দ্য ম্যান হু নিউ ইনফিনিটি - ২৫

মাদ্রাজের সামান্য কেরানি থেকে কেমব্রিজের ফেলো—শ্রীনিবাস রামানুজনের জীবন যেন এক রূপকথা। দেবী নামাগিরি নাকি স্বপ্নে এসে তাঁকে জটিল সব সূত্র বলে যেতেন! কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই যিনি অসীমকে জয় করেছিলেন। তাঁর এই নাটকীয় জীবন নিয়েই রবার্ট কানিগেল লিখেছেন দ্য ম্যান হু নিউ ইনফিনিটি। রামানুজনের সেই জীবনী ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করছেন কাজী আকাশ।

চতুর্থ অধ্যায়

হার্ডি

[জি.এইচ.হার্ডি থেকে ১৯১৩]

১. চিরতরুণ এক গণিতবিদ

হার্ডিকে দেখলে চিরতরুণ মনে হয়। ১৯০১ সালের এক বসন্তের সকালে তিনি বন্ধু লিটন স্ট্র্যাচিকে নিয়ে ট্রিনিটি কলেজের পেছনের মাঠে খেলতে গেলেন। কলেজের ফেলো হওয়ায় এই ব্যক্তিগত মাঠে তিনি ব্যবহার করতে পারেন। বন্ধু স্ট্র্যাচি তখন নিজের মাকে চিঠিতে লিখেলেন, ‘সে গণিতের জিনিয়াস, কিন্তু দেখতে তিন বছরের শিশুর মতো।’ 

ত্রিশ বছর বয়সেও তাঁকে মাঝেমধ্যে বিয়ার দেওয়া হতো না। কারণ তাঁকে দেখতে মনে হতো আন্ডারগ্রাজুয়েট ছাত্রের মতো। একবার তো ট্রিনিটির অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে লাঞ্চ করার সময় সবাই তাঁকে ছাত্র ভেবে রীতিমতো ভুল করে করেছিল!

জি.এইচ.হার্ডি
ছবি: মাস্টার অ্যান্ড ফেলোস অব ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজ

হার্ডির চোখ ছিল বরফের মতো স্বচ্ছ। মুখ যেন দক্ষ কোনো শিল্পীর হাতে খোদাই করা ভাস্কর্য। ১৯১৩ সালের দিকে তাঁর চুল ছিল ছোট করে ছাঁটা, পরিপাটি। এককথায় সুন্দর। কিন্তু তিনি নিজে তা মানতেন না। নিজেকে দেখতে তাঁর ভালো লাগত না। কলেজে তাঁর রুমে কোনো আয়না ছিল না। কোনো হোটেলে গেলে আগে তোয়ালে দিয়ে আয়না ঢেকে দিতেন। শেভ করতেন আয়না ছাড়া শুধু হাতের স্পর্শে। কিন্তু তিনি ছাড়া আর সবাই তাঁর সৌন্দর্যের কদর করত।

পঞ্চাশ পেরিয়েও তাঁর চেহারা ছিল চোখে পড়ার মতো। বন্ধু এবং ঔপন্যাসিক সি. পি. স্নো লিখেছেন, ‘তাঁর গায়ের রং রোদে পোড়া, লালচে ব্রোঞ্জের মতো। মুখ সুন্দর, গালের হাড় উচু, নাক পাতলা। সব মিলিয়ে চেহারায় গম্ভীর ও শান্ত ভাব।’

হার্ডির চোখ ছিল বরফের মতো স্বচ্ছ, মুখ যেন দক্ষ কোনো শিল্পীর হাতে খোদাই করা ভাস্কর্য। ১৯১৩ সালে তাঁর চুল ছিল ছোট করে ছাঁটা, পরিপাটি। এককথায় সুন্দর। কিন্তু তিনি নিজে তা মানতেন না।

কেমব্রিজে বহু অসাধারণ মানুষের ভিড়েও হার্ডির চেহারা আলাদা করে চোখে পড়ত। তিনি হয়তো প্রচলিত অর্থে হ্যান্ডসাম ছিলেন না, কিন্তু তাঁর চেহারায় কোনো রুক্ষ ভাব নেই। মুখের গড়ন খুব কোমল, ঠোঁট পাতলা। ঠোঁটের কোণায় লেগে থাকা হালকা বাঁকা ভাব দেখে বোঝা যেত, তাঁর মধ্যে অন্যকে বিচার করার স্বভাব আছে।

হার্ডি জন্মগত বিচারক ছিলেন। তিনি সবসময় বিচার করতেন, অন্যের সঙ্গে তুলনা করতেন। কে কেমন গণিতবিদ, কে কী কাজ করছে, কে কী বই বা প্রবন্ধ লিখছে—সবকিছু ছিল তাঁর বিচারের আয়তায়। সব বিষয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট মতামত ছিল এবং তা প্রকাশ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করতেন না।

একবার তাঁর ক্লাবের রং বদলানোর প্রস্তাব এলে তিনি ৬ পৃষ্ঠার চিঠি লিখে সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন! প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এক শিক্ষাব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। ২০ বছরের বেশি সময় তিনি এর বিরোধিতা করেন। তাঁর পছন্দ-অপছন্দগুলো এমনই তীব্র ছিল।

তিনি যুদ্ধ ঘৃণা করতেন, রাজনীতিবিদদের সহ্য করতে পারতেন না। ইংল্যান্ডের আবহাওয়া ছিল তাঁর দুই চোখের বিষ! রোদ ভালোবাসতেন, বিড়াল ভালোবাসতেন; কিন্তু কুকুর একদম না! ঘড়ি বা ফাউন্টেন পেন পছন্দ করতেন না। তবে লন্ডনের দ্য টাইমস পত্রিকার ক্রসওয়ার্ড পাজল তাঁর খুব পছন্দ ছিল।

হার্ডি জন্মগত বিচারক ছিলেন। তিনি সবসময় বিচার করতেন, অন্যের সঙ্গে তুলনা করতেন। কে কেমন গণিতবিদ, কে কী কাজ করছে, কে কী বই বা প্রবন্ধ লিখছে—সবকিছু ছিল তাঁর বিচারের আয়তায়।

শার্লক হোমস সিরিজের লেখক আর্থার কোনান ডয়েলের মৃত্যুর অনেক পরে লেখা দ্য কেস অব দ্য ফিলোসফারস রিং বইয়ে হার্ডিকে একটি মজার চরিত্রে দেখানো হয়েছে। গল্পটি লেখা হয় কোনান ডয়েলের মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে। লেখক র‍্যান্ডাল কলিন্স। এই গল্পে রামানুজন এবং হার্ডির চরিত্র আছে। 

গল্পে কলিন্স হার্ডিকে দেখিয়েছেন ক্রিকেটার হিসেবে। ট্রিনিটির বাগানে সাদা পোশাকে, মাথায় টুপি পড়ে, হাতে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে পাগলের মতো নিজের গ্লাভস খুঁজছেন। চিৎকার করে বলছেন, ‘এখনি ম্যাচ শুরু হবে, আর আমি গ্লাভস খুঁজে পাচ্ছি না। দেরি করে ফেললাম! দেরি করে ফেললাম!’ 

লেখক বইয়ের শুরুতেই বলে দিয়েছেন, হার্ডির চরিত্র হুবহু এমন ছিল না। তিনি ইতিহাস হয়তো পুরোপুরি মানেননি, কিন্তু হার্ডির ক্রিকেটপ্রেমের চিত্রটা একদম নিখুঁত এঁকেছেন।

হার্ডির কাছে ক্রিকেট শুধু খেলা ছিল না, ছিল এক ধরণের নেশা। তিনি ক্রিকেট খেলতেন, দেখতেন, এমনকি ক্রিকেট নিয়ে গবেষণাও করতেন। গণিতের জটিল সব পেপারেও তিনি ক্রিকেটের উপমা ব্যবহার করতেন। সুইডেনের এক গণিত জার্নালে তিনি লিখেছেন, ‘এই সমস্যাটা ক্রিকেটের ভাষায় বোঝা সবচেয়ে সহজ।’ 

বলাই বাহুল্য, সুইডিশ পাঠকরা সেই ‘সহজ’ ভাষার মাথামুণ্ডু কিছুই বোঝেনি! তিনি গণিতের কোনো প্রমাণকে সর্বোচ্চ প্রশংসা করলে বলতেন, এটা ‘হবস শ্রেণির প্রমাণ’। অনেকেই ভাবতেন তিনি দার্শনিক থমাস হবসের কথা বলছেন। কিন্তু হার্ডি আসলে বোঝাতেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার জ্যাক হবসের কথা! 

গণিতের জটিল সব পেপারেও হার্ডি ক্রিকেটের উপমা ব্যবহার করতেন। সুইডেনের এক গণিত জার্নালে তিনি লিখেছিলেন, ‘এই সমস্যাটা ক্রিকেটের ভাষায় বোঝা সবচেয়ে সহজ।’ 

ষাট বছর পর্যন্ত ক্রিকেট খেলেছেন হার্ডি। এমনকি মৃত্যুর সময়ও তাঁর বোন তাঁকে ক্রিকেট সম্পর্কিত বই পড়ে শুনিয়েছেন।

হার্ডি ছিলেন লাজুক স্বভাবের। নিজের ব্যাপারে তিনি খুব সচেতন ছিলেন। অহেতুক আড্ডা বা হালকা কথাবার্তা তাঁর ভালো লাগত না। অবশ্য ক্রিকেট নিয়ে কথা হলে ভিন্ন বিষয়! আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব তাঁর অপছন্দ ছিল। কারো সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতেন না। রাস্তায় হাঁটার সময় মাথা নিচু করে হাঁটতেন, যাতে কারো সঙ্গে কথা বলতে না হয়।

মৃত্যুর সময়ও জি.এইচ.হার্ডির বোন তাঁকে ক্রিকেট সম্পর্কিত বই পড়ে শুনিয়েছেন
ছবি: মাস্টার অ্যান্ড ফেলোস অব ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজ

কেমব্রিজে পড়ার সময় হার্ডিকে চিনতেন লিওনার্ড উলফ। তিনি হার্ডিকে নিয়ে নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘তিনি ছিলেন সবচেয়ে অদ্ভুত, আবার সবচেয়ে আকর্ষণীয় মানুষ।’

 এই উলফই পরে ভার্জিনিয়া স্টিফেনকে বিয়ে করেন। উলফ নিজেও ছিলেন লেখক ও প্রকাশক। স্ট্রেচি ও অন্যদের সঙ্গে তিনি ব্লুমসবেরি সাহিত্য আন্দোলন শুরু করেছেন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হার্ডির খামখেয়ালিপনা আরও বেড়ে যায়। সেগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে গল্পের মতো। কিন্তু রামানুজনের চিঠি পাওয়ার আগেই তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ পুরোপুরি গড়ে উঠেছিল।

রামানুজন অবশ্য হার্ডির এই দিকটা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি হার্ডিকে চিনতেন গণিতবিদ হিসেবে। ১৯১৩ সালে, পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে হার্ডি গণিতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৫ বছর ধরে গণিত চর্চা করছেন, শতাধিক গবেষণাপত্র এবং তিনটি বই লিখে ফেলেছেন। তিনি তখন ট্রিনিটি কলেজের ফেলো। কেমব্রিজ তথা পুরো ইংল্যান্ডের কেন্দ্র তখন ট্রিনিটি কলেজ।

কেমব্রিজে পড়ার সময় হার্ডিকে চিনতেন লিওনার্ড উলফ। তিনি হার্ডিকে নিয়ে নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘তিনি ছিলেন সবচেয়ে অদ্ভুত, আবার সবচেয়ে আকর্ষণীয় মানুষ।’

১৯১০ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। এটিই তখন ব্রিটেনের বিজ্ঞানীদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান। হার্ডি গণিতকে ভালোবাসতেন পাগলের মতো। তিনি বলতেন, ‘গণিতের প্রতি আমার ভালোবাসা ফ্যানাটিকদের মতো। আমি একে বিশ্বাস করি, ভালোবাসি। গণিত ছাড়া আমি একদম নিঃস্ব। গণিত নিয়ে গবেষণাই ছিল আমার জীবনের একমাত্র বড় ও স্থায়ী সুখ।’

হার্ডি খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলতেন। তাঁর প্রতিটি কথা ছিল ক্রিকেট বলের মতো। কখনো প্রতিপক্ষকে উসকে দিতেন, আবার কখনো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারতেন। তবে তিনি ছিলেন খুব সৎ। তর্কে কেউ তাঁর চেয়ে ভালো করলে তা স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না।

হার্ডি খুব মজার মানুষ ছিলেন। কিন্তু এই মজা ছিল একটু আলাদা ধরনের, যেন পাতলা রেশমি কাপড়ের ঝিলিক। তাঁর এক ছাত্র বলেছেন, ‘হার্ডির কাছে কথোপকথন ছিল এক ধরনের খেলা। তিনি এই খেলাটি খেলতে ভালোবাসতেন। তাই সবমসয় তাঁর কথার আসল উদ্যেশ্য বোঝা যেত না।’ 

সি. পি. স্নো একবার বলেন, ‘আইনস্টাইনের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটাবেন, তাঁকে তত বেশি অসাধারণ মনে হবে। কিন্তু হার্ডির সঙ্গে সময় কাটালে মনে হবে তিনি আমাদের মতোই একজন, শুধু একটু বেশি সংবেদনশীল ও নাজুক। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত কথার আড়ালে লুকিয়ে ছিল নাজুক একটি মন। কিন্তু ভেতরে তিনি ছিলেন সহজ, যত্নশীল এবং দয়ালু।

হার্ডির এক ছাত্র বলেছেন, ‘হার্ডির কাছে কথোপকথন ছিল এক ধরনের খেলা। তিনি এই খেলাটি খেলতে ভালোবাসতেন। তাই সবমসয় তাঁর কথার আসল উদ্যেশ্য বোঝা যেত না।’ 

হার্ডির মাঝবয়েসি এক ছবিতে দেখা যায়, তিনি বেতের চেয়ারে একটু হেলে বসে আছেন। এক পায়ের ওপর আরেক পা তোলা, হাতে আলতো করে ধরা সিগারেট। কপালে একগুচ্ছ চুল এসে পড়েছে। কিন্তু তাঁকে মোটেও রিল্যাক্সড মনে হচ্ছে না। কোনো ছবিতেই তাঁকে কখনো চিন্তামুক্ত দেখায়নি। ছবিতে সবসময় তাঁর চোখ ভীত হরিণের দৃষ্টির মতো মনে হতো। ভ্রু কুঁচকে, চশমার ওপর দিয়ে তিনি যেন দুনিয়াটাকে দেখতেন বিচারকের দৃষ্টিতে।

এই ভঙ্গি দেখে একবার একজন বলেছিল, ‘এভাবে বসতে হলে পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা থাকতে হয়।’

হার্ডি ব্রিটেনের সেরা শিক্ষাব্যবস্থায় বড় হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর বংশে কোনো ভাইকাউন্ট বা জমিদার ছিলেন না। মানে ধনীদের মতো তিনি প্রভাব খাঁটিয়ে এখানে ঢোকেননি। এক অর্থে তাঁর বংশ পরিচয় ছিল রামানুজনের চেয়েও সাধারণ। ভারতে জাতিভেদ প্রথা অনুযায়ী রামানুজন ছিলেন ব্রাহ্মণ, আর ইংল্যান্ডে সামাজিক মর্যাদার বিচারে হার্ডি ছিলেন সামান্য স্কুল শিক্ষকের সন্তান। তাঁর মেধা ও প্রতিভাই তাঁকে সমাজের ওই উঁচু স্তরে নিয়ে গেছে। 

ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে একজন সাধারণ পরিবারের মেধাবী সন্তানকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, হার্ডি ছিলেন তার এক অনন্য উদাহরণ। 

হার্ডি ছিলেন ব্রিটেনের সেই সময়ের উদাহরণ। তিনি দেখিয়েছেন, মেধা থাকলে সাধারণ পরিবার থেকেও কীভাবে সমাজের শিখরে পৌঁছানো যায়। আগে যে সুযোগগুলো শুধু সমাজের ওপরতলার অল্প কিছু মানুষের জন্য ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে ছড়াতে শুরু করেছে!

চলবে…

টীকা

১. দ্য কেস অব দ্য ফিলোসফারস রিং শার্লক হোমসকে নিয়ে লেখা একটি বিখ্যাত গোয়েন্দা উপন্যাস। তবে এটি শার্লক হোমসের মূল লেখক আর্থার কোনান ডয়েল লেখেননি। অনেক পরে র‍্যান্ডাল কলিন্স এটি লেখেন। মজার ব্যাপার হলো, এই কাল্পনিক গল্পে গণিতবিদ জি.এইচ. হার্ডি এবং শ্রীনিবাস রামানুজনকেও চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে।

২. সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক দার্শনিক থমাস হবস। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শন নিয়ে তাঁর অনেক নামকরা কাজ আছে। গণিতবিদ হার্ডি ‘হবস ক্লাস’ বললে অনেকেই ভুল করে এই দার্শনিকের কথা ভাবতেন।

৩. ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন জ্যাক হবস। তাঁকে বলা হতো দ্য মাস্টার। হার্ডির কাছে তিনি ছিলেন পারফেকশন। গণিতের কোনো প্রমাণ খুব সুন্দর ও নিখুঁত হলে হার্ডি সেটার তুলনা করতেন এই জ্যাক হবসের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে।

৪. লিওনার্ড উলফ একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক ও প্রকাশক। কেমব্রিজে পড়ার সময় হার্ডির সঙ্গে তাঁর দারুণ বন্ধুত্ব ছিল। তিনি হার্ডিকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং তাঁর অদ্ভুত স্বভাবগুলো নিয়ে নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন।

৫. ভার্জিনিয়া স্টিফেন ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখিকা। লিওনার্ড উলফকে বিয়ে করার পর তিনি ভার্জিনিয়া উলফ নামে সারা বিশ্বে পরিচিত হন। আধুনিক সাহিত্যের গতিপথ বদলে দেওয়ায় তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।

৬. বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে লন্ডনের ব্লুমসবেরিতে লেখক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের একটি বিখ্যাত আড্ডার দল গড়ে উঠেছিল। ভার্জিনিয়া উলফ, লিওনার্ড উলফসহ অনেক বিখ্যাত মানুষ এর সদস্য ছিলেন। সাহিত্য ও শিল্পকলায় তাঁরা নতুন ও আধুনিক চিন্তাধারার জন্ম দিয়েছিলেন। এই দলের নাম ব্লুমসবেরি সাহিত্য আন্দোলন। হার্ডি সরাসরি এই দলের সদস্য ছিলেন না, কিন্তু তাঁর বন্ধুরা সদস্য ছিলেন।

৭. ব্রিটেনের বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে সম্মানজনক ও প্রাচীন সংগঠন রয়্যাল সোসাইটি। ১৬৬০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্যার আইজ্যাক নিউটন থেকে শুরু করে আইনস্টাইনসহ অনেক বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী এর সদস্য ছিলেন। এখানে জায়গা পাওয়া মানে বিজ্ঞানের জগতে বিশাল কিছু করে ফেলা। ১৯১০ সালে হার্ডিও এই সম্মানে ভূষিত হন।