতেন।
রামচন্দ্র রাও রামানুজনকে আবার শেষু আইয়ারের কাছে ফেরত পাঠালেন। তিনি বললেন, নেলোরের মতো মফস্বল শহরে রামানুজনকে পচতে দেওয়া হবে নিষ্ঠুরতা। তিনি তাঁকে স্থানীয় তালুক অফিসে কেরানির চাকরি দেবেন না, বরং চেষ্টা করবেন কোনো বৃত্তির ব্যবস্থা করতে। যদিও পরীক্ষায় ফেল করার জন্য কুখ্যাত ছিলেন রামানুজন। আপাতত তাঁকে মাদ্রাজেই রাখবেন; থাকা-খাওয়ার যাবতীয় খরচ বহন করবেন রামচন্দ্র রাও নিজেই।
রামানুজনের কাছে প্রতি মাসে পঁচিশ রুপির একটি মানি অর্ডার আসতে শুরু করে। টাকার অঙ্কটা খুব বেশি না, কিন্তু পেটের চিন্তা দূর করতে এটুকুই যথেষ্ট। জীবনটা যেন হঠাৎ ডানা মেলতে শুরু করল। ১৯১১ সালের শুরু থেকে পরের তিন বছরের জন্য কুম্বকোনমের সেই ছোট্ট গণ্ডি পেরিয়ে তিনি পা রাখলেন দক্ষিণ ভারতের রাজধানী মাদ্রাজে।
***
মাদ্রাজ তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পঞ্চম বৃহত্তম শহর। কলকাতা ও বোম্বের পরেই এর স্থান। নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ বলেন জেলের নামে নাম, কেউ বলেন বোকাদের রাজ্য। আবার কারো মতে পর্তুগিজ শব্দ ‘মাদ্রে ডি দিওস’ বা ‘ঈশ্বরের মা’ থেকে এই নামের উৎপত্তি। তবে শহরটি মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতিরই ফসল। ১৬৪২ সালে কূম নদীর মোহনায় জমি কিনে ‘ফোর্ট সেন্ট জর্জ’ বানিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর গোড়াপত্তন করে। সেই দুর্গটিই পরে দক্ষিণ ভারতে ব্রিটিশ শাসনের হৃৎপিণ্ড হয়ে ওঠে।
রামানুজনের কাছে প্রতি মাসে পঁচিশ রুপির একটি মানি অর্ডার আসতে শুরু করে। টাকার অঙ্কটা খুব বেশি না, কিন্তু পেটের চিন্তা দূর করতে এটুকুই যথেষ্ট। জীবনটা যেন হঠাৎ ডানা মেলতে শুরু করল।
মাদ্রাজ কোনো ছোট শহর ছিল না। ১৯১০ সালে মাদ্রাজের সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে ছিল। জর্জটাউন, ট্রিপলিকেন, মাইলাপুর ও চিপকের মতো অঞ্চলের ইতিহাস শত শত বছরের পুরোনো। শহরের কেন্দ্র থেকে সাড়ে তিন মাইল দক্ষিণে ছিল মাইলাপুর। সেখানেই বিখ্যাত কাপালেশ্বর মন্দির। বলা হয়, যিশুর শিষ্য সেন্ট থমাস প্রথম শতাব্দীতেই এখানে এসেছিলেন। তারও বহু আগে গ্রিক ও রোমান নাবিকদের কাছে এটি ছিল পরিচিত বন্দর।
আধুনিক মাদ্রাজ শহর সমুদ্রের খুব কাছাকাছি ছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কোনো অংশই ৫০ ফুটের বেশি উঁচু ছিল না। হাজার বছরের পুরোনো মন্দিরের চূড়া ছাড়া উঁচুদালান চোখেই পড়ত না। শহরের ভেতরেই ছিল মাটির দেয়াল ও খড়ের চালের হাজার হাজার ছোট কুঁড়েঘর। লাল টালির ছাদওয়ালা পাকা দালানগুলোও দোতলার বেশি হতো না। মাদ্রাজ ছিল স্যান ডিয়েগোর মতো ছড়ানো-ছিটানো, ধীরস্থির শহর; নিউইয়র্কের মতো অস্থির ও গিজগিজ করা জনপদ নয়।
শহরের ভেতরেই ছিল বিশাল সব গ্রামীণ এলাকা। পাম গাছ, ধানের ক্ষেত, নদীতে মহিষের গা ধোয়ানো থেকে শুরু করে ধোপাদের কাপড় কাচা পর্যন্ত সবই ছিল। সমুদ্রসৈকতে অলস পড়ে থাকত জেলেদের ক্যাটামারান। বর্তমানে ভারতীয় শহর বলতে আমরা যে প্রচণ্ড ভিড়ের কথা ভাবি, গুটি কয়েক এলাকা ছাড়া তা তখনো ছিল ভবিষ্যতের গর্ভে। মাদ্রাজ ধরে রেখেছিল সেই গ্রাম্য ধীরলয়।
শতাব্দীর শুরুতে একজন ইংরেজ পর্যটক হারবারের বাতিঘরের ওপর থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে লিখেছিলেন, ‘উত্তরের সবচেয়ে সবুজ শহরের চেয়েও মাদ্রাজ বেশি সবুজ। পায়ের নিচে স্থানীয়দের লাল ছাদগুলো বিন্দুর মতো। একদিকে ফিরোজা রঙের সমুদ্র, সাদা ঢেউয়ের সরু রেখা ও মাইলের পর মাইল বিস্তৃত হলুদ বালুকাবেলা; অন্যদিকে ঘন সবুজ গাছপালায় ঢাকা ‘ইউরোপীয় মাদ্রাজ’ এতই ভেতরের দিকে ছড়িয়ে গেছে যে, কোথায় গিয়ে তা ক্ষেতের হালকা সবুজের সঙ্গে মিশেছে, তা বোঝা যেত না।’
এটা ছিল একজন ইউরোপীয়র চোখে দেখা দৃশ্য। তবে ভারতীয়দের কাছেও মাদ্রাজ ছিল কলকাতা বা বোম্বের চেয়ে বেশি খোলামেলা, সবুজ ও আরামদায়ক। ভারতে গরিব হওয়া মানেই কষ্ট। কিন্তু মাদ্রাজে তা কিছুটা সহনীয় ছিল। সেখানে কখনোই হাড়কাঁপানো শীত পড়ত না। দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্র হওয়ায় রামানুজনের মতো মফস্বল থেকে আসা মানুষদের মাদ্রাজকে আপন মনে হতো।
আধুনিক মাদ্রাজ শহর সমুদ্রের খুব কাছাকাছি ছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কোনো অংশই ৫০ ফুটের বেশি উঁচু ছিল না। হাজার বছরের পুরোনো মন্দিরের চূড়া ছাড়া উঁচুদালান চোখেই পড়ত না।
১৯১১ সালের মে মাসে রামানুজন ভেঙ্কটানারায়ণ লেনের বাসা ছেড়ে চলে এলেন স্বামী পিল্লাই স্ট্রিটের একটি সরু গলির বোর্ডিং হাউসে। নাম সামার হাউস। বেশ ভারিক্কি নাম! বছরের বাকিটা সময় তিনি এখানেই ছিলেন। তাঁর সঙ্গে থাকত আরও ডজনখানেক লোক। তাদের বেশির ভাগই ছাত্র। ট্রিপলিকেন এলাকার পাইক্রফট’স রোডের একটি ব্রাহ্মণ রেস্তোরাঁয় নিয়মিত খেতে যেত তারা।
পাইক্রফট’স রোড ধরে কয়েক মিনিট হাঁটলেই প্রেসিডেন্সি কলেজ, তার পাশেই বিশাল সমুদ্রসৈকত। তখনও এটি ছিল মাদ্রাজের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। একে শুধু সৈকত নয়, প্রকৃতির এক খেয়াল বলা যায়। হাজার হাজার বছর ধরে সমুদ্রের ঢেউ এখানে বালির পাহাড় জমিয়েছে। ১৮৮০-র দশকে এক ব্রিটিশ গভর্নর সেটাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে সুন্দর করেছিলেন। সৈকতের ঢালু বালি পেরিয়ে সমুদ্রের কাছে পৌঁছাতে গেলে মনে হতো, একটা ছোটখাটো মরুভূমি পাড়ি দিতে হচ্ছে।
রামানুজন এখানেই আসতেন। সমুদ্রের পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে তাঁর মাথায় খেলত গণিতের জটিল সব জট। মাঝেমধ্যে সন্ধ্যার হিমেল হাওয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বালিতে গোল হয়ে বসতেন। ঝিনুকের টুকরো মেশানো হালকা বাদামি বালিতে বসে বন্ধুদের শোনাতেন অদ্ভুত সব ভৌতিক গল্প। আড্ডা চলত রাত পর্যন্ত।
ট্রিপলিকেনের ভ্যাপসা গরম ও ধুলোবালি থেকে দূরে, এই জায়গায় ছিল শান্তির পরশ। ভেতরের দিকে তাকালে অস্তগামী সূর্যের আলোয় প্রেসিডেন্সি কলেজের গম্বুজওয়ালা ক্লক টাওয়ার দেখাত সোনালি। সাগরের দিকে তাকালে দেখা যেত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো; দূরে আবছা ধূসর, কাছে উজ্জ্বল রঙের কার্গো জাহাজ। সিলোনের কলম্বো কিংবা ভারতের দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে জাহাজগুলো এসে ভিড়ত মাদ্রাজে।
পাইক্রফট’স রোড ধরে কয়েক মিনিট হাঁটলেই প্রেসিডেন্সি কলেজ, তার পাশেই বিশাল সমুদ্রসৈকত। তখনও এটি ছিল মাদ্রাজের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। একে শুধু সৈকত নয়, প্রকৃতির এক খেয়াল বলা যায়।
রামচন্দ্র রাওয়ের বদান্যতায় কাঁধের বোঝা নেমে যাওয়ায় রামানুজন বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন। বিয়ের পর যে দুই বছর তিনি হতাশা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে কাটিয়েছেন, তা এখন অতীত। এখন তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আছেন, নিজের পছন্দের কাজ করছেন; নিশ্চিন্ত এবং প্রফুল্ল। পাচাইয়াপ্পা কলেজে তাঁর সহপাঠী ছিলেন সি. আর. কৃষ্ণস্বামী আইয়ার। তিনি এখন সামার হাউসে তাঁর রুমমেট।
তিনি জানান, রামানুজন একবার মহাকাশ ও নক্ষত্রের বিস্ময়কর সব গল্প বলতে বলতে রাত পার করে দিচ্ছিলেন। শেষে কৃষ্ণস্বামীর কাজিন বিরক্ত হয়ে রামানুজনের মাথায় এক কলসি পানি ঢেলে দেন! বলেছিলেন, এতে নাকি তাঁর উত্তপ্ত মস্তিষ্ক ঠান্ডা হবে। রামানুজন কিন্তু রাগেননি। তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘আহা! বেশ রিফ্রেশিং একটা গঙ্গাস্নান হলো। আরেক কলসি হবে নাকি?’
১৯১১ সাল ছিল রামানুজনের জন্য আশা ও সম্ভাবনার বছর। এই বছরই ধুমধাম করে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাদ্রাজে চালু হয় নতুন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। মাটির নিচের নর্দমা, স্যান্ড ফিল্টার ও পাম্প বসানো হয়। তেলের বাতির বদলে রাস্তায় জ্বলতে শুরু করে বিজলি বাতি। ঠিক এই বছরই জার্নাল অব দ্য ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি-তে রামানুজনের প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। এটি ছিল ভারতীয় গণিত মঞ্চে এবং বিশ্বমঞ্চে, শ্রীনিবাস রামানুজনের প্রথম রাজকীয় পদক্ষেপ।
